Alexa

ইবি’তে ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ

ইবি’তে ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ স্মৃতিসৌধ’ ভাস্কর্য/ ছবি: বার্তা২৪.কম

১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। আর বিজয়ের দেখা মেলে ডিসেম্বরে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের স্বরণে অনেক জায়গায় ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও (ইবি) রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মারক ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলা’ ও ‘শহীদ স্মৃতিসৌধ’।

জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা সংগ্রামের ইতহাস নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করতে ১৯৯৬ সালে ‘মুক্তবাংলা’ এবং ২০০১ সালে নির্মিত হয় ‘শহীদ স্মৃতিসৌধ’। এই ভাস্কর্য দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে।

মুক্তবাংলা: আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের আঙ্গিকে ১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইবি’র প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশে স্থাপন করা হয় ‘মুক্তবাংলা’। যার নকশা করেন রশিদ আহমেদ। ‘মুক্তবাংলা’য় সাতটি স্তম্ভ রয়েছে। যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ রাইফেল, যা সাত সদস্যের মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার প্রতীক।

ওপর থেকে চতুর্থ ধাপে লাল সিরামিক ইট আন্দোলন ও যুদ্ধের প্রতীক, দ্বিতীয় ধাপে কালো পাথর শোক ও দুঃখের প্রতীক, তৃতীয় ধাপে সাদা মোজাইক সন্ধি ও যোগাযোগের প্রতীক এবং বেদির মূল মেঝে সবুজ মোজাইকের নীল টাইলস শান্তির প্রতীক। সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি সাতটিআর্চ সম্বলিত একটি অর্ধ উদিত (উদিয়মান) সূর্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/20/1545322439775.gif

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই ডানদিকে সবার নজর কাড়ে সুন্দর এই স্থাপত্য কর্মটি। মুক্তবাংলা সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব উপভোগ করতে শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতিদিন দর্শনার্থীরা আসেন ক্যাম্পাসে।

শহীদ স্মৃতিসৌধ: এছাড়াও ইবি ক্যাম্পাসে স্থাপিত ‘শহীদ স্মৃতিসৌধ’ সবার নজর কাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার লীলাভূমিতে রূপান্তরের প্রত্যয়ে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থাপিত হয় এই স্মৃতিসৌধ।

৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের শহীদদের স্মরণে ইবি ক্যাম্পাসে ২০০১ সালে তাৎপর্যপূর্ণ এ ‘শহীদস্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ করা হয়। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হাশেম খান এবং প্রখ্যাত স্থাপত্যবিদ রবিউল ইসলামের দেওয়া মডেল ও স্থাপত্য কর্মের ভিত্তিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা লাভের মূলধারা ও অতীতের সব ঘটনাকে স্মরণ রাখতে যথাক্রমে ৩০ ফুট, ৪২ ফুট ও ৫২ ফুট উচ্চতায় দুই ফুট ছয় ইঞ্চি পুরু বিভিন্ন দৈর্ঘ্যরে সংমিশ্রণে এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপন করা হয়।

৭১ ফুট উঁচু পরিসরে তিন ফুট ৯ ইঞ্চি থেকে পাঁচ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ইটের চত্বরে এই স্তম্ভটি স্থাপিত। যার ওপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ,পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের বেদি, প্রশস্ত পাটাতন, মাঝখানে ২১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট জাতীয় পতাকার দন্ড এবং দুই পাশে ১০ ফুট উচ্চতার ৩৮ ফুট ছয় ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে দুটি দেয়ালচিত্র সন্নিবেশ করা হয়েছে।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মরমী সাধক ফকির সম্রাট লালন শাহ, পাগলা কানাই ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী সংযোজন স্মৃতিসৌধটির গুরুত্ব আরও অর্থবহ করে তুলেছে। এছাড়া গোলাকার জ্যামিতিক বৃত্ত, ব্যাসার্ধ, স্তম্ভ ইত্যাদি স্থাপত্য দেশের বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :