কুবির রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ



কুবি করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,কুমিল্লা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) অধিকতর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরের পরিবর্তে রেজিস্টার অধ্যাপক ড. আবু তাহের নিজেই স্বাক্ষর করেন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির জন্যই রেজিস্টার তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনীভাবে নিজেই এ চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে স্বাক্ষর করেন বলে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি সূত্র। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে সেনাবাহিনীর পক্ষে গত বছরের ১১ মার্চ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ এর ১২ (২) অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।’ অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এ চুক্তিতে স্বাক্ষরের নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের। দুর্নীতি করার সুবিধা করতেই নাকি কোষাধ্যক্ষকে এই প্রকল্পের বাইরে রেখে রেজিস্টার অধ্যাপক ড. আবু তাহের নিজেই  আইনবহির্ভূতভাবে এ স্বাক্ষর করেন এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অনেকের।

এদিকে এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক হাজার সাত’শ কোটি টাকার এই একটি প্রকল্পকে ঘিরে উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের দুর্নীতির সুবিধার্থে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে নিজের গ্রুপের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে যুক্ত করেছেন। এর অংশ হিসেবেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বেআইনীভাবে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করেছি তখন। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পরে স্যার আমাকে আর কিছুই জানায়নি। তখন আমাকে শুধু এটুকুই জানানো হয়েছে যে, সেনাবাহিনীর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু কাকে দিয়ে স্বাক্ষর করা হবে আমাকে জানানো হয়নি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে অর্থ সংশ্লিষ্ট সকল চুক্তি স্বাক্ষর করবেন কোষাধ্যক্ষের। এর ব্যত্যয় কেন হল এটা একটা রহস্য। এসবের পিছনে কার কি উদ্দেশ্য ছিল তা আমি বলতে পারছি না। তবে এটা সুনির্দিষ্টভাবে আইন পরিপন্থী কাজ।’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ভিসি স্যারের আদেশক্রমেই আমি স্বাক্ষর করেছি।’ তার দাবি এটা একটা কাজের চুক্তি। কোনও অর্থনৈতিক চুক্তি নয়। 

এদিকে রেজিস্টারের এ বক্তব্যের সাথে ড. মো. আসাদুজ্জামান দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘কাজটা তো হবে অর্থের মাধ্যমে। যে কাজে টাকার সম্পৃক্ততা থাকবে সেটাই তো আর্থিক চুক্তি। তাহলে তারা কীভাবে বলে এটা আর্থিক চুক্তি না। এগুলো অযৌক্তিক কথাবার্তা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী এ নিয়ে বলেন, ‘আইন মেনেই স্বাক্ষর করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের করার কথা তিনিই স্বাক্ষর করেছেন।’

জবি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে চক্রাকার বাস সার্ভিস



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জবি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে চক্রাকার বাস সার্ভিস

জবি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে চক্রাকার বাস সার্ভিস

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধায় চালু হতে যাচ্ছে চক্রাকার বাস সার্ভিস। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়কৃয় দ্বিতল বাসটির মাধ্যমে আগামী রোববার থেকে এই সার্ভিস দেওয়া হবে। প্রতিদিন দুপুর ও সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গন্তব্য স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বাসটি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৯ মে রোববার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়কৃত দ্বিতল বাসটি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাবে। বাসটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে দয়াগঞ্জ, সায়েদাবাদ, খিলগাঁও রেলগেট, মালিবাগ, মৌচাক, বাংলা মোটর, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুলিস্তান হয়ে আবারও ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে।

এদিকে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৷ তাদের দাবি এতে করে যাদের ক্লাস আগে শেষ হয় তাদেরকে আর রেগুলার বাস সার্ভিসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আবার যেসব শিক্ষার্থী পাঠাগারে পড়াশোনা করে তাদের জন্যও সুবিধা হবে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রোববার থেকে সার্ভিস চালু হবে।

;

ছাত্রদল তকমা দিয়ে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছাত্রদল তকমা দিয়ে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ

ছাত্রদল তকমা দিয়ে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে যান এক সাংবাদিক। উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে আবির আহমেদকে (২৭) ছাত্রদল তকমা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস নামে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব প্রতিবেদক।

এ ব্যাপারে আবির আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মে) হাইকোর্ট এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে তিনি লাইভে ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করে তার ফোন ছিনিয়ে নেন।

এ ব্যাপারে ঢাবি প্রক্টর ড. অধ্যাপক এ কে এম গোলাপ রব্বানী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় আজ (২৬ মে) প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে পিছু হটে। এ হামলায় এক সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে ছাত্রদলের অভিযোগ।

;

ছাত্রদল ভেবে ছাত্রলীগকেই পেটাল ছাত্রলীগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে পিছু হটে তারা। ছাত্রদল প্রথমে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদল কিছুদূর অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে পিছু হটে হাইকোর্টে অবস্থান নেয় ছাত্রদল।

এসময় হাইকোর্ট এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তাড়া করার জন্য ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী দৌড়ে যান। সেখান থেকে প্রথমে কয়েকজন কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করলে পরবর্তীতে আসা নেতাকর্মীরা ছাত্রদল ভেবে ছাত্রলীগের ওপরই হামলা করে বসে। একপর্যায়ে ইট ছুড়তে থাকে তারা। এতে ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

বিষয়টি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একজন কর্মী নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলার সময় বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তার সমালোচনা করে কড়া বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ। তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে দাবি করে চটেছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এমন ঘোষণার পর থেকেই পরিস্থিতি অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করে আসা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার (২৪ মে) ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতকার্মী আহত হয়েছিলেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

;

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অধ্যাপক আ ব ম ফারুক

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক

  • Font increase
  • Font Decrease

মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কম-এ গত ১৩ মে “ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক, ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তিনি মনে করেন, ওই প্রতিবেদনের তথ্য অসত্য ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে করা।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পাঠানো প্রতিবাদ লিপি হুবহু তুলে ধরা হলো-

গত ১৩ মে, ২০২২ তারিখে আপনার সংবাদ পত্রে “ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে আমাকে উল্লেখ করে কিছু অসত্য, ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশিত হয়েছে যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লোকসমাজে আমাকে হেয় করা এবং আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি এতে অত্যন্ত অপমানিত ও সংক্ষুব্ধ হয়েছি। এবিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আমার নিমোক্ত বক্তব্যটুকু অনুগ্রহ করে হুবহু প্রকাশ করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

একটি বেনামী চিঠির সূত্র ধরে পরিবেশিত আপনাদের প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে নিয়ে আমি ব্যাখ্যা প্রদান করছি -

১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত দুই কর্মচারি আমার কোনো নিকটাত্মীয় নয়। তারা আমার স্ত্রীর ভাগ্নেও নয়। কারণ আমার স্ত্রীর কোনো বোন নেই। তারা কেউ আমার স্ত্রীর তো খালাতো মামাতো ফুফাতো বোনেরও ছেলে নয়। আমি ডিন থাকার সময়ে চাকরিতে নিয়োগ পেলেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী গঠিত সিলেকশন বোর্ডে ইন্টারভিউ দিয়ে সর্বাত্মকভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে সবে য়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়োগ পেয়েছে। সেই সিলেকশন বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো প্রতিনিধি, কর্মচারি সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষকদের প্রতিনিধি প্রভৃতি অনেকেই ছিলেন। অতএব যথানিয়মে নিরপেক্ষ সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই তারা নিয়োগ পেয়েছে। তাই অভিযোগটি অসত্য এবং আমাকে জনসমক্ষে হেয় করার জন্যই এটি করা হয়েছে।

২) আমি ফার্মেসি অনুষদের ডিন থাকাকালে আমার বিরুদ্ধে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিয়োগ ওঠে’ বলে আপনারা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন। আমি আপনাদের কাছে তার বিবরণ দাবি করছি। কোন কোন ক্ষেত্রে কোন তারিখে কত অর্থ আত্মসাৎ করেছি তা আমি অবশ্যই জানতে চাই। আশা করি আপনারা তা জানাবেন।

৩) ঢাকা মহানগরীতে আমার অনেক আত্মীয় রয়েছেন। তাদের অনেকে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। আবার আমারসহ অনেকেরই বিলাসবহুল না হলেও উপযুক্ত নিজস্ব বাড়ি বা ফ্লাট রয়েছে। তবে কোনোটাই বেনামে নয়। আমার ও আমার আত্মীয়দের অনেকেরই গাড়ি আছে। কিন্তু সেগুলো কোনোটাই বিলাসবহুল নয়, বরং অধিকাংশই অনেক পুরনো।

