ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা: একই নম্বর পেয়েও হলেন ১ম, ২য় ও ৩য়



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলে শীর্ষ তিনজন একই নম্বর পেলেও একটি প্রক্রিয়ায় তাদের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাবির এ বছরের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আসির আনজুম খান, খালিদ হাসান তুহিন ও জারিফা তাবাসসুম একই নম্বর পেয়েছেন।

সোমবার (৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, যিনি প্রথম হয়েছেন- আসির আনজুম এমসিকিউতে পদার্থ বিজ্ঞানে ১৩.৭৫, রসায়নে ১৫, গণিতে ১৫, জীব বিজ্ঞানে ১৩.৭৫ নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া লিখিত অংশে পদার্থ বিজ্ঞানে ১০, রসায়নে ৯, গণিতে ১০, জীব বিজ্ঞানে ৮.৫ নম্বর মিলিয়ে মোট ৯৫ নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ’র নম্বর মিলিয়ে মোট ১১৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ২য় স্থান অর্জনকারী খালিদ হাসান তুহিন পদার্থ বিজ্ঞানে ১৩.৭৫, রসায়নে ১৫, গণিতে ১৫, জীব বিজ্ঞানে ১৩.৭৫ নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া লিখিত অংশে পদার্থ বিজ্ঞানে ১০, রসায়নে ৯.৫, গণিতে ৯, জীব বিজ্ঞানে ৯ নম্বর মিলিয়ে মোট ৯৫ নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ’র নম্বর মিলিয়ে মোট ১১৫ পেয়েছেন।

এছাড়া তৃতীয় স্থান অধিকারী জারিফা তাবাসসুমও ভর্তি পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ১১৫ নম্বর পেয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষায় তিনি পদার্থ বিজ্ঞানে ১২.৭৫, রসায়নে ১৫, গণিতে ১৪, জীব বিজ্ঞানে ১৩.৭৫ নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া লিখিত অংশে পদার্থ বিজ্ঞানে ১০, রসায়নে ১০, গণিতে ৯.৫, জীব বিজ্ঞানে ১০ নম্বর।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, ভর্তি পরীক্ষায় এক বা একাধিক পরীক্ষার্থী একই নম্বর পেলে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি পরীক্ষার এইচএসসির বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর নম্বর অনুযায়ী মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় আমরা তিনটি বিষয়ে নম্বর দেখেছি। পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে কে নম্বর বেশি পেয়েছে, সেভাবেই তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর ‘ক’ ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৯ জন। এরমধ্যে অংশগ্রহণ করেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৩৭৪ জন। যেখানে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। ভর্তির যোগ্য বিবেচিত ১১ হাজার ৪৬৬ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এক হাজার ৮৫১ জন মেধাক্রম অনুযায়ী বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২২-২৩ আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩টি ফুটবল টিম অংশগ্রহণ করছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী ম্যাচটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ এবং আরবি বিভাগের মধ্যে অনুষ্ঠিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান উদ্বোধনী বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সকল শহিদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া কার্যকলাপেও অংশগ্রহণ করবে।

পড়াশুনার পাশাপাশি শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য উপাচার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. অসীম সরকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

ঢাবির শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে লন্ডনে সম্মেলনের আয়োজন



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবির শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে লন্ডনে সম্মেলনের আয়োজন

ঢাবির শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে লন্ডনে সম্মেলনের আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে চলতি বছর নভেম্বর মাসে লন্ডনে একটি সম্মেলন আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) বৃটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর টম মিসিওসিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। Her Royal Highness Princess Anne Elizabeth Alice Louise এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

এছাড়া আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা বিষয়ক উপাচার্যদের সম্মেলনে যোগদানের জন্য বৃটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বৃটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টরকে ধন্যবাদ দেন।

সাক্ষাৎকালে এসময় বৃটিশ কাউন্সিলের ফ্যাসিলিটিজ ও সিকিউরিটি শাখার প্রধান তওফিক ওয়াহিদ উপস্থিত ছিলেন।

;

কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের

কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরির যন্ত্র  উদ্ভাবন শেকৃবি গবেষকের

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম খরচে মাছের ভাসমান খাদ্য উৎপাদনের যন্ত্র তৈরি করেছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো মাসুদ রানা।

প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাণিজ আমিষ আসে মৎস্য খাত থেকে। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভজনক মাছ চাষের জন্য  অন্যতম প্রধান শর্ত মানসম্মত খাবার। মাছ চাষে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয় খাবার সরবরাহে।

খামারি নিজেই কাচামাল সংগ্রহ করে কম খরচে মাছের খাদ্য তৈরি করতে পারবে সম্প্রতি এমন যন্ত্র 'সাউ ফিড মিল-১' উদ্ভাবন করা হয়েছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মাছ চাষের খাবারের খরচ কমানোর পাশাপাশি খামারিরা যেন নিজের খামারের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং এন্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের খাদ্য তৈরির মেশিন সাউ ফিড মিল-১ উদ্ভাবন করেছেন।

মেশিনটি তৈরি করতে মোট সময় লেগেছে এক বছর ছয় মাস ও মেশিনটি তৈরিতে খরচ হয় বার লক্ষ টাকা। সাউ ফিড মিল-১ এর উদ্ভাবক মাসুদ রানা বলেন, 'মাছ চাষিদের খাবারের সরবরাহ ও খরচ কমাতে মেশিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ মৎস্য খাদ্য। যেহেতু খামারি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজেই খাদ্য উৎপাদন করবে সেক্ষেত্রে খাদ্য যেমন নিরাপদ হবে তেমনি ঐ খাদ্য প্রয়োগ করে উপাদিত মাছও নিরাপদ হবে।'

উদ্ভাবিত মেশিনটির বিশেষত্ব সম্পর্কে মাসুদ রানা বলেন, 'একই মেশিন দিয়ে খামারি মাছের ভাসমান ও ডুবন্ত উভয় প্রকার খাদ্য তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি মেশিনটি দিয়ে ০.৫ মিলি থেকে ৫ মিলি আকারের সকল প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির খাদ্য তৈরি করা যাবে।

মেশিনটিতে এডভান্সড মিলিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে ফলে এটি একটানা ১০-১২ ঘন্টা খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে ঘন্টায় ৭০-৮০ কেজি খাবার উৎপাদন করা সম্ভব ও প্রতি কেজি খাদ্য উৎপাদনে খরচ হবে ৩৮-৪০ টাকা যা বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফিড মিল ৫৮-৬০ টাকায় ক্রয় করতে হয়। ফলে প্রতিকেজি খাবারে ২০ টাকা খরচ কমবে।'

উদ্ভাবিত মেশিনটি দিয়ে মাছের খাদ্যের পাশাপাশি হাঁস, মুরগী, কবুতরসহ অন্যান্য যেকোনো পাখির খাদ্য তৈরি করা সম্ভব যা মৎস্য সেক্টরের পাশাপাশি পোলট্রি শিল্পে এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে বলে জানিয়েছেন মেশিনটির উদ্ভাবক।

শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, 'এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিভিন্ন ফিস ইন্ডাস্ট্রির একটি লিংক তৈরি হলো। শিক্ষকদের মেধা দিয়ে গবেষণা করতে হবে। কৃষি বিজ্ঞানকে দেশের অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।'

;

ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চিকিৎসক মারধরের অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন

এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।

জানা যায়, সোমবার (৮ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী চিকিৎসক এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ জানায়, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলো আমার জানা নেই। এক পর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, ‘আমি বসে আছি।’

এক পর্যায়ে তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে।’ তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে।

মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, ‘আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে বিদায় করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে। একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পর দিলে আমি বসে পড়ি।

তিনি আরো বলেন, কেন বসে পড়লা? এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ জনের মতো যেভাবে পেয়েছে সেভাবেই মারধর করে।

মারধরকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, তাদের প্রায় সবার গায়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজ মঙ্গলবার শাহবাগ থানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)। সংগঠনটির সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ-উল আহসান শামীম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ বাধ্য হবে।

;