বশেফমুবিপ্রবির উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভিসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি: বার্তা২৪.কম

ভিসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেফমুবিপ্রবি) যোগদানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় কেকও কাটা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুশান্ত কুমার ভট্টাচার্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব মহিউদ্দিন মোল্লাসহ ছয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’কে গড়ে তুলতে আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা আমার জন্য বেশ আনন্দ ও গৌরবের। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিকমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার দুইবছরের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা সকলে মিলে নিরলস পরিশ্রম করছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আশা রাখি ভবিষ্যতেও আপনাদের এ আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা অব্যাহত থাকবে। আর এটা হলে অচিরেই শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে সমাদৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর বশেফমুবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। তিনি যোগ দেওয়ার অল্প দিনের মাঝেই ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেমিস্টার সম্পন্ন হয়।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সড়ক দুর্ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

সড়ক দুর্ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) রাত ১২টায় মধুপুর-ঢাকা রোডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবরার রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের উত্তর আবাসিক এলাকায়।

নিহতের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আবরার তার আরেক বন্ধুসহ মোটরসাইকেল নিয়ে মধুপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে জামালপুরে একটা গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলটি ধাক্কা খেলে তারা দুজনে পরে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আবরারের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। এমন অকাল মৃত্যু কষ্টদায়ক। আবরারের মৃত্যুতে আমাদের পুরো বিভাগ শোকাহত। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

;

৭০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষায় আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ ৬৯ বছর অতিক্রম করে আজ বুধবার (০৬ জুলাই) ৭০ বছরে পা দিল।

বর্তমানে গুণগত শিক্ষা প্রদান, গবেষক তৈরি, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়টি রেখে চলেছে অসামান্য অবদান।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দেশের সব কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় স্যাডলার কমিশন রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৯৫৩ সালে ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩’ পাস হয়। ওই বছর ৬ জুলাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ১২টি অনুষদের আওতায় ৫৮টি বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ৬টি ইন্সটিটিউট। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গবেষণা কাজে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন ১ হাজার ২২১ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৬টি। গতবছর বিশ্ববিদ্যালয়টির দুইজন ইমেরিটাস অধ্যাপক মারা যাওয়ায় বর্তমানে রয়েছেন একজন ইমেরিটাস অধ্যাপক।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অসামান্য অবদান। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা। এছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইয়ুমসহ অনেকে।

জানতে চাইলে রাবি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে না। সেই অর্থ বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে এদিন সকালে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অন্যতম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় যথেষ্ট এগিয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৬৯ পেরিয়ে ৭০ বছরে পদার্পণ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৯ বছর পালিত হতে যাচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ, গবেষণার সুনাম, প্রভাব, অভিনবত্ব ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

এসময় তিনি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, সেশনজট মুক্ত ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় যাতে সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে সে প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

;

নিয়ম ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নিয়ম ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার অভিযোগ

নিয়ম ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার অভিযোগ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে দু’টি করবী ফুলের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ইন্সটিটিউটের পরিচালক বলছে, যা কিছু হচ্ছে নিয়ম মেনেই হচ্ছে।

সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটতে গেলে গাছপালার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আরবরি কালচার সেন্টারকে অবগত করতে হয়। পরবর্তীতে তাদের তদারকি সাপেক্ষে গাছ কাটার বিষয়টি সম্পন্ন হয়ে থাকে। অভিযোগ উঠেছে গাছ দুটো কাঁটার ক্ষেত্রে এমন ব্যতয় ঘটেছে। জানা যায়, গত সোমবার (৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়টির আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের গাড়ি রাখার জন্য পার্কিং -র জায়গা বৃদ্ধিতে ওই গাছ দুটো কাঁটা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সভাপতি মানস মন্ডল অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিচালক ভাষা ইনস্টিটিউটের সিএন্ডডি কমিটির অনুমতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির আরবরি কালচার সেন্টারকে অবগত না করেই তার একক সিদ্ধান্তে গাছগুলো কেটেছেন।

এদিকে গাছ দুটো কাঁটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। শিশির মনির নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে গাড়ি পার্কিং বানানোর অজুহাতে কেটে ফেলা হয় ত্রিশ বছরের পুরনো দু’টি করবী গাছ। গাছ অক্ষত রেখে পার্কিং তৈরির চিন্তা কি করা যেতো না?

মারিয়াম মুন্নী নামে আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, আমাদের ইন্সটিটিউটে পূর্বেও এই জায়গার গাছ কাটা হয়েছিল। এখন আবার পার্কিং এর জায়গা বরাদ্দ বলে ৩০ বছর পুরনো করবি গাছ (ফুল গাছ) কাটা হচ্ছে। খুবই দুঃখজনক। গাছটা খুব সুন্দর দেখাতো।

এদিকে ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ও সিএন্ডডি সদস্য ড. সায়েদুর রহমান বলেন, পার্কিং বাড়ানোর জন্য অনুমোদন দিয়েছে ঠিক কিন্তু গাছ কাঁটার কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক সব সময় একক সিদ্ধান্ত নেন, পরবর্তীতে সিএন্ডডি সদস্যদের উপর তা চাপিয়ে দেয়।

অধ্যাপক সায়েদুর আরও বলেন, ৩০ বছর বয়সী করবী গাছটির চোখের সামনে মৃত্যু ঘটেছে; ফুলে ভরা ছিল গাছটি। মুহূর্তের মধ্যে ফুলসহ কেটে ফেলা হল, সত্যি বিষয়টি মর্মান্তিক। এই মুহূর্তে আমাদের কোন পার্কিং -র প্রয়োজন ছিল না। তাছাড়া পার্কিং করা হলেও গাছগুলো থাকলে খুব একটা অসুবিধা হত না বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এ.বি.এম. রেজাউল করিম ফকির বলেন, আমার একক কোন সিদ্ধান্তে কোন কিছুই হচ্ছে না। যা কিছু হচ্ছে সিএন্ডডি কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে হচ্ছে। তাছাড়া ভবন কাঠামো অনুযায়ী গাড়ির পার্কিং থাকে। সেই মোতাবেক পার্কিং তৈরি করা হচ্ছে।

গাছ কাটার বিষয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম ফকির বলেন, এটা কে গাছ কাঁটা বলে না। বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়মিতই গাছ দুটো ছেঁটে দিচ্ছিল। বাকি শুধু কাণ্ড ছিল। তাছাড়া আরবারি কালচারের লোক এসেছিল বলে জানান অধ্যাপক রেজাউল করিম।

আরবারি কালচার ইনস্টিটিউটের ভাষা মঞ্চের নিকটের কড়ই গাছ কাঁটতে বলেছে এছাড়াও বৈদ্যুতিক খুঁটির চারপাশে কিছু গাছের ডাল ছাটাই করতে বলেছে এবং তারা (আরবারি কালচার) আমাদের চিঠি দিতে বলেছে, বলে জানান অধ্যাপক রেজাউল করিম ফকির।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন গাছ কাটতে গেলে আরবরি কালচার সেন্টারকে চিঠি দিতে হয় ৷ পরবর্তীতে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি ৷ কিন্তু আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে আরবরি কালচার সেন্টারে এ ধরনের কোনো চিঠি আসেনি ৷

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট গাছ কাটাটি বিশবিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে কাটা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মিহির লাল সাহা বলেন, যেহেতু গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয়নি, কোন চিঠি আসেনি ৷ তাই বলা যায় গাছ কাটার কাজটিতে নিয়ম মানা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং বৃক্ষায়ণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ সামাদ৷ তিনি বলেন, গাড়ি রাখার জায়গা কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেত ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে গাছ কাটা ঠিক হয়নি ৷ আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে আমরা খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব ৷

;

নতুন সিংহ-বিনোদ বিহারীর নামে নতুন দুই বৃত্তি ইডিইউতে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নতুন সিংহ-বিনোদ বিহারীর নামে নতুন দুই বৃত্তি ইডিইউতে

