Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

রিজিকের জন্য পরিশ্রম কোনো খারাপ কাজ নয়

রিজিকের জন্য পরিশ্রম কোনো খারাপ কাজ নয়
মাওলানা আবদুল জাব্বার
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

‘দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।’ -সূরা হুদ: ৬

এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা সকল প্রাণীর রিজিক তার যে তার জিম্মায় রয়েছে সে কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। সমগ্র পৃথিবীর জলে-স্থলে, গাছ-গাছালিতে, গুহায় এবং গর্তে যত স্থান হতে পারে এবং যত স্থানে প্রাণী থাকতে পারে, তাদের সবার আহার ব্যবস্থা একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। কোন জীব কোথায় থাকে, কোথায় চলাচল করে, কোথায় আশ্রয় গ্রহণ করে, কোথায় মৃত্যুবরণ করে, মায়ের উদরে কী থাকে সব কিছুই মহান আল্লাহর কিতাবে লেখা রয়েছে। -তাফসির ইবনে কাসির

রিজিক এমন জিনিস, যা আল্লাহতায়ালা প্রাণিকুলের নিকট নিয়ে যান এবং প্রাণীরা তা আহার করে। এ রিজিক অনেক ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- স্বাস্থ্য, সম্পদ, খাদ্য, বুদ্ধি, উপায়-উপকরণ ও সময় ইত্যাদি। এমনকি আমাদের জীবনটাও একটা রিজিক। এই সবকিছু আল্লাহতায়ালা আমাদের দিয়েছেন।

মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ হলেন- রিজিকদাতা। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা যদি একবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকি, তাহলে আমাদের সামনে রিজিক আসবে না চেষ্টা করতে হবে? অবশ্যই খাবারের সন্ধানে চেষ্টা করতে হবে। শুধু তাই নয়, এ রিজিক বৃদ্ধি জন্য চেষ্টা-তদবির করা, আমল করা, সর্বোপরি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করা একান্ত কর্তব্য।

আল্লাহতায়ালা রিজিক অন্বেষণের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘তারপর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায়, তখন ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায়, তোমরা সফলকাম হবে। -সূরা আল জুমুআ: ১০

অধিকাংশ কাজ যার মাধ্যমে রিজিক অর্জন করা যায়, তা আল্লাহতায়ালা সহজ করেছেন, কঠিন করেননি। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তিনিই তো সেই মহান সত্তা যিনি ভূপৃষ্ঠকে তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। তোমরা এর বুকের ওপর চলাফেরা করো এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিক খাও। আবার জীবিত হয়ে তোমাদেরকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ -সূরা আল মুলক: ১৫

এই আয়াতে একটি কথা স্পষ্ট করা হয়েছে, দুনিয়াতে জীবন পরিচালনার জন্য যত কিছুই করা হোক না কেন, এ দুনিয়া শেষ ঠিকানা নয়। যত উপার্জন হোক না কেন, তা স্থায়ী কোনো সম্পদ নয়। সকলকে অবশ্যই একদিন এ দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই তার উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল্লাহর সামনে হিসাব দিতে হবে কোন স্থান থেকে থেকে উপার্জন করলে এবং কোথায় ব্যয় করলে। এ সম্পর্কে কোরআন-হাদিসে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে।

মনে রাখতে হবে রিজিকের সন্ধান, রিজিকের জন্য পরিশ্রম খারাপ কোনো কাজ নয়। শুধু রিজিকের মাধ্যমগুলো হতে হবে বৈধ। রিজিকের চেষ্টার পাশাপাশি আর যে সব আমল করা যায় তা হচ্ছে-

-মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও খোদাভীতি অবলম্বন করা।
-কৃতকর্মের জন্য তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা।
-আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা করা।
-আল্লাহর ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ করা।
-আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা।
-আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করা।
-আল্লাহর পথে হিজরত করার মাধ্যমে রিজিক বেড়ে যায়।
-দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রতি মমতা দেখানো।
-দ্বীনি ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগকারীর জন্য ব্যয় করা।
-হজ ও উমরার পারস্পরিকতা তথা হজ ও উমরা পরপর আদায় করা।

রিজিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকভাবে পরিত্যাজ্য কিছু বিষয় রয়েছে। সেগুলো পরিত্যাগ করতে না পারলে রিজিক হারাম হয়ে যাবে। যেমন-
-উপার্জন সামান্যতম হারামের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তা পরিত্যাগ করা।
-ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য পরিধেয় বস্ত্রসহ সবকিছু হালাল উপার্জন দ্বারা হওয়া, অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
-মিথ্যাচার ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন না করা।
-সুদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতে সম্পৃক্ততা না থাকা। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা খুব শক্তভাবে সতর্ক করেছেন।
-জুলুম একটি সর্বাধিক নিন্দনীয় অপরাধ, যা শক্তিমান মানুষ করে থাকে আর দুর্বল ব্যক্তি নীরবে তা সহ্য করে এবং আল্লাহর নিকট বিচার পেশ করে। জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হওয়ার কারণে ইসলামে যেকোনো ধরনের জুলুম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ পন্থায় চলা কোনো ব্যক্তি আখেরাতে একেবারে রিক্তহস্ত হয়ে যাবে। সুতরাং এ পথে সম্পদ অর্জন একেবারে চিরতরে পরিত্যাগ করতে হবে।
-অপচয় ও অপব্যয় না করা। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ অর্জন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই যে কোনো ধরনের অপচয় ও অপব্যয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
-ঘুষের সম্পৃক্ততা না থাকা। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া বা এর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখলে সে উপার্জন সরাসরি হারাম হয়ে যাবে।
-অন্যের অধিকার নষ্ট না করা। অন্যের হক বঞ্চিত করার মাধ্যমে যে উপার্জন করা হয় তা অবৈধ। তাই সকল প্রকার খেয়ানত থেকে বিরত থাকতে হবে।

বর্ণিত আয়াতের শিক্ষা
-মানব মনে যত প্রকার চাহিদার উদয় হয়, সর্বাবস্থায় তা আল্লাহর দরবারে পেশ করা।
-যে কোনো ধরনের রিজিক একমাত্র মহান রবের কাছে যাচনা করা।
-কোনো প্রয়োজন পূরণ হতে দেরি হলেও ধৈর্যধারণ করতে হবে। কোনো ধরনের শিরক, বিদআতের আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না।
-সর্বাবস্থায় হালাল রিজিক- যত কঠিন হোক, আহরণ করতে হবে। হারাম রিজিক- যত সহজ হোক, পরিত্যাগ করতে হবে।
-সর্বাবস্থায় আল্লাহর রহমতের অপেক্ষা করা এবং তার সাহায্যের মাধ্যমেই সব সমস্যা সমাধানের জন্য দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ হওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা
মসজিদে হারামের প্রবেশ পথ◢

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালনের নিমিত্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান মক্কাসহ মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ প্রভৃতি স্থানে একত্র হন প্রতি বছর জিলহজ মাসে। লাখ লাখ মানুষের সমাগম, তাদের চলাফেরা, নিরাপত্তা, আবাসন ও খাওয়া-দাওয়াসহ সব বিষয়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়।

হজ ব্যবস্থাপনাকে সুন্দর, আধুনিক ও গতিশীল করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে চেষ্টা করছে। তার পরও যেহেতু বিপুল সংখ্যক মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজসমূহ সমাধা করে থাকেন। এ বিষয়টি সামনে রেখে সৌদি কর্তৃপক্ষের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর, সহজ ও হাজিদের জন্য উপকারী হয় এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175762105.jpg
মসজিদে হারামের দ্বিতীয় তলায় নামাজের সময় ফাঁকা কাতার◢

 

মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহার না করা: মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ জুতা ব্যবহার করেন, কেউ করেন না। তবে দেখা গেছে, অনেক হাজি টয়লেট থেকে ফিরে কিংবা রাস্তা থেকে এসে ওই জুতা পায়ে দিয়ে চলাফেরা করেন। এটা দৃষ্টিকটু বিষয়। অনেকের মনে এটা নিয়ে পবিত্রতার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করে। আমরা আশা করি বিষয়টি হাজিরা মনোযোগ দিয়ে ভাববেন। অথবা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট এলাকায় জুতা ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারেন।

মসজিদে হারাম এলাকায় ধূমপান: অনেকেই মসজিদে হারামের প্রবেশ পথে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। আমরা মনে করি, এ এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা দরকার।

