টাটা এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড ট্রাকের উদ্বোধন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
টাটা এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড ট্রাকের উদ্বোধন

টাটা এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড ট্রাকের উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

টাটা মটরস এবং এর একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর নিটল মটরস বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এলো নতুন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড সম্পন্ন ১৬ টনের মাঝারি ধরণের বাণিজ্যিক গাড়ি।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এই গাড়ির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রিজ এর সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন  ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ও স্ট্র্যাটিজি, সিভিবিইউ, টাটা মটরস লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনুরাগ মেহেরোত্রা।

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, আমরা আত্নবিশ্বাসী যে,এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড এদেশের মাঝারি ধরনের ট্রাকের জগতে গুরুত্বপূর্ন প্রভাব এবং এটি হবে ১৬ টন ট্রাকের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সবচেয়ে গাড়ি।

অনুরাগ মেহেরোত্রা বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক গাড়ির জগতে মার্কেট লিডার হিসেবে আমরা এদেশের ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আমরা যুগোপযোগী পণ্য ও সেবা নিয়ে আসছি। অধিক শক্তির ফ্রেম,পরীক্ষিত কামিন্স ইঞ্জিন, উন্নত সাসপেনশান নিয়ে টাটা এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড দেবে নির্ভরযোগ্য ও সন্তোষজনক পারফর্মেন্স এবং অধিক মুনাফা। এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড এর বৈশিষ্ট্যগুলো এমনভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে বেশি মুনাফা ও কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আমরা নিশ্চিত যে, বরাবরের মতই নিটল মটরস অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তার সেলস, ফাইন্যান্স ও বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধাগুলো নতুন মডেলের এই গাড়ির জন্যও অব্যাহত রাখবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সেগমেন্টের গ্রাহকরা নতুন টাটা এলপিটি ১৬১৫ গোন্ডেকে পছন্দ করবেন, কারণ এটি তাদেরকে “গোল্ড ওনারশিপ” এর অভিজ্ঞতা প্রদান করবে এবং এটি টাটা মটরসের অধিক কার্যকরী ও নির্ভরযোগ্য পণ্যের মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টিকে নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড সম্পন্ন ১৬ টনের মাঝারি ধরনের বানিজ্যিক গাড়িটি  দু’টি আলাদা হুইলবেস অপশনে পাওয়া পাওয়া যাবে – ৪৮০০মি.মি এবং ৫২০০মি.মি- শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্রাংশে তৈরি LPT 1615 GOLD রকমারি পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা যাবে। এই গাড়ির এমন কিছু শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ভারী ও অধিক পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের জন্য হবে একটি আদর্শ ট্রাক। এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড দেবে পাওয়ার প্যাকড পারফরম্যান্স এবং অধিক আয়ের সুযোগ, সাথে আছে নিরাপদ ও আরামদায়ক ড্রাইভিং এর অভিজ্ঞতা। তাছাড়া আমাদের রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় সেলস, সার্ভিস ও স্পেয়ার পার্টস নেটওয়ার্ক, যার সুবিধাগুলো নতুন এই ট্রাকের জন্য প্রযোজ্য থাকবে।

এই ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন- ১৪৫ হর্স পাওয়ার এবং ৫০০ এন.এম টর্ক এর কামিন্স 6BT ইঞ্জিন, দ’টি হুইলবেস অপশনের লেডার টাইপ (ladder-type) দৃঢ় চেসিস এটিকে পরিবহন ব্যবসার জন্য একটি উপযুক্ত গাড়িতে পরিনত করেছে।

টাটা GBS 600 গিয়ারবক্স যুক্ত নির্ভরযোগ্য কামিন্স ইঞ্জিনের এলপিটি ১৬১৫ গোল্ড অধিক মুনাফা অর্জনের দরজা খুলে দেয় এবং কমিয়ে দেয় সার্বিক অপারেটিং খরচ। পাশাপাশি এই গাড়ির ফ্যাক্টরিতে সংযোজিত রেডিয়াল টায়ার, শক্তিশালী সাসপেনশন এবং রেয়ার এক্সেল (RA 110) বাংলাদেশের ড্রাইভিং কন্ডিশনের জন্য খুবই উপযোগী।

চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ

চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ

  • Font increase
  • Font Decrease

পাইপ লাইনের জরুরি কাজের জন্য আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা রাজধানী ঢাকার আটটি এলাকায় সকল শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পা নিলিমিটেড জরুরি গ্যাস শাট ডাউন বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিতাস জানায়, আজ বুধবার রাজধানীর পূর্ব মানিকনগর, ধলপুর, গোপীবাগ, আর কে মিশন রোড, অভয়নগর লেন, কে এম দাস লেন, স্বামীবাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

;

মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি

মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার পুনর্নিয়োগে অনুমতি প্রদান করেছে।

সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এই সময়কালে ব্যাংকটির বার্ষিক আয় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২০০০ কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং পরিচালন মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে সিটি ব্যাংক ১০০০ কোটি টাকা মুনাফার সম্মানজনক ক্লাবে প্রবেশ করে। একইসঙ্গে গত তিন বছরে ব্যাংকটির আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ৫৯ শতাংশ থেকে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বার্ষিক ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডা মাথায় নিয়ে একটি শহরভিত্তিক ব্যাংক থেকে সমগ্র দেশের আপামর জনমানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যাংক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যাংকে ডিজিটাল ন্যানো লোন এবং প্রথাগত ক্ষুদ্র ও মাইক্রো ফাইন্যান্সের সূচনা করেন।

মাসরুর আরেফিন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ১৯৯৫ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি এএনজেড ব্যাংক মেলবোর্ন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাতার, সিটি ব্যাংক এনএ, আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

মাসরুর আরেফিন তার ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও সুপরিচিত।

;

চলতি অর্থবছরে ভারতে রফতানি ছাড়াবে ২ বিলিয়ন ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি প্রথম বারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। দু’দেশের এই বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এজন্য দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত। মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটো মোবাইল ও পোশাকখাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নত করতে চায় তার দেশ।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এফবিসিসিআইর প্রধান লক্ষ্য। এখাতের উন্নয়নে সরকারকে ১২ বছরব্যাপী পরিকল্পনা জমা দিতে কাজ করছে এফবিসিসিআই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্ভাবনা বিষয়ে সভাপতি বলেন, এলডিসি পরবর্তী সময়ে পোশাক শিল্পে সুতা ও তুলার বড় যোগানদাতা হতে পারে ভারত। বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে। তাই বাংলাদেশে অন্যান্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হবার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন মোঃ জসিম উদ্দিন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন ভারতীয় বন্দরের সুযোগ সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের রাষ্ট্রদূত জানান, পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগিরই আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে। অন্যান্য স্থলবন্দরে আরো বেশি পণ্য আমদানি-রফতানির সুযোগ বাড়লে ভারতীয় অংশে উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়ার আশ্বাস দেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, তার সরকার দুইদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরো সহজ করতে আগ্রহী। এজন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও দুইদেশের মধ্যে সিইও’স ফোরাম চালুর আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ফোরাম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সমস্যা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাতে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি মোঃ হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু, বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, মো. শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, ড. যশোধা জীবন দেব নাথ, প্রীতি চক্রবর্তী ও  মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

;

‘চা’ এর ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিটিআরআই



বিভোর বিশ্বাস, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি: বিভোর বিশ্বাস

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি: বিভোর বিশ্বাস

  • Font increase
  • Font Decrease

চুমুকেই যেখানে জাদু- এর নামই ‘চা’। এক কাপ চায়ে আসে সতেজতা। প্রাণবন্তভাব। এভাবেই চা জনপ্রিয়তার শীর্ষে। দিন দিন বেড়েই চলেছে এর চাহিদা। চা এর শিকড় গাঁথা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। কেননা, এখানেই ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের একমাত্র চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল। এখানে রয়েছে অসংখ্য চা বাগানের টিলাময় সবুজ শ্যামল পাহাড়ি জনপদ। এখানকার চা শিল্পের গুরুত্ব ও পরিবেশগত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে শ্রীমঙ্গলেই ১৯৫৭ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ বা ‘বিটিআরআই’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের মালনিছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। চা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর অবাঙালিরাই চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪ জুন ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসাবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থেকে বাঙালি জাতিকে সম্মানিত করেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের চা শিল্পের হাল ধরার পর থেকে মহান স্বাধীনতার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় সময়ে দেশের চা শিল্পের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন - যার ফলে দেশের চা শিল্প আজ বিকশিত হয়েছে।


তিনি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টি রিসার্চ স্টেশনের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করে উচ্চ ফলনশীল জাতের (ক্লোন) চা গাছ উদ্ভাবনের নির্দেশনা প্রদান করেন। চায়ের উচ্চফলন নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি এবং শ্রীমঙ্গলস্থ ভাড়াউড়া চা বাগানে উচ্চফলনশীল জাতের চারা রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের চা বাগানসমূহ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। মহান স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময়ে তিনি ধ্বংস প্রাপ্ত চা বাগানসমূহ পুনঃগঠন ও পুনর্বাসনের জন্য “বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটি (BTIMC)” গঠন করে যুদ্ধোত্তর মালিকানাবিহীন/পরিত্যাক্ত চা বাগান পুনর্বাসন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়াও যুদ্ধে বিদ্ধস্ত পরিত্যক্ত বাগান মালিকদের নিকট পুনরায় হস্তান্তর করেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত চা কারখানাগুলো পুনর্বাসনের জন্য চা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করেন। চা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর সরকার চা উৎপাদনকারীদের নগদ ভর্তুকি প্রদান করার পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। তিনি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ টি রিসার্চ স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে উন্নীত করেন। বর্তমানে তা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) নামে পরিচিত। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভাবিত নতুন নতুন টেকনোলজি এবং উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।


বিটিআরআই এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষনার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীলতা ও গুনগত মান বৃদ্ধি, চা শিল্পের উন্নয়ন ও উৎকর্ষে বিজ্ঞান ভিত্তিক পরামর্শ ও সহায়তা দান এবং গবেণালব্ধ প্রযুক্তি চা শিল্পে বিস্তার করাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এ ইনষ্টিটিউট ১২টি জাতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবেও পরিগনিত। এ ইনষ্টিটিউট এ যাবৎ উচ্চ ফলনশীল ও আকর্ষনীয় গুনগতমান সম্পন্ন ২৩টি ক্লোন ও ৫টি বীজজাত উদ্ভাবন করেছে।

 ‘ইনস্টিটিউটের পরিচালক কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রধান। বর্তমানে ৮টি গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চা শিল্পে বিস্তার ও বাস্তবায়নে চা শিল্পের অগ্রগতি ও উন্নয়নে প্রবহমান অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

প্রতি বছর বিভিন্ন ভ্যালীর চা বাগানসমূহের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকগণ নিয়ে আমরা চা উৎপাদনে প্রুনিং, পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং নার্সারী ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকি বলে জানান পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী।

;