করোনা, বাস ভাড়া বৃদ্ধি, একজন শিক্ষার্থী ও আমার অভিজ্ঞতা



জান্নাত আরা মালিহা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস মহামারির তাণ্ডব। বাংলাদেশেও ভাইরাসটির সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। সংক্রমণ রোধে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে একটি হলো- সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাসে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন বাধ্যতামূলক করা। সেই সঙ্গে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার।

বাস ভাড়ার বাড়ানোর প্রথমদিন বুধবারের (৩১মার্চ) অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকে আমরা এই লেখা।

টিউশনী শেষে বাসায় যেতে আমার গন্তব্য আজমপুর। তাই খিলক্ষেত থেকে আকাশ পরিবহনে উঠলাম। বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর আগে আকাশ পরিবহন খিলক্ষেত টু আজমপুর ভাড়া নিত ১০ টাকা। কিন্তু আমার কাছে নিলো ২৫ টাকা। ১০×৬০%=৬ টাকা। তাহলে ভাড়া হওয়ার কথা ১৬ টাকা। তবে তারা বেশি রাখছেন ২৫-১৬=৯ টাকা। ২৫ টাকা ভাড়ার বিষয়ে বাসের সহকারীকে প্রশ্ন করলে, তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, ‘কাওলায় চেক আছে তাই ভাড়া ২৫ টাকা। তাছাড়া ৫০ টাকার জায়গায় ২৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। যদি দুই সিটেই মানুষ যেতেন তাহলে ৫০ টাকা আয় হত’।

এই বাস সহকারীর দাবি ‘তাদের ব্যবসা নাকি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে’।

এখন কথা হচ্ছে- বাস ভাড়া বাড়লেও আমার-আপনার আয় কী বেড়েছে? - বাড়েনি কিন্তু! বরং করোনার কারণে কর্মসংস্থান তো কমেছেই, বেকারত্ব, চাকরি ছাঁটাইও বেড়েছে। স্কুলকলেজ বন্ধ থাকায় টিউশনও পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে বাস ভাড়া বেশি নিলেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন থেকে তারা কিন্তু বিরত নেই। এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী বসতে উৎসাহ দেওয়া- এসবে আগ্রহ নেই বাস সংশ্লিষ্টদের। তাহলে দেখা গেলো- সরকারের নিয়মের তোয়াক্কা না করে গণপরিবহনে যাত্রী ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। তার সাথে ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১১৫ শতাংশ বেশি। আর এতে সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এ গেলো বিকালের অভিজ্ঞতা; এবার সকালেরটা বলি! বিআরটিসি বাসে করে সকালে পড়াতে যেতে ভাড়া দিয়েছি ১০ টাকা। আগে আজমপুর থেকে খিলক্ষেত ভাড়া নেওয়া হত ৫ টাকা। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি ভাড়া ৫×৬০% =৮ টাকা হওয়ার কথা। বাস সহকারীর কাছে জানতে চাইলে যুক্তির ধারের কাছে না গিয়ে তিনি জানালেন, ৬০% ভাড়া বাড়ানো হয়েছে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। এছাড়া আগে বিআরটিসিতে স্টুডেন্ট ভাড়া নিলেও এখন আর নেয়া হয় না। করোনা এসে আমাদের ছাত্রত্বই যেন বাতিল ঘোষিত হয়েছে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে- বাস মালিক ও সংশ্লিষ্টদের এটা কোন ধরনের হিসাব! ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের এমন স্বেচ্ছাচারিতার কি কোন প্রতিকার নেই।

এছাড়া আরো একটি বিষয়। বাসে টাকা লেনেদেন করার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক। তাই আমার মনে হয়, বাস কোম্পানি গুলোর মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল বাস টিকিট বা ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে আমাদের পরিচিত ও প্রচলিত মোবাইল পেমেন্ট মাধ্যম সাহায্য করতে পারে।

এতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারি ও বাস মালিক পক্ষের উভয়েরই সুবিধাও হবে। আর করোনা মহামারির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কু-প্রভাব থেকে আমরাও রক্ষা পাব। এছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের ‘মাস্ক’ বেশির ভাগ সময় থুতনিতে থাকে। অনেক সময় বাসে ওঠার সময় হেলপারের সাথে শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করা যায় না। তাই হেলপারকে যাত্রী নামানোর আগে অবশ্যই নিজে নেমে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাড়াবেন এবং প্রথমে যাত্রী নামিয়ে তারপর যাত্রী উঠাবেন।

করোনা মহামারি প্রতিরোধ এবং সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে উপরোক্ত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিবেচনায় নিবেন বলে আমি আশা করি।

লেখক: জান্নাত আরা মালিহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ, ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী।