চে, বিপ্লব ও বাজার

দেবদুলাল মুন্না
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজারের রীতি হলো সবকিছুকে পণ্যায়ন করা। মানুষ তাই এখন যতটা সামাজিক তারচে বেশি বাজারিক হয়ে উঠছেন। এটি আমার বা আমাদের অনেকেরই অসহায়ত্ব। যেমন চে গুয়েভারার বিপ্লবী জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে আমেরিকা কম ব্যবসা করেনি। এত ব্যবসা করেছে যে মৌলবাদী সেই ছেলেটিও আমাকে চে-কে না জেনে বলেছিল, চে কোনো মডেল বা সিঙ্গার। চে-র কন্যা সিলিয়া কয়েকবছর আগে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন। কেন জানেন? তার বাবাকে নিয়ে তৈরি করা পণ্যের বাজারে বিক্রির রয়ালিটি তাকে দেওয়ার জন্যে। বিপ্লবী চে-র কন্যা সিলিয়া হয়ে উঠেছেন চে-র বিপরীত আদর্শের। শুধু টাকা চান টাকা। তার কাছে তার বাবার বিপ্লবী জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান টাকা। হেরাল্ড ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চে-কন্যা সিলিয়া বলেন, “আমি জানি ওমন বিপ্লব আর হবে না। ভোগবাদী সমাজে আমি ভালোই থাকতে চাই।” তার একথা শুনে ভাষাবিজ্ঞানী নোম চমেস্কি বলেন, “চে-কে আমেরিকা আর ভয় না পাওয়ার কারণ তাকে বাজারের সব ক্রেতারা কিনে ফেলেছে। এমনকি তার কন্যাও। আরেকটি কারণ চে, মার্কস, লেনিন, মাও সেতুংয়ের মতো কোনো বিপ্লবের বই লিখে যাননি।” (শিকাগো এড্রেস, নোটেবল মার্কেট, ২০১৪)

অথচ চে ছিলেন বিপ্লবী। চে-র জন্ম আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ১৯২৮ সালের ১৪ই জুন। একজন আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, ডাক্তার, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবায় বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি কঙ্গোসহ বিভিন্ন দেশে গেরিলা লড়াই করেছেন। কিন্তু মারা যাননি। মারা যান বলিভিয়ার জঙ্গলে। ঝুলিতে তখন তাঁর এক নোটখাতাভর্তি প্রিয় কবিদের কবিতা।

বলিভিয়ার জঙ্গলে থাকতে চে ডায়েরিতে লিখেছিলেন, “আমি ভাবতে শুরু করি, মরে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ সেটাই, যখন মনে হবে সব শেষ হয়ে গেছে। জ্যাক লন্ডনের একটি পুরোনো গল্প মনে পড়ছে। তাতে গল্পের মূল চরিত্র একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে গরিমার সঙ্গে নিজের জীবনের সমাপ্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

আরো পড়ুন ➥ সাহিত্যে জ্বলে নেভে ফ্যাসিস্ট ও বিপ্লবীর চরিত্র

চিলির কবি পাবলো নেরুদা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ মেমোয়ার্স বইয়ে চে গুয়েভারার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বর্ণনা লিখেছেন। ফরাসি লেখক রেজেস দেব্রের মাধ্যমে পাবলো নেরুদা জেনেছিলেন, বলিভিয়ার পাহাড়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত তাঁর ডুফেল ব্যাগে (দড়ি দিয়ে বন্ধ করা যায় এমন ব্যাগ) শুধু দুটি বই রাখতেন চে; একটি অংকের, অন্যটি তাঁর (নেরুদার) কবিতার বই কামেত্মা জেনারেল। রেজেস দেব্রে, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় বই রেভ্যুলেশন ইন রেভ্যুলেশনের লেখক কিউবা বিপ্লবের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি বলিভিয়ায় চে-র সঙ্গে গেরিলাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং একসময় গেরিলাযুদ্ধক্ষেত্র থেকে অন্য কাজ নিয়ে চলে আসার সময় ধরা পড়ে যান। বিচারে তাঁর ৩০ বছর জেল হয়েছিল। পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দ্য গল ও প্রবল আন্তর্জাতিক চাপে দেব্রে মুক্তি পান।

চে-র সঙ্গে পাবলো নেরুদার প্রথম এবং একমাত্র সাক্ষাৎকারটি ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। দেখা হয়েছিল হাভানায়। চে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিলেন মধ্যরাতে। তাঁর অর্থ-দপ্তরে নেরুদা গিয়ে পৌঁছেছিলেন রাত একটায়। নেরুদার আত্মজীবনী মেমোয়ার্সের বর্ণনা এমন, “সে রাতে চে-র পরনে ছিল বুট আর সামরিক পোশাক, কোমরে পিস্তল। অফিসের ব্যাংকিং আবহে তাঁর পোশাকটাকে লাগছিল পুরোদস্তুর বেমানান। শ্যামলা, ধীরভাষী চে-র কথায় আর্জেন্টাইন টান স্পষ্ট। তিনি হচ্ছেন সেই ধরনের মানুষ, যাঁদের সঙ্গে আপনি পামপায় (আর্জেন্টিনার তৃণভূমি) ধীরে-সুস্থে একটার পর একটা ‘মাতে’ (একধরনের পানীয়) খেতে-খেতে কথা বলতে পারেন। তাঁর বাক্য ছোট-ছোট আর হাসি দিয়ে শেষ হয়, যেন আলোচনাটাকে অমীমাংসিত রাখতে চান। ওই রাতে চে আমাকে এমন একটা কথা বলেন, শুনে চমকে উঠেছিলাম। তবে এ কথাটার মধ্যেই হয়তো নিহিত ছিল তাঁর নিয়তি। আমার চোখ থেকে অফিসের অন্ধকার জানালায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাঁর দৃষ্টি। কিউবায় সম্ভাব্য দক্ষিণ আমেরিকান আগ্রাসন নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। হাভানার রাসত্মায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে আমি বালুর বস্তা ছড়ানো-ছিটানো দেখেছি। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, ‘যুদ্ধ… যুদ্ধ… আমরা সবসময় যুদ্ধবিরোধী, কিন্তু একবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরে যুদ্ধ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। তারপর সর্বদা খালি যুদ্ধের কাছেই ফিরে যেতে চাই আমরা।’ আমার বই কামেত্মা জেনারেল সম্পর্কে তিনি যা বললেন, শুনে আমি কৃতার্থ। সিয়েরা মায়েস্ত্রায় রাতে গেরিলাদের এটা পড়ে শোনাতেন তিনি। এত বছর পর এখনো ভাবলে আমার শরীর কেঁপে ওঠে, যখন মনে পড়ে, মৃত্যুতেও তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিল আমার কবিতা। তাঁর কথা শুনতে-শুনতে চমকে উঠেছিলাম।”

১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর। লা হিগুয়েরা গ্রামের ছোট্ট একটা স্কুলঘরে বন্দী বিপ্লবী চে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর সামনে এক তরুণ সেনা কর্মকর্তা। চে তখন বিষণ্ন মনে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন। ওই তরুণ সৈনিক বললেন, “নিজের অমরত্বের কথা ভাবছেন?” জবাবে চে বললেন, “না, আমি বিপ্লবের অমরত্বের কথা ভাবছি।” কিছুক্ষণ পর মারিও টেরেন্টের আট-দশটা গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল চে গুয়েভারার শরীর। সেই কবি ও বিপ্লবী চে-র কিছু চিঠি আবিষ্কৃত হয়। তিনটি চিঠি দেওয়া হলো:

সন্তানদের প্রতি চে
প্রিয় হিলদিতা, আলিদিতা, ক্যামিলো, সিলিয়া ও আর্নেস্তো
কোনো একদিন তোমরা যখন এই চিঠি পড়বে, সেদিন হয়তো আমি তোমাদের মাঝে থাকব না। তোমরা হয়তো আমাকে স্মরণই করবে না। সবচেয়ে ছোটটি তো আমাকে তার মনেই আনতে পারবে না।

তোমাদের বাবা ছিল এমন একজন মানুষ, যেটা সে ভালো বলে ভেবেছে, সেই কাজটাই করেছে। এবং সে ছিল তার আত্মপ্রত্যয়ের প্রতি শতভাগ বিশ্বাসী, সংকল্পের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তোমরা বেড়ে ওঠো বিপ্লবী হয়ে। প্রচুর পড়াশোনা করো, যাতে তোমরা এমন কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে, যেটা তোমাদের জন্য এনে দেবে প্রকৃতির ওপর প্রভুত্ব। মনে রেখো, সব ক্ষেত্রেই বিপ্লব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একক ও বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের কারোরই কোনো মূল্য নেই।

তোমরা সংবেদনশীল হও নিজেদের ভেতরের বিষয়গুলোতে এবং দুনিয়ার যে কারো ওপর যে কোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। একজন বিপ্লবীর সবচেয়ে পবিত্র গুণ এটি।

ওরে আমার প্রাণের সন্তানেরা, আশা করি তোমাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে।

বিশাল বড় চুমু রইল তোমাদের জন্য। তোমাদের বাহুডোরে বেঁধেছে যে।
- ইতি তোমাদের বাবা

চে তোমার কন্যা সিলিয়ার জন্য আমাদের খারাপ লাগে। তোমার জন্য তো লাগেই। কিন্তু সিলিয়া এখন আমেরিকান সিটিজেন। জানো না তুমি, সে এখন রিপাবলিকান দলের সমর্থক। সরি, চে। বিপ্লবের রাস্তা বারবার এঁকেবেকে যায়।

মা-বাবার প্রতি চে
প্রিয় মা-বাবা,
আরো একবার পায়ের নিচে অনুভব করছি রোসিয়ান্তের পথ। প্রায় ১০ বছর আগে তোমাদের কাছে আরেকটি বিদায়ের চিঠি লিখেছিলাম। যতদূর মনে পড়ে, আমি তখন আফসোস করতাম একজন ভালো সৈনিক বা একজন ভালো ডাক্তার হতে না পেরে। দ্বিতীয়টি আমাকে আর টানে না; আর আমি আসলে সৈনিক হিসেবেও মন্দ নই। সেদিনের আমি আজও কোনো বিষয়েই বদলে যাইনি। শুধু আগের চেয়ে আরো বেশি সচেতন হয়েছি।

আমার ভেতরে মার্কসবাদ শেকড় গেড়েছে, হয়েছে আরো শুদ্ধ। আমার এই বিশ্বাস অটল রয়েছে যে, যারা নিজেদের মুক্ত করতে চায় তাদের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামই একমাত্র পথ। আর আমি আমার বিশ্বাসে সর্বদা স্থির। অনেকেই আমাকে দুঃসাহসিক অভিযাত্রী বলে ডাকতে পারে। এবং আসলেই আমি তাই। তবে একটু আলাদা ধাঁচের মানুষ আমি, যে তার বিশ্বাসকে প্রমাণ করতে শরীরের চামড়া আগুনে পোড়াতে পারে।

সম্ভবত এটাই আমার শেষ চিঠি। আমি তা চাই না। কিন্তু সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এটাই যৌক্তিক। তাই যদি হয়, তবে আমি তোমাদের জন্য বিদায় আলিঙ্গন পাঠাই। আমি তোমাদের অনেক ভালোবেসেছি। আমি শুধু জানি না কিভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হয়। কাজের বেলায় আমি চরম কঠিন। এজন্য মনে হয়, কখনো কখনো আমাকে তোমরা বুঝতেই পারোনি। যা হোক, আজ আমাকে বিশ্বাস করো।

