কিম্বা চুপচাপ উঠে যাব ছাদে

শতাব্দী জাহিদ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

অনচ্ছ রাতের কিচ্ছায়

মন কয় এই ঝড়ের রাত্রে তোর হাত ধরে বরিশাল যাই
মাঝ পদ্মায় তুফান হোক, ঢেউয়ের ভয়ে কেবিনের আয়না ভিজুক—
জুড়ায় গেলে নদীর বুক, থুথুর কিচ্ছার শেষে বুকের মাঠে খেলিস।
শুকনো লঙ্কায় ইলিশের তেলে ভাতের ধোঁয়ায় ঘামে নাক ঠোঁটের বাড়ি
বরিশাল অপেক্ষা করে সকাল নিয়া—
আমরা বাতাসের রাত নিয়া চোখে চোখ, ঘুমাই ঘুমাই খেলি।

ঠিকানা, স্থায়ী অস্থায়ী

আজ আর বাড়ি ফিরব না—
মোড়ের দোকানের বেঞ্চে কুকুরের পিঠে পিঠ দিয়ে শুয়ে পড়ব,
কিম্বা চুপচাপ উঠে যাব ছাদে।
আজ আর ফিরব না—
দু একটা গাছের ছায়ায় পাতাদের বাঁশি হয়ে, সুর হয়ে
ধলেশ্বরীর পাড়ে ঘুমিয়ে পড়ব ঠিক।

খ্রিস্টিয় ক্যালেন্ডারের নামতায় রোজকার বাড়ি ফেরা
আজ আর হচ্ছে না―
গাঢ় লিকারের চায়ে, তৃতীয় লিঙ্গের তালিতে, ট্রাফিকের সিগনালে
বাতাসে, বৃষ্টিতে, জোছনায়, আলোয়-অন্ধকারে রয়ে যাব আজ
ফিরব না বাড়ি।

মাঝে মাঝে এই না ফেরাই বুঝি
বাঁচিয়ে রাখে ভালোবাসাকে, বেঁচে থাকাকে

আজ আর ফিরব না বাড়ি—

জল : ৩

আমি বলি দূরের আকাশ;
কাছ থেকে দেখলে―চাদর জড়িয়ে থাকা নদী।

আমি আঁকি তেপান্তর গ্রাম, মেঘের বাড়ি
মাঠশূন্য আইল বেয়ে হাঁটি, হই যদি মুখোমুখি
কাছে যেতে যেতে বাড়ে দূরত্বের গণিতশাস্ত্র বিদ্যাখানি।

আমি কেঁদে পার করি দিঘল ছায়া ভূমি;
সেও বুঝি কাঁদে অন্ধকার রাত্রি জেগে শব্দের পিঠ চেপে।
আফসোস ফরসা হতেই আলো
বিছানায় পড়ে থাকে যুবকের ঘাম গোসল, তোমার নোলক ফুল, চুলের সুগন্ধি।

দূরত্ব : ৭

দূর, কত দূর? আলোকবর্ষ দূরত্ব! তারও বেশি―
মন ও শরীরে দূরত্ব, চোখ ও দৃষ্টির ব্যবধান, বুক ও পিঠের সমীকরণ।

এই সব ছাপিয়ে অশ্বত্থ বৃক্ষের শিকড়ে মাটিতে শক্তিতে
তুমি আর আমি পাতায় পাতায় দুলি―দূরত্বের জাল,
শূন্যের গায়ে আঁকি রোদ জুড়ানো বাতাস।

আপনার মতামত লিখুন :