মতিহার ক্যাম্পাসের ড. ফারুক



আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
ফারুক হোসাইন

ফারুক হোসাইন

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারুকের মৃত্যুর পর ২৬ দিন পেরিয়ে গেছে। অনিন্দ্য উত্তরবঙ্গের মতিহার ক্যাম্পাসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক হোসাইন গত ২৬ ডিসেম্বর মুম্বাই এর টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছে। এত দ্রুত সে চিরতরে চলে যাবে এমন ধারণা করতে পারিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হলেও ফারুক আমার কাছে বাচ্চা ছেলে। দুই যুগ আগে ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে যশোরে ওদের বাড়িতে যখন পরিচয় হয়, তখন স্কুলের শেষ দিকে বা সবে কলেজে পা দিয়েছে। পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্র ওর বড় ভাই হারুন জামিল। হারুনের বিয়ে উপলক্ষে ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম। হারুন ততোদিনে আমার পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গিয়েছিল, এখনও তাই আছে। খোঁজখবর নেয়ার জন্য হোক, কোনো প্রয়োজনে হোক, যখন তখন হারুনকে ফোন করি। ফারুকের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ না হলেও আমার ফোন করার সময়ে হারুনের সঙ্গে থাকলে কথা হতো।

শেষ কবে কথা হয়েছিল মনে নেই। ওর সঙ্গে কথা না হলেও হারুনের সঙ্গে যখনই কথা হয়েছে ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিবার ফারুকের প্রসঙ্গ এসেছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আগে হারুনের বাসায় ওর সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল, তখন সে সহকারী অধ্যাপক হয়েছে, তখন ওর স্ত্রীর সঙ্গেও পরিচয় হয়েছিল। যখনই দেখা হতো হাসি-খুশি প্রাণবন্ত শিশুর মত কথা বলতো, যেন আমার কাছে ওর কোনো আবদার আছে। হাত ধরেই রাখতো।

২০১৯ সালের কোনো এক সময়ে হারুনের কাছেই জানতে পারি ফারুকের গলায় সমস্যা হয়েছে। টাটা মেমোরিয়ালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ফারুকের সঙ্গেও কথা হয়, সমস্যা সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছিল, তাতে মোটামুটি একটা ধারণা করতে পারি। ওর ডাক্তাররা আশাবাদী চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমে আমি ওর ভোকাল কর্ডে সিস্ট বা স্ফীতি ধরনের সমস্যা ভেবেছিলাম। এ জন্য মুম্বাই পর্যন্ত কেন যেতে হলো সে প্রশ্নও করেছিলাম। কারণ ঢাকায় এ ধরনের সমস্যায় নিরাময়ে ইএনটি সার্জনরা ভালো করছেন বলে শুনেছি, তা না হলে নাগালের মধ্যেই কলকাতা আছে।

সম্ভবত ওর সমস্যা আমি পুরোপুরি বুঝে ওঠতে পারিনি। আমি আমার নিজের ভোকাল কর্ডে সমস্যার মত ভেবেছিলাম, যে সমস্যা এখনও অনেক সময় অনুভব করি। শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে, যখন  কথা বলার সময় আমার কণ্ঠস্বর একটু উঁচুতে ওঠলেই কয়েক সেকেণ্ডের জন্য কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেতো। ইএনটি’র ডাক্তার সালাহউদ্দিন দেখে দ্রুত তাঁর শিক্ষক সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইএনটি’র প্রফেসর আবদুল্লাহ’র কাছে পাঠান। তিনি পরদিন সার্জারির জন্য তাঁর চেম্বারে যেতে বলেন।

এসব বিষয় আমাকে তেমন উদ্বিগ্ন করে না। রাতে আমি স্ত্রীকে বলি কাল আমার ভোকাল কর্ডে সার্জারি হবে, কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার, সকালে আমার সঙ্গে যাওয়ার জন্য রেডি থেকো। সে হৈ চৈ বাঁধিয়ে। বাংলাদেশে এ ধরনের সার্জারিতে অনেক ঝুঁকি ইত্যাদি। খোঁজখবর না নিয়ে সার্জারি করতে দেবে না। আমাদের সুহৃদ ডাক্তার বন্ধু বুলবুল সরওয়ারকে ফোন করে। ডা. বুলবুল জানান, এ সমস্যা তারও হয়েছিল, কলকাতায় সিএমআরআই (ক্যালকাটা মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউট)-এ ডা: মিলন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে সার্জারির পর সুস্থ হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে মিলন চক্রবর্তীর ফোন নাম্বার, সার্জারির ব্যয় কত হতে পারে এসব তথ্য সংগ্রহ করি। এরপর কলকাতায় গিয়ে সার্জারি করে আসি। বায়োপসি রিপোর্ট ‘বেনাইন’ বা ক্ষতিকর নয় আসে। বায়োপসি রিপোর্ট ‘মেলিগন্যান্ট’ বা ঘাতক হলেই চিকিৎসার মধ্যে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারি ইত্যাদির আশ্রয় নিতে হয়, বহু ধরনের ওষুধ সেবন করতে হয়।   

