চবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাতের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্রগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি) এর উদ্যোগে 'শান্তি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম: সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্য বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা ' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

এতে চবি উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. আবু তাহের, বিশেষ অতিথি উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে।

এসময় ধারণাপত্র পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিআরবিডি'র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ, প্যানেল আলোচক ছিলেন, সিসিআরবিডি'র পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

ধারণাপত্রে সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। ইতিহাস ও অধিকার সম্পর্কে তাদেরকে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের মুখে কোনো সমস্যার সমাধান করা কখনোই সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই আমাদের জ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অভিমতকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে পৌঁছে দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে দেশি বিদেশি তথ্য বিভ্রান্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য গোপন করে মিথ্যা ও গুজব প্রচারের দ্বারা অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে হবে।

সেমিনারে মানিকছড়ি মং রাজবাড়ির রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পরিবর্তে বিভিন্ন অশান্তি বিরাজমান। তাই প্রথমে অশান্তির কারণ গুলো চিহ্নিত করতে করে সেগুলো সমাধান করতে হবে। ভূমি বিরোধ ও জাতিগত বৈষম্য এবং বিদ্বেষ এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন সিয়েরালিওন ও নেপালের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুবসমাজের ভুমিকা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ম্রৌ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রয়েছে। আমরা চাই এই অঞ্চলের শান্তি এবং উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক৷ এই লক্ষ্যে তরুণ ছাত্র ও যুবসমাজকে তথ্য বিভ্রান্তি থেকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানাই।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, শান্তিচুক্তির ফলে এই অঞ্চলের স্থিরতা ও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। সরকার নৃগোষ্ঠীদের ভাষাকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যােগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে। নৃগোষ্ঠীদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সব জাতি গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সমস্যাগুলোর পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলের তথা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং এর সম্পদ। এই সমস্যাকে প্রথমে বুঝতে হবে। এর সমাধান খুঁজতে হবে আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত থেকে। আমরা দেখেছি সিয়েরা লিওনে, রুয়ান্ডায় এবং নেপালের গৃহযুদ্ধে তাদের যুব ও তরুণ সমাজ কিভাবে ভুমিকা রেখেছে। আমাদেরও তা করতে হবে।

সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের



ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, প্রত্যয় স্কিম

ছবি: সংগৃহীত, প্রত্যয় স্কিম

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। কিন্তু তিনদফা দাবি পূরণে এখনো সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় আন্দোলনরত শিক্ষকেরা তাদের চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিববৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শনিবার (১৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর চলমান আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপে এ কর্মসূচির ঘোষণা এলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃত্বে গত মার্চ মাস থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ তিনটি যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় ১লা জুলাই থেকে শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেন। সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এমপি আলোচনার আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শনিবার (১৩ জুলাই) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এমপি, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহার, এমপি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

শিক্ষক প্রতিনিধিরা তাদের একটি লিখিত বক্তব্য মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। এ সভায় আন্তরিক পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

শনিবার এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় অনলাইন প্লাটফর্মে ফেডারেশনের সঙ্গে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শনিবারের আলোচনার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করায় সভার পক্ষ থেকে সেতুমন্ত্রীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। কিন্তু তিনদফা দাবি পূরণে এখনো সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত প্রদান করেন। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে সুপারিশ করেন।

প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার করে অতিদ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি ও ২০১৫ সালে প্রতিশ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তিকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুস্পষ্ট এই তিনটি দাবি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হলো।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে।

;

রাষ্ট্রপতির নিকট যে স্মারকলিপি দিল শিক্ষার্থীরা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

রোববার (১৪ জুলাই) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের নিকট এ স্মারকলিপি জমা দেন চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নিবেদন এই যে, সাম্প্রতিক সময়ে চলমান কোটা সংস্কার সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষিতে আমরা চাকুরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আপনার কাছে নিম্নোক্ত বক্তব্য পেশ করছি।

আপনি অবগত আছেন যে, ২০১৮ সালে সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকুরি (নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড) থেকে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে জাতীয় সংসদে কোটা বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি চাকুরি থেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। কোটা সংস্কার ছিল শিক্ষার্থী ও চাকুরি প্রত্যাশিতদের প্রাণের দাবি। বৈষম্যমুক্ত ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে চাকুরিতে কোটা পদ্ধতির পুনর্বিবেচনা করে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা। সরকার সার্বিক বিবেচনায় নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডে কোটার বিলুপ্তিকে সমাধান মনে করেছিল। ২০১৮ সালের এই পরিপত্র জারি হবার পরে কোটামুক্তভাবে কয়েকটি সরকারি চাকুরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু উক্ত পরিপত্রটি সংবিধানের আলোকে ত্রুটিযুক্ত থাকায় ২০২১ সালে ৬ ডিসেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। এবং গত ৫ জুন, ২০২৪ এই রুলকে অ্যাবসলিউট হিসেবে রায় দেন আদালত।

রায়ে এই পরিপত্রকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন। যার ফলে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকুরীর নিয়োগে কোটা পুনর্বহাল হয়। পরবর্তীতে গত বুধবার (১০ জুলাই) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায়ের কিছু অংশ গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারবে।

