সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ দুদক কর্মকর্তার ছেলের

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবিকার তাগিদে সরকারি আদেশ না আসায় ২২ মার্চ পর্যন্ত অফিস করেছিলেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা দুদক কর্মকর্তা জালাল সায়ফুর রহমান। তারপর থেকে তিনি বাসাতেই ছিলেন কিন্তু তবুও রক্ষা পাননি বলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন তার একমাত্র সন্তান সামিন রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সামিন তার ফেসবুক আইডি থেকে এ স্ট্যাটাস দেন।

সামিন বলেন, আমার বাবা জীবিকার তাগিদে সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত ২২ মার্চ পর্যন্ত অফিস করেছিলেন। তারপর থেকে তিনি বাসাতেই ছিলেন কিন্তু তবুও রক্ষা পাননি। তাই এখনও যারা ঘরে থাকার বিধিনিষেধ মানছেন না, তাদের সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই না বর্তমানে এই মুহূর্তে আমার এবং আমার পরিবারের উপর দিয়ে যা যাচ্ছে সেটা আমার শত্রুকেও মোকাবিলা করতে হোক।

দীর্ঘ পোস্টে সামিন লেখেন, আমার বাবা (জালাল সাইফুর রহমান, পরিচালক, দুদক) আজকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। উনি গত ৩০ মার্চ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সামিন রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাস

সামিন বলেন, দুঃখের বিষয় এই যে, উনার মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে লেখা প্রতিবেদনেও অনেক ভুল-ভ্রান্তি চোখে পড়ে। সে ভুল-ভ্রান্তি গুলো আমি একটু তুলে ধরতে চাই।

সেগুলো হলো- আমি উনার একমাত্র সন্তান ছিলাম, আমার কোন ভাই-বোন নেই। আমি এবং আমার আম্মু দুইজনই পরিপূর্ণ রূপে সুস্থ আছি। গত ৭ দিন ধরে আমরা দুইজনই সেলফ আইসোলেশনে আছি, কোনো হাসপাতালে না। আমাদের দুইজনকে আরও ৭ দিন সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে।

বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না পারাটা বড় কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেলফ আইসোলেশনের কারণে না বাবার জানাজায় অংশ হতে পেরেছি, না উনাকে কবর দেওয়ায় অংশ নিতে পেরেছি, এর চেয়ে কঠিন কিছু আর নেই। উনাকে আজ ৪টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। উনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। উনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন :