৭০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষায় আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ ৬৯ বছর অতিক্রম করে আজ বুধবার (০৬ জুলাই) ৭০ বছরে পা দিল।

বর্তমানে গুণগত শিক্ষা প্রদান, গবেষক তৈরি, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়টি রেখে চলেছে অসামান্য অবদান।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় জরুরি হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর দেশের সব কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় স্যাডলার কমিশন রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১৯৫৩ সালে ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩’ পাস হয়। ওই বছর ৬ জুলাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ১২টি অনুষদের আওতায় ৫৮টি বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ৬টি ইন্সটিটিউট। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গবেষণা কাজে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন ১ হাজার ২২১ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৬টি। গতবছর বিশ্ববিদ্যালয়টির দুইজন ইমেরিটাস অধ্যাপক মারা যাওয়ায় বর্তমানে রয়েছেন একজন ইমেরিটাস অধ্যাপক।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অসামান্য অবদান। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা। এছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইয়ুমসহ অনেকে।

জানতে চাইলে রাবি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে না। সেই অর্থ বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে এদিন সকালে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অন্যতম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় যথেষ্ট এগিয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৬৯ পেরিয়ে ৭০ বছরে পদার্পণ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৯ বছর পালিত হতে যাচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ, গবেষণার সুনাম, প্রভাব, অভিনবত্ব ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

এসময় তিনি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, সেশনজট মুক্ত ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় যাতে সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে সে প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোসহ তিন দফা দাবি, বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি!



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোসহ তিন দফা দাবি, বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি!

জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোসহ তিন দফা দাবি, বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি!

  • Font increase
  • Font Decrease

 

জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে কয়েকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান শুরু করেন। দাবিগুলো হলো:

১. ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বৃদ্ধিকৃত জ্বালানি তেলের দাম কমানো, ২. এক পয়সাও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি না করা, ৩. গণপরিবহনে ভাড়ার নামে নৈরাজ্যতা বন্ধ করতে হবে, সাথে সাথে সকল শিক্ষার্থীর হার পাস নিশ্চিত করা।

কর্মসূচিতে অনুষ্ঠানের সভাপতি, ও সাত কলেজ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল সম্রাট বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ১১ টায়। কিন্তু তখন আমাদেরকে বড় মাইক আনতে দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে এখানে আমাদের অবস্থান করতে দেয়া হবে না। আমাদের অনেকেই আসতে পারেনি। সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের কেন ভয় পায়? ছাত্র ও যুবদের যৌক্তিক সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া হলে তারা জঙ্গিবাদসহ নানা অপরাধেক দিকে ধেয়ে পড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একেবারে হঠাৎ করেই তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। ১০টায় ঘোষণা দিয়ে ১২ টায় কার্যকর করা জনগণের সাথে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই না। তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। যেগুলোর সাথে তেলের কোনো সম্পর্ক নেই সেগুলোরও দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দাঁড়িয়েছি। আজকে এই দামবৃদ্ধি পরিবহন সমিতি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরী করে দিচ্ছে। অবিলম্বে এসবের সমাধান করা চাই।’

শাহরিয়ার নামে এক চিকিৎসক অভিভাবকদের মধ্যে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বলেন, আমরা সরকারকে তিনদিন সময় দিচ্ছি। আপনারা আগের জায়গায় ফিরে আসুন। জনগণ যখন মাঠে নেমে আসবে তখন বুঝবেন জনগণের শক্তি কি। সময় থাকতে সচেতন হোন। অন্যথায় আপনাদের মতো অবস্থা রাজাপক্ষের মতো হবে।

কর্মসূচি শেষে তারা বামজোটের ডাকা মিছিলে যোগদানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা করে। এসময় আন্দোলনরতরা, ‘তেলের দাম কমিয়ে দাও, কমাতে হবে কমাতে হবে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে আমলা পোষা বন্ধ করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

;

ঢাবির বিশেষ সমাবর্তনে ‘বক্তা’ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক-কে আমন্ত্রণ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবির বিশেষ সমাবর্তনে ‘বক্তা’ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক-কে আমন্ত্রণ

ঢাবির বিশেষ সমাবর্তনে ‘বক্তা’ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক-কে আমন্ত্রণ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি (মরণোত্তর) প্রদানের জন্য ২০২২ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে ‘সমাবর্তন বক্তা’ হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র প্রতিনিধি ড. বর্ধন জং রান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। মর্যাদাপূর্ণ এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের অংশগ্রহণের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

