খরচ সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রাখছে বিপিডিবি!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকাঃ যেখানে গ্যাস সরবরাহ করলে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো, সেই কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখা হচ্ছে। তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তও এক্ষেত্রে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে যেহেতু কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তাই এগুলো প্রথম চালু করা হবে। এরপর যদি ঘাটতি থাকে তাহলে ধাপে ধাপে ব্যায়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে।

গত ৯ মে তারিখের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২৫টি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৮টি পুরোপুরি চালানো হয়েছে। আর ১০টিতে আংশিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে গ্যাস ঘাটতির কারণে। অপর ৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনটি যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা নিয়মিত মেরামতের কারণে হয় আংশিক উৎপাদন করেছে নয়তো পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ২৫টি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ৭ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। ওই দিন ৫৭৮ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করে মাত্র ৪ হাজার ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

সবগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে মোট গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে ১ হাজার ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বরাবরেই ১১শ’ এমএমসিএফডির বেশি গ্যাস সরবরাহ পেয়ে এসেছে। ২০২১ সালে জুন মাসে গড়ে ১ হাজার ১৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবারের তথ্য পাওয়া গেছে।

৯ মে তারিখে গ্যাস ঘাটতির কারণে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (পিক আওয়ার) উৎপাদন করেছে মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট। একই ক্ষমতাসম্পন্ন আশুগঞ্জের আরেকটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩০২ মেগাওয়াট, ভেড়ারামা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন করা হয়েছে ১৮০ মেগাওয়াট। কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র না চালিয়ে সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহকে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে গ্যাস দিয়ে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি পাওয়া সম্ভব। এসব হিসেব জানার পরও কেনো বিপিডিবি সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করছে তার কারণ খুজে পাচ্ছেন না কেউই।

বিপিডিবির জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, কম্বাইন্ড সাইকেল বসিয়ে রেখে সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর কোন সুযোগ নেই। মেরিট অর্ডার অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করা হয়। যেখানে উৎপাদন খরচ কম সেখান থেকে শুরু করা হয়। ধাপে ধাপে উপরদিকে যাওয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কারণে কিছু তারতম্য ঘটতে পারে। উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে দূর থেকে বিদ্যুৎ না নিয়ে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেশি চালাতে হয়।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্ট অধ্যাপক ড. শামসুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, তারা যেসব কথা বলে, এসব কথাবার্তা বাস্তবতার সঙ্গে প্রমাণ পাওয়া যায় না। যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপরেশনের বাইরে রয়েছে, সেগুলো কারণসহ উল্লেখ থাকতে হবে, তারা সেটি করে না। আমাদের যেহেতু গ্যাস কমে আসছে, তাই আনুসাঙ্গিক খরচ বেশি হলেও যেখানে গ্যাস কম লাগবে সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো উচিত। বিডিপিবি তা করে না, তারা সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কম চালায় বেশি ব্যায় দেখাতে, আর আইপিপি (বেসরকারি) বেশি চালায় খরচ কম দেখাতে। সরকারি তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১০ শতাংশ প্লান্ট ফ্যাক্টরে চালালে ইউনিট প্রতি খরচ পড়ে ২০ টাকা, আর আইপিপি ১৩ শতাংশ প্লান্ট ফ্যান্টরে চালালে খরচ পড়ে ৩১ টাকার মতো।

ড. শামসুল আলম বলেন, বিবিয়ানা দক্ষিণ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দশমিক ১৯ ঘনমিটার গ্যাসে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ভোলা আইপিপিসহ কোথাও দশমিক ২৪ ঘনমিটার ব্যবহার হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কম্পাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাই কম্পাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আগে চালানো হয়।

৯ মে কেনো মাত্র অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ করা হলো, এদিনতো অনেক বেশি সরবরাহ ছিল। এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, হয়তো কোনো টেকনিক্যাল কারণ রয়েছে। অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে গ্যাস নেওয়া কঠিন, আবার গ্রিডের টেকনিক্যাল কারণের উপরও নির্ভরশীল কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র আগে চালানো হবে। হয়তো টেকনিক্যাল কোন কারণ থাকতে পারে। বিপিডিবির কাছে নিশ্চয় ব্যাখ্যা রয়েছে।

কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুটি সাইকেল থাকে, প্রথমত গ্যাস পুড়িয়ে টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি টারবাইন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে উত্তপ্ত পানির বাষ্প দিয়ে আরেকটি টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টারবাইন থেকে নির্গত তাপ কোনো কাজে আসে না। অর্থাৎ কম্বাইন্ড সাইকেলে একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে দেড়গুণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

বিপিডিবির পরিকল্পনায় এসব ঘাটতি নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। বলা হচ্ছে বিপিডিপির পরিকল্পায় ভুলের কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। আগামী ১৮ মে আবার বিদ্যুৎ পাইকারি দাম বৃদ্ধি গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

মাস্টারকার্ড এক অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইন এর সমাপ্তি টেনেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ছিল পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট, ডেবিট এবং প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় অফার দিয়ে কার্ডহোল্ডারদের আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ করে দেওয়া এবং দেশে ও দেশের বাইরে রিটেইল লেনদেন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

