যে প্রেমিক বেঁচে আছে আয়ুব নবীর মতো নিশ্চুপ সয়ে

আহমেদ দীন রুমি
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

কনফেশন

ভুল হয়েছে কোথায় জানি,
মধ্যরাতে চমকে উঠে হরেক রকম কান্না শুনি।
শিশুর মতো কাঁদতে থাকে ঘড়ির কাঁটা,
কাঁদতে থাকে জানলা দিয়ে চুঁইয়ে আসা আলোর ছটা,
বিষণ্ণতার চিহ্ন চাঁদে,
পুত্রহারা পিতার মতো বুক চাপড়ে বাতাস কাঁদে,
অন্ধকারে বুকের ভেতর ডুকরে বলে একটা প্রাণী—
“ভুল হয়েছে কোথায় জানি”।
আকাশ যেন কোন বিরহে পড়বে ধসে,
ভাস্কর্যের ইটের থেকে গুমরে কাঁদার শব্দ আসে,
ফুলার রোডের দুপাশ দিয়ে গাছগুলোও অন্ধকারে—
ব্যর্থ হওয়া নবীর মতো অশ্রু ছাড়ে।
রাতের নীরব প্রার্থনাতে
একটা শালিক একাই কাঁদে মিথ্যে কারো অপেক্ষাতে।
ভুল হয়েছে কোথায় যেন,
নইলে এমন ভুল সময়ে তামাম শহর কাঁদবে কেন?

অনস্তিত্ববাদ

চোখকে চশমা ভেবে খুলে ফেলি,
মার্বেলের মতো ঝনঝন শব্দে ঘিরে ধরে অলৌকিক আলো,
আকাশে উল্টো ঝুলে কেউ যেন ফেরেশতার স্বরে—
ঘোষণা দেয়, “মানুষ তার ঈশ্বরের মতোই একা।”
সাগ্রহে ঝাপটে ধরি সুন্দর শূন্যতাকে,
অস্তিত্বের চেয়ে অনস্তিত্ব অনেক বেশি অস্তিত্বশীল।

জীবন

মূর্খের মতো হাসে চাঁদ
অথচ সেও তো জানে, ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের স্বাদ
এতটা সহজ নয়, অপঘাতে মৃত স্বপ্ন নিয়ে
যে প্রেমিক বেঁচে আছে আয়ুব নবীর মতো নিশ্চুপ সয়ে,
বরকে জড়িয়ে ধরে যে প্রেমিকা মনে জপে প্রেমিকের নাম
তারা জানে—হাসি হয় কিভাবে হারাম।

সৃষ্টিতত্ত্ব

ফেরেশতার মজলিশ থেকে ফিরে আসি,
বুক ঠেলে চলে যায় রাত,
কে যেন খুবলে ধরে, মরে যাই;
জন্মটা ব্যবহৃত হবার জন্য; মৃত্যুটা মুক্তির—
বোঝে না তা কাপুরষ দেবতার দল,
আমার হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে তৈরি করে জীবমণ্ডল,
রক্ত দিয়ে সমুদ্র ও মাংস থেতলে মাটি।
ভোরের আগেই—
আমাকে নিশ্চিহ্ন করে জন্ম নেয় মানব-জগৎ,
প্রকাণ্ড সূর্যের নিচে দৃষ্টিকে লুকিয়ে—
আমিও জন্ম নিই, পরবর্তী রাতে ফের মরতে হবে বলে।

আপনার মতামত লিখুন :