পাওলো কোয়েলহোর ‘মাকতুব’



শেখ বিবি কাউছার
পাওলো কোয়েলহোর ‘মাকতুব’

পাওলো কোয়েলহোর ‘মাকতুব’

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা যাই করি না কেন আমাদের প্রতিটি কাজে যেন ভালো মানুষের প্রতিচ্ছবি থাকে। কারণ উচ্চ শিক্ষিত হলাম কিন্তু ভালো ও সৎ মানুষ হতে পারলাম না তাহলে তো সব শিক্ষা নিমেষেই বৃথা।

তাই একজন পরিপূর্ণ ভালো মানুষ হওয়ার জন্য প্রয়োজন একজন সদগুরুর। গুরুর আধুনিক শব্দ ‘মেন্টর’ও বলা যায়। বিশ্ববিখ্যাত ব্রাজিলিয় লেখক পাওলো কোয়েলহোর ‘মাকতুব’ গ্রন্থটি এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।

‘মাকতুব’ শব্দটির অর্থ 'যা লেখা হয়েছে'। অর্থাৎ ভাগ্য। এর মাধ্যমে কেউ কেউ এমনও বুঝতে পারেন যে, আল্লাহ সবকিছু আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন, ফলে বান্দার কিছুই করার নেই। বাস্তবতা কিন্তু তা নয়। মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন, যা অন্য প্রাণীদের দেন নি। সেটি হলো ভালো-মন্দের বিচার করার ক্ষমতা। তবে, অজ্ঞতাবশত অধিকাংশ মানুষ কোনো কিছুর জন্য অন্ধভাবে ভাগ্যকে দোষারোপ করে। কিন্তু এ কথা মনে রাখা উচিত যে, আমরা কতবার হোঁচট খেয়েছি সেটি বড় কথা নয়, আমরা কতবার উঠে দাঁড়িয়েছি এবং তারপর কতবার এগিয়ে চলেছি, সেটাই বড় কথা। আর এই প্রচেষ্টার উপরও আমাদের ভাগ্য বহুলাংশে নির্ধারিত হয়। সৃষ্টিকর্তা ভাগ্য লিখেছেন আমাদের জন্মের সাথে সাথেই। কিন্তু কেউ যদি তার মেধা, শ্রম, সততা দিয়ে ভাগ্য ফেরাতে চান তাহলে সৃষ্টিকর্তা তাঁকে অবশ্যই সাহায্য করেন।

এইসব বিষয়ে 'মাকতুব’ বইটির গল্পগুলো অত্যন্ত ছোট কিন্তু গোছানো। প্রতিটি গল্পই নিয়ে যাবে একটি ভাবনার জগতে। পড়তে পড়তে চিন্তামগ্ন হতেই হবে। কোনো কোনো গল্প মনে ব্যাকুলতা সৃষ্টি করতে পারে। আবার কোনো গল্প চমকিত করে তুলবে নতুন কিছু ধারণা পাওয়ার আনন্দে। পাওলো কোয়েলহোর বিশ্বখ্যাত ‘দ্য আলকেমিস্ট’ বইটির মতো এই বইটিতেও রয়েছে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। বইটির গল্পগুলো মূলত গুরু-শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তারমধ্যে কয়েকটি কোয়েলহোর নিজস্ব সৃষ্টি। বাকিগুলো সারা পৃথিবীর গল্প ভান্ডার, লোককাহিনী থেকে সংগ্রহ করা।

গল্পে গুরু যেন তার শিষ্যকে প্রকৃতির মাঝেই শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন অবিরত। যেমন-

শিষ্য তার গুরুকে বলছেন, 'আমি দিনের বেশির ভাগ ব্যয় করি এমন সব চিন্তা করে, যেগুলো করা উচিত নয়, এমন সব করে, এমন সব জিনিস কামনা করি বা পরিকল্পনা করি যেগুলো করা উচিত নয়।'

তারপর গুরু শিষ্যকে তার বাড়ির পেছনে থাকা বনে নিয়ে গেলেন বেড়াতে। চলতে চলতে তিনি একটি গাছ দেখিয়ে শিষ্যকে জিজ্ঞেস করেন, সে গাছটি চেনে কিনা। শিষ্য জবাব দিলেন চেনে। এটি ছিল একটি বিষাক্ত গাছ। তাই শিষ্য গুরুকে বললেন, ‘এর পাতা যে কাউকে মেরে ফেলতে পারে।’ গুরু তখন বললেন, 'কিন্তু যে এই পাতার দিকে কেবল তাকায়, তাকে সে হত্যা করতে পারে না।'

অর্থাৎ গুরু এখানে শিষ্যকে বোঝাতে চাইলে যে, ‘একইভাবে নেতিবাচক আকাঙ্ক্ষাগুলো কোনোই ক্ষতি করতে পারে না, যদি তুমি তোমাকে বশীভূত করতে না দাও সেগুলোকে।'

এই গল্পের মধ্যে লেখকের বার্তাটি হলো, কোনো মানুষই ষড়রিপুর (কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, হিংসা, মাংস) ঊর্ধ্বে নেই। কিন্তু এখানে একজন সদগুরুর কাজ হলো তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের মাধ্যমে শিষ্যকে ষড়রিপু থেকে বের করে স্রষ্টামুখী করে তোলা। গুরুর মানে হলো, পিতামাতা, শিক্ষক, বন্ধু, প্রেমিক। তিনি পিতামাতার মতো আদর, স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা, শিক্ষকের মতো শিক্ষাদান, বন্ধুর মতো বন্ধুসুলভ আচরণ, প্রেমিকের মতো প্রেম বিলিয়ে অকাতরে জ্ঞান ও করুণার মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানবে পরিণত করেন। আর শিষ্যের কাজ হলো ভক্তি, বিশ্বাস, বিনয় ও আদবের সাথে গুরুকে অনুসরণ করা। তাই শুধু একাডেমি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই ভালো মানুষ হওয়া যায় না, ভালো মানুষ হতে হলে সদগুরুর সান্নিধ্য লাগে। বইটিতে তেমনই কিছু শিক্ষণীয় গল্পে এসব আধ্যাত্মের আস্বাদ পাওয়া যায়।

দৃষ্টান্তস্বরূপ, 'সাহসিকতার সাথে তোমার পথে লড়াই করো, অন্যদের সমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে স্থবিরে পরিণত করার সুযোগ দেবে না।' গুরু শিষ্যকে বলছেন। আসলেই গুরু মানে, যিনি অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন। যেমন বলেন, 'ঈশ্বর কখনো তোমার মাথায় প্রবেশ করবেন না। তিনি যে দরজা ব্যবহার করেন, সেটি হলো তোমার হৃদয়।' এভাবে গুরু প্রতিনিয়ত শিখিয়ে যাচ্ছেন শিষ্যকে। কখনো প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে আবার কখনো বিভিন্ন উপমা ব্যবহার করে।

সৃষ্টির মাঝে সেরা হলো মানুষ। তাই মানুষের মনের ভেতর বিরাজ করেন সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখতে পাই পবিত্র আল কোরআনুল কারিমায়। আল্লাহ বলেন, 'আমি তোমার শাহারগের (মূল ধমনি) নিকটেই আছি।' আরও বলা হয়েছে, 'আমি তোমার নফসের সঙ্গেই মিশে আছি।' পবিত্র হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া,সাল্লাম বলেছেন, 'মোমিনের হৃদয়ে আল্লাহ আরশ, যে নিজেকে চিনেছে, সে প্রভুকে চিনেছে।'

তাই আমাদের অন্তর বা হৃদয়কে পবিত্র রাখতে হলে সদগুরুবাদী দীক্ষা প্রয়োজন। কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা পবিত্র। আর যে অন্তর বা হৃদয় পবিত্র সেখানেই কেবল মহান পবিত্রসত্তা অধিষ্ঠিত হতে পারেন।

'লেখো! লেখার মাধ্যমেই তুমি ঈশ্বর ও অন্যদের আরো কাছাকাছি হতে পারবে, তুমি যদি দুনিয়ায় তোমার ভূমিকা আরো ভালোভাবে জানতে চাও, তবে লেখো। তোমার আত্মাকে লেখায় নিয়োজিত করো, এমনকি কেউ যদি তোমার লেখা নাও পড়ে, তবুও লেখো। কাগজ-কলম জাদুর মতো কাজ করে। এগুলো যন্ত্রণা দূর করে, স্বপ্নকে সত্য করে, হারিয়ে যাওয়া আমাকে জাগিয়ে তোলে। কথার আছে শক্তি।' বইটির প্রেরণাদায়ক শক্তি এসব উক্তিতে নিগিত।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি উক্ত কথাগুলো যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে আসবে। এই বইয়েই গুরু আরে বলেন, 'কথা হল শক্তি। কথাই বিশ্বকে বদলে দেয়। মানুষকেও বদলে দেয়।'

আমি যদি ইতিবাচক কথা প্রকাশ করি, তবে তা আরো বেশি ইতিবাচক শক্তিকে আকৃষ্ট করব। যারা সত্যি আমার কল্যাণ চায়, তারা খুশি হবে। আর যারা কল্যাণ চায় না, তাদের কাছে যদি ইতিবাচক কথা প্রকাশ করি, তারা কেবল হিংসাই প্রকাশ করবে। এজন্য গুরু বলেন, 'তবে ভয় পেয়ো না। যারা শুনতে চায় তাদেরকে তোমার জীবনের ভালো ভালো বিষয় বলো। তোমার সুখের বিরাট প্রয়োজন রয়েছে বিশ্বের আত্মার।'

ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে গুরু বলেন, 'আমাদের সবার প্রয়োজন ভালোবাসার। কারণ এটি মানব প্রকৃতির অংশবিশেষ। খাওয়া, পান করা ও ঘুমানোর মতো এটি।' গুরু বুঝাতে চেয়েছেন, ভালোবাসা ছাড়া একাকী সুন্দর সূর্যাস্ত দেখাও তখন গুরুত্বহীন মনে হয়। কারণ পাশে এমন কেউ নেই যার সাথে এই সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।'

এজন্য গল্পের ছলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, 'একাকিত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকো। এটি সবচেয়ে বিপদজ্জনক মাদকের মতোই আসক্তি সৃষ্টিকারী। সূর্যাস্ত যদি তোমার মধ্যে আর কোনো অনুভূতি সৃষ্টি না করে, তবে বিনীত হও, ভালোবাসার সন্ধান করো। আর জেনে রাখো, অন্যান্য আধ্যাত্মিক আশীর্বাদের মতো একে যত তুমি দিতে আগ্রহী থাকবে, বিনিময়ে তত বেশি পাবে।'

আরও বলা হয়েছে জীবনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে। আপনি যদি জীবিত থাকেন, তবে আপনাকে হাত দোলাতে হবে, চারপাশে ঝাঁপ দিতে হবে, গোলমাল করতে হবে, হাসতে হবে, লোকজনের সাথে কথা বলতে হবে । কারণ, জীবন হলো মৃত্যুর ঠিক বিপরীত। মৃত লোক চিরদিন একই অবস্থায় থাকে। কিন্তু আপনি যদি খুবই শান্ত থাকেন, তবে বুঝতে হবে আপনি জীবিত নন। মানুষ কর্মের মধ্যে দিয়েই বেঁচে থাকে, সে কর্ম হয় সৎকর্ম। এ কারণেই গুরুবাদীরা মনে করেন কর্মগুণেই মানুষ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। তাই গুরুবাদী শিক্ষাটাও কর্মভিত্তিক।

পাওলো কোয়েলহোর এই বইটি পড়তে পড়তে তাঁর বিশ্ববিখ্যাত বই ‘আলকেমিস্ট’ কথা মনে করিয়ে দিবে পাঠকে। সাথে সদগুরুর প্রয়োজনটিও অনুভব করবেন পাঠক। গুরুত্বপূর্ণ বইটির অনুবাদক মোহাম্মদ হাসান শরীফ আর প্রকাশক অন্যধারা। তিনি অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন 'মাকতুব'-এর কথাগুলি। যা চমৎকার একটি বিষয়ে পাঠকে পড়ার আগ্রহ জাগাতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

শেখ বিবি কাউছার, প্রভাষক, নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ, রাউজান, চট্টগ্রাম।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;