৪)আমার দুই মেয়ে বিদেশে লেখাপড়া করছে এটাও সত্য নয়। আমার বড় মেয়ে দেশে অনার্স সমাপ্ত করে বিদেশে এম এস সম্পূর্ণ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আইটি ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর সাথে সংসার করছে। ভবিষ্যতে সে নিজের রোজগারে ও নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেলে পিএইচডি করবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে ও অপেক্ষায় আছে।  আমার  ছোট  মেয়ে  দেশে  মাস্টার  ডিগ্রির  থিসিস  করছে।  বিদেশের  কোনো  ভালো  বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএই ডি করার প্রস্তাব পেলে ভবিষ্যতে সেখানে যাওয়ার আশা রাখে। তাদের কারো লেখাপড়ার ব্যয়ভারই

আমাকে বহন করতে হবে না। অতএব বিদেশে তাদের লেখাপড়ার পেছনে বিপুল খর   হচ্ছে এবং তা আমার আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এ তথ্যটিও অসত্য।

৫) আপনারা লিখেছেন যে আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছি। আমি কবে এতটা ক্ষমতাবান হলাম তা আমার জানা নেই এবং আমার সুদীর্ঘ ৪৩ বছরের চাকরিকালে কোথাও থেকে ঘুষও নেইনি। এই অসত্য অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে আপনারা আমার মানহানি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে কখনো কখনো অন্যান্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাথে  বেসরকারি  মেডিক্যাল  কলেজের  কার্যক্রম  পরিদর্শনে  পাঠাতেন।  আমাদের  টিমগুলোর  দায়িত্ব  ছিল সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে   লছে কিনা সে বিষয়ে মতামত দেওয়া। আমাদের সেই টিমগুলো কোনো ত্রুটি  পেলে  তা  কর্তৃপক্ষকে  অবহিত  করে  করণীয়  সুপারিশ  করতো।  টিম  সদস্যদের  সম্মিলিত  সিদ্ধান্তে সুপারিশগুলো  পাঠানো  হতো  বিধায়  আমার  একার  পক্ষে  কোনো  অর্থনৈতিক  সুবিধা  নেয়ার  কোনো  সুযোগ

সেখানে  ছিল  না।  বিশ্ববিদ্যালয়  কর্তৃপক্ষ  ও  আমাদের  টিমের  লক্ষ্য  ছিল  অনেক  টাকা  খর   করে  যারা বেসরকারি  মেডিক্যাল  কলেজগুলোতে  পড়তে  আসে  তারা  যেন  সঠিক  জ্ঞানটুকু  লাভ  করার  সুযোগ  পায়। তাছাড়া কলেজগুলো যেন বেআইনিভাবে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করতে না পারে তা দেখাও আমাদের দায়িত্ব ছিল। কোথাও এসব কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মানা হচ্ছে না দেখলে আমরা বিভিন্ন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করতাম। উদাহরণস্বরূপ, একবার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বেআইনিভাবে ৫০ জন অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করায় আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই কলেজকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। আমাদের এসব কাজকে বিকৃত করে যদি অসত্য অভিযোগ কোনো  গণমাধ্যম  প্রচার  করে  তাহলে  তা  সত্যের  অপলাপ  এবং  আমাদের  জন্য  অত্যন্ত  অপমানজনক। আপনাদের  পরিবেশনা  অনুযায়ী  কোন  কোন  মেডিক্যাল  কলেজ  থেকে  আমি  কত  টাকা  ঘুষ  নিয়েছি  তা বিস্তারিত জানাতে আপনাদেরকে অনুরোধ করছি।

৬) বাংলাদেশ  ফার্মেসি  কাউন্সিলের  ব্যাপারেও  একই  কথা  প্রযোজ্য।  যেসব  বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়  তাদেও ফার্মেসি বিভাগে সরকার অনুমোদিত সংখ্যার অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি করতো, কিংবা যাদের শিক্ষক সংখ্যা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম, যাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব ছিল না, ল্যাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছিল না, যাদের পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছ ছিল না, যাদের লাইব্রেরিতে পেশা সংশ্লিষ্ট বইয়ের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, যারা শিক্ষকদেরকে শিক্ষা ছুটি দিত না- ইত্যাকার সমস্যা জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করাতে আমরা উদ্বুদ্ধকরণ ও   প্রয়োগ দুটোই করেছি। ফার্মেসি কাউন্সিলে এই দায়িত্ব পালনের সময়ও আমি একা ছিলাম না। সেখানেও একটা টিম ও কমিটি ছিল। আমরা যা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা  দেশের স্বার্থে  এবং  টিমওয়ার্কের মাধ্যমে  ও পরবর্তীতে  কমিটির  সিদ্ধান্তে।  সেখানে একা  আমার  পক্ষে দুর্নীতি করে কাউকে অন্যায় সুবিধা দেওয়ার বা নিয়ম না মানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হয়রানি করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

৭) ২০০৯ সালে প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর দুঃখজনক ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স úর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক আমাকে টিম লিডার করে একটি বিশেষজ্ঞ পরিদর্শন দল গঠন করা হয়। এর কাজ ছিল  আমাদের ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওষুধ  উৎপাদনের সক্ষমতা যাছাই করা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস’ (জিএমপি) গাইডলাইনের অনুরূপ কিনা তা যাছাই করে রিপোর্ট দেওয়া। কারণ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এবং দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সেই গাইডলাইন সঠিকভাবে মেনে   চলা আমাদের দেশের জন্য বাধ্যতামূলক। এই গাইডলাইন মেনে না   ললে ওষুধ মানহীন হতে বাধ্য। আমাদের কাজ ছিল কারখানার সুবিধাবলী পরিদর্শন করে সংসদীয় কমিটির কাছে রিপোর্ট আকারে পেশ করা এবং কোনো কোম্পানির কোনো অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা দূর করে কারখানাটি কিভাবে জিএমপি মানস  ক্ষুণ্ন হতে পারে তার পরামর্শমূলক সুপারিশ দেওয়া। তবে যদি কোনো কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করে কিংবা নকল-ভেজাল ওষুধ উৎপাদনে নিয়োজিত  থাকে  তাহলে  দেশের  বৃহত্তর  জনস্বার্থে  মানুষের  জীবন  রক্ষার্থে  তাদের  উৎপাদনের  লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করাও আমাদের টিমের দায়িত্বের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ আমাদের ক্ষমতা ছিল শুধু সুপারিশ করা। কোনো কারখানা বন্ধ করা বা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার কোনো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। সেই ক্ষমতা ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।

আমাদের দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে এই ব্যাপক পরিসরের দুরূহ কাজটি করার বিষয়ে আমরা সচেতন হই। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে আমরা তখনকার বাংলাদেশে বিদ্যমান ওষুধ কোম্পানিগুলোর তালিকা সংগ্রহ করি। সেখানে ২৪৭টি অনুমোদিত এলোপ্যাথিক কোম্পানির নাম-ঠিকানা ছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর কয়েক বছর ধরে সারা বাংলাদেশ চষে বেরিয়েও আমরা ১৯৩টির বেশি কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। অর্থাৎ তারা ছিল কাগজেপত্রে, বাস্তবে নয়। সম্ভবত তাদের একমাত্র কাজ ছিল ভুয়া নাম-ঠিকানা ও কাগজপত্র দেখিয়ে সরকারের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা খর  করে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়া। তাদের কোনো কারখানা ছিল না বলে পরিদর্শন করা সম্ভব ছিল না। তাই তাদের নাম আমরা আমাদের রিপোর্ট থেকে বাদ দেই। স্বতঃসিদ্ধভাবে তারা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে বাতিল হয়ে যায়।  এই  ৫৪টি  ওষুধ  কোম্পানির  লাইসেন্স  বাতিল  হওয়ার  পেছনে  আপনাদের  বর্ণনা  অনুযায়ী  আমাদের কোনো ‘নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক সুবিধা ও ঘুষ’ নেওয়ার মানসিকতা ছিল না। এই অভিযোগ ডাহা অসত্য ও অত্যন্ত অপমানজনক।

তবে এছাড়াও আমরা কিছু কোম্পানির কারখানা আকর্ষিক পরিদর্শনের সময় নকল-ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকালে তাদেরকে হাতে-নাতে ধরেছি এবং র‌্যাব-পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট তাদের কারো  কারো  নামে  বিশেষ  ক্ষমতা  আইনে  মামলা  দিয়েছে  ও  গ্রেফতার  করেছে।  র‌্যাব  ও  মোবাইল  কোর্ট কোনো  কোনো  কোম্পানির  জব্দকৃত  পাহাড়প্রমাণ  নকল-ভেজাল-নিম্নমানের  ওষুধ  আগুন  দিয়ে  পুড়িয়ে দিয়েছে।  সেই  দৃশ্য  বিভিন্ন  সরকারি-বেসরকারি  টেলিভিশনের  সংবাদে  দেশবাসী  তখন  প্রত্যক্ষ  করেছে। আমরা সারা দেশে এরকম ২০টি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করেছিলাম। এটি করে আমরা কোনো  অন্যায়  করিনি  বলে  আমি  এখনো  দৃঢ়ভাবে  বিশ্বাস  করি।  আমরা  দেশের  মানুষের  জনস্বাস্থ্য  রক্ষায় সামান্য কিছু কাজ করতে পেরেছি বলে মহান আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানাই। নকল-ভেজাল-নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুতকারকরা আমাদের নামে যতই ‘নেগেটিভ রিপোটর্’ ‘হুমকি’ ‘ভয়ভীতি’ ‘অনৈতিক সুবিধা’ ‘ঘুষ’ ইত্যাদি অপবাদ  দেওয়ার  চেষ্টা  করুক  না  কেন  আমরা  তাতে  ভীত  নই,  কারণ  এগুলো  একান্তই  অসত্য  ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

৮) ‘কোটি কোটি টাকার অনৈতিক সুবিধা’ আমরা কখনো নেইনি, বরং এ ধরনের প্রস্তাব উল্টোভাবেই এসেছিল। নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনে নিয়োজিত কোনো কোনো কোম্পানি ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি ‘উপহার’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।  যেহেতু  তখন আমার বাসায় বা অফিসে কোনো ওষুধ  কোম্পানির মালিক  পক্ষের  কারো আসা কড়াকড়িভাবে নিষেধ ছিল তাই এসব প্রস্তাব আসতো অন্যের মারফতে। কিন্তু সেগুলো  গ্রহণ না করার মতো যথেষ্ট মনোবল আমাদের ছিল। যদি কখনো এসব প্রস্তাবের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলোর নাম বলা অনিবার্য হয় তখন সেগুলোর আদ্যোপান্ত প্রকাশ করতে আমি সচেষ্ট আছি।

৯) সেই পরিদর্শনকালে কোনো কোম্পানির ওপর আমার বা আমাদের কোনো ব্যক্তিগত জিঘাংসা ছিল না। তাই জিঘাংসা চারিতার্থ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। পরিদর্শনের পর যেসব কোম্পানির জিএমপি সুবিধা অপ্রতুল এবং বারবার সময় দেয়ার পরেও যারা তাদের সুবিধাবলী উন্নত করেনি, শুধু তাদের বেলায় সুবিধাবলী উন্নত না করা পর্যন্ত রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে এমন কিছু মানহীন প্রডাক্টের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেটি করা হয়েছিল জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত না করার স্বাথেই। যেমন উচ্চ প্রযুক্তির এন্টিবায়োটিক ও ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করে এমন একটি বড় কোম্পানি অত্যন্ত ঘন বসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় তার কারখানা, তাদের কোনো এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) বা বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে তারা আশেপাশের বাসিন্দাদের ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করছিল। তারা জিএমপি অনুসরণ করতো না এবং তাদের কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা। এর ফলে তাদের উৎপাদিত এন্টিবায়োটিক ও ক্যান্সারের ওষুধ মানহীন হতে বাধ্য, এমনকি তারা কারখানার অভ্যন্তরের কর্মীদেরও ক্রমাগত স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করছিল। আমরা তাদেরকে উৎপাদন ব্যবস্থার সংস্কার করে কেবল তারপরেই উন্নত এন্টিবায়োটিক ও ক্যান্সারের মত অত্যন্ত জটিল ওষুধগুলোর পুনরায় উৎপাদনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং সে অনুযায়ী সুপারিশ করেছি।

এছাড়া বেশ কয়েকটি কোম্পানি পেনিসিলিন এবং নন-পেনিসিলিন গ্রুপের বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক একসাথে তৈরি করছিল, যা রোগীর জন্য বিপজ্জনক। কয়েকটি কোম্পানি এন্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদন করে মান-নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তা বাজারজাত করছিল। অন্য একটি কোম্পানি গরুর ওষুধ ও মানুষের ওষুধ একসাথে একই মেশিনে একই পদ্ধতিতে তৈরি করছিল। এটাও নিয়মবিরুদ্ধ। কয়েকটি কোম্পানি ওষুধ উৎপাদন নিয়মিতভাবে করলেও কোথা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করছে তার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। ঘন বসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার আরেকটি কোম্পানি দিনে উৎপাদন না করে শুধু রাতের বেলায় কারখানা চালাত। এলাকাবাসীর প্রতিবাদেও তারা কোনো কর্ণপাত করতো না। তাদেরও কাঁচামালের উৎস সন্দেহমুক্ত ছিল না। এরা সবাই জিএমপি গাইডলাইনবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল।

