বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জাবিতে কালো পতাকা মিছিল



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাবিতে কালো পতাকা মিছিল, ছবি: বার্তা২৪.কম

জাবিতে কালো পতাকা মিছিল, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে কালোপতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বেলা দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে কালো পতাকা ও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরাতন কলা ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের র‌্যালি শুরুর স্থলে যান আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে সেখান থেকে আবারো ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে অমর একুশ পাদদেশে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে তারা।

সমাবেশে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানান। এছাড়া উপাচার্যের মদদে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তদন্তের মাধ্যমে উপাচার্যকে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

কালোপতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা

প্রতিবাদ সমাবেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সংগঠক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে আসছি। এই প্রকল্পের টাকা থেকে দুর্নীতি যদি না হবে তাইলে উপাচার্য কেন এত বিচলিত, উপাচার্য কেন শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলার ইন্ধন দিচ্ছেন, কেন শিক্ষকদের ফোনালাপ ফাঁস করছেন?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, 'কোনো সন্ত্রাসের ইন্ধনদাতা ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে থাকতে পারেন না। অতীতের যেসব উপাচার্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা মামলা করেছেন তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পরিণতিও ভালো হবে না।'

উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, শোভন রহমান, মুবাশশির আলম, কনোজ কান্তি রায় প্রমুখ।

এদিকে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সামনে উপাচার্যের দুর্নীতি, অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্যাদি প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৪৪৫ কোটি ৩৬ লাক টাকা বরাদ্দ দেন। ছয়টি নতুন হল নির্মাণ ও কাজ শুরুর একেবারে প্রথম দিকে বরাদ্দ করা টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটিসহ মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। শুরুতে ঘটনার তদন্তের দাবিতে আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা একই অভিযোগে উপাচার্য অপসারণের আন্দোলনে রুপ নেয়।