চবিতে সাংবাদিক হেনস্তায় অভিযুক্ত ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদের।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

শোকজ করা ৯ ছাত্রলীগ কর্মী হলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (নিলয়), অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের রানা আহমেদ, একই সেশনের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ওয়ায়দুল হক লিমন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ২০১৬-১৭ সেশনের আশিষ দাস, দর্শন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের সাজ্জাদুর রহমান, সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের তুষার তালুকদার বাপ্পা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের আহম্মদ উল্লাহ রাব্বি ও একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের জাহিদুল ইসলাম এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের রুদ্র তালুকদার।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন গভীর রাতে সাংবাদিকদের রুমে এসে হেনস্তা ও হুমকি দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে থাকা ৯ জন ছাত্রলীগ কর্মী। তখন তারা অকথ্য ভাষা সাংবাদিকদের গালিগালজ করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন।

জানা গেছে, হুমকি দেওয়া সবাই শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের একাংশের নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াসের অনুসারী। পরে এ ঘটনায় গত ১৯ জুন প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত ১৬ জুন রাতে সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় ১৯ জুন চবি সাংবাদিক সমিতি একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। এর প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আজ ৯ জনকে শোকজ করেছি। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে। তাদের জবাবের প্রেক্ষিতে পরাবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের

কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য উৎপাদনের যন্ত্র তৈরি করেছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো মাসুদ রানা।

প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাণিজ আমিষ আসে মৎস্য খাত থেকে। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভজনক মাছ চাষের জন্য  অন্যতম প্রধান শর্ত মানসম্মত খাবার। মাছ চাষে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয় খাবার সরবরাহে।

খামারি নিজেই কাচামাল সংগ্রহ করে কম খরচে মাছের খাদ্য তৈরি করতে পারবে সম্প্রতি এমন যন্ত্র 'সাউ ফিড মিল-১' উদ্ভাবন করা হয়েছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মাছ চাষের খাবারের খরচ কমানোর পাশাপাশি খামারিরা যেন নিজের খামারের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং এন্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের খাদ্য তৈরির মেশিন সাউ ফিড মিল-১ উদ্ভাবন করেছেন।

মেশিনটি তৈরি করতে মোট সময় লেগেছে এক বছর ছয় মাস ও মেশিনটি তৈরিতে খরচ হয় বার লক্ষ টাকা। সাউ ফিড মিল-১ এর উদ্ভাবক মাসুদ রানা বলেন, 'মাছ চাষিদের খাবারের সরবরাহ ও খরচ কমাতে মেশিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ মৎস্য খাদ্য। যেহেতু খামারি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজেই খাদ্য উৎপাদন করবে সেক্ষেত্রে খাদ্য যেমন নিরাপদ হবে তেমনি ঐ খাদ্য প্রয়োগ করে উপাদিত মাছও নিরাপদ হবে।'

উদ্ভাবিত মেশিনটির বিশেষত্ব সম্পর্কে মাসুদ রানা বলেন, 'একই মেশিন দিয়ে খামারি মাছের ভাসমান ও ডুবন্ত উভয় প্রকার খাদ্য তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি মেশিনটি দিয়ে ০.৫ মিলি থেকে ৫ মিলি আকারের সকল প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির খাদ্য তৈরি করা যাবে।

মেশিনটিতে এডভান্সড মিলিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে ফলে এটি একটানা ১০-১২ ঘন্টা খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে ঘন্টায় ৭০-৮০ কেজি খাবার উৎপাদন করা সম্ভব ও প্রতি কেজি খাদ্য উৎপাদনে খরচ হবে ৩৮-৪০ টাকা যা বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফিড মিল ৫৮-৬০ টাকায় ক্রয় করতে হয়। ফলে প্রতিকেজি খাবারে ২০ টাকা খরচ কমবে।'

উদ্ভাবিত মেশিনটি দিয়ে মাছের খাদ্যের পাশাপাশি হাঁস, মুরগী, কবুতরসহ অন্যান্য যেকোনো পাখির খাদ্য তৈরি করা সম্ভব যা মৎস্য সেক্টরের পাশাপাশি পোলট্রি শিল্পে এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে বলে জানিয়েছেন মেশিনটির উদ্ভাবক।

শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, 'এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিভিন্ন ফিস ইন্ডাস্ট্রির একটি লিংক তৈরি হলো। শিক্ষকদের মেধা দিয়ে গবেষণা করতে হবে। কৃষি বিজ্ঞানকে দেশের অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।'

;

ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চিকিৎসক মারধরের অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন

এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।

জানা যায়, সোমবার (৮ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী চিকিৎসক এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ জানায়, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলো আমার জানা নেই। এক পর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, ‘আমি বসে আছি।’

এক পর্যায়ে তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে।’ তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে।

মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, ‘আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে বিদায় করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে। একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পর দিলে আমি বসে পড়ি।

তিনি আরো বলেন, কেন বসে পড়লা? এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ জনের মতো যেভাবে পেয়েছে সেভাবেই মারধর করে।

মারধরকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, তাদের প্রায় সবার গায়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজ মঙ্গলবার শাহবাগ থানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)। সংগঠনটির সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ-উল আহসান শামীম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ বাধ্য হবে।

;

শোক আর মাতমের মধ্য দিয়ে শেষ হল তাজিয়া মিছিল



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শোক আর মাতমের মধ্য দিয়ে শেষ হল তাজিয়া মিছিল

শোক আর মাতমের মধ্য দিয়ে শেষ হল তাজিয়া মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

 

আজ হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা, যা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। আর এ উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায় শোক আর মাতমের মধ্য দিয়ে এ বছরের তাজিয়া মিছিল শেষ হল।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর হোসেনি দালান থেকে কারবালার মর্মান্তিক শোকের স্মরণে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি হোসেনি দালান ইমামবাড়ি থেকে তাজিয়া মিছিলটি শুরু হয়ে বকশীবাজার রোড, নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি লেকের ‘প্রতিকী কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে সকলে একসাথে নামাজ আদায়-জিকির-দোয়ার মাধ্যমে তাজিয়া মিছিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত মিছিলে উপস্থিত বেশিরভাগই মানুষই কালো পোশাকে পরে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম করছে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারও দেখা গেছে মিছিলে। মিছিলের মূল আয়োজনে ছিল হোসেনি দালান ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটি।

তাজিয়া মিছিল সাজানো হয়েছে কারবালার শোকের নানা প্রতিকৃতি দিয়ে। বিবি ফাতেমার স্মরণে মিছিলের শুরুতেই দুটি কালো গম্বুজ বহন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা বহন করছেন বিভিন্ন নিশান। কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতির স্মরণে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত নিজের দেহে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্ত ঝরিয়ে মাতম করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের অনুরোধে গত কয়েকবছর ধরেই ছুরি দিয়ে মাতম করা হচ্ছে না।


মিছিলে দুটি ঘোড়া রয়েছে, যার মধ্যে একটিকে রং দিয়ে রক্তের রূপ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইমাম হোসেন যখন কারবালায় যান তখন ঘোড়াটি এক রকম থাকে, আবার যুদ্ধের শেষে রক্তাক্ত ঘোড়ার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তাজিয়া তৈরি করা হয়েছে ইমাম হোসেনের সমাধির আদলে। রাজধানীর আশেপাশে থেকে আগত অনেক মানুষ এ মিছিলে অংশ নেয়।

মিছিলকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মত। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলায় দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এর পর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রেখে তাজিয়া মিছিল পরিচালনা করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র‌্যাব ও বিভিন্ন স্তরের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে মিছিলকে ঘিরে।

এ বছর সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ, পবিত্র আশুরা। এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। যা মুসলিম বিশ্ব কারবালার ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। এই দিনে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা ত্যাগ ও শোক পালনে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে থাকে।

;

ঢাবিতে ২য় বারের মত সীরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবিতে ২য় বারের মত সীরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন

ঢাবিতে ২য় বারের মত সীরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দাওয়াহ সার্কেলের আয়োজনে “সীরাত পাঠ ও প্রতিযোগিতা - ২০২২” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনে (সিজন-২) রয়েছে সর্বমোট দেড় লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার।

জানা যায়, দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে সীরাত প্রতিযোগিতাটি। যেখানে প্রথম ধাপে ১০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন অনলাইনে গুগল ফর্মের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের এ পরীক্ষাটি কর্তৃপক্ষ বলছে ‘ওপেন বুক এক্সাম’। তবে কোন নোট ব্যবহার করা যাবে না। উত্তীর্ণ সেরা পঞ্চাশ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, ফাজিল, কামিল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এবং প্রাক্তন সকল ধর্মের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১ম-১৫০তম স্থান অধিকার দখলকারীরা সবাই পাবেন নগদ অর্থ, বই, ক্রেস্ট ও সনদ। ৭০% নম্বর প্রাপ্ত প্রত্যেকের জন্য থাকবে সনদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেলের প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা নবীজি (স.) সম্পর্কে আরো জানার সুযোগ পাবে। তেমনি মহানবী (সঃ) এর সম্পর্কে পড়ে, জেনে সেই জীবনাদর্শে যেন তরুণ সমাজ আমাদের জীবনকে পরিচালিত করতে পারি এটিই আমাদের প্রত্যাশা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বই পড়ার আগ্রহ আরোও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সময়ে আত্মহত্যার মিছিলে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এই বস্তুবাদী শিক্ষা আমাদের প্রত্যেককে অন্যের প্রতিযোগী বানাচ্ছে, দুনিয়াতেই সবকিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে তৈরি হচ্ছে হতাশা। রাসূল (সা:) এর সমগ্র জীবনেই রয়েছে হাতাশা থেকে মুক্তির মহৌষধ।

মেহেদী হাসান বলেন, এখন আমাদের রেজিষ্ট্রেশন চলছে যেটি আগামী ৩১ আগস্ট রাত ১২:০০ টা পর্যন্ত চলবে। রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ Dhaka University Dawah Circle - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেল ফেসবুক পেজে ঘোষণা করা হবে।

এদিকে প্রতিযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম জানায়, আল্লাহর পথে দাওয়াত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা সত্যি গর্বের। যেখানে নিজের শেখার ও প্রয়োগ ঘটানোরও অবারিত সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, “সীরাত পাঠ ও প্রতিযোগিতা - ২০২২” এ সিলেবাস হিসেবে থাকবে আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ.) এর “রাসূলে আরাবি (সা:)” বইটি। কেউ চাইলে নির্ধারিত মূল্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেলে মাধ্যমে নির্দিষ্ট ছাড়ে অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন লিংক: https://forms.gle/A9TgZDJtsmy4fAhZ6

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাওয়াহ সার্কেল কুরআন পড়তে জানে না বা শুদ্ধ হয় না তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা, সীরাত পাঠ ও প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাসের ভাসমান মানুষদেরকে স্থায়ী কোনো জীবিকার্জনের কাজে সহায়তা করা, মানুষকে বই পড়ায় আগ্রহী করা সহ বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ করে আসছে।

;