;

কুবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ 



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
কুবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ 

কুবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ 

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন কর্মচারীকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দীপক চন্দ্র মজুমদার ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিমকে ধমক দেন এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেন বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

তারা বলেন, উনি আজ আমাদের ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছেন। উনার আচরণে আমরা দুঃখ পেয়েছি। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এমন কেন ঘটেছে জানতে চাইলে তারা বলেন, উনি রেজিস্ট্রার থাকাকালীন সময়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগে উনার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানে উনার পক্ষ নিয়ে কয়েকজন কর্মচারী মিথ্যা স্বাক্ষর দিয়েছে। যাদের নামে মিথ্যা স্বাক্ষর দিয়েছে, তারা আমাদের কর্মচারী সমিতির কাছে অভিযোগ করেছে যে তাদের না জানিয়ে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছে। এখন এসব অভিযোগ কেন আসতেছে এসব বিষয় নিয়ে আবু তাহের স্যার আমাদের সাথে এমন আচরণ করলেন।

জানা যায়, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের তাদের বলেন, 'চাকরিটা আমরা দিছি, এই জায়গার মধ্যে কারা সিগনেচার দিছে না দিছে এগুলোতে তোমরা কথা বলো। এই ক্যাম্পাসে আমি বেঁচে আছি। আমি তাহের ক্যাম্পাসে আছি, থাকবো। বেশি বাড়াবাড়ি করতেছো, এটার নাটের গুরু তুমি। আমি শুধু এটুকু বললাম। এগুলো আমার অনেকদিন ধরে কানে আসতেছে। আমি প্রফেসর ড. আবু তাহের এই ক্যাম্পাসে আমি আছি এটা বলে দিলাম। এটা মনে রাইখো।'

এর আগেও আবু তাহেরের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিনকে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মহসিন বলেন, উনার মত একজন সিনিয়র শিক্ষকের কাছ থেকে আমরা এই ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করি না। উনি আমদের হুমকি দিচ্ছে আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবে, আমাদের চাকরি চলে যাবে এসব কথা বলে। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না।

অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। তারা কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে গোলযোগ করছিলো, সমস্যা করছিলো। আমি শুধু বলেছি আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেক হোল্ডার, একটা পরিবার। নিজেদের মধ্যে এরকম সমস্যা করা যৌক্তিক না।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, কেউ কর্মচারী-কর্মকর্তা বা শিক্ষক কারো সাথে অশালীন আচরণ করবে এটা তো প্রত্যাশিত না। সবার সাথেই শালীনতার সাথে আচরণ করবে এটাই তো স্বাভাবিক।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টা আমি মাত্র শুনলাম। সত্যিই যদি উনি কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে থাকেন, তবে আমি বলবো এ কাজটা শিক্ষকের মর্যাদার সাথে যায় না। বিষয়টা খুবই অপ্রত্যাশিত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, আমার কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি আমি জানিনা। তবে কেউ তো কাউকে ধমকানোর আইনত অধিকার নেই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তো এরকম করা কোনোভাবেই উচিত না। এটা কাজের আদর্শের বহির্ভূত।

;

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের 'রেকর্ড' মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অনিক রায় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন’গুলোর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে পৌঁছলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি সমাবেশ শেষ করতে বলা হয়। আমরা তাদের বলি, আমাদের সভাপতির বক্তব্য বাকি। তার বক্তব্যের পর আমরা চলে যাব। ঠিক সে সময় একজন পুলিশ আমাদের এক কর্মীকে আক্রমণ করে বসে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দিকে থাকা পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিত লাঠিপেটাসহ হামলা করে। বিনা উসকানিতেই তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের লাঠিপেটায় তাদের আহত ২০ নেতাকর্মী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলা করে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

এই হামলার প্রতিবাদে সোমবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। মিছিল-পরবর্তী সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের হামলার পর শাহবাগ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদূত হাওলাদারকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এর আগে, বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ‘প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন’গুলোর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে বাম সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহবাগ ও কাঁটাবন মোড় ঘুরে ফের শাহবাগ মোড়ে ফিরে এসে মূল সড়ক সংলগ্ন ফুটপাতে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুলিশ বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু করে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সরকার। ওই দিনই রাত ১২টার পর নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে ১৩৫ টাকা করে যা আগের তুলনায় ৪৬ টাকা বেশি।

;