ফারুকের ক্ষেত্রে বায়োপসি রিপোর্ট এসেছিল ‘মেলিগন্যান্ট’ এবং কষ্টকর ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছিল। চিকিৎসার পর্যায়ে আরো একবার কথা হয়েছিল ফারুকের সঙ্গে। আশাবাদী ছিল সে। আমিও আশাবাদী ছিলাম যে ফারুক সেরে ওঠবে। তখন হয়তো সে জানতো না যে, ক্যান্সার ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যান্সারের সঙ্গে অনেক বছর ধরে লড়ে ভালোভাবে টিকে আছেন, কর্মময় জীবন কাটাচ্ছেন, এমন ক’জন ব্যক্তিকে কাছে থেকে দেখেছি। ফারুক তাদের একজন হতে পারতো, কিন্তু সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসার পর ফারুককে এত দ্রুত কেন হার মানতে হলো, তা আমাকে বিস্মিত ও স্তব্ধ করেছে। ফারুকের মৃত্যুর পর তিন সপ্তাহ পর্যন্ত আমার পক্ষে হারুনকে ফোন করে সান্তনা জানানো সম্ভব হয়নি। দুই ভাইয়ের মধ্যে যে মধুর সম্পর্ক ছিল, তাতে ফারুকের মৃত্যুতে হারুনের নিঃসঙ্গতা আমি অনুভব করতে পারি।

সবকিছু সত্বেও আমাদের শেষ পর্যন্ত মেনে নিতেই হয়, আমরা মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, ঠেকিয়ে রাখতে পারি না।  কোরআনে বলা হয়েছে: “কুল্লু নাফসিন জায়েকাতুল মউত,” (প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে: আল-ইমরান, আয়াত ১৮৫)। যেভাবেই হোক মানুষকে মরতে হবেই। এই অধ্যায় থেকে কারও কোনো নিস্কৃতি নেই। মৃত্যু হঠাৎ আসে। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলেও বোঝা যায় তার মৃত্যু আসন্ন। অনেক সময় মৃত্যু কোনো আভাস না দিয়েই আসে। সেজন্য জীবনের চেয়ে সম্ভাব্য মৃত্যুর প্রতিফলন অনেক শক্তিশালী এবং সেজন্য আমাদের উচিত বেঁচে থাকার মুহূর্তগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রাখা।

হযরত আলী (রা.) আমাদের এ পরামর্শই দিয়েছেন যে, মৃত্যুকে মনের মধ্যে এমনভাবে রাখতে হবে যেন আজকের দিনটিই আমাদের জীবনের শেষ দিন; আবার একই সময়ে আমাদের এমনভাবে বাঁচা উচিত যেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য আরও হাজার বছর পড়ে আছে।

ফারুকের শিক্ষকতার জীবনে ওর মেধা ও যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থীকে ওর অনুরাগীতে পরিণত করতে পেরেছিল তা বোঝা যায় ওর মৃত্যুর পর কিছু শিক্ষার্থীর লেখা থেকে। প্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে ওরা একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। হারুনের কাছে শুনেছি, ফারুকের জানাজায় কত শিক্ষার্থী এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। একজন ভালো মানুষের এটাই প্রাপ্তি। ফারুকের আত্মা এ দৃশ্যে নিশ্চয়ই পরিতৃপ্তি লাভ করেছে।

কবি আল্লামা ইকবালের একটি ফারসি কবিতার দুটি লাইন হচ্ছে: “নিশান-এ-মর্দ-এ মোমিন বা তু গ্যয়াম/চুন মার্গ আয়াদ, তাবাসসুম বর লব-এ-ওস্ত,” (বলতে পারো, বিশ্বাসী মানুষের চিহ্ন কী?/মৃত্যু যখন তার কাছে আসে, তখনও তার ঠোঁটে লেগে থাকে হাসি।) মহান আল্লাহতা’য়ালা ফারুককে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন।

