Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাওরের হাতছানি-৪

নিকলী হাওর নৌভ্রমণ

নিকলী হাওর নৌভ্রমণ
নিকলী হাওরের মাঝ থেকে দূরনদীতে নৌকা চলাচল
মাহমুদ হাফিজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর


  • Font increase
  • Font Decrease

নাস্তা সেরে ইকো রিসোর্ট থেকে আমাদের বের হওয়ার কথা সকাল আটটায়। আগেভাগেই উঠে পড়লাম। কারণ আজ হাওর দর্শনে যাওয়ার কথা। হাওর এক দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। নদীবাহিত বিস্তীর্ণ চরাচর ভরবর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফুলফেঁপে এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। যাদের সমুদ্র দেখার ফুরসত মেলেনি, তাদের জন্য হাওরে যাওয়া এক আকর্ষণ। আমাদের ভ্রমণদলের সবাই সমুদ্রদর্শনের সৌভাগ্য অর্জন করলেও হাওর দেখেনি। আমাদের কাছেও হাওরের আকর্ষণ কম নয়। কিন্তু, একি! জানালার পর্দা সরিয়ে দেখি গাছগাছালির ওপর বৃষ্টি পড়ছে। গাছের ফাঁক দিয়ে দিগন্তবিস্তৃত মাঠে যতদূর চোখ যায়, টিপটিপ বৃষ্টির ধোঁয়াশা। বাতাসও আছে। আজ হাওরে নৌভ্রমণ হবে কিনা তা নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যেই নিচে নেমে নাস্তা সেরে নিলাম। ভ্রমণ তালিকা থেকে হাওরে নৌকায় ঘোরাঘুরি যদি বাদ হয়, তাহলে ঢিলেঢালাভাবে বের হলেও ক্ষতি নেই। তবে সবাই অনড়—হাওরে নামা হোক বা না হোক অবশ্যই যেতে নিকলীর হাওরপাড়ে। নয়টায় সবাইকে নিয়ে আমাদের রিজার্ভ মাইক্রোবাসের ড্রাইভার কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ সড়কে উঠে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল।

হাওর ও গ্রামপর্যটন বিস্তারে জালালপুর ইকো রিসোর্ট

সময় এলো গুগল চাচার সহায়তা নেওয়ার। এই এক আশ্চর্য পদ্ধতি, যাকে বারবার জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হয় নিজের হদিস—আমি এখন পৃথিবী নামের এই গ্রহটির ঠিক কোন জায়গায় আছি, গন্তব্যেই বা যাব কিভাবে? গুগল কটিয়াদী থেকে নিকলী যাওয়ার দুটি অপশন দেখাল। একটিতে পৌনে একঘণ্টা, আরেকটিতে একঘণ্টা। কোন রাস্তার অবস্থা ভালো তা কিন্তু গুগল দেখাতে পারল না, রাস্তায় জট আছে কিনা তা ভালোই দেখাল। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, সড়ক ধরে কিশোরগঞ্জের দিকে এগিয়ে কালিয়াচাপড়া চিনিকল পার হয়ে ডানের পথ ধরব। এই বৃষ্টি বাদলার মধ্যে গ্রামের সরু রাস্তায় বড় গাড়ি ঢোকানো ঠিক হবে না।

কটিয়াদি-কিশোরগঞ্জ সড়কের পুলের ঘাট থেকে ডান দিকে নিকলীর রাস্তা। এই সড়ক গচিয়াহাটা হয়ে চলে গেছে নিকলী। যাওয়ার পথে বনগ্রাম ও গচিয়াহাটায় মাছের পোনার বাজার দেখে উল্লসিত হলাম। গাড়ি ছুটে চলল নিকলী। এরই মধ্যে একটি দৈনিকে কর্মরত এক সিনিয়র সাংবাদিক, আমার সাবেক সহকর্মীর ফোন। ফেসবুকের কল্যাণে তাঁর কাছে খবর পৌঁছেছে আমরা নিকলীতে হাওর ভ্রমণে যাচ্ছি। অনুজপ্রতিম সাংবাদিক ফোনে বলল, ‘ভাই, নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার স্ত্রী। কোনো সমস্যা হলে ফোন দিয়েন’। জিজ্ঞেস করলাম, নিকলী হাওর ভ্রমণে প্রশাসনের সহযোগিতার কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। জবাব এলো, ‘তা নেই, তবে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহায়তা যদি লাগে’। নম্বরগুলো টুকে রেখে দিলাম।

