সূচক কমে বাড়ল লেনদেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও (২৭ জানুয়ারি) সূচকের পতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। সেই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। মাঝে সামান্য পতন ঘটলেও বেলা সাড়ে ১২টা পযর্ন্ত বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু শেষ দিকে বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমতে শুরু করলে সূচকের পতন ঘটে। দিনশেষে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৭ হাজার ২৭ পয়েন্টে।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি কমেছে অপর দুই সূচকও। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৬০২পয়েন্টে এবং শরীয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪৯৯ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় মোট ৩৮১টি কোম্পানি। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪২টির, কমেছে ১৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

বাজারটিতে সূচক ও শেয়ারদর কমলেও বেড়েছে মোট লেনদেন। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। গতকাল লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে আজ লেনদেন বেড়েছে ১০৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর। কোম্পানিটির লেনদেন হয় ৬১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের লেনদেন হয় ৬১ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা কুইন সাউথের লেনদেন হয় ৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ১৪৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম। সিএসইতে আজ ৪৮ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাংলাদেশ সাহসী পরিকল্পনা নিয়েছে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি হতে ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভিশনারী ও সাহসী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ‘পঞ্চম এনার্জি ট্রানজিশন কাউন্সিলের মন্ত্রী পর্যায়ের সভা’য় বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বংলাদেশ সবুজ জ্বালানির ব্যাপক প্রসারের জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এনার্জি ট্রানজিশন কাউন্সিল ও ক্লাইমেট ফান্ড সহযোগিতা করলে এলক্ষ্যমাত্রাকে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় সবুজ জ্বালানির প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খসড়া এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণের নেট-শূন্য দৃশ্যকল্প পরিস্কার হবে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনায়ও বাংলাদেশ পরিস্কার জ্বালানির রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নবায়ণযোগ্য জ্বালানি হতে ৭৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এরমধ্যে  ৫৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌর হতে আসে । ২০২৫ সালের মধ্যে ২৮ টি নির্মাণাধীন সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে আরও প্রায় ১৪’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে ১২ শতাংশ জনগণকে ৬.০২ মিলিয়ন সোলার হোম সিষ্টেমের মাধ্যমে ক্লিন বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। ছাদে সোলার সিষ্টেমের মাধ্যমে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  নেট মিটারে সংযুক্ত রয়েছে। সৌর সেচ পাম্প ও দশমিক ৩ মিলিয়ন সোলার স্ট্রিট লাইট রয়েছে। অনশরে উইন্ড পাওয়ার প্রজেক্ট নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল চার্জিং নির্দেশিকা পরিবহণ খাতেকে ডি-কার্বনাইজ করতে কার্যকর অবদান রাখবে।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, জ্বালানি ও শিল্প কৌশল বিভাগের প্রতিমন্ত্রী গ্রেগ হ্যান্ডস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কপ-২৬ এর প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য অলোক শর্মা, নাইজেরিয়র বিদ্যুৎ মন্ত্রী গদি যেদি আগবা, মরক্কোর টেকসই উন্নয়ন মন্ত্রী বেনালী, লাওসের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপমন্ত্রী সুফানউভং, কেনিয়ার কেবিনেট সেক্রেটারী জুমা সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন। 

;

চা শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি চান চা শ্রমিকরা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানে স্থাপিত চা শ্রমিকের ‘মুল্লুক চলো’ ভাষ্কর্য

হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানে স্থাপিত চা শ্রমিকের ‘মুল্লুক চলো’ ভাষ্কর্য

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় শত বছর পূর্বে চা উৎপাদনের জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে চা শ্রমিকদের ধরে বেঁধে, লোভ-লালসা দেখিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু যখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তাদের এখানে আসা ঠিক হয়নি – তখন তাদের চেতনা জাগ্রত হয়। তারা সিদ্ধান্ত নেই – ‌‍‘মুল্লুকে চলো’ অর্থাৎ নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাবে।কিন্তু বৃটিশ সরকার তাদের যেতে দেয়নি। তাদের উপর চালিয়েছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ।

১৯২১ সালের ২০ মে। এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজ জন্মস্থানে ফেরার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে চা শ্রমিকদের হত্যা করা হয়। এরপর থেকে এই দিনটি ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন চা-শ্রমিকরা। ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস।

গত শুক্রবার (২০ মে) এই দিবসের স্বীকৃতি পেতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-ধলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলার জেলা পরিষদ হলরুমে ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরি বলেন, বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও একশ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চা শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এ সময় দেশের জন্য অনেক চা শ্রমিক জীবনও দিয়েছে। কিন্তু চা শ্রমিকরা এখনও অবহেলিত প্রতিষ্ঠা পায়নি শতভাগ ভূমির অধিকারও।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের আহ্বান জানালেও এ ব্যাপারে সরকারি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এ দেশে এনে স্বল্প মজুরির মাধ্যমে হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের কাজ করানো হচ্ছে। তাই শ্রমিকরা নিজ মুল্লুকে ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখনও চা শ্রমিকরা বঞ্চিত। আমরা চা শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি চাই।

একক ভাস্কর্যের প্রতিবাদী রূপ

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা জানান, চা-শ্রমিক দিবসটি শত বছরেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় আমরা হতাশ। এছাড়াও মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আবাসন সুবিধাসহ অবহেলিত চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আজও আসেনি। বারবার দাবি করেও শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে ভোটের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই।

চা শ্রমিকের ইতিহাস থেকে জানা যায়, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িশা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ এমন প্রলোভনে শ্রমিকরা বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি।

বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই। তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পন্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পন্ডিত দেওসরণ ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন।

১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছান। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশ সেনারা গুলি চালিয়ে শতশত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।

;

বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!

বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!

  • Font increase
  • Font Decrease

কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের অফারের অপেক্ষা না করে এখন বছরজুড়েই দেশের সাড়ে ৫’শ ‘রিওয়ার্ড মার্চেন্ট’ পয়েন্টে বিকাশ পেমেন্টে মিলছে দারুণ সব ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনে গ্রাহকরা বিকাশ পেমেন্টে পণ্য ও সেবা ক্রয়ে প্রতিবার পেতে পারেন ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট, ২২% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ বা ‘বাই ওয়ান গেট টু’ অফার। শিগগিরই আরও বেশ কিছু মার্চেন্ট যুক্ত হবে এই ক্যাম্পেইনে।

হেলথকেয়ার, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, অনলাইন, ইলেক্ট্রনিকস, ফুটওয়্যার, ক্লোদিং ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে গ্রাহকরা বিকাশে পেমেন্ট করে অফারগুলো উপভোগ করতে পারবেন। সাড়ে ৫’শ ‘রিওয়ার্ড মার্চেন্ট’-এর তালিকায় রয়েছে ওয়ালটন, ফ্রিল্যান্ড, স্কেচার্স, ইউএস পোলো, কে জেড ইন্টারন্যাশনাল, স্কয়ার হসপিটাল, আমারল্যাব, লা গ্রেসিয়া, চেরি বিন কফি, গ্রেস টুয়েন্টি ওয়ান স্মার্ট হোটেল, বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মেপল লিফ, দি ওয়ে ঢাকা, হোয়াইট প্যালেস হোটেল, হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল, বিসিডিএম (সাভার ও রাজেন্দ্রপুর), ট্রাভেল ডেসটিনেশন বিডি, জাওয়াদ হাবিব হেয়ার অ্যান্ড বিউটি, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

অফারগুলো নিতে গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# কিংবা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। মার্চেন্ট ভেদে অফারের আলাদা লিমিট প্রযোজ্য হবে। তাই গ্রাহকরা অফারগুলোর বিস্তারিত ও শর্তাবলী জেনে নেওয়ার পাশাপাশি শপগুলোর তালিকা জানতে ভিজিট করতে পারেন এই ওয়েবসাইটে - https://www.bkash.com/bn/reward_merchant।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করার জন্য গ্রাহককে হোমস্ক্রিনের ‘মেক পেমেন্ট’ আইকনে ট্যাপ করে মার্চেন্ট নম্বর টাইপ করতে হবে কিংবা মার্চেন্ট পয়েন্টে সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করেও খুব সহজেই পেমেন্ট করা যাবে। একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে বিকাশ নম্বর, ওটিপি ও বিকাশ পিন দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে। এছাড়া, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# ডায়াল করেও পেমেন্ট করার সুযোগ থাকছে গ্রাহকদের জন্য।

উল্লেখ্য, বিকাশ অ্যাপে সব অফার এক জায়গায় দেখতে পারেন গ্রাহকরা। এজন্য অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘অফারস’ অংশে প্রবেশ করতে হবে। গ্রাহক চাইলে ‘ফিল্টার’ অপশনে ট্যাপ করে তার পছন্দমতো যে ক্যাটাগরির অফারগুলো দেখতে চান তা নির্বাচন করতে পারেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচিত অফারের নিচে থাকা ‘ভিজিট আউটলেট’ বাটনে ক্লিক করে বিকাশ অ্যাপ থেকেই সেই আউটলেটে পৌঁছানোর লোকেশনও দেখে নিতে পারেন গ্রাহক।

;

অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!

অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!

  • Font increase
  • Font Decrease

আতাউর রহমান প্রধান। ৩৭ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এরপরও প্রভাবশালীদের ধরে ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ পদে রয়েছেন আতাউর রহমান।

আতাউর রহমান প্রধান তিন বছর সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতি আর পরিচালন ব্যর্থতায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। আগামী ১৬ আগস্ট বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মালিকানার একমাত্র ব্যাংকটি বন্ধ হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও একজন ব্যক্তিকে কিভাবে পদন্নোতি দিয়ে শীর্ষ পদে রাখা হয় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তারা বলছেন, দেশের আর্থিক খাতের প্রভাবশালী একটি অংশের আশীর্বাদে আতাউর রহমান প্রধান তিরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রের ক্ষতি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

আতাউর রহমান ও সোনালী ব্যাংক ইউকে নিয়ে সোমবার  একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক বণিক বার্তা। প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকটির ২০১২ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন আতাউর রহমান প্রধান। ওই সময় একের পর এক দুর্ঘটনা ও আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয় ব্যাংকটিতে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২ জুন ব্যাংকটির ওল্ডহ্যাম শাখা থেকে সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাখাটি বন্ধ করে দেয় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ২০১৭ সাল থেকে চালু আছে শুধু লন্ডন ও বার্মিংহাম শাখা। ২০১০ সালের ২০ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই সময়ে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডকে ৩২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকারও বেশি। বন্ধ করে দেয় নতুন হিসাব খোলা। শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বে অবহেলা, সুপারভাইজরি ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে ৭৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড জরিমানার মুখে পড়েন আতাউর রহমান প্রধানও।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক ইউকের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান স্টিভেন স্মিথকে এ ধরনের চাকরিতে নিষিদ্ধ ও ১৮ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়। জরিমানার ৩২ লাখ পাউন্ড অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগার থেকেই পরিশোধ করতে হয়।

যুক্তরাজ্যের এফসিএ কর্তৃক জরিমানার মুখে পড়ার বিষয়টি প্রায় ২ বছর পর ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। তবে এত ঘটলেও ২০১৯ সালে আতাউর রহমান প্রধান পদোন্নতি পেয়ে রূপালী ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের এমডি হয়েছেন। বিনিময়ে তিনি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রায়ত্ত এ দুটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক ব্যাংক কর্মকর্তা শাস্তিপ্রাপ্ত হলে তিনি শীর্ষ নির্বাহী হতে পারবেন না। এই বিধি সত্ত্বেও আতাউর রহমান প্রধান কীভাবে রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী হলেন সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আতাউর রহমান প্রধান আপিল করেছেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাকে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আতাউর রহমান প্রধান দুটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর পদে মেয়াদ শেষ করতে চলেছেন।

আতাউর রহমান প্রধানকে শাস্তি না দিয়ে পদোন্নতি দেওয়াকে দুর্নীতিবাজ পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)।  সংস্থাটি মনে করে, দুর্নীতিবাজকে শাস্তি না দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া দুর্নীতি উৎসাহ দেওয়ার সমান। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কর্তৃক সোনালী ব্যাংক ইউকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বিষয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের জোগান দেয়া মূলধনে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মালিকানা রয়েছে ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। ২০০১ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দফায় দেশ থেকে মূলধন জোগান দেয়ায় এখন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৬ কোটি ডলার ঋণও দেয়া হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা হচ্ছে বিদেশের মাটিতে একমাত্র বাংলাদেশি মালিকানার ব্যাংকটি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশন অথরিটি (পিআরএ) এবং ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ) সিদ্ধান্তে বন্ধ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক ইউকে। গত ২৭ জানুয়ারি বিষয়টি সোনালী ব্যাংক ইউকে-কে জানিয়েও দেয়া হয়েছে।  

তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ব্যাংকটিকে বাঁচাতে তত্পর হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এজন্য সোনালী ব্যাংক ইউকের পরিবর্তে যুক্তরাজ্যে দুটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। মোট চারটি প্রস্তাব দিয়ে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠাচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ সব বিষয়ে আতাউর রহমান প্রধানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানিয়েছেন। কারণ তিনি তার বিরুদ্ধে এফসিএর জরিমানা করার বিষয়টি নিয়ে আপিল করেছেন।

;