চট্টগ্রামে প্রথম ধাপে কলেজ পাননি ২ হাজার ২শ ৮০ শিক্ষার্থী



স্পেশাল ককরেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশে ভর্তির প্রথম পর্যায়ের ফলাফলে কলেজ জোটেনি চট্টগ্রামের ২ হাজার ২শ ৮০ জন শিক্ষার্থীর।

শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীরা যেসব কলেজ পছন্দ করেছিলেন, সেগুলিতে আসন খালি না থাকায় প্রথম পর্যায়ে তারা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না তবে দ্বিতীয় ধাপে সংশোধন করে আবেদন করলে তারাও ভর্তির সুযোগ পাবেন।

রোববার (২৩ জুন) রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশিত হয়। সেই ফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, এবার বোর্ডের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১ লাখ ৭ হাজার ৮১ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথম ধাপে কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮শ ১ জন অর্থাৎ ২ হাজার ২শ ৮০ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হননি। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী আছেন কি না, থাকলেও কতজন আছেন, তা অবশ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

২ হাজার ২শ ৮০ জন শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জাহেদুল হকও।

অধ্যাপক জাহেদুল হক বলেন, একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের ক্ষেত্রে ৫-৬টির বেশি কলেজ দেয় না। তাদের ধারণা থাকে ৫-৬টি কলেজে আবেদন করলে তাদের নাম চলে আসবে কিন্তু যেসব কলেজে তারা আবেদন করেছেন, সেসব কলেজে তাদের তুলনায় বেশি নম্বর পাওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা হয়ত বেশি ছিল। সে কারণে যারা ৫-৬টি কলেজের বেশি পছন্দ দেয়নি, তাদের একটিতেও সুযোগ হয়নি। কিন্তু ১০টি কলেজে আবেদন করলে এ সমস্যা হয়ত হতো না।

জাহেদুল হক বলেন, একাদশে ভর্তির আবেদন চলাকালীন সর্বোচ্চসংখ্যক কলেজ পছন্দ দিয়ে আবেদন করতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতি আমরাও বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম কিন্তু অনেকেই তা করেননি।

তবে এসব শিক্ষার্থীর কলেজ পাওয়া নিয়ে সমস্যা নেই জানিয়ে কলেজ পরিদর্শক আরো বলেন, যারা প্রথম ধাপে মনোনীত হননি তারা ভর্তি হতে পারবেন। কারণ, চট্টগ্রামের কলেজগুলোর মোট আসন সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম। সে কারণে সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রামে আসন সংকট হবে না। তবে তারা যে কলেজে ভর্তি হতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সেটি হয়ত পাবেন না। যারা প্রথম তালিকায় মনোনয়ন পাননি, তাদের পরবর্তী তালিকায় মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সময় পছন্দ সংশোধন করতে হবে।

এদিকে, দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ৩০ জুন এবং শেষ হবে ২ জুলাই। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ জুলাই রাত ৮টায়। সেদিনই প্রথম ধাপে ভর্তির সুযোগ না-পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। অবশ্য তৃতীয় ধাপেও আবেদনের সুযোগ থাকছে।

তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ৯ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১০ জুলাই। তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনের ফল প্রকাশ ১২ জুলাই রাত ৮টায়। আর ভর্তি শুরু হবে ১৫ জুলাই এবং শেষ হবে ২৫ জুলাই। আর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে আগামী ৩০ জুলাই।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মোট পাস করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১শ ৮৯ জন শিক্ষার্থী। তবে চট্টগ্রামের ২শ ৮৫টি সরকারি-বেসরকারি কলেজে আসন রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার। সেই হিসাবে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ফাঁকা থাকবে প্রায় ৪৬ হাজার আসন।

শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে চলমান 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷ এছাড়া মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের সাথে সমর্থন জানিয়ে সাভারের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন৷

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বসে 'বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর ব্যানারে একটি মশাল মিছিল বের করে ছাত্রদের হল হয়ে নতুন রেজিস্ট্রার ভবন, চৌরঙ্গী দিয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে রাত সোয়া ৯টায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়৷

এসময় মশাল মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘কুবি/চবি/শেকৃবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না-যাবে না’, '৭১ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', '১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার', 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে', লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লোগেছে', ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’,'মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, 'আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি কোটা সংস্কারপন্থী স্লোগান দেন।

মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কোনো অন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য দাঁড়াইনি৷ তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনদেরকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর যথাযথ বিচার দাবি করছি৷ আমরা আমাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পড়ার টেবিলে ফিরে যাব না।

