সন্ধ্যা নামতেই শুরু কেনাবেচা

চবির আবাসিক হলে মাদক কারবার



মুহাম্মাদ মুনতাজ আলী, চবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪. কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। প্রতি বছর আকাশসম স্বপ্ন বুকে নিয়ে দুঃখিনী মা ও পরিশ্রমী বাবার প্রত্যাশাগুলোকে বাস্তবে রূপদান করতে হাজারও শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করতে আসেন।

মুক্ত ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণ ও অসৎ সঙ্গ পেয়ে কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই কেউ কেউ যুক্ত হয়ে যান মাদক সাম্রাজ্যের গহীন অন্ধকারে। এই অন্ধকার জগত থেকে বের হতে না পেরে ঝরে যায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী! ভেস্তে যায়, কত কত বাবা-মায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষা!

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাদক সাম্রাজ্যের গহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত শিক্ষার্থীদের অনেকেই অবস্থান করেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই বিভিন্ন হলে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার অছাত্র কিংবা বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী।

সন্ধ্যা নামতেই চবি ক্যাম্পাসে বসে মদ, গাঁজা ও ইয়াবার আসর। শুরু হয়, মাদকাসক্তদের আনাগোনা। যে করিডরে পাওয়ার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চাপা গুঞ্জন, সেখানে মেলে গাঁজার উৎকট গন্ধ। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বিভিন্ন স্থান থেকে চালান নিয়ে এসে মদের ব্যবসাও করেন। সরবরাহ করেন ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীর।

সম্প্রতি, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, তার মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের জন্য রয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। এজন্য তিনি রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে চালান মাদক ব্যবসা। তার দাবি, তিনি শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের একাংশের অনুসারী। থাকেন এ এফ রহমান হলের ৪৪০ নম্বর কক্ষে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হলে সম্প্রতি মাদক সেবনকারীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। মদ, গাঁজা ও ইয়াবা তাদের নিত্যসঙ্গী। এর কাউকে কাউকে প্রকাশ্যে মাতলামি করতেও দেখা গেছে।

এ ঘটনার অনুসন্ধানে এ এফ রহমান হলের ৪৪০ নম্বর কক্ষে প্রকাশ্যে কয়েকটি মদের বোতল পাওয়ায়। এরপর বুধবার (২৪ এপ্রিল) কক্ষটি সিলগালা করে দেয় হল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া সোমবার (২২ এপ্রিল) রাত ১১টায় এ এফ রহমান হলে মদপান, মাতলামি ও মাদক সরবরাহের অভিযোগে আশিকুজ্জামান জয় নামের এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে পিটিয়ে বের করে দেয় শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন কর্মী।

এ বিষয়ে এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শাকিল আহমেদ জানান, চবির এ এফ রহমান হলে সম্প্রতি মাদক সেবনকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সবচেয়ে বেশি মদ, গাঁজা ও ইয়াবা খায় এই হলের ছেলেরাই।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাচেরই এক শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান জয় ঈদের পরপরই হলে ৭ থেকে ৮ কেজি মাদকদ্রব্য নিয়ে আসে এবং খেয়ে মাতলামি করে। এজন্য তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হলেও সে শোনেনি। ফলে, তার সঙ্গে আমাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার কাছে বিষয়টির সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ এফ রহমান হলের সবাই জানে যে, জয় পুরোপুরি মাদকাসক্ত। সে অনেকদিন ধরেই মদ, ইয়াবা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি হলে মাদক বিক্রিও করতো। আমরা তাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও এগুলো ছাড়েনি সে। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমাদের একটু ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে।

আশিকুজ্জামান জয়কে মারধরের পর সরেজমিন এ এফ রহমান হলের ৪৪০ নম্বর কক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে কয়েকটি মদের বোতল দেখতে পাওয়া যায়। তবে সেগুলোতে মদ না থাকলেও মদের টাটকা গন্ধ মেলে।

আশিকুজ্জামান জয় নিজ গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াসের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ কেন জানতে চাইলে তিনি মারধরের কথা স্বীকার করেন। তবে মদপানের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

যদিও আশিকুজ্জামান জয়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একটি দেশি মদের বোতল নিয়ে বসে আছেন তিনি। পাশে রাখা আছে আরো দুটি বোতল।

এছাড়াও ওই হলে থাকা শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের অনুসারী কয়েকজনের মাধ্যমে আরো বেশ কয়েকজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, যারা মাদক গ্রহণ এবং হল জুড়ে মাতলামির জন্য পরিচিত। তাদের নাম, বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের একটি তালিকা বার্তা২৪.কমের হাতে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আলী আরশাদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বুধবার হাউস টিউটরসহ আমরা কক্ষটিতে গিয়েছিলাম। কক্ষটি আপাতত সিলগালা করে দিয়েছি। রুমে যে থাকতো, তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। আমরা পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

মাদক কারবারের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ অহিদুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবো। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।

 

 

   

