অন্তর্গত কুসুম

শুভ্র সরকার
অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

অলঙ্করণ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

১.
এত অবসাদে হারিয়ে ফেলেছি
খেয়াল—

ওইদিকে প্রতিবেশির বারান্দায় কাপড় নাড়ার
চিত্র বদলে গেছে কখন

পাশাপাশি দুটো ভবনের দূরত্বে
ধরা যাক এক হাত ফাঁক
ছায়ার গরমিল

অমন শেওলাঘাটে সেজেছে মেঘ
শাদা আর কালো
কেউ কারো পাশে পরিব্রাজক
অথচ পাতায় পাতায় ইশকুল
ডেয়ো পিঁপড়ের—

দূরে, একটানা দূরে নাফসের আকাশ
অদ্ভুত অদ্ভুত
জলভরা মাছের চোখ!

তাকাতেই স্নানেভেজা এক
উপশহর

কোথাও যেন নিজেকেই নিজে ছেড়ে যেতে চাইছে
কেঁপে ওঠা ট্রেন—
সেখানেই ঘাসের সাথে চিনতে পেয়েছি
পশুর জরাজরি
একেকটি কাক নেমে আসে
মর্নিঙ ওয়াকে, রাফ এন্ড টাফ
ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট ধারালো
তাতে লেগে আছে বুকের ঘ্রাণ
কোন সে বেনামী!

আমি কমলাপুরের দিকেই
অনুপ্রবিষ্ট হাঁটি—

২.
কিভাবে গড়িয়ে যাচ্ছে দিন?

সংসারময়, চারজন মানুষ
দেখে নিচ্ছি তুমি এক ঘর
বাতাস প্রসূত দরজা, জানালায়
রোদের ওম জারি আছে এখনো

চারিদিকে এত এত ভবন
ভবনগুলো যেন নগরের পরিপাটি দাঁত
আর রাস্তায় রাস্তায়
ভীষণ বাধন ছাড়া জেব্রা ক্রসিঙ

এমন মনে হলো
একটা সাইক্লিক বিস্মৃতি নিয়ে
কোথাও পথিক হয়ে
আমাকেই আমি ফুরাচ্ছি

জন্ম, কেন এত ঘোর তোমার?
কপালের ভাঁজে জমে আছে
যেন বহুবছর।

এই মেটাফোর রাত, সত্যই কী ভুলে যাচ্ছি
এইটা কী মাস?

তবুও প্রতিদিন অন্তঃস্থ করছি
মহল্লার মসজিদ থেকে আসা আজানের ধ্বনি

একান্ত রাত ঘুমশালায়
হাতে রিভোট্রিল 0.5

৩.
নির্নিমেষ রোদ নিঙড়ানো ছায়ায়
পতঙ্গরা সুরময়

কখন নেমে আসবে বাতাস
অনিবার্য পরাগায়নের ব্যঞ্জন থেকে
মাতৃত্ব নিবে ফুল
দশদিগন্তের জমিন।

আর শূন্যে মেঘ ধরে থাকবে কী
এক ইঙ্গিতে জলের ময়ূর

তখন মুখমুখর সাহাপাড়ায়
ঝরছে কেমন বকুলের পতন
ছড়ানো লবন দানায়—

৪.
বিষম হৃদয় খুললে পাবে কী?
ও হরি নিরুত্তর তুমি
ধ্যানেই থাকো পদ্মফুলে

বুধবার, তেমন কোনো প্রত্যয় রাখিনি
অপ্রত্যয় না
ক্যালেন্ডারের তারিখগুলোও ঝিমধরা

তোমাকে দেখছি অতীত
কেমন করে সমুদয়, মন পাতলেই চন্দ্রবাড়ি
পরম্পরার ভেতর অষ্টপ্রহর
ডুব দিয়ে পেয়েছি, একটা আদমজনম

৫.
বৃষ্টি পড়ছে...

ভিজে আছে সবটুকু ছায়ার কম্পমান
পাখির ডাক আর পাতার করুণা

ঝরা মেঘের দৃশ্য ভাবতে ভাবতে
স্নানঘরে ঢুকে পড়লাম
নৈরব সাবানের ঘ্রাণ ছড়িয়ে
নিজেকেই তুলে আনছে মে’র বাতাস

ভেসে যাওয়া ফেনায় দেখছি
আমারি হর্ষ মুখের উদ্যম

৬.
অবহেলাও একটা শিল্প
জিন্স প্যান্টের বাটন হুকে
ধরে রেখেছি হাত

মুততে গেলেই বাটন হুকটা
হুট করেই খুলে যায়

এই গোপনব্যাথা একটু অন্যরকম

আপনার মতামত লিখুন :