Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন নিয়ে কিছু কথা

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন নিয়ে কিছু কথা
কোরবানির গোশত মুসলিম সমাজে বিলি-বণ্টন করা ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানির গোশত কোরবানিদাতার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিলি-বণ্টন করা ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ। ইসলামের শুরু থেকেই এভাবে চলে আসছে। সামাজিকভাবে সমাজপতিদের নেতৃত্বে কোরবানির গোশত বণ্টনের কোনো দৃষ্টান্ত অনুসরণীয় প্রথম তিন যুগে পাওয়া যায় না। তার পরও নতুন চালু হওয়া এ সামাজিক বণ্টন প্রথা বেশদ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রচলিত সামাজিক বণ্টনের ধরণ, স্থানভেদে সামান্য ভিন্নতার সঙ্গে অনেকটাই এমন- প্রত্যেক কোরবানিদাতা তার কোরবানির গোশতের এক তৃতীয়াংশ মসজিদে দিয়ে আসেন। মসজিদ কমিটির নেতৃত্বে সবার জমাকৃত গোশত সমাজের সবার মাঝে সমান করে বণ্টন করা হয়।

এ পদ্ধতির একটাই মাত্র সুবিধা, তা হলো- কোরবানিদাতার বাড়িতে ভিক্ষুকদের ভিড় থাকে না এবং কোরবানিদাতাকে গোশতের ব্যাগ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেতে হয় না। এ সুবিধার কারণেই মূলত কোরবানিদাতাদের অনেকেই এ পদ্ধতিকে পছন্দ করে থাকেন। কিন্তু এ পদ্ধতির বেশ কিছু শরয়ি সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর অন্যতম হলো-

১. ইসলামের প্রথম তিন যুগের অনুসৃত পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে।
২. কোরবানি একটি ব্যক্তিগত ইবাদত, দলবদ্ধ ইবাদত নয়। কিন্তু প্রচলিত গোশত বণ্টন পদ্ধতির জেরে কোরবানি দলবদ্ধ ইবাদতের রূপ পরিগ্রহ করছে।

৩. কোরবানির গোশত আদৌ বিতরণ করা হবে কি-না, বিতরণ করা হলে কতটুকু অংশ বিতরণ করা হবে তা সম্পূর্ণ কোরবানিদাতার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। শরিয়ত তাকে কোনো কিছুতেই বাধ্য করেনি। কিন্তু প্রচলিত সামাজিক বণ্টন পদ্ধতিতে সমাজপতিরা কোরবানিদাতার এ ঐচ্ছিক অধিকার হরণ করে। গোশতের নির্ধারিত একটি অংশ সামাজের জন্য দিতে তাকে বাধ্য করা হয়। কোথাও কোথাও তো গোশত না দিলে সমাজচ্যুত করার হুমকিও দেওয়া হয়। আবার কোথাও জোরাল কোনো হুমকি না থাকলে সমাজের লোকদের বাঁকাদৃষ্টি ও তীর্যক মন্তব্যের ভয়ে সমাজপতিদের নির্ধারিত অংশ দিতে কোরবানিদাতা বাধ্যবাধকতা অনুভব করেন। যা আল্লাহতায়ালা বাধ্য করেননি, আল্লাহ যা ঐচ্ছিক রেখেছেন সমাজ ও সমাজপতিরা তা বাধ্য করার অধিকার কিভাবে পায়?

৪. মসজিদের মাসিক চাঁদা, মুষ্ঠির চাল না দিলে কোরবানির গোশতের ভাগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অপরদিকে যারা মসজিদের মাসিক চাঁদা, মুষ্ঠির চাল ইত্যাদি দিয়ে আসছেন তারা এ সূত্র ধরে গোশতের ভাগকে নিজের প্রাপ্য অধিকার জ্ঞান করে।
দ্বি-পাক্ষিক বস্তু আদান-প্রদানে যখন একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল থাকে- তখন স্পষ্টই তা বেচাকেনা। অতএব, প্রচলিত সামাজিক বণ্টনে সারা বছরের মাসিক চাঁদা ও মুষ্ঠির চালের বিনিময়ে কোরবানির গোশত বিক্রি করা হচ্ছে।
অথচ এ মাসয়ালা সবাই জানে যে, কোরবানির গোশত বিক্রি করা নাজায়েয। না জেনে বিক্রি করে থাকলে তার মূল্য অথবা সেই পরিমাণ গোশত কোরবানির বাইরে থেকে গরিবদের মাঝে দান করা ওয়াজিব।

৫. অন্য সমাজের মসজিদে নামাজ পড়লে কোরবানির গোশতের ভাগ না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় কোথাও কোথাও।
অথচ কোরবানির গোশত প্রদানে ইসলাম কোনো শর্ত রাখেনি। এমনকি অমুসলিমদেরও কোরবানির গোশত দেওয়ার অনুমতি ইসলামে আছে। ইসলাম যা নিঃশর্তে প্রদান করতে বলেছে, তা প্রদানের জন্য নিজেদের মসজিদে নামাজ পড়ার শর্ত দেওয়ার অধিকার সমাজপতিরা কোথায় পায়?

