মানুষের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিকে হাতের মুঠোয় এনেছে ‘নগদ’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মানুষের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিকে হাতের মুঠোয় এনেছে ‘নগদ’

মানুষের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিকে হাতের মুঠোয় এনেছে ‘নগদ’

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ডাকে সাড়া দিয়ে সরকারি বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মানুষ এখন সহজেই তাদের প্রতিদিনের আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারছে। ফলে এখন মানুষের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি এখন হাতের মুঠোয়।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ থেকে শুরু করে, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সেন্ড মানি এবং বিভিন্ন কেনাকাটায় মার্চেন্ট পেসহ আরও অনেক সহজ সেবার মাধ্যমে মানুষের সময় ও অর্থ বাঁচাচ্ছে ‘নগদ’। যা সহজ করছে মানুষের ব্যস্ততম দৈনন্দিন জীবন।

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল প্রকল্প দেখতে যান। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দেখা যায় ডিজিটাল সেবা কীভাবে বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনমান।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমানের (৭৬) সঙ্গে কথা হয়। ভাতার টাকা নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর চোখেমুখে দেখা যায় খুশির ঝিলিক। আনিসুর রহমান বলেন, “টাকা তুলতে এখন আর ব্যাংকে লাইন দেওয়ার দরকার হয় না। শুক্র-শনিবার বা ছুটির দিন নাই। টাকা আসলে সাথে সাথে হাতে পাচ্ছি।”

একই এলাকার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোসাম্মাদ কুসুম খাতুন। নহাটা পলিটেকনিক শাহমকদুম পেয়ারলেস এমবি কলেজে পড়ছেন তিনি। জন্ম থেকেই পায়ে সমস্যায় চলতে ফিরতে খুবই কষ্ট হয়। সরকারের কাছ থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতায় চলছে তার পড়ালেখা।

একটি সময় এই ভাতা তুলতে তাকে যেতে হতো উপজেলা সদরে। সেটি ছিল কুসুম খাতুনের জন্য এক বিড়ম্বনার অধ্যায়। আর এখন ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময় হলেই কুসুম খাতুনের মোবাইলে চলে আসে ভাতার টাকা। সঙ্গে থাকে ওই টাকা ক্যাশ-আউট করার খরচও। কুসুম বলেন, “নগদ এবং সরকারের প্রতি আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা। অন্তত আমার একটা দুর্ভোগ তো দূর হয়েছে।”

দেশে গত এক বছরে কুসুম-আনিসুরের মতো তিন কোটি পিছিয়ে পড়া মানুষকে সাড়ে আট কোটিবার সরকারের বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান বিতরণ করেছে ডাক বিভাগের ‘নগদ’। এ নিয়ে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও জানান, দিন বদলের সময়ে দিন বদলে দেওয়া সেবা হয়ে এসেছে ‘নগদ’।

‘নগদ’-এ অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় আর্থিক অন্তর্ভূক্তিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এই সেবাটি। ফলে মাত্র আড়াই বছরে ‘নগদ’-এর গ্রাহক সংখ্যা এখন সাড়ে ৫ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাত্রার পর থেকেই এই সেবাটি সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট খাতে ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করেছে। সরকারি এই সেবাটি একের পর এক নতুন নতুন উদ্ভাবন দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ফলে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া মানুষটির জন্য ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটে এবং তাদের জীবনমানেরও পরিবর্তন হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে   ‘নগদ’ গ্রাহক পরিচয় নিশ্চিত করতে ইলেক্ট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) চালু করে। ‘নগদ’-এর উদ্বোধনের সময় ‘নগদ’ ছাড়া দেশের আর কোথাও ই-কেওয়াইসি’র প্রচলন ছিল না। এই ই-কেওয়াইসি প্রচলনের ফলে এক দিকে যেমন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট খোলার জটিল প্রক্রিয়া সহজতর হয়, অন্যদিকে অ্যাকাউন্ট খোলা সংক্রান্ত খরচও কমে যায়। প্রথম দিকে এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করলেও পরে একে একে সকলে ‘নগদ’-এর উদ্ভাবন অনুসরণ করে। অধিকাংশ ব্যাংক, এমএফএস এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা কোম্পানি ই-কেওয়াইসি’র মাধ্যমে গ্রাহক হিসাব খোলার পদ্ধতি চালু করে সফলতা পাচ্ছে।

ই-কেওয়াইসি হলো– জাতীয় পরিচয়পত্রের দুই দিকের ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করে অ্যাকউন্ট খোলার পদ্ধতি। কিন্তু দেশে যেহেতু স্মার্টফোনের ব্যবহার অনেক কম, সে কারণে পরে ‘নগদ’ *১৬৭# ডায়াল করে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি চালু করে। এই পদ্ধতিতে যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে *১৬৭# ডায়াল করে চার ডিজিটের পাসওয়ার্ড দিয়ে ‘নগদ’-এর অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এটি এখনো পর্যন্ত আর্থিক খাতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। একটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে এমন একটি উদ্ভাবন গোটা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। সে কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশ্বকাপখ্যাত উইটসা ‘নগদ’-কে সম্মাননা জানিয়েছে।

সাধারণ মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির পাশাপাশি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বিদ্যমান মনোপলি ‘নগদ’-এর মাধ্যমেই ভেঙেছে সরকার। ফলে এই খাতের লেনদেনে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘নগদ’ শুরু থেকেই সেন্ড মানি বা টাকার লেনদেনকে ফ্রি করেছে। ইউটিলিটি বিলও ফ্রি-তে দেওয়া শুরু করেছে ‘নগদ’। তাছাড়া বাজারে ক্যাশ-আউট চার্জ হাজারে ২০ টাকা হলেও ‘নগদ’ এটি হাজারে ৯ টাকা ৯৯ পয়সায় নিয়ে এসেছে। যা ভ্যাট ট্যাক্সসহ ১১ টাকা ৪৯ পয়সা। এই গ্রাহকবান্ধব ও সাশ্রয়ী সেবার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষেরা ভোগ করতে পারছে বাড়তি সুবিধা। তাই এই সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরে সরকারের এটিও একটি বড় সফলতা।

‘নগদ’-এর এই সাশ্রয়ী সেবায় কেবল গত এক বছরে প্রচলিত সেবার খরচের তুলনায় ‘নগদ’-এর গ্রাহকেরা সাশ্রয় করতে পেরেছেন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সংস্থার মাধ্যমে চালু হওয়া একটি সেবা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের দিন বদলের ক্ষেত্রে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

করোনা দুর্ভোগের সময় ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য আর্থিক অনুদান ও সহায়তা বিতরণ ডিজিটালাইজড করতে সরকারকে সহযোগিতা করেছে ‘নগদ’। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সরকার তিন কোটি মানুষকে সাড়ে আট কোটিবার নানান ধরনের ভাতা, উপবৃত্তি ও অনুদান বিতরণ করেছে। যেখানে দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানতে চাইলে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘আমরা চাইছি মানুষের আর্থিক সব সমস্যার সমাধান হোক একটি ওয়ালেটের মাধ্যমেই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘নগদ’। দেশের সবার আর্থিক সমস্যার সমাধানে কাজ করছি আমরা।’ তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় ওয়ালেট হিসেবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ওয়ানস্টপ সেবা দিয়ে যেতে চায় ‘নগদ’। আর সেই লক্ষ্যেই মানুষের জন্য কাজ করছে রাষ্ট্রীয় এই সেবা। 

‘নগদ’-এর সূত্র বলছে, এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের দেড় কোটি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইলে চারবার করে উপবৃত্তি বিতরণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ৫৮ লাখ দুস্থ ও হতদরিদ্র স্বচ্ছতার সঙ্গে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ভাতা পেয়েছেন। এই দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসে সরকার।

গ্রাহকবান্ধব স্বল্প মূল্যের সাথে সাথে প্রযোক্তিগত সহজ সেবার কারণে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নগদ। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে সেবাটিতে, যা সরাসরি জাতীয় প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে

গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ক্রটিপূর্ণ আবেদনের রেশ না কাটতেই বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। যথারীতি গ্যাসের মতোই ত্রুটিপুর্ণ হওয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ বজলুর রহমান বার্তা২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিপিডিবি পাইকারি দর বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবটি জমা দেওয়ার সময় যথাযথ আইনী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় নি। তাই পুর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। আইনের কি ধরণের ব্যত্যয় ঘটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রস্তাবের সঙ্গে তিন বছরের অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হয়, এক বছরের প্রক্কলিত আয় ব্যয়ের হিসেব দাখিল করতে হয়, প্রস্তাবনা অনুযায়ী দর বাড়ানো হলে ভোক্তাদের উপর কি ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। এসব রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এগুলোসহ আরও কিছু রিপোর্ট জমা দিতে হয়, যা আবেদনের সঙ্গে ছিল না। তাই বিপিডিবির আবেদনটি বাতিল কিংবা গ্রহণ কোনটাই না করে পুর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিপিডিবি বিদ্যুতের একক ক্রেতা, নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। সে সব বিদ্যুৎ ৫টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে। আর নিজেরা ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

বিপিডিবির জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে লোকসান দিয়ে যাচ্ছে বিপিডিবি। তাই পাইকারি দাম সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কতটাকা হারে বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা নির্দিষ্ট করে কোনো প্রাইস বাড়ানোর প্রস্তাব দেইনি। আমরা প্রস্তাবে বলেছি ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করায় আগে থেকেই কিছুটা লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় দাম সমন্বয় করা না হলে ২০২২ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। তাই সেই দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যদি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে লোকসান আরও বাড়বে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হলে সেটিও সমন্বয় করার আবেদন করা হয়েছে বিইআরসির কাছে।

বিইআরসি হচ্ছে দাম চূড়ান্ত করার আইনগত প্রতিষ্ঠান। তারা আবেদন পাওয়ার পর প্রথমে যাচাই-বাছাই করে দেখেন। আবেদন যথাযথ হলে কমিশনের বৈঠক করে গণশুনানি করা হয়। তারপর দর ঘোষণা করা হয়। পাইকারি দাম বেড়ে গেলে বিতরণ কোম্পানিগুলো সেটাকে ভিত্তি ধরে খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেন। আবেদনের প্রাথমিক বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাগজে কলমে প্রমান করে দিতে হয় দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা। দাম বৃদ্ধি না হলে কি প্রভাব পড়বে তারও অংক কষে দেখাতে হয়। অতীতে অনেক সময় বিইআরসি সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশ দিয়ে দাম বাড়ানো থেকে বিরত থেকেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের মার্চে প্রতি ইউনিটের মূল্য ৪.৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫.১৭ টাকা করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত বছর প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে পাইকারি পর‌্যায়ে। এবার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান আরও বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো হাস্যকর প্রস্তাব জমা দিয়েছে কমিশনে। বর্তমানে প্রেক্ষাপটে তাদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগে পেট্রোবাংলাকে পাইকারি দাম বাড়াতে হবে। তখন কোম্পানিগুলো আসবে সেই টাকা তোলার জন্য খুচরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে। অতীতে এটাই হয়ে এসেছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে উল্লেখ করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর একটি চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। আবেদন যথাযথ না হওয়ায় বিইআরসির প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো ১১৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। সঙ্গতকারণেই বিইআরসি আবেদনগুলো ফেরত দিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ও স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস) আমদানি করছে বাংলাদেশ। দাম বেড়েছে স্পর্ট মার্কেট থেকে আনা ৫-৬ শতাংশ গ্যাসের। ৫-৬ শতাংশের দাম বেড়েছে বলে ১০০ ভাগ গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়াতে হয় এটা বিশ্বাসযোগ্য! তারা গোজামিল দিয়ে হিসেব দেখাচ্ছে, এসব হিসাব বাস্তব সম্মত না। প্রয়োজন হলে ওই পরিমাণ এলএনজি আমদানি না করার পক্ষে আমরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতি ভর্তুকি বৃদ্ধি কিংবা দাম বৃদ্ধি কোনটার জন্য প্রস্তুত নয়। বরং রেশনিং করে ওই পরিমাণ এলএনজি আমদানি কমিয়ে দেওয়া উচিত। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর ইস্যু সামনে আসবে। আমরা মনে করি গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়াও অনেক বিকল্প রয়েছে।

;

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনে স্মারক রৌপ্য মুদ্রা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনে স্মারক রৌপ্য মুদ্রা

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনে স্মারক রৌপ্য মুদ্রা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ও জাপান এর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাপান মিন্ট এর যৌথ উদ্যোগে একটি ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক রৌপ্য মুদ্রা মুদ্রণ করা হয়েছে যা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রচলনে দেয়া হবে।

প্রচলনে দেয়ার পর স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘর, মিরপুর হতে এবং জাপান মিন্ট কর্তৃক জাপানে বিক্রয় করা হবে।              

৫০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩৫ মিলিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট, গোলাকার ও ০.৯২৫ ফাইন সিলভার দ্বারা নির্মিত স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটির ওজন ২০ গ্রাম।

স্মারক মুদ্রাটির সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি’ লোগো, লোগোর উপরিভাগে ডালসহ চেরিফুল (জাপানের জাতীয় ফুল) এবং লোগোর নিচে পানিতে ভাসমান কলিসহ শাপলা (বাংলাদেশের জাতীয় ফুল) কালার প্রিন্ট প্রযুক্তিতে মুদ্রণ করা হয়েছে। এছাড়া, সম্মুখভাগে লোগোর বামদিকে উপরে ‘50 TAKA’ এবং নিচে ‘৫০ টাকা’ মুদ্রিত রয়েছে।

স্মারক মুদ্রার পেছনভাগে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, স্মৃতিসৌধের উপরিভাগে বৃত্তাকারভাবে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি, বাংলা ও ইংরেজিতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং স্মৃতিসৌধের নিচে ‘১৯৭২-২০২২’ মুদ্রিত রয়েছে। বাংলাদেশে বর্ণিত স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্মারক বাক্সসহ $৫,০০০.০০ (টাকা পাঁচ হাজার মাত্র) ।

;

এশিয়ার প্রথম টায়ার সংক্রান্ত অ্যাপস



ব্যবসা বানিজ্য ডেস্ক
টায়ার সংক্রান্ত প্রথম অ্যাপস

টায়ার সংক্রান্ত প্রথম অ্যাপস

  • Font increase
  • Font Decrease

গত এক দশকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আমাদের জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে। আইফোনের অ্যাপ স্টোর আর অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে চালু হয় ২০০৮ সালে। এবারে বাংলাদেশে চালু হলো এশিয়ার টায়ার সংক্রান্ত প্রথম অ্যাপস। এটি বাজারে এনেছে দেশীয় টায়ার উৎপাদনকারী শিল্প গ্রুপ রূপসা টায়ার।

রূপসা টায়ারের এই অ্যাপসটি এন্ড্রোয়েড এর যেকোনো স্মার্ট ফোন থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। এতে পাওয়া যাবে তাদের টায়ার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, নতুন পণ্যের আপডেট দাম, তাদের কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সাথে কথা বলা যাবে মেসেজের মাধ্যমে। একই সাথে অভিযোগ কিংবা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। এতে আছে নিউজ সেকশন যেখানে দেশ বিদেশের টায়ার সংক্রান্ত সব নিউজ ও পাওয়া যাবে এক জায়গায়।

এ বিষয়ে কথা বলেন রূপসার আইটি ম্যানেজার ইউসুফ জামিল। তিনি বলেন, আমাদের কাস্টমার এবং সম্ভাব্য কাস্টমার সহ এ বিষয়ে উৎসাহী যে কাউকে আরো সহজ এবং দ্রুত সার্ভিস দিতেই এই অ্যাপস এর যাত্রা শুরু। এটি নিয়ে ২০২২ সালে আমাদের আরো বেশি কাজ করার চেষ্টা থাকবে। যাতে যে কেউ এই অ্যাপস টি থেকে সব ধরণের সহায়তা পেতে পারেন নিমিষেই।

;

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ-এর সাথে ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি চালু



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ-এর সাথে ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি চালু

ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ-এর সাথে ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি চালু

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)-এর সাথে ক্রেডিট গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালু করেছে।

এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি প্রোগ্রাম (জিএসএম-১০২)-এর আওতায় ইউএসডিএ যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ গ্যারান্টি প্রদান করে। কমোডিটি ক্রেডিট কর্পোরেশনের (সিসিসি) পক্ষে ইউএসডিএ-এর ফরেন এগ্রিকালচার সার্ভিস (এফএএস) এ প্রোগ্রামটি পরিচালনা করে। ইউএসডিএ ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট সীমা অনুমোদন করেছে।

ব্যাংকের আমদানিকারকরা ইউএসডিএ তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের জন্য ডিসকাউন্টিং সুবিধা পাবেন। রফতানিকারকের ব্যাংক অপ্রত্যাহারযোগ্য এলসিতে অ্যাড কনফারমেশন ছাড়াই তার অর্থায়নের সুবিধা বর্ধিত করতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংক মার্কিন রফতানিকারকের পক্ষে সমপরিমাণ ডলারের একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য এলসি ইস্যু করবে। মার্কিন রফতানিকারক ডকুমেন্ট জমা দিয়ে নেগোশিয়েটিং ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে।রফতানিকারককে গ্যারান্টির অধীনে হওয়া প্রতিটি শিপমেন্ট-এর জন্য সিসিসি-তে রফতানির একটি প্রতিবেদন সরবরাহ করতে হবে। বিলের মেয়াদশেষে, আইবিবিএল ডিসকাউন্টিং ব্যাংককে অর্থ প্রদান করবে। ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার, ইউএসএ-এর সাথে এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

;