আঁকাবাঁকা রাস্তা গ্রামের পর গ্রাম পেরিয়ে চলে গেছে। নিকলী পৌঁছার বেশ কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই হাওরের আমেজ চোখ জুড়িয়ে দিল। রাস্তার দু’পাশেই জলরাশির দিগন্তবিস্তার। পানির মধ্যে ছোপ ছোপ গ্রাম। আমরা বিশাল জলরাশি দেখে বারবারই উল্লসিত হয়ে পড়ছি ‘নিকলী হাওরে এসে গেছি, এসে গেছি’ বলে। গাইড ডালিয়া হোসেন অভিজ্ঞ। আমাদের শান্ত করছেন নিকলী আরো সামনে। রাস্তার দু’পাশের জলরাশির সঙ্গে মিতালী করতে করতেই একসময় একটি বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল। বাঁয়ে সমতল আর ডানে তুমুল জলরাশি। কিছুক্ষণ পর নিকলী হাসপাতালসহ নানা স্থাপনার সাইনবোর্ড দৃষ্টিগোচর হলো। বাঁধের নিচে হাওরের পানিতে গ্রামের মেয়েরা সারবেঁধে পাটের আঁশ ছড়াতে বসেছে। পুরুষরা হাওরে মাছ ধরে তীরে এসে নৌকা ভিড়িয়েছে। আমরা একই পথে হাসপাতাল মোড়ের দোকানপাট-হোটেল পেরিয়ে বাঁধের মাথায় পৌঁছালাম। সারি সারি পর্যটন নৌকা বাঁধা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/12/1562920693628.jpg
পর্যটকদের জন্য অপেক্ষমাণ ট্যুরিস্ট বোট

 

হাওরের ঘাটে গাড়ি থেকে নেমেই আমাদের সবার চক্ষু ছানাবড়া। সামনে দিগন্তছোঁয়া পানি। বিশাল জলরাশির মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সবুজ গ্রাম চোখে পড়ে। দূরে আষাঢ়ের মেঘের পেছনে নীল আকাশ পানির সঙ্গে মিতালী করেছে। নিরন্তর বাতাস বইছে। হাওরের পানি ছুঁয়ে আসা শীতল বাতাস প্রাণমন জুড়িয়ে দেয়। বাতাসের তোড় খুব বেশি নয় আর হাওরেরও পানি বেশি নয় বলে পানিতে ঢেউয়ে খুব উত্তাল নয়। যতটুকু আছে তা এক কুল কুল শব্দ করে আছড়ে পড়ে বাঁধের কিনারে।

ঘাটে ইকো রিসোর্টের নিয়মিত মাঝি ফারুক হাজির। আমাদের আসার পথে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় ফারুক মাঝিকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই সে নৌকাঘাটে উপস্থিত। গাড়িতে নামতেই হাত বাড়িয়ে পরিচিত হয়ে তার নৌকায় নিয়ে গেল। মাঝি না বলে ফারুককে নৌকার মালিক বলা যেতে পারে। আরো দুজন মাঝি আছে নৌকায়। আমি মাঝির পাশের দোকানে লাইফ জ্যাকেট খোঁজ করে পেলাম না। মাঝিরা জানাল, পর্যটকরাই নিয়ে আসে এই জীবনতরী। তবে হাওরে নৌকাডুবির ভয় তেমন নেই বলেও অভয় দিল।

শহুরের গ্রাম দরশন

বিলম্ব না করে আমাদের ভ্রমণ দলের সবাই নৌকার ছাদে উঠে গেল। ইঞ্জিনচালিত নৌকার ছাদেই বেশিরভাগ মানুষ বসে। রোদ-বৃষ্টির সময় নিচের পাটাতনেও বসে, সেখানে ঢুকতে হলে হামাগুড়ি দিয়ে মাথা নিচু করে যেতে হয়। নৌকা হাওরের পানি পেরিয়ে ঘোরাউত্রা নদীর দিকে চলতে শুরু করল। নিকলীর ওপারপাড়ে ছাতিয়ার চর। আমরা নদী পেরিয়ে চরে যেতে চাইলেও মাঝিরা সেদিকে যেতে অনীহা প্রকাশ করল। কারণ অজানা। তারা বলল, ওই চরে সমস্যা আছে, ঘাট নেই, নৌকা চরে আটকে যাবে, যেতে আসতে অনেক সময় চলে যাবে ইত্যাদি। আমরা মূল নদীর তীর দিয়ে নিকলী হাওরের মাঝখানে একটি কাশবনের দ্বীপে গিয়ে পৌঁছালাম। মাঝিরা নেমে বেড়ানোর পীড়াপীড়ি করলেও আমরা নামলাম না। বেশিরভাগ পর্যটকের নাকি কাশবন এক আকর্ষণ বলেও তারা জানাল। দলের কামরুল ভাই, মাঝিরা সময়ক্ষেপণ করার বাহানায় আমাদের কাশবন দ্বীপে নিয়ে এসে নৌকা ভিড়িয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/12/1562920602805.jpg
নৌকার অভ্যন্তর