আমরা মনে করি, ২০১৮ সালের পরিপত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে নাই। কেননা শিক্ষার্থীরা সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিল। প্রথমত, কোটার অসহনীয় মাত্রা মানে দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীদের দাবি ও আন্দোলনের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রহসন।

মুক্তিযুদ্ধের যে মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার তা নিশ্চিত করতে ও একটি দক্ষ প্রশাসন গড়তে মেধাভিত্তিক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয়ত, কোটা পদ্ধতি না থাকলে নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত হবে। তৃতীয়ত, উক্ত পরিপত্রটি শুধু ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারির চাকরির জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে ৫ শতাংশ কোটাকে ছাত্রসমাজ যৌক্তিক মনে করে। তাই আমাদের দাবি হচ্ছে- সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫%) এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

মহামান্য, ছাত্রসমাজের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আপনার নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করে বাধিত করবেন। মহামান্য, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারবে। ছাত্রসমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে রাজপথে ঝড়-বৃষ্টি-খরতাপকে উপেক্ষা করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের কারণে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি হোক তা আমরা কখনোই চাই না। আমরা দ্রুতই পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই। ছাত্রসমাজ আশা রাখে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

অন্যথায় ছাত্রসমাজ নিজেদের অধিকার রক্ষায়, বৈষম্যমুক্ত ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হবে।

;

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যই কোটা সংস্কার আন্দোলন: অধ্যাপক সোহেল আহমেদ



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা

ছবি: বার্তা২৪, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে 'গত ১০ দিন থেকে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, গায়ের ঘাম পানি করে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তা মূলত রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্যই করছে'- এমন মন্তব্য করেছেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ বলেন, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কাছে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ন্যায় বিচার ও সমতা বিধানের প্রত্যাশা করি৷

অধ্যাপক সোহেল আহমেদ আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদেরও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই বাংলাদেশকে পেয়েছি।

রোববার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি সমাবেশের মাধ্যমে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি শেষ হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি- বার্তা২৪.কম


মিছিলে শিক্ষার্থীরা 'আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, বিচার চাই বিচার চাই', ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না-যাবে না’, '৭১-এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', '১৮-এর হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার', 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে', লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লোগেছে', ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’,'মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, '১৮-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি কোটা সংস্কারপন্থি স্লোগান দেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যে বৈষম্য তৈরি করার পাঁয়তারা করছেন, তা বন্ধ করুন। মেধাভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। আমরা শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছি৷

‘এই আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন দেশকে রক্ষা করার আন্দোলন’ মন্তব্য করে সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান এই যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রশংসার দাবিদার।

অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দেখে আমার মনে হচ্ছে, আপনারা সেই ’৫২'র ভাষা আন্দোলনকারী শহীদদের উত্তরসূরী। একটা দেশে কোটা কখন প্রয়োজন হয়, যখন এক শ্রেণির লোক সমাজে পিছিয়ে থাকে। মেইনস্ট্রিমে তারা কিছু বলতে পারেন না, তখন তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোটা প্রয়োজন হয়। কোটার মাধ্যমে এই দেশকে মেধাশূন্য করে ফেলা হচ্ছে৷ এই আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন দেশকে রক্ষা করার আন্দোলন। কারণ, মেধা ছাড়া একটা দেশ কখনো উন্নত হতে পারে না। মেধাবীরা ছাড়া আপনি কোনোভাবেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারবেন না৷

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, কোটা সংস্কার করুন, মেধাবীদের সুযোগ দিন। আমরা দেখেছি, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) শাহবাগে মামলা করা হয়েছে৷ আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি স্বৈরাচার বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। হামলা-মামলা করেছে কিন্তু তাদের রুখতে পারেনি। ১৯৬৯ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে৷ শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যায়নি৷
কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না, যদি আপনারা এর বিরুদ্ধে কোনো পাঁয়তারা চালানোর চেষ্টা করেন তবে আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে উঠবে৷

প্রসঙ্গত, ৭ জুলাই থেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা৷

;

বাকৃবি শিক্ষার্থীদের গণপদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান



বাকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কারের দাবিতে গণপদযাত্রার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ থেকে ওই পদযাত্রা শুরু হয়। এতে যুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ' শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা বাকৃবির ছাত্র-ছাত্রীদের ১৩টি আবাসিক হলসহ কে. আর মার্কেট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের সারা বাংলার ছাত্রছাত্রীবৃন্দদের যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক দফা এক দাবিকে অনেকেই ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করতেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে সারাদেশের সকল বিশ্ বিদ্যালয় ও কলেজে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর ও অন্যন্য জেলায় জেলা প্রশাসক বরাবর স্নারকলিপি প্রধান করা আজকের কর্মসূচির অংশ।

তারা আরও বলেন, সরকারের কাছে আমাদের যৌক্তিক দাবিটি পৌঁছে দিতে চাই। এইজন্যই আজকের এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। আমরা আশা করব সরকার খুব দ্রুত আমাদের এ যৌক্তিক দাবি মেনে নিবে।

গণপদযাত্রা শেষ হবার পর দুপুর ৩টার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসহ একটি স্মারক লিপি মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণের জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর নিকট জমা দেন।

;