শ্রীনগরের কৃষকদের পেরিলা ও মৌমাছি চাষ প্রশিক্ষণ দিল শেকৃবি



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্ভাবিত জাত 'সাউ পেরিলা-১' ও উদ্ভাবিত মৌ চাষ প্রযুক্তি প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে অবহিতকরণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে শেকৃবি বহিরাঙ্গন বিভাগ। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ জন কৃষক এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (১০ জুন) সকাল ৯টায় শেকৃবির উদ্ভাবিত জাত 'সাউ পেরিলা-১' নিয়ে চারা উৎপাদন, চাষ পদ্ধতি এবং তৈল তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসাইন। পরবর্তীতে মৌমাছি চাষ প্রযুক্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসাইন।

প্রশিক্ষক অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসাইন কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি লোক হওয়ায় প্রধান ফসল ধান চাষে আগ্রহ বেশি। ফলে তেলজাত ফসল উৎপাদনে সবসময়ই ঘাটতি থেকে যায়। তেলের ভিতর সবচেয়ে ভালো তেল তিসি ও পেরিলা। কিন্তু তিসি শীতকালে চাষ করা হয় ফলে অন্যান্য রবিশস্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে। অন্যদিকে পেরিলা বর্ষাকালে যখন মাঠে কোন প্রকার ফসল থাকে না তখন চাষ করা যায়। মাঠে মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যেই পেরিলা উৎপাদন সম্ভব। পেরিলাতে উপকারী ওমেগা-৩ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড আছে যা বয়সের ছাপ রোধে ভূমিকা রাখে। পেরিলাতে প্রায় ১০০ কেজিতে ৩৯ কেজি তেল পাওয়া যায়। বাজারে পেরিলা বীজ এবং তেল উভয়েরই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে যার ফলে কৃষকেরা চাষ করলে প্রতি সিজনে সাড়ে ১২ হাজার টাকার মতো লাভ করতে পারবে। এছাড়া সয়াবিনসহ অন্য ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের ডলার খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে পেরিলা।

প্রশিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, মৌ চাষে শুধু মধুই পাওয়া যায় না বরং পোলেন, মোম ইত্যাদিও সংগ্রহ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পারি। আমরা যদি আমাদের বাড়ির পাশে বারমাসি সজিনা, লিচু, লেবু, বড়ই, ক্ষুদে জাম সহ বিভিন্ন প্রকার ফল জাতীয় গাছ লাগায় তাহলে একইসাথে ফল ও গাছে প্রাকৃতিক মৌমাছি থেকে মধু পেতে পারি। শুধু ফুল নয় গাছের পাতার গোড়ার রস, রাবার গাছের পাতার কস এমনকি এফিড (জাব) পোকার দেহ থেকেও মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। মৌমাছি যদি পরাগায়নে আমাদের সহযোগিতা না করে সেক্ষেত্রে ফসল ফলানো আমাদের জন্যে অসম্ভব প্রায়। তাই আমাদেরকে এদের রক্ষা করতে হবে।

প্রশক্ষিণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. শরমিন চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. অলোক কুমার পাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, বহিরাঙ্গন বিভাগের সহযোগী পরিচালক ড. দেবু কুমার ভট্টাচার্য, শ্রীনগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহসিনা জাহান তোরণ, প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা ও অন্যান্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন বিভাগ সর্বদা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কারগুলোকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আপনারা (কৃষক) আমাদের চেয়ে কৃষি কাজে বেশি অভিজ্ঞ। আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদের জানাবেন যেখান থেকে আমরা আমাদের গবেষণার বিষয়গুলো জানতে পারব। আপনাদের সহযোগিতা পেলেই আমরা আমাদের গবেষণাগুলো আরও বাড়াতে পারব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেকৃবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক অলোক কুমার পাল বলেন, এখানে (শ্রীনগরে) আমাদের আগে আসা হয় নি। তবে এখন থেকে আমাদের প্রশিক্ষণ শ্রীনগরে আরও ত্বরান্বিত হবে। আজকে আমরা পেরিলা ও মৌমাছি চাষের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি। সয়াবিন তেল হৃৎপিণ্ডের জন্যে ক্ষতিকর। পেরিলা তেল শরীরের জন্যে ভালো এবং একই পরিমাণ বীজ থেকে বেশি পরিমাণ তেল পাওয়া যায়। আপনাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও সমস্যাগুলো আমাদের জানাবেন যেন তা আমাদের ছাত্রদের জানিয়ে দেশের কৃষি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে পারি।

