উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম।

অন্যদিকে আন্দোলনকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদীত এবং ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মত ধর্মঘট শুরু করেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের প্রতিটি ফটকে অবস্থান নিয়ে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা।

সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ নতুন প্রশাসনিক ভবনে নিজেদের কাযার্লয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তাদের ফিরে যেতে হয়।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের চূড়ান্ত পরীক্ষা ধর্মঘটের আওতামুক্ত রয়েছে।

উপাচার্যকে অপসারণের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের (রাষ্ট্রপতি) কাছে আজ চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি বলেন, ‘আমরা আজই আচার্যকে ফ্যাক্সের মাধ্যমে বর্তমান উপাচার্যকে অপসারণের যৌক্তিকতা জানাব। উপাচার্যের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে তাকে অবহিত করব। আর দুপুরের মধ্যে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

উল্লেখ্য, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। ওই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় বুধবার (২ অক্টোবর) থেকে উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার্ত্মক ধর্মঘট পালন করছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আন্দোলনরতদের দাবি ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করবেন না বলে জানান। আন্দোলনকারীদের দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’।

আপনার মতামত লিখুন :