নতুন সিংহ-বিনোদ বিহারীর নামে নতুন দুই বৃত্তি ইডিইউতে

  • Font increase
  • Font Decrease

মুক্তিযুদ্ধে শহিদ নূতন চন্দ্র সিংহ ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন দুটো বৃত্তি চালু করেছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া ডেটা এনালিটিক্স এন্ড ডিজাইন থিংকিং ফর বিজনেস এবং আধুনিকতম কারিকুলামে সাজানো এমএ ইন ইংলিশে ভর্তি হলেই শিক্ষার্থীরা এ দুই বৃত্তির অধীনে টিউশন ফি’তে ৭০ শতাংশ ছাড়। বাংলাদেশের অন্যতম দুই কৃতি ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানিয়ে গৃহিত এ উদ্যোগের জন্য ইডিইউকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রাণা দাশগুপ্ত তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, নিখাদ দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের সংকটের এ ক্রান্তিকালে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা বিনোদ বিহারী চৌধুরী এবং নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক সমাজসেবী শহিদ নূতন চন্দ্র সিংহের অমর স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরজাগরুক রাখার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা শুধু প্রশংসনীয় নয়, অনন্যও বটে। কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের সার্বিক সফলতা আন্তরিকতার সাথে কামনা করছি।

ইডিইউর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে ইডিইউ। সম্প্রতি দেশের কৃতি ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার যে উদ্যোগ তারা নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আমাদের পূর্বসুরীদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে এবং ভালো কাজের অনুপ্রেরণা পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বলেন, বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাসের নানা সময়ে সমাজ ও দেশের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছেন, নেতৃত্বের ভার তুলে নিয়েছেন বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিত্বরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের অনেকেরই কৃতিত্বের কথা যথার্থভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। দেশ-জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে ইডিইউ এমন কৃতি ব্যক্তিত্বদের নামে বিশেষ বৃত্তি এনেছে। কেননা, আমরা মনে করি, প্রকৃত গুণীকে তার প্রাপ্য সম্মান না জানালে পরবর্তী প্রজন্মে এমন ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার ধারাবাহিতা ও অনুপ্রেরণা তৈরি হয় না।

ডেটা অ্যানালিটিক্স এন্ড ডিজাইন থিংকিং ফর বিজনেস শীর্ষক বাংলাদেশের একমাত্র মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হলেই শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ‘নূতন চন্দ্র সিংহ স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এর অধীনে টিউশন ফি’তে ৭০ শতাংশ ছাড়। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ নূতন চন্দ্র সিংহ চট্টগ্রামের রাউজানে সাধারণের সাহায্যার্থে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দাতব্য চিকিৎসালয়, স্কুল-কলেজ, যার সুবিধা এখনো পাচ্ছে জনসাধারণ। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রেখেছিলেন অতুলনীয় ও সাহসী ভূমিকা। তার এ অবদান বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে এ বৃত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ইডিইউ কর্তৃপক্ষ।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন বিনোদ বিহারী চৌধুরী। চট্টগ্রামের জালালাবাদ যুদ্ধে বৃটিশ সৈনিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন বিনোদ বিহারী। এছাড়াও আজীবন, এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও নানান রাজনৈতিক সংকটে, আন্দোলনে অংশ নিয়ে তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি। তার সম্মানার্থে চালু হওয়া ‘বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এর অধীনে এমএ ইন ইংলিশে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে টিউশন ফি’তে ৭০ শতাংশ ছাড়।

এ মহতি উদ্যোাগের জন্য সাঈদ আল নোমান ও ইডিইউ পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন শহিদ নূতন চন্দ্র সিংহের দৌহিত্র রাজীব সিংহ। তিনি বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমরা নূতন চন্দ্র সিংহের স্মৃতি রক্ষার্থে নানা উদ্যোগ নিলেও, কোন প্রতিষ্ঠান এবারই প্রথম এমন উদ্যোগ। জাতির কৃতি ব্যক্তিদের আদর্শকে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার এ অনন্য প্রচেষ্টার সার্থকতা কামনা করি। সাঈদ আল নোমানের সুনেতৃত্বে পরিচালিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি অন্যদের জন্য এক অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সমন্বয়ে গঠিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। তারা দেশপ্রেম ও স্বদেশের মঙ্গল কামনায় নানা রকম সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়কে। ইডিইউ কর্তৃপক্ষের বাংলার ইতিহাসের কৃতি ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করার উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে বাংলাদেশে প্রথমবারের শুরু হওয়া মাস্টার অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে ইডিইউ।

;