এসব কোম্পানি কীভাবে ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন পেয়েছিল তা আমাদের জানা নেই। তাদের সবার ব্যাপারেই সঠিক উৎপাদন সুবিধাবলী তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ওষুধ উৎপাদন বন্ধ রাখতে সুপারিশ করা হয়েছিল। কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোম্পানিকেও না। জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমরা কোথাও কোনো আপোষ করিনি। ওষুধ খেয়ে মানুষ ভালো হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটা কোনোভাবেই আমরা মেনে নেইনি। আমরা আমাদের সুপারিশ পাঠিয়েছি মাত্র। এখানে ঘুষ গ্রহণের কোনো ব্যাপার ছিল না।

অথ  এসব কোম্পানির অনেকেই সেই সময় থেকে আমাদের সম্পর্কে গোপনে কুৎসা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, কিন্তু কখনোই সামনে আসেনি। তারা নানাভাবে আমাদেরকে সমাজে হেয় করার জন্য মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে, কিন্তু তারা নাম-ঠিকানা প্রকাশ করছে না। বেনামে তারা নাকি দুদকে অভিযোগ করেছে এবং সেটা হুবহু আপনার পত্রিকা প্রকাশ করেছে। আমি অভিযোগকারী/দেরকে প্রকাশ্যে পরি য় দিয়ে কোনো সত্য অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ টিমের রিপোর্ট আমরা শুধু স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দিয়েছি, জনসমক্ষে প্রকাশ করিনি। কিন্তু এখন প্রয়োজনবোধে এসব কোম্পানির নাম ও তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে আমাদের সুপারিশ কী ছিল তার পূর্ণ বৃত্তান্ত প্রকাশ করতে আমি সচেষ্ট আছি।

এসব অসত্য অভিযোগ কোনো রকম যাচাই না করে আমাদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে হুবহু প্রকাশ করে আপনারাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন।

১০)  আপনাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে আমার নামে নাকি এসব অভিযোগে শাহবাগ ও রমনা থানায় জিডি করা আছে। অথচ এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কবে জিডি করা হয়েছে, কী অভিযোগে করা হয়েছে ইত্যাদি কিছুই আমি জানি না। জিডির বাদী বা থানা কর্তৃপক্ষ - কেউই আমাকে কখনো এবিষয়ে কিছু জানায়নি। এ ব্যাপারে অবশ্যই খোঁজ নেয়া হবে।

১১) আপনারা লিখেছেন যে এবিষয়ে কথা বলতে আমাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই অভিযোগটি গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ফোনকল এলে আমি তা রিসিভ করার চেষ্টা সবসময়ই করি। আমার পরিচিতজনরা তা জানেন। তবে কখনো ক্লাশে বা কোনো মিটিংয়ে থাকলে কিংবা গভীর রাতে ফোন করলে আমি ফোন ধরতে পারি না।

সেক্ষেত্রে কললিস্ট দেখে আমি কলব্যাক করে থাকি। জরুরি কল হলে অনেকে মেসেজ দিয়ে ফোন ধরতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি আপনাদের পত্রিকার কারো কাছ থেকে কোনো ফোনকল বা রিকোয়েস্ট মেসেজ কিছুই পাইনি।

আপনারা আমার সম্পর্কে অনেকগুলো অসত্য, মনগড়া ও বানোয়াট অভিযোগ প্রকাশ করেছেন। প্রকাশের আগে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগও দেননি। এর ফলে বিনা দোষে আমার পরিবার, বন্ধুমহল, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর কাছে আমি অত্যন্ত হেয় হয়েছি, আমার এতকালের অর্জিত সম্মান ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে, আমি মারাত্মকভাবে অপমানিত হয়েছি এবং মানসিক শান্তি বিনষ্ট হয়ে আমি অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছি। এসব কারণে আমি অত্যন্ত সংক্ষুব্ধ।

তাই অনুগ্রহ করে যে গুরুত্ব দিয়ে আপনারা একটি বেনামী চিঠি হুবহু ছেপেছেন, আমার এই প্রতিবাদলিপিটিও সমান গুরুত্ব সহকারে, যাতে আমার বক্তব্য অস্পষ্ট বা বিকৃত না হয় তার জন্য কোনো কাঁটছাট না করে, হুবহু আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।

;