Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মদিনা রাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিকতা আজও বিদ্যমান

মদিনা রাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিকতা আজও বিদ্যমান
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

বির্তককে সঙ্গী করে পাকিস্তানে ১১তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে একসময়ের জগদ্বিখ্যাত ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই- ইনসাফ পার্টি সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। তবে তাকে জোট গড়তে হবে। এই নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত তিনি কোন দলের সঙ্গে জোট করবেন তা স্পষ্ট হয়নি।

উপমহাদেশ ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপমহাদেশের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে ভিন্নতর। আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা, পশ্চিমাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং চীন-মার্কিন মেরুকরণ, ভারতের সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্কের উত্তাপ পাকিস্তানকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তবে এটা স্বীকৃত যে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনী সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে। দেশ পরিচালনায় সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতার কারণে পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা যায়। সেটা অবশ্য ভিন্ন প্রসঙ্গ।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, পাকিস্তান প্রধান সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল এবং নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হলো। এটা পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

পাকিস্তানে এবারের জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভোটারদের উপস্থিতি বা অংশগ্রহণও ছিল অতীতের যে কোন জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বেশি। পাকিস্তানের অতি রক্ষণশীল সামাজিক বিধি-নিষেধ ডিঙিয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে ইমরান খানই পাকিস্তানের পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন, এটা নিশ্চিত। ইমরান খান একই সঙ্গে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি একনিষ্ঠ। তেহরিক-ই- ইনসাফ পার্টির নির্বাচনী ইশতিহারটিও ছিল সময়োপযোগী এবং জনগণের প্রত্যাশার কাছাকাছি।

/uploads/files/FZAixM7HNxtN5ghL0gu8GyoUd7TCaaM5ea36HBaq.jpeg

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। কৃষকরা তাদের শ্রমের মূল্য পান না, ২ কোটি ৫০ লাখ শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার অভাবে আমাদের প্রসূতি মায়েরা অব্যাহতভাবে মারা যাচ্ছেন, সরকার নিরাপদ খাবার পানিও সরবরাহ করতে পারে না। আমি মদিনা রাষ্ট্রের মতো করে পাকিস্তান গঠনের স্বপ্ন দেখি। যেখানে বিধবা ও দরিদ্ররা অবহেলিত হবে না। আমাদের সকল নীতি হবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতা করার জন্য।

ইমরান খানের ওই ভাষণেকে রাজনৈতিক মহল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। তিনি ভাষণে বলেছেন, সরকার গঠনের পর তার দল এই ভিশন নিয়েই দেশ পরিচালনা করবে। আমরাও মনে করি, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বলয়ে ক্ষমতার মসনদে নির্দিষ্ট দল বা শক্তিগুলোর বাইরে ইমরান খানের প্রবেশ একেবারেই নতুন ঘটনা। এমতাবস্থায় তাকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পথ চলতে হবে।

এক্ষেত্রে তিনি ‘মদিনা রাষ্ট্রের মতো করে পাকিস্তান গঠনের স্বপ্ন দেখি’ বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মদিনা রাষ্ট্র যে আজও প্রাসঙ্গিক তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। বস্তুত হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তার জীবনের পূর্ণতা ও সফল বাস্তবায়ন ঘটে মদিনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে। তিনি ঐতিহাসিক মদিনা সনদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের উজ্জ্বল একটি নজির রেখে গেছেন। দেড় হাজার বছর আগের ঐতিহাসিক সেই সূত্র আজকের আধুনিক বিশ্বেও প্রাসঙ্গিক। সামাজিক ভারসাম্য ও আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তার প্রণীত নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।

মদিনায় হিজরতের পর নবী করিম সেখানে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মূর্তি পূজকদের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের জন্য একটি সনদ প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে তা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। ধর্মীয় এবং সামাজিক জীবনেও এই সনদের প্রভাব বিস্তৃত ছিল। দ্বিধাবিভক্ত মদিনাকে তিনি গেঁথেছিলেন এক সুতোয়। গৃহযুদ্ধে লিপ্ত মদিনাবাসীকে জড়ো করেন শান্তি ও সম্প্রীতির ডোরে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব মুসলমান ও ইহুদি নাগরিকদের সমান অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করেন। মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী, সদ্ভাব ও পরস্পর সহযোগিতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

মদিনা সনদের আলোকে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক মদিনা রাষ্ট্রের আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। বর্তমান সমস্যাসংকুল এই বিশ্বে, গভীর সংকটে আবর্তিত সমাজ ও রাষ্ট্রের উত্তরণ ঘটতে পারে একমাত্র মদিনা সনদের আলোকেই। ঐতিহাসিক সেই ৪৭টি ধারা অনুসরণ করলে আমাদের দেশের রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারে। মদিনার সনদের পরতে পরতে শান্তি, সম্প্রীতি, সহাবস্থান, মানবাধিকার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি পরিহারের যে বারতা রয়েছে তা অনুসরণ করলে আমরাও লাভ করতে পারি বহুল কাঙ্ক্ষিত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র। সামগ্রিক জীবনধারা নবীর আদর্শে গড়ে তোলার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে নানা মতবাদ ও তন্ত্রমন্ত্রে আচ্ছন্ন বিশ্ববাসীর সামনে বিষয়গুলো নতুনভাবে তুলে আনায় পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা, সেই সঙ্গে অভিনন্দন তার বিজয়েও।

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র