ইবির শারীরিক শিক্ষার পরীক্ষা মঙ্গলবার, আসনপ্রতি লড়বে ২৩



ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা আগামী ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৬৮৫ জন ভর্তিচ্ছু, ফলে আসনপ্রতি লড়াই করবেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. দেবাশীষ শর্মা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ জুন এবং ২৬ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত এই বিভাগটির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দিনই সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষায় তিনটি ইভেন্ট থাকবে। সেগুলো হলো- ৬০ মিটার স্প্রিন্ট, ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং ফ্লেক্সিবিলিটি টেস্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের স্পোর্টস ড্রেস পরিধান করে অংশগ্রহণ করতে হবে। সকল পরীক্ষার্থীকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। সকল পরীক্ষার্থীকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশীটের সত্যায়িত অনুলিপি সঙ্গে আনতে হবে।

এবিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিকে অংশ নিতে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেডপয়েন্ট ৩.০০ পেতে হবে।

এছাড়াও বিকেএসপি শিক্ষার্থী তথা খেলোয়াড়দের জন্য বিভাগের আসন সংখ্যা ২০% অতিরিক্ত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। এই বিভাগে মোট ৩০টি আসনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ‘এ’ ইউনিটের জন্য ৯টি, মানবিকের ‘বি’ ইউনিটের জন্য ১৫টি এবং বাণিজ্য বিভাগ ‘সি’ ইউনিটের জন্য ৬টি আসন বরাদ্দ রয়েছে বলে জানা যায়।

;

লাঞ্চের দাওয়াত দিয়ে আয়োজন করেনি জবি প্রশাসন



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অধ্যয়নরত যে সকল শিক্ষার্থী ঈদে ঢাকায় অবস্থান করবে, তাদেরকে পাঁচটি খাসি দিয়ে পোলাও, কোর্মার আপ্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েও কোনো আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি প্রশাসন যে আপ্যায়নের আয়োজন করছেন না সেটাও জানানো হয়নি। যার কারণে ঈদের দিন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও আপ্যায়ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরে প্রশাসনের দাওয়াতে আশা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আয়োজিত আপ্যায়নে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা বলেছেন, প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসেছি। তারা আমাদের জন্য ৫টি খাসি কুরবানি দিয়ে আপ্যায়ন করবে বলে ডেকে এনে কিছুই আয়োজন করেনি। এখন প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা যারা এসেছি তাদের অধিকাংশ ই এখানে কিছু না পেয়ে ছাত্রলীগের আয়োজনে গিয়েছি। দুই দাওয়াতের মানুষ একই জায়গায় তাদের উপরেও চাপ পড়েছে।

তবে ঈদের দিন প্রশাসন আপ্যায়নের আয়োজন না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ছয়টি খাসি কুরবানি দেন। এ উপলক্ষে বিগত তিনদিন তারা সকল প্রকার কেনাকাটা সম্পন্ন করেন। খাসির পাশাপাশি ডিম, পোলাও, কোর্মাসহ কোমল পানীয় পরিবেশন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা সকলকেই ছাত্রলীগের আয়োজনে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ঈদের দিন দুপুরে ৩০০-৩৫০ জনের জন্য খাবারের আয়োজন করবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলাদা আপ্যায়নের আয়োজন না করায় এসব শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের আপ্যায়নে যোগ দেন। তাদের এত শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বণ্টন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

নারিন্দার মেসে অবস্থান করা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলেন, ঈদের পর পরীক্ষা থাকার কারণে এবার বাড়ি যাইনি। ঈদের দিন রান্না করাও কষ্টদায়ক। শুনলাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সেজন্য ক্যাম্পাসে আসা। ক্যাম্পাসে আসার পর দেখি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন নেই। পরে কলা ভবনের দিকে গিয়ে দেখি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর সভাপতি আমাকে আপ্যায়ন করালো। তাদের আয়োজন ভালো লেগেছে। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যি প্রশংসনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব মোল্লা বলেন, বিশেষ কারণে এবার ঢাকায় ঈদ করা হচ্ছিল। ঈদে মেসের খালা বাসায় চলে গিয়েছে। রান্না করারও কেউ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণা শুনে খাসি খেতে এসে দেখি খাসি তো দূরের কথা সাদা-ভাতেরও আয়োজন করা হয়নি। ঈদের দিন তাই আশেপাশে দোকানও খোলা নেই যে কিছু খাবো। দাওয়াত খেতে এসে আমার জীবনেও এইভাবে অপমানিত হইনি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৬টি খাসি দিয়ে আপ্যায়নের আয়োজন করি। যারাই এসেছে আমরা সবাইকে আপ্যায়ন করিয়েছি। কে কোন দাওয়াতে এসেছে এটা মূখ্য বিষয় না। যেই এসেছে আমরা আমাদের পক্ষে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আপ্যায়ন করেছি।

সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যারাই আমাদের আয়োজনে এসেছে সবাই অনেক খুশি হয়েছে। অনেকেরই বাসায় রান্না করার কেউ নেই। সেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে পেরে আমরাও খুশি। আগামীতেও এইরকম আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত আপ্যায়ন কর্মসূচিকে নিজেদের বলে দাবি করেন।

