'বিশ্ব শিশু বই দিবস' ও হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন

  • Font increase
  • Font Decrease

রূপকথার জাদুকর হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন জন্মগ্রহণ করেন ১৮০৫ সালের ২ এপ্রিল ডেনমার্কের ওডেন্স শহরে। সারা দুনিয়ায় সব মানুষের মন জয় করা গল্প কুৎসিত হাঁসের ছানা, থাম্বোলিনা বা আঙ্গুলিনা, ছোট্ট মৎস্যকন্যা, কিংবা লাল জুতা, তুষার রাণী, সম্রাটের নতুন জামাসহ মজার মজার রূপকথার জনক তিনি।

তাকে বলা হয় রূপকথার অবিস্মরণীয় স্রষ্টা । তিনি ১৮৭৫ সালের ৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শিশুদের জন্য লিখে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন, শিশুদের উৎসাহিত করেন। তার জন্মদিনে সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত বিশ্ব শিশু-কিশোর পুস্তক বোর্ড প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব শিশু বই দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। বিভিন্ন দেশের নামকরা লেখক ও প্রকাশকরা যেন শিশু-কিশোরদের জন্য ভালো ভালো বই লেখেন, প্রকাশ করেন, শিশু-কিশোররা যেন বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়, বই পড়তে উৎসাহিত হয়, সে জন্যই দিবসটি পালন করা হয়।

প্রতিবছর কোন বিষয়টি সামনে রেখে দিবসটি পালন করা হবে সেটা ঠিক করে ‘বিশ্ব শিশু-কিশোর পুস্তক বোর্ড’। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই এই বোর্ডের শাখা ছড়িয়ে আছে। দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে কোন বছর কোন দেশ পালনের দায়িত্ব নেবে, সেটা ঠিক করে দেয় ‘বিশ্ব শিশু কিশোর পুস্তক বোর্ড’। যে বছর যে দেশ দিবসটি পালনের দায়িত্ব পায়, সে বছর সেই দেশের বিখ্যাত একজন শিশু সাহিত্যিককে নির্ধারণ করা হয়। সেই শিশু সাহিত্যিক শিশু-কিশোরদের জন্য চমৎকার একটি চিঠি লিখে দেন। ওই চিঠির ওপর ভিত্তি করে সুন্দর একটি পোস্টারও আঁকতে বলা হয় বিখ্যাত কোনো চিত্রশিল্পীকে।

হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন অপূর্ব কল্পনা ও স্বপ্নের মিশেলে তৈরি করেছিলেন শিশুদের নিজের জগত, যেভাবে সৃজনে ও মননে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের প্রচেষ্টা ছিল। তার রচিত রূপকথা ও শিশুসাহিত্য এখনো বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের প্রণোদিত করে। শিশুদের চিন্তার পরিধি আর নৈতিকতার প্রসারে হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের রচনাবলী ধ্রুপদের মর্যাদা পেয়েছে আর তার জন্মদিনটি পরিচিত হয়েছে 'বিশ্ব শিশু বই দিবস'-এ।

'বিশ্ব শিশু বই দিবস'-এ বাংলাদেশের পটভূমিতে বাংলা ভাষায় শিশুসাহিত্য কতটুকু অগ্রসর হয়েছে, সে মূল্যায়ন করা জরুরি। উন্নত ও উৎকৃষ্ট শিশুসাহিত্য না থাকলে যে শিশু-কিশোর প্রজন্ম উন্নত রুচি, মূল্যবোধ ও মানসিকতায় বড় হবে না, এ সত্যটিও অনুধাবন করা দরকার। শুধু মেলা আর উৎসবে মেতে থাকার বদলে মানসম্মত বই কতগুলো রচিত ও প্রকাশিত হচ্ছে, সে পর্যালোচনা করাও অপরিহার্য।