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট অনুবাদক।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মে) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এ এমসিকিউ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) পরীক্ষা শকলা ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হওয়া বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে, প্রশ্ন নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, দেশের ১০০টি প্রতিষ্ঠানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে আসন সংখ্যা চার হাজার ৯৮০টি। এর মধ্যে বিএসসি ইন নার্সিংয়ে আসন রয়েছে এক হাজার ২০০টি। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে আসন দুই হাজার ৭৩০টি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে এক হাজার ৫০টি আসন। নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেদের আসন সংখ্যা মাত্র ১০ শতাংশ এবং বেসরকারিতে ২০ শতাংশ।

এছাড়া ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে কোনো ছাত্র পরীক্ষা দিতে পারবেন না। এর আগে ৩ এপ্রিল নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে ভর্তির আবেদন শুরু হয় যা ২০ এপ্রিলে গিয়ে শেষ হয়।

;

১৫ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে আবার হলে তুলল ছাত্রলীগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১৫ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে আবার হলে তুলল ছাত্রলীগ

১৫ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে আবার হলে তুলল ছাত্রলীগ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে না যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১৫ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। পরে পুনরায় আবার হলে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুই কর্মীরা হলেন- ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আলী আজম ও বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের আরিফ রানা সজল। তারা দুজনেই শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের অনুসারী। মাহবুবুর রহমান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী।

গত বুধবার (১৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থীরা। পরে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) তাদেরকে হলে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তাঁরা জানায়, পরীক্ষা থাকার কারণে গত মঙ্গলবার মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি অংশগ্রহণ করতে পারেননি তাঁরা। যার কারণে গতকাল বুধবার (১৮ মে) রাতে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বের করে দেয় চতুর্থ বর্ষের আলী আজম ও আরিফ রানা সজলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীদের একটি অংশ হল থেক বের করে দেয়।

হল থেকে বের করে দিলে তারা হল শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের কাছে গিয়ে পরীক্ষার কারণে প্রোগ্রামে যেতে পারেনি বললেও কোন কর্ণপাত করেন নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলী আজম ও সজল বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কাউকে হল থেকে বের করিনি। এটা মিথ্যা কথা। আপনারা আসেন তদন্ত করেন।

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও মিথ্যা। এরকম কোন ঘটনা আমার হলে ঘটেনি। তাছাড়া কেউ আমার কাছে এ ব্যাপারপ কোন অভিযোগও করে নি।

;

অব্যাহতির পরও পেলেন ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রধানের দায়িত্ব



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একাডেমিক পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগটির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনসহ দুই শিক্ষককে তিন বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ছয় মাস পেরোতে না পেরোতে একটি ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২০ মে) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা কোর্সের ওই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনের সমন্বয়কারীরর দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান।

অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান স্বাক্ষরিত গত ১৭ মে অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বরাবার পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা মাননীয় উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে জীববিজ্ঞান অনুষদ সমন্বয় করছে। পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আপনাকে (অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন) কেন্দ্র প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আপনার অধীনে নির্দিষ্ট সংখ্যক কক্ষ ব্যবহৃত হবে এবং এ কাজে আপনার বিভাগের ১ জন ৩য় শ্রেণি এবং ১ জন ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী ওই সময় কাজে নিয়োজিত করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রবীর কুমার সরকারের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রেজিস্ট্রার অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-১) মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। কিছু কিছু কাজ প্রশাসনিকভাবে করাতে পারে। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

অব্যাহতি পাওয়ার পরও অধ্যাপক বাহাউদ্দিনকে কেন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানোর পরও তার কোন সাড়া মেলে নি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ৩য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সেমিস্টার বি.এ সম্মান পরীক্ষায় ফলাফলে ব্যাপকভাবে ব্যবধান রেখে চূড়ান্ত করার আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের (২৯ জানুয়ারি ২০১৯) সুপারিশ ও সিন্ডিকেটের (৩০ জানুয়ারি,২০২২) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার বিষয়টি গেল ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

;

যৌন হয়রানির অভিযোগ ঢাবির ২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রী। ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগে পড়েন ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং অপর আসামি রেফায়েত হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ মে সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের কাছে তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় ঢাবি শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ও রাফায়েত তাকে যৌন হয়রানি করেন। ওই ছাত্রীকে শিখা চিরন্তনের পেছনে নিয়ে গিয়ে হয়রানি এবং তার বন্ধুদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিন জন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে আমাদের কাছে আসে। তারা আমাদের সেখানে বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে। পরে আমাদের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান, বলে অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র রাকিবুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী জানান, তারা অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

;