;

রিকুইজিশনের নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের গাড়ি দেওয়া হয়েছে: বশেফমুবিপ্রবি প্রশাসন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, জামালপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) মাইক্রোবাস নিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আলম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, গাড়িটি যথাযথ নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিলো।

জানা গেছে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ- ৫৬-৩৮৭৩) রিকুইজিশনে নিয়ে গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটা প্রোগ্রামে যান।

কিন্তু গত বুধবার ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ৬ ছাত্রলীগ নেতা’ শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছয় নেতা। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কাউসার আহাম্মেদ স্বাধীন, যুগ্ম আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশ, মোকাররম হোসাইন, নাজমুল ইসলাম, এন সাকলাইন ও সদস্য ইখতিয়ার উদ্দিন ইমন।

তবে বিষয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আলম খান শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রিকুইজিশনের শর্তমতে গাড়িটি তাদের দেওয়া হয়। শর্তানুযায়ী তারা গাড়ির যাবতীয় খরচ পরিশোধ করেছেন। বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন নীতিমালায় উল্লেখ করা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো শিক্ষার্থী চাইলে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি নিতে পারবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউসার আহাম্মেদ স্বাধীন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিলো। ঈদের এই সময়ে ঢাকা গিয়ে ফিরে আসতে গাড়ি পাওয়া যায় না, অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবার রিকুইজিশনে গাড়ি চেয়ে আবেদর করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থী ‍হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কেউ এ আবেদন করতে পারে। অথচ বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশ বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। যে সাংবাদিকরা নিউজ করেছেন তারা কেউই আমাদের কোনো বক্তব্যই নেয় নাই। যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন নীতিমালার কোনো ব্যত্যয় আমরা ঘটাইনি। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে যে কেউ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি স্বাপেক্ষে এ সুবিধা নিতে পারবে। এতে ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়।

;

শামুক নিয়ে গবেষণায় রাবি গবেষক দলের সাফল্য



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শামুক নিয়ে গবেষণায় যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মলাস্কান রিসার্চ ল্যাবরেটরীর একদল গবেষক। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো দেশে গেছো শামুকের এমফিড্রোমাস প্রজাতির উপর কাজ করে পাঁচটি প্রজাতি শনাক্ত করেছে গবেষক দলটি। যার মধ্যে দুটি নতুন এবং অপ্রকাশিত প্রজাতি। গবেষক দলটির অভিমত, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই গবেষণাটি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ রাখবে।

রাবির প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার শোভনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল সিস্টেমেটিক্স অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটিতে প্রকাশিত হয়েছে।

যৌথ এই গবেষণা প্রকল্পে ড. শাহরিয়ার শোভনের সহযোগী ছিলেন- চেক রিপাবলিকের মাসারিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. তাকুমি সাইতো, জাপানের রিউকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তাকাহিরো হিরানো, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রূপময় তঞ্চঙ্গা, রাবির প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রহিম বাদশা এবং জাপানের তহুকো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ইয়াসুতো ইশি।

গবেষক দলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে চলমান এ গবেষণায় বাংলাদেশের ১৩টি স্থান থেকে ৪৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে গেছো শামুকের প্রজাতি এমফিড্রোমাস-এর উপর কাজ করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি নতুন এবং অপ্রকাশিত প্রজাতি। সংগৃহীত নমুনাগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াল ১৬এস রাইবোসোমাল আরএনএ, সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজ সাবইউনিট ওয়ান এবং নিউক্লিয়ার ইন্টারনাল ট্রান্সক্রাইবড স্পেসার ১-এর মলিকুলার ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ এবং হ্যাপ্লোটাইপ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া, এলিপটিক্যাল ফুরিয়ার এনালাইসিসের মাধ্যমে শামুকের খোলসের আকার ও ব্যান্ড প্যাটার্ন মূল্যায়ন করা হয়।

গবেষক দল জানিয়েছে, আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমফিড্রোমাস গ্লোবোনেভিলি, যা বাংলাদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় পাওয়া গেছে, এটি মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে। এছাড়া, এসবে এমফিড্রোমাস সাইনেনসিস ভিকারিয়া এবং এমফিড্রোমাস সিলহেটিকাস-এর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে এমফিড্রোমাস সিলহেটিকাস বাংলাদেশে নতুনভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দেশের পূর্বাঞ্চলে পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে এই গবেষণায় প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যৌথভাবে ড. শাহরিয়ার শোভন এবং ড. তাকুমি সাইতো বলেন, এই গবেষণাটি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মূল্যায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরবে। এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতের গবেষণা ও পরিবেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ কৌশলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রদান করবে। এই সাফল্যের ফলে দেশে গেছো শামুকের প্রজাতি নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই গবেষণাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের আশা জাগাচ্ছে বলে জানান এই দুই গবেষক।

;