জমজমের পানি নেওয়ার স্থানগুলো পিচ্ছিল: কাবা চত্বর থেকে শুরু করে মসজিদের হারামের বাইরে ও ভেতরে জমজমের সুপেয় বরকতময় পানি পান করার জন্য অসংখ্য জায়গায় পানির কন্টেইনার এবং পানির কল দেওয়া আছে। আল্লাহর মেহমানরা প্রাণভরে সেখান থেকে পানি পান করেন এবং বিভিন্ন পাত্রে ভরে নিয়ে যান। পানি পান ও নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আশপাশে পানি পড়ে অনেক জায়গা পিচ্ছিল হয়ে যায়। পানি পরিষ্কারের জন্য কর্মী নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পরিষ্কার করার আগে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং আহত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পানি নেওয়ার স্থানগুলোতে পিচ্ছিলরোধক পাথর বসানো জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175865903.jpg
কাবা চত্বর◢

 

নামাজের আগে দরজা বন্ধ করে দেওয়া: বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক হাজির একান্ত ইচ্ছা। বায়তুল্লাহর শৃঙ্খলা রক্ষায় অসংখ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, মসজিদের অভ্যন্তরভাগ পূর্ণ হওয়ার আগেই মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইদানিং তো অনেক দূরের প্রবশেপথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক পথ ঘুরে মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে হয়। তাতে বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ হাজিদের ভীষণ কষ্ট হয়। কোনো নিয়মনীতি বা সময় ছাড়া এভাবে চলাচলের গেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে অনেক হাজি মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এক্ষেত্রে মসজিদের অভ্যন্তরভাগ মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ হওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে গেট বন্ধ করা হলে কেউ আপত্তি করবে না। এক্ষেত্রে প্রবেশ পথসমূহে মসজিদের ভেতরের দৃশ্য মনিটরে দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন হারাম একটু দূরে, সেখানে মুসল্লিরা যেতে চান না, তাই রাস্তা বন্ধ করে মুসল্লিদের সেখানে নেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন ব্যবস্থা করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175946603.jpg
মসজিদে হারামের ভেতরের অংশ◢

 

মসজিদে নববীর মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা: সৌদি আরবের তীব্র গরমে আল্লাহর মেহমানরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই গরমের প্রচণ্ডতা উপলব্ধি করে মসজিদে নববীর বাইরের অংশের মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে বায়তুল্লাহর খোলা চত্বরের (মাতাফ) চারদিকে স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা হলে আল্লাহর মেহমানরা প্রশান্তির সঙ্গে নামাজ আদায় ও অন্যান্য ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

মিনা ও আরাফাতে পর্যাপ্ত টয়লেটের অভাব: মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফায় হাজিদের অবস্থান হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব স্থানে সাধারণ হাজিদের জন্য ব্যবহৃত টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। তার ওপর যা আছে তাতে অনেক সময় পানি না থাকায় নোংরা হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। এ সময় হাজিরা ইহরাম অবস্থায় থাকেন। তাই সময় বিবেচনায় এসব স্থানে আরও টয়লেট বাড়ানো দরকার।

আরাফাতের ময়দানে গোসল করলে অতিরিক্ত সওয়াব মেলে। কিন্তু এখানে গোসলের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই হাজিসাহেবদের সুবিধার্থে পৃথকভাবে পর্যাপ্ত টয়লেট এবং গোসলখানার ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176004186.jpg
দোতলা দিয় তাওয়াফ করছেন হাজিরা◢

 

আরাফাতের ভাষণ শোনার ব্যবস্থা করা: মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- মসজিদের নামিরার কাছাকাছি উপস্থিত হাজি ব্যতীত কেউ তা শুনতে পান না। যদি গোটা ময়দানব্যাপী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তবে কাছে ও দূরের হাজিরা একযোগে হজের খুতবা শুনতে পাবেন। এ ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে গোটা ময়দানের লোক একযোগে এক জামাতে হজের খতিবের সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবেন। তাতে করে আরাফাতের তাবুতে নামাজ নিয়ে জটিলতা কমবে, আরাফাতের ময়দানে একটা ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যে যার তো মাসয়ালা বলা ও আমল করার প্রবণতা বন্ধ হবে।