 

আমরা নদীর পাশ দিয়ে ঘুরে আবার হাওরের ঘাটের দিকে যেতে বললাম। হাওরের চারদিকে যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। মাঝিরা বলল, বর্ষার সময় নদীর পানি ফুলে ফেঁপে হাওর তৈরি হয়। অন্যসময় নদীতেই শুধু পানি থাকে, মাঠে ধানভুট্টার চাষ হয়। তারা বর্ষা মৌসুমে নৌকা চালায়, অন্যসময়ে চাষাবাদ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/12/1562920667172.jpg
নৌকার ছাদে বসে হাওর পর্যটন

 

নৌকা চলছে। তবে ইঞ্জিনের শব্দে আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়ে। মনে পড়ে ছোটবেলায় পালতোলা নৌকায় কত চড়েছি। কালের বিবর্তনে নৌকার সেই পাল হারিয়ে স্থান নিয়েছে ইঞ্জিন। আমরা কখনো নৌকার নিচের পাটাতনে কখনো টিন দিয়ে তৈরি ছাদে উঠে আড্ডা আলোচনা আর হাওর সৌন্দর্য দেখে সময় পার করছি। ছবি, ভিডিও, সেলফি তোলা সমানে চলছে। আষাঢ়ের ঘনঘটার মধ্যে মেঘের ফাঁকে সূর্য উঁকি দিচ্ছে কখনো কখনো। নিরন্তর গা জুড়িয়ে যাওয়া বাতাসে রোদের মধ্যেও প্রশান্ত দিচ্ছে বলে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, জলরাশির বিস্তার। কবি কামরুল হাসান বললেন, পৃথিবী যে গোল এখান থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

ক্ষেতসমুদ্রে সান্ধ্য ভ্রমণআড্ডা

হাওর ভ্রমণের অন্যতম মজা, হাওরতীরের হোটেল থেকে হাওরের তাজা মাছের তরকারি দিয়ে উদরপূর্তি। স্থানীয় মানুষ পর্যটকদের এই আকর্ষণ বুঝতে পেরে হোটেল ব্যবসা খুলেছে। নিকলী হাওরের হাসপাতাল মোড়ে অনেকগুলো খাওয়ার হোটেল। আশি টাকায় যে কোনো একটা মাছের তরকারি আর ভাত, ডাল, সবজি খাওয়া যায়। আমরা সেখানকার সেতু হোটেলটি পছন্দ করলাম। আইড়, পাঁচমিশালী, হুতুম, হাওরের কই মাছের তরকারি লাচ্চু মাছ ভাজা দিয়ে উদরপূর্তি করলাম। আমাদের সঙ্গীরা একেকজন একেক ধরনের মাছের তরকারি পছন্দ করে উদরপূর্তি করে মহাখুশি। দিনের পরবর্তী গন্তব্য কিশোরগঞ্জ শহর। গাড়ি সেদিকে ছুটে চলল।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি
ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনী থেকে ফিরে: হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেনী। ঐতিহ্যের অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ফেনীর গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তেমনি এক ঐতিহ্য ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি। শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে দীঘিটি। তবে এর ইতিহাস নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য।

অনেকে দীঘিটিকে প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের অমরকীর্তি হিসেবে দেখেন। তাদের মতে ৫-৭ শত বছর আগে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন দীঘিটি খনন করেন। আবার অনেকে মনে করেন, দীঘিটি খনন করেন স্থানীয় রাজা বিজয় সেন। পরে রাজার নামানুসারে দীঘিটির নামকরণ করা হয় ‘বিজয়সিংহ দীঘি’।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217003950.jpg

বর্তমানে ফেনী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন দীঘিটির আয়তন ৩৭.৫৭ একর। ফেনী শহরের ২ কিলোমিটার পশ্চিমে সার্কিট হাউজের পাশে বিজয় সিংহ গ্রামে অবস্থিত নয়নাভিরাম দীঘিটি। এর তিন দিকে উঁচু টিলা, যা সবুজ বৃক্ষ ও লতাপাতায় ঘেরা। একপাশে সমতল, যেখানে রয়েছে গোসল ও ওজু করার ঘাট, মানুষের বসার জায়গা ও সরকারি সার্কিট হাউজ।