শিল্পীর আনন্দ নিয়ে আমার ইচ্ছাশক্তিকে আমি শাণিত করেছি, তা-ই আমার কম্পিত পা আর ফুসফুস সত্ত্বেও সেই শক্তিতে আমি অবিচল। আমি সেটাই করব। আমি এটা করতে চাই। কখনো কখনো এই বিংশ শতাব্দীর সৈনিকটির কথা ভেবো।

সিলিয়া, রোবার্টো, জন মার্টিন ও পাতোতিন, বিটরিজ—সবার জন্য চুমু রইল। তোমাদের বাহুডোরে বেঁধে রাখতে চায় জেদি ও হারিয়ে যাওয়া ছেলে।
- আর্নেস্তো, ১৯৬৫

এই চিঠিটি ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে লেখা চে গুয়েভারার শেষ চিঠি। এটা ফিদেল ১৯৬৫ সালের এপ্রিল মাসে পান এবং ৩ অক্টোবর একটি ভাষণে তিনি কিউবার জনগণের কাছে এটি পড়ে শোনান। চিঠিটি হুবহু তোলে ধরা হলো:

এই মুহূর্তে আমার অনেক কথা মনে পড়ছে যখন মারফা এন্টোনিয়াসের বাসায় তোমার সাথে আমার দেখা হলো, যখন তুমি আমাকে তোমার সাথে যোগ দিতে বললে এবং প্রস্তুতিপর্বের সাথে সম্পৃক্ত সব দুঃশ্চিন্তাগুলো।

তারা একদিন আমাকে প্রশ্ন করেছিল মৃত্যু হলে কাকে জানানো হবে, এবং তার সত্যিকারের সম্ভাবনা আমাদের সবাইকে আচ্ছন্ন করেছিল। পরে আমরা জেনেছিলাম যে এটা সত্যি ছিল, যে একটি বিপ্লবে একজন অর্জন করে বিজয় অথবা মৃত্যু, যদি সেটা সত্যিকারের বিপ্লব হয়। বিজয়ের পথজুড়ে অনেক সহযোদ্ধাকে আমাদের হারাতে হয়েছে।

আজ সবকিছু আর ততটা নাটকীয় নয়, কারণ আমরা এখন আরো পরিণত হয়েছি। কিন্তু সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আমি মনে করি আমি কিউবান বিপ্লবের সাথে যে বন্ধনে জড়িয়েছিলাম, আমি আমার সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করেছি, এবং আমি তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি, সহ-যোদ্ধাদের এবং তোমার সব লোকেদের, যারা ইতোমধ্যেই আমার আপনজন হয়ে উঠেছে।

আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পার্টির জাতীয় নেতৃত্বস্থানীয় পদ থেকে, মন্ত্রীর পদ থেকে, আমার মেজর পদমর্যাদা থেকে পদত্যাগ করছি এবং আমার কিউবান নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করছি। আমার কোনোকিছুই আর আইসঙ্গতভাবে কিউবার সাথে সম্পৃক্ত নয়। যে বন্ধন রইল তা সম্পূর্ণ অন্য ধরনের, যেটা পদত্যাগ করার মতো সহজে ভেঙে ফেলা যায় না।

আমার অতীত জীবন স্মরণ করে, আমি বিশ্বাস করি যে, আমি আমাদের বৈপ্লবিক বিজয়কে সুদৃঢ় করতে পর্যাপ্ত সন্মান এবং ত্যাগের সাথে কাজ করেছি। সিয়েরা মায়েস্ট্রার প্রথম মুহূর্তগুলোতে তোমার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আমি যেমন ভুল করিনি, তেমনভাবে একজন নেতা এবং বিপ্লবী হিসেবে তোমার যোগ্যতা বুঝতেও আমার দেরি হয়নি। আমি চমৎকার সময় কাটিয়েছি, ক্যারিবিয়ান সংকটের সেই উজ্জল তথাপি দুঃখের দিনগুলোতে তোমার পাশে থেকেও আমি আমাদের জনতার অংশ হওয়ার গর্ব অনুভব করেছি। সেইসব দিনগুলোতে তুমি একজন অত্যন্ত দক্ষ লোকের থেকেও বেশি মেধাবী ছিলে। তোমাকে নিঃসঙ্কোচে অনুসরণ করে, তোমার চিন্তা, বিপদ দেখে জানানোর ক্ষমতা এবং তোমার নীতির সাথে নিজেকে একাত্ম করতে পেরে আমি গর্বিত। পৃথিবীর অন্য জাতিরা আমার বিনয়ী প্রচেষ্টা আহবান করছে। আমি সেটা করতে পারি যেটা কিউবার প্রধান নেতা হিসেবে অর্পিত দ্বায়িত্বের কারণে তুমি করতে সমর্থ হবে না, এবং আমাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সেই সময় উপস্থিত।

আমি এটা সবাইকে জানাতে চাই যে, আমাকে আনন্দ এবং দুঃখের একটি মিশ্র অনুভূতি নিয়ে এটা করতে হচ্ছে। আমি একজন নির্মাতা হিসেবে আমার বিশুদ্ধতম আশা রেখে যাচ্ছি, এবং সেই কাছের মানুষদের যাদের আমি ভালোবাসি। এবং আমি এমন একটি জনগণের কাছ থেকে চলে যাচ্ছি যারা আমাকে তাদের ছেলের মতো বরণ করে নিয়েছিল। এটা আমাকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করে। যে বিশ্বাস তুমি আমাকে শিখিয়েছো, আমার জনতার যে বিপ্লবী আদর্শ তা আমি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাচ্ছি, সাথে নিয়ে যাচ্ছি সকল কাজের পবিত্রতম সেই কাজ করার অনুভূতি, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সেটা যেখানেই হোক না কেন। এটা আমার গভীরতম ক্ষতও সান্ত্বনা দিয়ে সারিয়ে তুলছে।

আমি আগেও একবার বলেছি কিউবা আমার যে কোনো ধরনের দ্বায়িত্ব থেকে মুক্ত, সেটা ছাড়া যেটা উদাহরণ থেকে উদ্ভূত হয়। যদি অন্য কোনো দেশে আমার জীবনের শেষ সময় কাটাতে হয়, আমার শেষ চিন্তা হবে এই জনগণের বিষয়ে, বিশেষভাবে তোমার জন্য। তোমার শিক্ষা এবং উদাহরণের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, এবং আমি আমার শেষ পরিণতি পর্যন্ত আমার কাজে বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করব।

আমি সবসময়ই বিপ্লবের বৈদেশিক নীতির সাথে একমত ছিলাম, এবং আমি তাই থাকব। আমি যেখানেই যাই, আমি একজন কিউবান বিপ্লবীর দায়িত্ব অনুভব করব এবং সেইমতো আচরণ করব। আমি এজন্য দুঃখিত নই যে, আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যাচ্ছি না। এটাতে বরং আমি খুশি। আমি তাদের জন্য কিছুই চাই না, কারণ আমি জানি সরকার থেকে তাদের খরচ এবং পড়াশোনার জন্য যথেষ্টই দেওয়া হবে।

তোমাকে এবং আমাদের জনগণকে আমি আরো অনেক কিছু বলতাম, কিন্তু আমি মনে করি সেটা অপ্রয়োজনীয়। আমি তাদের কিভাবে দেখতে চাই তা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয় এবং তাই শুধু শুধু পৃষ্ঠায় আঁচড় কাটার কোনো মানেই হয় না।

বিজয়ের পথে আজীবন! হয় স্বদেশ নয় মৃত্যু! আমার সমস্ত বৈপ্লবিক ঐকান্তিকতা নিয়ে তোমাকে আলিঙ্গন।
- চে

আপনার মতামত লিখুন :