বুয়েটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন উপাচার্য

ইসমাঈল হোসাইন রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
নিজ কার্যালয়ে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম | ছবি: সুমন শেখ

নিজ কার্যালয়ে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম | ছবি: সুমন শেখ

  • Font increase
  • Font Decrease

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান বুয়েটের ভিসি।

তিনি বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক জটিলতার আশঙ্কা দেখা দেয়েছিল। গত ১৫ দিন আগে এ বিষয়ে কথা বলতে আমি আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আমি তাকে আমার কষ্টের কথা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলাম। যেন কিছু ঘটলে পুলিশের সহায়তা দ্রুত পেতে পারি সেজন্যই আইজিপির সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

আরও পড়ুন: বুয়েটে আবরারের জানাজা হবে জানতাম না: উপাচার্য

আইজিপির কাছে কী ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, আমাদের সব সমস্যা নিয়েই তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের বাজেট নিয়েও সমস্যা ছিল। এছাড়াও রাস্তার সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যাতে তাদের সহায়তা পাই, তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমার দিক থেকেও যতটুকু সম্ভব যোগাযোগ করেছি।

উপাচার্য বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে বলেছি। কিছুদিন আগেও কিন্তু পাঁচদিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি যদি আন্তরিক না হতাম, আমি তো চেষ্টার ত্রুটি করিনি। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি। তিনি নির্দেশ দেন শনিবার ক্লাস শুরু হবে, তাই হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা তো অনেক কঠিন। অনেক সমস্যা থাকে, যেগুলোর সব কথা বলা যায় না। সব সমস্যার সবসময় সমাধানও করা যায় না। তবে আমার পক্ষ থেকে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।

জানা গেছে গত ১৫ জুন থেকে ১৬ দফা দাবি আদায়ে লাগাতার আন্দোলনে নামেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন তারা। এক পর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে সড়কের উপর শতাধিক শিক্ষার্থী দাবি নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের ১৬ দফা দাবির মধ্যে ছিল- পলাশিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখে গেট নির্মাণ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ বাতিল, নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়নের ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের সব লেনদেন ডিজিটাল করা, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো, টার্ম পরীক্ষায় কোডিং সিস্টেম চালু, ছাত্রী হলকে সনি হল নামকরণ ইত্যাদি।

আপনার মতামত লিখুন :