এসময় সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে।এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়৷ আমাদের যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই হামলা-মামলা করে আমাদের আন্দোলনকে থামানো যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পুলিশ আমাদের দমন করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে অবিলম্বে আইন পাশ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, গতকালকের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় গুণ্ডা বাহিনীর হামলার নিন্দার প্রতিবাদে আমাদের এই মশাল মিছিল। আমাদের যে ভাইদের ধরে নেওয়া হয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে শুরু থেকেই কোটা বিরোধী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা চাই কোটার সংস্কার। যৌক্তিক সংস্কার করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে। সরকারের কাছে আহ্বান আমাদের দাবি মেনে নিন এবং দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে দিন।

'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর জাবি শাখার সদস্য সচিব মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের রক্তের বিনিময়ে হলেও আমরা দাবি আদায় করে নিব। আমাদের যে ভাইদের রক্ত ঝরেছে তার বিচার করতে হবে। একজনকে আঘাত করা হলে লাখোজন দাঁড়াবে। আন্দোলনকারী ভাইরা আমরা আমাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে। আপনাদের নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, এছাড়া গত ৭ জুলাই থেকে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা৷


'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা প্রদানসহ হামলা ও মামলা করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আহত হয়েছেন অনেকেই৷

;

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাকৃবিতে বিক্ষোভ



বাকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে ওই সমাবেশের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মিছিলটি বাকৃবির কে.আর মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শহীদ মতিউল-কাদের স্মৃতিসম্ভের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। 'আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবার চাই। নায্য আন্দোলনে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই। হামলা করে আন্দোলন,বন্ধ করা যাবে না' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাদের এক দফা দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন বলে জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বাকৃবির জব্বারের মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও আঞ্চলিক যোগাযোগ।

;

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা

কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সকল চাকরির সকল গ্রেডে ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক কোটা নিরসনের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চম দিনের মত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পুলিশি হামলার শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনিক অদক্ষতার কারনে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল আনসার ক্যাম্প পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে এক যোগে জাতীয় সংগীত গায় এবং পুলিশি হামলার শিকার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। নীরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা আনসার ক্যাম্প মোড়কে 'ছাত্র আন্দোলন চত্বর' ঘোষণা করা হয়। এরপর চত্বরটিতে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে আহত দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ রায়হান ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মিলে নামফলক লাগান।

এরপর এই চত্বরের স্মৃতিস্বরূপ দুইটি গাছ লাগান শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা সদ্য নাম দেয়া 'ছাত্র আন্দোলন চত্বরে বক্তব্য রাখেন। তারা সেখানে এই হামলায় জড়িতদের বিচার চান এবং সেদিনের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার পদত্যাগও চান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গোলচত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই পুরোটা সময় আন্দোলনকারীরা 'লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই, আমার সোনার বাংলায়, বৈষ্যমের ঠাই নাই, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, "আমাদের এ আন্দোলন যৌক্তিক ছিল, আমরা বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলাম অবরোধ করতে। তখন আমাদের ওপর হামলা করা হয়, লাঠিচার্জ করা হয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। আজকে আমরা দেখিয়ে দিবো শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে। আমরা এই আন্দোলন আরো জোরদার করবো।"

উল্লেখ্য, গতকাল (১১ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এর জবাবে শিক্ষার্থীরাও ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস, টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলি ছুড়েন। ফলে তিন সাংবাদিক সহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা৷

;

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা

ছবি: শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা। এদিন গত কয়েকদিনের চেয়ে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বেলা ৫টায় লাইব্রেরি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের ২য় গেট হয়ে বিভিন্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংযোগ সড়ক, আগারগাঁও, শিশুমেলা, কলেজগেট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে; শেকৃবিতে হামলা কেন, জবাব চাই, জবাব চাই; টোকাই দিয়ে হামলা কেন, জবাব চাই জবাব চাই; গুণ্ডা দিয়ে হামলা কেন, জবাব চাই-জবাব চাই; আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিবো না ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন শিক্ষার্থী বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ করার প্রতিবাদে আজ আমাদের এই বিক্ষোভ মিছিল। তবে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আমাদের অবরোধ, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি অব্যহত থাকবে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না। একইসাথে শিক্ষার্থীদের উপর যারা হামলা ও আক্রমণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

;