পরিবহন সংকট: হজের দিনগুলোতে মক্কা থেকে মিনা, মিনা থেকে আরাফাত, আরাফাত থেকে মুজদালিফা, মুজদালিফা থেকে জামারা, জামারা থেকে মক্কা এলাকায় পরিবহন সংকট দেখা দেয়। ফলে হাজিদের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। একে সুযোগ মনে করে স্থানীয় গাড়ির মালিকরা ২০ রিয়ালের ভাড়া ১০০ রিয়াল পর্যন্ত আদায় করতে দ্বিধা করেন না। আবার অনেক ড্রাইভার রাস্তা না চেনা হাজিদের এক জায়গায় নামানোর কথা বলে অন্য জায়গায় নামিয়ে দেন। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেই সঙ্গে হাজিদের চলাচলের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক বাসসেবা চালু রাখা এবং গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176073028.jpg
মধ্যরাতে মসজিদে হারামে প্রবেশের জন্য হাজিদের অপেক্ষা◢

 

হারাম এলাকার মসজিদের মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা: মসজিদে হারামের কাছাকাছি মিসফালা রোড, হিজরা রোড, দাখেলা রোড থেকে শুরু চারপাশে প্রচুর ছোট ছোট মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের নিয়মিত আজান ও জামাতে নামাজ হয়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এসব মসজিদের নামাজের তাকবির, কেরাত- মসজিদের হারামের কেরাতে ও তাকবিরের আওয়াজের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ফলে মসজিদের হারামের জামাতে শরিক হওয়া রাস্তায় দাড়ানো মুসল্লিরা দ্বিধায় পরে যান। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো- ছোট ছোট এসব মসজিদের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা জামাতের সময় একটু আগে-পিছে করে দেওয়া।

রাস্তায় নামাজ: মসজিদে হারামের জামাতে অংশ নিতে বহুদূর থেকে হাজিরা আসেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ কিংবা জামাতের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে অনেকেই রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। তবে কিছু মানুষ ইচ্ছা করেই, শুধুমাত্র হাটার ভয়ে রাস্তায় নামাজের জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েন, দেখা যায়, তার সাথে প্রচুর জায়গা ফাঁকা এমতাবস্থায় রাস্তাও বন্ধ থাকে, জামাতের কাতারের ধারাবাহিকতাও থাকে না। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

মোবাইল বিড়ম্বনা: তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। ফলে হজপালনে আসা সবাই চান পরিবারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে। কিন্তু সৌদি আরবে এসে হাজি মোবাইল রিচার্জ নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একে তো অনেক কোম্পানী, প্রচুর অফার। কে কোন কোন অফার নেবেন তা স্পষ্টভাবে বুঝা মুশিকল হয় ভাষাগত জটিলতার কারণে। ফলে ইন্টারনেট রিচার্জ, টকটাইম রিচার্জ নিয়ে এক ধরণের জটিলতায় ভুগতে হয় অনেককে। এ সুযোগে অনেক রোহিঙ্গা (আগে থেকে সৌদিতে থাকা) ও পাকিস্তানি দোকানদার ১৫ রিয়ালের কার্ড ১৭ রিয়ালে, ৫০ রিয়ালের কার্ড ৬০ রিয়ালে বিক্রি করে। মোবাইল নিয়ে জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।

নামাজের কাতার সোজা করার ঘোষণা আরও আগে দেওয়া: মসজিদে হারামে ইকামতের পর কাতার সোজা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর আর সময় তেমন দেওয়া হয় না। তাকবির বলে নামাজ শুরু করে দেওয়া হয়। তাতে উপস্থিত মুসল্লিরা কাতার সোজা করার তেমন সুযোগ পান না। ফলে কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা থাকে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ভাবা দরকার।

উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়া কাবা চত্বর থেকে শুরু করে দোতলা, তিনতলায় দাড়িয়ে সেলফি কিংবা ছবি উঠানো, মূল মাতাফে হুইল চেয়ারে তাওয়াফের বিষয়েও ভাবা দরকার। এক্ষেত্রে মসজিদে হারাম কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধের পাশাপাশি হজপালনকারীদের সচেতনতা কাম্য। 

হজ পৃথিবীর সব অঞ্চল, বর্ণ ও ভাষার মুসলমানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। তাই মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবন প্রতিষ্ঠায় হজের বিকল্প নেই। সে হিসেবে বর্ণিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সম্মানিত হাজিরা উপকৃত হবেন বলে আমরা আশা করি।

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র