ক্যাম্পেইনে ‘টপ প্রাইজ’ হিসেবে সঙ্গীসহ মালদ্বীপে বিলাসবহুল ভ্রমণের পুরস্কার জিতেছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া, অন্য শীর্ষ ৫০ জন অংশগ্রহণকারী পাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেট, ডাইনিং অ্যান্ড লাইফস্টাইল ভাউচার সহ আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন গত ২০ মার্চ থেকে ৮ মে, যে সকল মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা অন্তত ১ হাজার টাকা কিংবা ২৫ মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের ৪টি লেনদেন সম্পন্ন করেছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইনের অংশ হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এসব কার্ডহোল্ডাররা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার  ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের রিটেইল ই-কমার্স ট্রানজেকশনে ২ পয়েন্ট করে পেয়েছেন।

এছাড়া, তাদের ৩ পয়েন্ট করে দেয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি ই-কমার্স রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশনে। ক্যাম্পেইন শেষে এবার সর্বোমোট পয়েন্টের হিসাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইন ২০২২’ এর সব বিজয়ীকে আমি অভিনন্দিত করছি। এই ক্যাম্পেইন থেকে পাওয়া অভাবনীয় সাড়া মূল্যবান কার্ডহোল্ডারদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আরো অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”

এই ক্যাম্পেইনে মাস্টারকার্ডের যেসব পার্টনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত ছিল, সেগুলো হলো:- এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।

;

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

সয়াবিন তেলের দাম ৬ টাকা কমিয়ে লিটার প্রতি ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২৭ তারিখ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

রোববার (২৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা এবং ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে আগামী দুই একদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসতে পারে। আশা করছি তেলের দাম কমবে। এখন সেই হিসেব নিকেশ করা হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন তেল রিফাইনারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক করে আমাদেরকে জানালে তারপর আমরা জানাতে পারবো কত টাকা কমবে। তবে বলা যায় তেলের দাম কমবে।

সর্বশেষ ৯ জুন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। প্রতি লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৫ লিটার বোতলর দাম ৯৯৭ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

;

বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলে বিকাশের ১০টি ফ্রি হেলথ ক্যাম্প



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ সদর, গোয়াইনঘাট, ছাতক, দিরাই, নবীগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বানিয়াচং-এর ১০টি এলাকায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিকাশ। ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন পানিবাহিত ও ঠান্ডা-জ্বর জনিত রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সহ ওষুধ সেবা পাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও মোবাইল চার্জের সুবিধা এবং অস্থায়ী বিকাশ এজেন্ট সেবাও পাওয়া যাচ্ছে সেখানে।

সিলেটের ইউসেপ গাশিতলা টেকনিক্যাল স্কুল, হাজি আব্দুস সাত্তার বহুমুখী বিদ্যালয়, গোয়াইনঘাট সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বনাথ উপজেলা মাঠ; সুনামগঞ্জের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার, ছাতক সরকারী বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই গভ. গার্লস হাই স্কুল, গোবিন্দগঞ্জ সরকারী কলেজ; এবং হবিগঞ্জের মুরাদপুর গভ. প্রাইমারি স্কুল ও শায়লা গভ. প্রাইমারি স্কুলে স্থাপিত ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোর প্রতিটিতে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার ও তাঁর সহকারীরা দুর্গতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মোবাইল ফোন চার্জের সুবিধাও রাখা হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি, পানিবন্দী মানুষের জরুরী লেনদেকে সচল রাখতে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোতে অস্থায়ী এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিকাশ সেবা নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যা দুর্গত অঞ্চলের অসংখ্য গ্রাহক এই সেবা গ্রহণ করেছেন।

বরাবরের মতোই বিকাশ তার সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকায় প্রত্যয়ে কাজ করে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় এই ফ্রি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

;

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা বাংলাদেশের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত ১২-১৬ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও এর মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে (এমসি ১২) বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য জোরালো দাবী তুলে ধরে।

বাণিজ্যসচিব আজ (২৬ জুন) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন।

 তিনি বলেন, এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশনের পর ১২ বছর বাজার সুবিধা পাবার সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও তা পরে ৬ থেকে ৯ বছরে বৃদ্ধি দাবি জোরালো হয়েছে। সম্মেলনে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আওতায় প্রাপ্ত সুবিধা সমুহ আরও কিছু সময় পর্যন্ত বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে মর্মে সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে পরর্তীতে এ বিষয়ে আরও আলোচনার পথ সুগম হলো। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এমসি ১৩ সম্মেলনে ভালো কিছু ফল পাওয়া যাবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের দেয়া প্রস্তাবগুলো জোরালো ভাবে সমর্থন করা হয়।

বাণিজ্য সচিব বলেন, এমসি ১২ সম্মেলনে মৎস্য খাতে ভর্তুকির বিষয়ে একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। এত অবৈধ ফিসিং ভেসেলে কোন ভর্তুকি প্রদান করা যাবে না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ করা যাবে না। এলডিসি ভুক্ত কোন দেশ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সে দেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এছাড়া, কোভিড-১৯ এবং ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে ট্রিপস চুক্তি মোতাবেক বাণিজ্য সহজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে, খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স চলাকালে বাণিজ্যমন্ত্রী সিংগাপুর, নেপাল, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং ইউরোপিয়ন পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে পৃথক ভাবে দ্বিপাক্ষিক সভা করেন। এতে দেশগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও বাংলাদেশের জন্য বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, নেপালের সাথে পিটিএ স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সিংগাপুর বাংলাদেশের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) এ আউটকাম ডকুমেন্টসহ ৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জেনারেল কাউন্সিলের ৩টি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

;