৬. প্রচলিত বণ্টন পদ্ধতিতে সমাজের সবাইকে গোশতের ভাগ দেওয়া হয়। যারা কোরবানি করেনি তাদেরকে দেওয়া হয়, আবার যারা কোরবানি করেছেন তাদেরও দেওয়া হয়। ফল দাঁড়াচ্ছে, সমাজের জন্য গোশত দিয়ে দেওয়ার পর তার কিছু অংশ কোরবানি দাতারা ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া একটি ঘৃণিত কাজ, নিকৃষ্ট স্বভাব। হাদিসে এর উপমা দেওয়া হয়েছে নিজের বমি নিজেই খাওয়া। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া কোনো মানুষের জন্য হালাল নয়। এর দৃষ্টান্ত হলো- কুকুরের মতো। কুকুরের যখন খেতে খেতে তৃপ্তি মিটে যায়, তখন সে বমি করে। কিছুক্ষণ পরে নিজেই আবার নিজের সেই বমি চেটে চেটে খায়।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২২১৩১

৭. যদিও কোরবানির গোশত বিলি করা ওয়াজিব না, সবটুকু গোশত নিজের পরিবারের লোকদের খাওয়ানো জায়েয আছে কিন্তু মুস্তাহাব হলো তিন ভাগের দুই ভাগ বিলি করা। এক ভাগ গরিবদের মাঝে বিলি করা, আরেক ভাগ আত্মীয়, পড়শি ও বন্ধুদের মাঝে বিলি করা।
প্রচলিত সামাজিক বণ্টনে যারা কোরবানির গোশত জমা দেয় তারা কিন্তু গরিবের ভাগটাই এখানে জমা দেয়। যার জন্য বাড়িতে কোনো গরিব, মিসকিন, ভিক্ষুক আসলে তাদের সোজা বলে দেয়, গরিবের ভাগ মসজিদে দিয়ে দিছি। অথচ মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও সমাজপতিরা কোরবানির গোশতের এ গরিবের ভাগ সমাজের ধনি, গরিব, স্বচ্ছল, অস্বচ্ছল নির্বিশেষে সবাইকে দেয়। এটা চরম লজ্জাকর একটি কাজ।

৮. সাধারণত প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে অনেক পাড়া, মহল্লা এমন থাকে যেখানের কেউই কোরবানি দেয় না। মহল্লাবাসী সবাই দরিদ্র, দিনমজুর। কিন্তু পাশের মহল্লায়, গ্রামে অনেকেই কোরবানি দেয়।
আগে এ ধরণের পাড়ার দরিদ্ররা কোরবানির দিন আশ-পাশের পাড়া-মহল্লার কোরবানিদাতাদের বাড়িতে যেত। সবার থেকে কিছু কিছু গোশত পেত। যাতে তাদের দু’এক দিন অনায়েসেই চলে যেত। তৃপ্ত করে গোশত খেত।
কিন্তু সামাজিক বণ্টন প্রথার রেওয়াজ তাদের গোশত খাওয়ার এ সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তারা পাশের মহল্লার কোরবানিদাতাদের বাড়িতে গেলে গোশত পায় না। কোরবানিদাতা উত্তর দেয়, গরিবের ভাগ মসজিদে দিছি। তোমরা মসজিদে যাও। আর মসজিদে গেলে সমাজপতিরা তাদের উত্তর দেয়, খাতায় তোমার নাম নেই। তুমি এ সমাজের না। তোমাকে আমরা গোশত দিতে পারব না।

বাড়ি থেকে গোশত বিলি করার অসুবিধার কারণে যদি একান্তই দলবদ্ধভাবে গোশত বিলি করার উদ্যোগ নিতে হয় তবে নিম্নলিখিত শর্তগুলো নিশ্চিত করতে হবে। যথা-

১. গোশত বিতরণে এ দিকে আদৌ ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না যে, কে মসজিদে চাঁদা দেয় আর কে দেয় না। মসজিদ বা কোনো প্রতিষ্ঠানের দানের সঙ্গে কোরবানির গোশতকে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত করা যাবে না।

২. সামাজিক সীমানাকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।

৩. সামাজিক আয়োজনে গোশত জমা দিতে বা গোশতের নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা দিতে কোরবানিদাতাদের বাধ্য করা যাবে না। এমনকি কোনো কোরবানিদাতা সমাজে গোশত জমা না দিয়ে নিজে ব্যক্তিগতভাবে গরিবদের মাঝে বিলি করলে তার সমালোচনা করা যাবে না, তার নিন্দা করা যাবে না, তাকে সমাজচ্যুত করা যাবে না। গোশত জমাদানকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক রাখতে হবে।

৪. গোশতের ভাগ বিতরণের জন্য মুসলমান, নামাজি, পরহেজগার ইত্যাদি কোনো শর্তারোপ করা যাবে না।

৫. যারা কোরবানি দিয়েছে এবং যারা সমাজে ধনি হিসেবে খ্যাত তাদেরকে সম্মিলিত গোশতের ভাগ দেওয়া যাবে না।
সমাজের কোরবানিদাতাদের এবং ধনিদের গোশত দিতে হলে বাড়িতে কোরবানি দাতারা তিনের যে দু’ভাগ গোশত রেখে দিয়েছে তার দ্বিতীয় ভাগ থেকে নিজ উদ্যোগে দিবে। কেননা, এ দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়, পড়শি ও বন্ধুদের জন্য।

৬. সামজের বাইরের ভাসমান দরিদ্রদের জন্য এবং অন্যান্য দরিদ্র সমাজগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গোশতের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
এটা দু’ভাবে হতে পারে। হয়তো কোরবানিদাতারা গোশতের একটা অংশ বাড়িতে রেখে দিবে। সমাজের বাইরে থেকে আগত ভিক্ষুকদের মাঝে নিজ হাতে দিবে। অথবা হয়তো দলবদ্ধ গোশত নিজ সমাজের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টনের আগেই উল্লেখযোগ্য একটা অংশ আলাদা করে ফেলবে। যা নিজ সমাজের বাইরের গরিবদের মাঝে ও দূরদূরান্ত থেকে আগত ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করবে।

পরিশেষে বলব, ইসলাম যা ব্যক্তিগত রেখেছে তা ব্যক্তিগত রাখাই অধিকতর কল্যাণকর। তাকে দলবদ্ধ বা সমাজবদ্ধ রূপ দেওয়া অনুচিত। তাই কোরবানির গোশত বিতরণে সামাজিক বণ্টনের দিকে পারতপক্ষে না যাওয়াই শ্রেয়। আর সে দিকে যেতে হলে উদ্ভুত শরয়ি সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করে, সকল শর্ত যথাযথভাবে পালন করে তবেই সামাজিক বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া। কেননা, সামাজিক বণ্টনের প্রচলিত ধরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই

বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট ৪ জুলাই
হজযাত্রীদের ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ৪ জুলাই। ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।

প্রথম দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘ্নে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও চলতি বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। চলতি বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭,১৯৮ ব্যালটি, অবশিষ্ট ৫৬,৪০১ নন-ব্যালটি হজযাত্রী যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

এ বছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমি জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘণ্টা।

দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ৩০৪ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট। ০৪ জুলাই থেকে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৮৯ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। ‘পোস্ট-হজ্জ’-এ ১৪৭টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৪৭ এবং শিডিউল ২৯) এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।

প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফ্লাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকা থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি ইমেগ্রেশন টিম ঢাকায় অবস্থান করবে। এ বছর বিমান হজযাত্রীদের উড়োজাহাজের সামনের অপেক্ষাকৃত বড় ও আরামদায়ক নিশ্চিত আসন নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে-তে ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকা এবং রির্টান যাত্রা (যাওয়া-আসা) ২০০ ডলার বা সমপরিমাণ টাকার বিধান রেখেছে।

এছাড়া হজযাত্রীদের টিকিট ক্রয় করার পর যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে ওই টিকিটের অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না। বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটসমূহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে।

চলতি বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২টি ব্যাগেজে ৪৬ কেজি মালামাল বিমানে এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি ব্যাগেজের ওজন ২৩ কেজির বেশি হবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট নিয়ে আসা হবে এবং প্রত্যেক হাজিকে ঢাকা/চট্টগ্রাম/সিলেট ফেরৎ আসার পর তা’ দেওয়া হবে। কোন অবস্থাতেই হাজিরা সঙ্গে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।

যেকোন ধারালো বস্তু যেমন-ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন- অ্যারোসল এবং ১০০ মিলির বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। ব্যাগেজ স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ হতে হবে। যে কোন অবস্থায় গোলাকৃত, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণযোগ্য হবে না।

১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪ জন হাজি হজপালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়েছেন।

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’

একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’
একটি প্রামাণ্য হজ গাইড ‘জীবন্ত হজ্জ’, ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজপালনের মাধ্যমে মানুষ সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হজপালনকারী নিজে জান্নাতে যাবেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সুপারিশ করার ক্ষমতা পাবেন। এমন মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদতটি সহিহ-শুদ্ধভাবে পালন করা জরুরি। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক হজপালনকারী এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।

হজ পালন করা যেমন ফরজ, হজের মাসয়ালাসমূহ জানাও তেমনিভাবে ফরজ। পাশাপাশি আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, কাবা শরিফের মহব্বত, মক্কা শরিফের প্রতি সম্মান, মদিনা শরিফের প্রতি আকর্ষণ এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সর্বোচ্চ ইশ্ক নিয়ে হজ পালন করা দরকার।

হজপালনকারী হজপালনের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে হজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হজের প্রস্তুতিসহ মক্কা-মদিনায় যেসব সুবিধা-অসুবিধা, নতুন নতুন সংকট ও তার সমাধান কী সেগুলো বোঝার জন্য সহজবোধ্য করে বর্ণনা করা হয়েছে ‘জীবন্ত হজ্জ’ বইটিতে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লেখক সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেও হজপালন করে আসছেন। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বইটি রচনা করেছেন।
জীবনে প্রথমবার যে হজপালন করবেন বইটি পড়লে হজের আমল পরিপালনের স্থানগুলো অনেকটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত হজ গাইডে উল্লেখ করা হয় না।

এক কথায়, ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্থানের করণীয় ও দলিলনির্ভর মাসয়ালাসহ হজের পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সম্বলিত বই ‘জীবন্ত হজ্জ’।

বইটির লেখক মুফতি অহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে উত্তরার মসজিদ আল-মাগফিরাহ-তে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে জামিয়া ইমাম বুখারী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

বইটিতে শুধু হজ-উমরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়নি। ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- মসজিদুল হারামে নামাজের ফজিলত, হজের প্রস্তুতির নানাদিক, হজের সফরে যে সামগ্রীগুলো প্রয়োজন, ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়, ইহরাম বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি, বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও করণীয়, মক্কা শরিফ পৌঁছে কী কী করবেন, কিভাবে উমরার তাওয়াফ করবেন, তাওয়াফ করা অবস্থায় কোন কোন কাজ বেয়াদবি, হজের মূল পাঁচদিনের আমলসমূহ, মিনা-আরাফা ও মুজদালিফার আমলসমূহ, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের বিধান, কোরবানি প্রসঙ্গ, ফরজ তাওয়াফসহ হজের বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে লেখক উল্লেখ করেছেন, হজের সফরে কষ্ট হয় কেন? কোন স্থানে ঝগড়া হয়, অজ্ঞতাবশত ও আবেগতাড়িত হয়ে যে ভুলগুলো হাজিরা করে থাকেন, নারীদের হজের মাসয়ালা, বদলি হজের বিধান ও ফজিলত, যেসব কারণে হজের কাজা ওয়াজিব হয়, মক্কা-মিনা-আরাফা ও মুজদালিফায় নামাজের বিধান, মক্কায় দোয়া কবুলের স্থানসমূহ, মক্কার ঐতিহাসিক জায়গার বিবরণ, মদিনা শরিফের মর্যাদা, মসজিদে নববীর পরিচিতি ও জিয়ারতে মদিনার বিধান, মদিনায় করণীয়, মসজিদে নববীতে প্রবেশের নিয়ম, রওজাতুল জান্নাহতে প্রবেশের বিধান, রওজা শরিফে সালাম পেশ করার তরিকা, অন্যের সালাম কিভাবে দেবেন, মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত, হজের পরিভাষা ও হজ থেকে ফিরে এসে কিভাবে চলবেন সেসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে।

এক কথায় বইটি হজযাত্রীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বইটি নির্ভরযোগ্য ও প্রাণবন্ত। আমরা এর বহুল প্রচার কামনা করি।

বই: জীবন্ত হজ্জ
লেখক: মুফতি অহিদুল আলম
প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০১৭
প্রকাশনায়: ইমাম বুখারী রহ. ট্রাস্ট, বাড়ী- ৯, রোড-৯৯/বি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা
মূল্য: ২০০ (দুইশত) টাকা মাত্র।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র