ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফার্মেসি অনুষদ

ফার্মেসি অনুষদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের সাবেক দুই ডিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি কে করেছেন, চিঠিতে তার পূর্ণ নাম লেখা নেই।

১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর পাঠানো অভিযোগের চিঠিটি ১১ মে গ্রহণ করে দুদক। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবেও পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের তহবিল থেকে টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ২২ মার্চ শাহবাগ থানা পুলিশ অনুষদের অফিস সহকারী সাজ্জাদ হোসেন ও পিয়ন সুজনকে গ্রেফতার করে। দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে তা দুদককে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হলে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় পরিচালিত ফার্মেসি অনুষদের উন্নয়ন তহবিল ও ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাংক হিসাব থেকে অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আব্দুর রহমানের সইয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা সরানো হয়। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১০ জানুয়ারি ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার সুপারিশ করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ডিনের দায়িত্ব শেষ হওয়ার দুদিন পরও ব্যাকডেট দিয়ে অধ্যাপক আবদুর রহমান ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। সাবেক ডিন অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহমান ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির নামে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান বাবদ পাওয়া ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সংক্রান্ত তথ্য জানেন গ্রেফতার হওয়া কর্মচারীরা।

গত চার বছরে অধ্যাপক রহমান ঢাকার বাড্ডায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ঢাকার উত্তরার একটি অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে রয়েছে ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোটি কোটি টাকার এফডিআর। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি-ফ্ল্যাট, নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার এফডিআরসহ এসবের উৎস কী, তা এনবিআরের মাধ্যমে তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন এস এম আব্দুর রহমানের সইয়ে টাকা উত্তোলন করা হলেও তাকে এখনও গ্রেফতার না করায় দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রেফতারকৃত দুই কর্মচারী অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নিকট আত্মীয় হওয়ায় তিনি ডিন থাকাকালীন তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে নিয়োগের আবেদনের রেফারি হিসেবে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের সুপারিশ রয়েছে। এদের মধ্যে পিয়ন সুজন তার স্ত্রীর ভাগ্নে হওয়ায় তার মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঘুষ নিয়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও অধ্যাপক আব্দুর রহমান। পিয়ন সুজনের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব নিলেই এর সত্যতা মিলবে।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ডিন থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ঢাকা শহরে তার ও তার আত্মীয়-স্বজনদের নামে-বেনামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বাড়ি রয়েছে। এমনকি তার দুই মেয়ে বিদেশে থেকে পড়াশোনা করছেন, যা কোনোভাবেই তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কয়েক বছর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সদস্য থাকার কারণে বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্সপেকশনের নামে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন এবং তাদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন।

তাছাড়া ২০১৫ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অধীনে সারাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদনের সার্বিক বিষয় তদারকির টিম লিডার থাকাকালীন অনেকগুলো কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক সুবিধা ও ঘুষ নিয়েছেন। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করার ঘৃণ্য মানসে খোঁড়া অজুহাতে অনেক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন। যদিও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কোম্পানিগুলো আবার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন অধ্যাপক আবদুর রহমান অধ্যাপক ফারুকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে দুই কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে এসব কাজে ব্যবহার করেছেন। সাবেক এ দুই ডিনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও রমনা থানায় ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে জিডিও রয়েছে। তাই দুই কর্মচারীকে রক্ষার্থে এবং অর্থ আত্মসাতের পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরে নানাভাবে তদবির করে চালিয়েছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর একে আজাদ চৌধুরী। আদালতে সাক্ষ্য দিলে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও অধ্যাপক আব্দুর রহমানসহ অনেকে ফেঁসে যেতে পারেন। এজন্য তারা অনুষদের বর্তমান ডিনকে বিষয়টি সুরাহা করতে এবং মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া ছয় মাস কিংবা এক বছর পর পর অডিট করার প্রয়োজন থাকলেও ফার্মেসি অনুষদে বিগত কয়েক বছরেও কোনো অডিট করা হয়নি বিধায় বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। অতএব শিগগিরই অধ্যাপক রহমান ও অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে গ্রেফতার করে ফরেনসিক রিপোর্টসহ তদন্ত করা হলে অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত সব দুর্নীতি বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরাই আত্মসাতের ব্যাপারে অভিযোগ করলাম, তদন্ত কমিটি গঠন করলাম। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে বললাম, এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হলো। আমরাই আবার এদের মুক্ত করতে চাইছি- এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন, এ অভিযোগ শুনে আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছি। যারা এ ধরনের অভিযোগ দিয়েছে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আমি সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং আমি ১১ মে নির্বাচনের জন্য নমিনেটেড হয়েছি, আর সেদিনই এ অভিযোগপত্র দুদকে দেওয়া হয়েছে। এতেই বুঝা যাচ্ছে আমার ক্ষতি করতেই এসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমি তো এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে জানতে ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তারা কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, অনুষদটির সদ্য সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রহমানের সই জালিয়াতি করে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার A/C 0200009379565 এবং A/C 0200000947674 একাউন্ট থেকে আনুমানিক ২০টি চেকের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনুষদের ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ছয় মাস কিংবা এক বছর পর পর অডিট করার প্রয়োজন থাকলেও অনুষদে প্রায় দুই বছরেও তা করা হয়নি।

পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন তৎকালীন ডিন আবদুর রহমান। কমিটির প্রতিবেদনে দুজনকে সন্দেহ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটে মামলা করার সিদ্ধান্তটিও অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে ফার্মাসি অনুষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও অফিস সহায়ক মো. সুজনের সংশ্লিষ্টতা পেলে বিভাগ তাদের আটক করে। পরে তাদের আদালত পাঠানো প্রেরণ করা হয়।

নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের

নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের

  • Font increase
  • Font Decrease

নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উপস্থিতি বাড়ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিয়ামসহ হলে হলে গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতনের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

সোমবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহবস্থান নিশ্চিতের দাবি করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি ও ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে কাজী রওনকুল ইসলামকে সভাপতি ও সাইফ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ছাত্রদলের আংশিক কমিটির অন্যান্য পদে এসেছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।

;

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাবি অধ্যাপক



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাবি অধ্যাপক

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাবি অধ্যাপক

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২২' পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হীরা সোবাহান।

গতকাল রোববার (১৫ মে) দুপুরে ভারতের কলকাতায় সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে 'বেঙ্গল অ্যাডুকেশন ফাউন্ডেশন' আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই অ্যাওয়ার্ড পান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধাবসভার সাবেক বিধায়ক কাজী আবদুর রহিম এ পুরস্কার তুলে দেন।

জানতে চাইলে অধ্যাপক হীরা সোবাহান বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের বন্ধুসুলভ শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষার জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে এবং চারুকলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো তাত্ত্বিক গবেষণায় আমাকে উৎসাহিত করবে বলে আশা রাখি।

;

প্রথম সমাবর্তনে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মাতাবেন ব্যান্ড ওয়ারফেজ



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রথম সমাবর্তনে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মাতাবেন ব্যান্ড ওয়ারফেজ

প্রথম সমাবর্তনে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মাতাবেন ব্যান্ড ওয়ারফেজ

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাস মাতাবেন প্রখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল ওয়ারফেজ। সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর খড়খড়ি বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এম. ওসমান গনি তালুকদার বলেন, আগামী ২ জুন আমরা প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছি। সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ'র প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব ও গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করবেন। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অনুষদভুক্ত দশ বিভাগের প্রায় চার হাজার গ্রাজুয়েট এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। এছাড়া বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা দুই শিক্ষার্থীকে 'চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল' এবং নয় শিক্ষার্থীকে 'ভাইস-চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল' প্রদান করা হবে।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা থাকবেন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ. এইচ. এম. খায়রুজ্জামান লিটন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এছাড়া সমাবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন'র (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং ইউজিসি'র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় এটি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও তার গ্রাজুয়েটদের জন্য একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। আমাদের সমাবর্তন সার্থক করে তোলার জন্য সমাবর্তন প্রস্তুতি কমিটি ও এর ১৮ টি উপ-কমিটি পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল ওয়ারফেজ সঙ্গীত পরিবেশন করবে। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী ও এই প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশীও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আশিক মোসাদ্দিক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারমিতা জামান।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১০ বছরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনায় নিরলস ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি-জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং অনেকেই ইতোমধ্যেই অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

;

ঘোষণার পরও ফি আদায়, সমন্বয় করার আশ্বাস উপাচার্যের



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম। গেল বছরের ৫ অক্টোবর খুলে বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় বন্ধ ছিল শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ও আবাসিক হল। বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষার্থীরা পরিবহন সেবা ও আবাসন সুবিধা না নেওয়ার পরেও এসবের ফি দিতে বাধ্য করা হয় শিক্ষার্থীদের।

মওকুফের ঘোষণা দিয়ে কর্তৃপক্ষ ১ জুলাই বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে। এতো কিছুর পরও বিভাগ ও ইন্সটিটিউটগুলো আবাসান ও পরিবহন ফি আদায় করছে।

জানা যায়, পরিবহন ফি ১০৮০ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি হল ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আবাসন ফি নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক দফতর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীপ্রতি পরিবহন ফি ১ হাজার ৮০ টাকা এবং আবাসন ফি হলভেদে ৩০০-৬০০ টাকা। এসব ফি আদায় হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় দাঁড়াত ৪ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮ টাকা। যার মধ্যে পরিবহন ফি ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং সিট ভাড়া ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮ টাকা। উপাচার্যের নির্দেশে এ অর্থ মওকুফ করা হয়। যারা ফি পরিশোধ করেছেন, পরেরবার ভর্তির সময় তাদের এ টাকা সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছিল হিসাব পরিচালক দফতর।

নানা জটিলতার কারণে এ টাকা সমন্বয় করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে এ টাকা পোঁছে দেওয়া হবে। এই সংক্রান্ত একটি ফাইল উপাচার্যের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বরখেলাপ বলে আমরা মনে করি। এটি যদি সমন্বয় না করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় যদি পুনর্বিবেচনা না করে, সেক্ষেত্রে আমরা নতুন করে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনকে বিবেচনা করতে বাধ্য করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সব মিলিয়ে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী এ টাকা পাবেন। কেউ অফলাইনে টাকা জমা দিয়েছেন, কেউবা অনলাইনে জমা দিয়েছেন। আবার কারো রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। একটা একটা করে খুঁজে বের করতে হচ্ছে। সব মিলে বেশ কিছু জটিলতা থাকায় বিলম্ব হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা এ টাকা বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেব। শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত পাবে এটা নিশ্চিত।

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কিছু জটিলতা থাকায় বিলম্ব হচ্ছে বলে হিসাব পরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমি আবারও এর অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ নেব। খুব দ্রুত এসব সমন্বয় করা হবে, বলে জানান উপাচার্য।

;