বক্তৃতা শেষে কৃষকদের মধ্যে নজরুল ইসলাম অভিব্যক্তি জানানোর সময় বলেন, আপনারা যে সেবা দিলেন তা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি এবং সে অনুযায়ী কাজ করি তবে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে এবং পৃথিবীর সেরা তালিকায় স্থান করে নিবে।

মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ছাত্র-ছাত্রী নির্যাতন এবং হত্যার প্রতিবাদে নিজেদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) বিবেকবান সাধারণ শিক্ষক উল্লেখ করে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেন। বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কিছু শিক্ষক। বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষকগণ ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কৃষি অনুষদের করিডোর থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের চত্তরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান করে নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোআ করা হয়।

এসময় শিক্ষকরা বলেন ছাত্ররা আমাদের আন্দোলনে সহযোগিতা করছিলো কিন্তু আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারিনি। এজন্য আমরা দুঃখিত। আমরা সাধারণ শিক্ষকরা ক্লাস শুরু হওয়ার পরে যাতে আবার শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়াতে পারি তার জন্য আজকে আমরা এই রোদের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছি।সবাই শিরদাঁড়া সোজা করেন বুলেট চলবেই তার মধ্যে লড়াই থাকবেই। মনে রাখবেন ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে আমরা আজ বেঁচে আছি।

;

ববিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লো পুলিশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে পুলিশ। এর আগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাদের তোপের মুখে পড়েন তারা। স্থানীয় জনতাদের নিয়ে শিক্ষার্থীরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরলে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিটি শাটডউট' কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান করে। এ সময় পুলিশ অ্যাকশনে গেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ

শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট পাটকেলের ফলে আশেপাশের দোকানপাটে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। পরে ক্যাম্পাস বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীরা। পরে কোণঠাসা হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাদের নিরাপত্তা দিয়ে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে ছিল র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির সদস্যরা। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনে বাধা দেন তারা। পরে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। সে সময় পার হলেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

;

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সব শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী সকল থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। দলে দলে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ শহরে যাওয়ার জন্য আবদুল জব্বার মোড়ে এসে জড়ো হতে দেখা যায়। অনেক মধ্যে রাতেই চলে গেছেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সবাইকে বাধ্যতামূলক হল ত্যাগ করতে হবে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আপাতত এ পরিস্থিতিতে আমরা কাউকে হলে থাকার অনুমতি দেব না সবাইকে হলে ত্যাগ করতে হবে। পরে আমরা বিবেচনা করবো। দ্রুত সময়েের মধ্যে ছাত্রদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে না পারলে ও হল খুলে দেব আমরা।

কিন্তু এখন একটু ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে। কারণ পরিস্থিতি যে কোন সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.অলিউল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হল বন্ধে তথ্য জানানো হয়।

;

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা



জাবি করেসপন্ডেট, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আবাসিক হল ছেড়ে চলে গেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সাঁজোয়া যান ও ক্যাম্পাসের বাইরে বিজিবি মোতায়েন আছে বলে জানা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে চলে যান।

এর আগে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমসহ অন্যান্য সিন্ডিকেট সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা বের হয়ে দফায় দফায় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। পুলিশ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

এদিকে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন (সবকিছু বন্ধ) কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করছি।

তিনি আরও বলেন, এসময় শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।

;