আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে বাংলাদেশের চাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক (বাঁয়ে) ও ইউলিয়াম আর্মস্টাইন, ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক (বাঁয়ে) ও ইউলিয়াম আর্মস্টাইন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের চাল। ফলে চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও বিদেশের বাজারে রফতানি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্নের সিনিয়র প্রফেসর ও অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল রিসার্স সেন্টারের পরিচালক ইউলিয়াম আর্মস্টাইনের নেতৃত্বে আসা এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চাল প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে আছে। ফলে আমাদের আফ্রিকান দেশগুলোতে রফতানি করতে হবে। সেখানেও একটু সমস্যা রয়েছে, সে দেশগুলোতে যেতে হয় ডোনারদের মাধ্যমে। আশা করছি, এক লাখ টনের মতো চাল ফিলিপিনে রফতানি করা যাবে। তারা পাঁচ হাজার টন এলসি করেছে। এ পাঁচ হাজার টন যদি ভালো হয়, তাহলে বাকি ৯৫ হাজার টন দ্রুত নেবে।’

‘আন্তর্জাতিক বাজারে যারা পুরনো, যেমন থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, তাদেরই সমস্যা হচ্ছে চাল রফতানিতে। অনেক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন বেশি হয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে না থাকায় ভালো সাড়া পাচ্ছি না। তবে চেষ্টা করতে করতে আন্তর্জাতিক বাজারে ঢুকতে পারব,’ যোগ করেন কৃষিমন্ত্রী।

w
ব্রিফ করছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

কৃষিতে সাফল্য স্বপ্নের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা কৃষির বহুমুখীকরণের সাফল্য পেতে শুরু করেছি। ডালের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য পটুয়াখালী, খুলনা, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বরগুনাসহ কোস্টাল এলাকাগুলোতে ডালের উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।’

আগে দেশে ডাল হতো দুই/তিন লাখ টন। এখন উৎপাদন বেড়ে হয়েছে আট লাখ টন। আগে পটুয়াখালীতে কোনো ডাল হতো না। এখন সেখানে দুই লাখ টন মুগ ডাল হচ্ছে। ফলে মুগ ডালের দাম কমেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কূটনীতিকদের বিভ্রান্ত করতে পারবেন না জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও নির্বাচনসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। কূটনীতিকরা কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সমর্থন করেন না। তারা দেশে কোনো ধ্বাংসাত্মক কার্যকলাপ দেখতে চান না। তারা অবশ্যই বিনা বিচারে কোনো হত্যা হলে, আইনের লঙ্ঘন হলে, সেটা সমর্থন করেন না। এ দেশে ন্যায়ের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, এটা সব কূটনীতিক চান।’

ড. মঈন খানের বাসায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কূটনীতিকরা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চান। তাদের এ মতবিনিময়ে কোনো বাধা নেই। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। আমরাও তো কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করি ও করব। কাজেই আমি এটিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে চাই না। আমার মনে হয়, তারা কূটনীতিকদের কোনোভাবেই বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। তারপরও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ভুল তথ্য দিয়ে কূটনীতিকদের বিভ্রান্ত করতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে তা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা রয়েছে আওয়ামী লীগের।’

‘নির্বাচনের আগে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এক সঙ্গে নির্বাচন করেছে। নির্বাচনের পরে তারা অভিযোগ করেছে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা বলছেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আন্দোলনে যাবেন । প্রথমত খালেদা জিয়া কোনো রাজনৈতিক কারণে জেলে যাননি। তিনি দুর্নীতির কারণে জেলে গেছেন। এতিমদের টাকা চুরি করায় তার সাজা হয়েছে। তাকে জেল থেকে বের করতে হলে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। আন্দোলন করে তারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবেন না,’ যোগ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :