সাহিত্যবিশারদের সার্ধশত জন্মদিন আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান পুঁথি গবেষক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের আজ রবিবার ১৫০তম জন্মদিন। আজীবন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের পণ্ডিতদের কাছ থেকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধি পেয়েছিলেন আবদুল করিম। নদীয়ার পণ্ডিতসমাজ তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দেয়। তিনি ১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মুন্সি আবদুল করিম পিতৃবিয়োগের তিন মাস পরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মুন্সি নুর উদ্দিন মা মিসরীজান। ১১ বছর বয়সে ১৮৮২ সালে চাচাতো বোন বদিউন্নিসাকে বিয়ে করেন। সূচক্রদন্ডী গ্রামে শুরু হয় তার প্রাথমিক শিক্ষা। পটিয়ার ইংলিশ স্কুল থেকে ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এফএ পড়ার জন্য চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েও সন্নিপাত রোগের কারণে পরীক্ষা দিতে না পারায় উচ্চশিক্ষার পাঠও চুকে যায়।

আবদুল করিম ছিলেন ব্রিটিশ-ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের একজন সাহিত্যিক ও প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ এবং সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণকারী এক ব্যক্তিত্ব। তিনি পেশা হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। আমৃত্যু নিরলসভাবে পুঁথি সংগ্রহ করেছেন তিনি। মধ্যযুগীয় মুসলিম সাহিত্যিকদের কর্ম তার আগ্রহের বিষয় ছিল। এসব পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু কবিদের পুঁথিগুলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রক্ষিত রয়েছে।

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯২০-২১ সালে দুই খণ্ডে তার লেখা বাংলা পুঁথির তালিকা ‘বাঙালা প্রাচীন পুঁথির বিবরণ’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুঁথির তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘পুঁথি পরিচিতি’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর ‘ইসলামাবাদ’ নামে তার লেখা বই রয়েছে। পূর্বে অজ্ঞাত ছিলেন এমন প্রায় ১০০ মুসলিম কবিকে তিনি পরিচিত করেন। এ ছাড়াও তিনি ও মুহম্মদ এনামুল হক যৌথভাবে ‘আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য’ শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত পুঁথিগুলোর মধ্যে ‘জ্ঞানসাগর’, ‘গোরু বিজয়’, ‘মৃগলব্ধ’, ‘সারদা মুকুল’ ইত্যাদি অন্যতম। তিনি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ পুঁথির সম্পাদনা করেন। ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।