কথিত আছে, প্রায় ৬-৭ শত বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভাবশালী একজন রাজা তার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার বাসনা থেকে এ দীঘি খনন করেন। আবার কেউ মনে করেন, রাজা বিজয় সিংহ তার মাকে খুশি করতে এ দীঘি খনন করেন। দীঘিটিতে একসময় সোনা ও রুপার থালা ভেসে উঠত। একদিন এক ভিখারিনী একটা থালা চুরি করে। এরপর থেকে আর থালা ভেসে ওঠে না!
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217023979.jpg

আরও কথিত আছে, এ দীঘিতে ৮০-১০০ কেজি ওজনের মাছ পাওয়া যেত। ফেনীর কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান তার ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে কমলা সুন্দরীকে জ্বিন দীঘিতে নামিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন। অনেকে মনে করেন জহির রায়হান এই দীঘির কথাই উল্লেখ করেছেন।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ পর্যন্ত কেউ দিঘিটি পুরোপুরিভাবে সেচ দিতে পারেননি। ফলে এখনও মানুষ দূর দূরান্ত থেকে এ দীঘিতে গোসল ও পানি নিতে আসেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217044009.jpg

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে দীঘিটির চারপাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে দীঘিটির পাড়ে ওয়াকওয়ে, আরসিসি গ্যালারি, লাইটিং, সীমানা প্রাচীর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়; যা দীঘিটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। রাতে দীঘির পাড়ে লাইটের আলোতে এক নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটে ওঠে। দীঘিটির পাড়ে বিভিন্ন দিবসে জনতার ঢল নামে। জমে ওঠে মেলা। কেউ পরিবার-পরিজন আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সময় কাটাতে যান দীঘির পাড়ে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার সায়েদাবাদ বা টিটিপাড়া থেকে বাসে করে ফেনীর মহিপাল নামতে হবে। গাড়ি ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা। পরে মহিপাল থেকে রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে সোজা বিজয়সিংহ দীঘি যাওয়া যায়। রিকশায় গেলে ১০-১৫ টাকা ভাড়া এবং হেঁটে গেলে ১০ মিনিট সময় লাগবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217071459.jpg

যেখানে খাবেন:

ফেনীর মহিপালে অনেক ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যে খাবার পাওয়া যায়। হোটেলগুলোর মধ্যে খ্যাতি আছে—শাহিন হোটেল, ফুড পার্ক রেস্তোরাঁ, ইত্যাদি হোটেল ও আলমাস হোটেলের।

যেখানে থাকবেন:
বিজয়সিংহ দীঘির অত্যন্ত কাছে ফেনী সার্কিট হাউস গড়ে তোলা হয়েছে। আর দীঘি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর অবস্থান। এছাড়া চাইলে এলজিইডি রেস্ট হাউজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউজে আছে থাকার ব্যবস্থা।

ফেনী শহরে রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে—হোটেল মিড নাইট বা হোটেল গাজী ইন্টরন্যাশনাল।

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা
হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

লালমনিরহাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা। ঈদ উপলক্ষে আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমছে সেখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশাল আয়তনের শালবনের নিরিবিলি পরিবেশ মনোমুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও বিনোদনপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ শালবন। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে শালবনটি। বনের বড় বড় গাছের নিচে আলাদা করে লাগানো বেতগাছ সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে ভিন্নমাত্রা। বেতগাছে অনেক কাঁটা থাকায় দর্শনার্থীদের চলতে হবে দেখে-শুনে। শালবনে ঘুরতে বা প্রবেশ করতে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958178016.jpg
শালবনে আগতরা বলছেন, নানারকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কর্মসংস্থান হবে স্থানীয়দের। বিশাল এই শালবনে নিরপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কলেজছাত্র কাহার বকুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগমে ভরে ওঠে শালবন। বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এ শালবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জোর দাবি জানাই।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958202314.jpg
নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যাপ্ত বনরক্ষী না থাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রায় একর আয়তনের এ শালবন রক্ষায় বনবিভাগের এই বিটে জনবল সংকট রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সাথে পর্যটনসেবা বঞ্চিত বিনোদনপ্রিয় জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের স্পট হতে পারে এই শালবন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958245666.jpg
যেভাবে যাবেন:
লালমনিরহাট শহর থেকে সড়ক ও রেলপথে হাতীবান্ধায় নেমে রিকশা ও ভ্যানযোগে মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই শালবনে। বনে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি দোকান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র