Alexa

সোমবার যে কোনো সময় বিএনপির নির্বাচিত বাকিদের শপথ!

সোমবার যে কোনো সময় বিএনপির নির্বাচিত বাকিদের শপথ!

ছবি: সংগৃহীত

সকল জল্পনা কল্পনা শেষে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির নির্বাচিত বাকি সদস্যরা। সোমবার (২৯ এপ্রিল) যে কোনো সময় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে শপথ পাঠ করবেন তারা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংসদ সচিবালয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তারা শপথ নেবেন। সেক্ষেত্রে আগে থেকে চিঠি না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পিকারের নিকট অনুরোধ জানিয়ে শপথ নিতে পারেন।

ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ার জন্য বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী তিন প্রার্থী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা ওই আসনগুলোতে উপ-নির্বাচনের সুযোগ দিতে চান না। যেহেতু দলের চাপ রয়েছে শপথ না নেওয়ার জন্য তাই আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি নাও দিতে পারেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজন বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে গণফোরামের দু'জন। বাকি ছয়জন বিএনপির। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে শুরু থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আসছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপথ না নিতে অনড় তারা।

তবে যেহেতু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় ৩০ এপ্রিল শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের শপথের সময় সীমা তাই সুযোগ হাত ছাড়া করতে নারাজ বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কেউ যদি শপথ গ্রহণ না করেন তাহলে তার ওই আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপ-নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে। তবে স্পিকারের কাছে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে সময় চাইলে বাড়তে পারে সময়।

একাদশ সংসদে গণফোরামের নির্বাচিতরা হলেন, সিলেট-২ আসনে মোকাব্বির খান ও মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। অবশ্য তারা দলের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ নিয়েছিলেন। তবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি।

একাদশ সংসদে বিএনপির নির্বাচিতরা হলেন, বগুড়া-৬ আসনের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

এদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত ২৫ এপ্রিল শপথ নিয়েছেন। যদিও পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যরাও বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন। তাই তারা চাইছেন মহাসচিবসহ একত্রে শপথ নেওয়া যায় কি না?

শপথ গ্রহণেরর বিষয় জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘খুব ঝামেলায় আছি, পরে কথা হবে। একথা বলেই ফোনটি কেটে দেন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এখনো দলের সিদ্ধান্তেই আছি, দেখা যাক আল্লাহ ভরসা। কাল (সোমবার) ও পরশু (মঙ্গলবার) সময় আছে, দলের সিদ্ধান্ত যে কোনো সময় চেঞ্জ হতে পারে।’

অন্যদিকে সংসদে আলোচনায় আছে, সোমবার ১০টা থেকে ১টার মধ্যে যে কোনো সময় শপথ নিতে পারেন তারা। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি রেডি করে রেখেছি, শপথ বইও প্রস্তুত করা আছে। তারা আসলেই স্পিকারের রুমে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে দলের মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাও নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান

আরও পড়ুনবিএনপি থেকে বহিষ্কার জাহিদুর রহমান

আপনার মতামত লিখুন :