গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের জন্য আত্মঘাতি হতে পারে



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকাঃ এই মুহূর্তে গ্যাস কিংবা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের জন্য চরম আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হয়ে দেখা দিতে পারে। বরং বিকল্প উপায়ে বিদ্যমান দর বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ক্যাব ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাব বলেছে, গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে বরং ইউনিট প্রতি ১৬ পয়সা কমানো সম্ভব আমরা অংক করে দেখিয়ে দিয়েছি। অস্বাভাবিক সিস্টেম লসের নামে পুকুরচুরি কমানো গেলেও দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সামগ্রিকভাবে ৮ শতাংশের উপর সিস্টেম লস দেখানো হচ্ছে, বিশ্বের কোথাও ২ শতাংশের উপর সিস্টেম লস নেই। দৈনিক কমবেশি ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাইপলাইনে দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অন্যদিকে স্পর্ট মার্কেট থেকে গড়ে মাত্র ৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে যে গ্যাস টুকুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ গ্যাস ৫-৬ ডলারে পাওয়া যেতো এখন সেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ৩১ ডলার দিয়ে। চুরি যদি ৩ শতাংশ কমানো যায় তাহলেও স্পর্ট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে হয় না। আর স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করতে না হলে দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ আসে না।

সিস্টেম লস নিয়ে ক্যাবের আপত্তির সঙ্গে এক সুরেই গেয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ২১ মার্চ গ্যাসের দাম ‍বৃদ্ধির গণশুনানিতে চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, গ্যাসের আদর্শ সিস্টেমলস ২ শতাংশের নিচে। বিশ্বের কোথাও এত বেশি সিস্টেমলস নেই। আমাদেরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এভাবে চলতে পারে না।

সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে। সবচেয়ে বৃহৎ বিতরণ কোম্পানিটির নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকার ৩০ শতাংশের উপরে সিস্টেম লস ধরা পড়েছে। যদিও তারা কাগজে কলমে সামগ্রিক সিস্টেম লস ১২ শতাংশের মতো উল্লেখ করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেছেন, গ্যাস সেক্টর সোজা পথে না গিয়ে ভুলপথে গিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। যথাযথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হলে আজকে এই সংকট তৈরি হতো না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অনুসন্ধান এবং পুরনো পরিত্যাক্ত কূপগুলো ওয়ার্কওভার করা যায়। স্লামবার্জারের একটি সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে সামান্য কিছু কাজ ও কিছু কূপের ওয়ার্কওভার করে ৩ থেকে ৪শ’ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। সেদিকে যাওয়া উচিত।

আশার কথা হচ্ছে, পেট্রোবাংলা সম্প্রতি এই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৈলাশটিলা কূপ ৭ ওয়ার্কওভার করে ১৫ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়েছে। সিলেট ৮ নম্বর কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে ৫ মিলিয়ন ও পরিত্যক্ত সালদা ২ নম্বর কূপে নতুন স্তর আবিষ্কার করে বাপেক্স।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে পেট্রোবাংলা বারবার বলেছে তার ভর্তুকির প্রতিশ্রুত ৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা পায় নি। মার্চ ২০২২ পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি। আর এই ৩ হাজার কোটি ভর্তুকি ধরেই আগামী বছরের অংক কষা হয়েছে। এতে বেজায় চটেছেন ক্যাব। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এমন আপদকালীন সময়ে ভর্তুকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উল্টো অর্ধেকে নামিয়ে আনা হলো, কে এই সিদ্ধান্ত দিলো। সরকার কি বলেছে আর ভর্তুকি দেবে না। গণশুনানিতে ক্যাবের জেরার মুখে টিইসি (কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি) স্বীকার করেন, সরকার যেটুকু দিয়েছে সেটাই ধরে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর দেবে কি, দেবে না সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অবশ্য গণশুনানি পরবর্তী বিইআরসি জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে সরকার ভর্তুকি কত দিবে। সেই চিঠির কোন জবাব এখন পর্য ন্ত মেলেনি বলে জানিয়েছে বিইআরসি সূত্র।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থবিভাগ ও এনবিআর’র প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছেন, এনবিআর যেভাবে চর্তুদিক দিয়ে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে কিছুটা ছাড় দিলে দাম বাড়াতে হয় না। আগে যে তেলের দাম টন প্রতি ছিল ২৫০ ডলার, তখন ৩৪ শতাংশ ডিউটি আদায় করতো। সেই তেলের দাম ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এখনও ৩৪ শতাংশ ডিউটি অর্থাৎ ২৩৮ ডলার ডিউটি দিতে হচ্ছে। যা পূর্বের তেলের দামের সমান। এক ইউনিট এলএনজিতে ১৬ টাকার মতো ডিউটি দিতে হচ্ছে। এনবিআর’রতো লক্ষ্যমাত্রা থাকে, এখন যেহেতু কমহারে আদায় করলেও তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়, তাই হার কমিয়ে আনা উচিত। কিন্তু তারা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার বাহাবা নিতে গিয়ে জনগণকে চাপে ফেলছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, ভ্যাট-ট্যাক্সের বিষয়টি নিয়ে এনবিআর’র সঙ্গে বৈঠক করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি বিষয়টি সমাধান হবে। আর সমাধান হলে কিছুটা চাপ কমবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির বিষয়টি জনগণকে বুঝতে হবে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়ে টাকা থাকলেও পণ্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। দাম না বাড়িয়ে কিভাবে সামাল দেওয়া যায় তার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

করোনার ধাক্কা এখনও অনেকে সামলে উঠতে পারেন নি। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। কমবেশি সবপেশায় কিছু কিছু লোকজন চাকরি হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা যাচ্ছে না। আজকে ভোজ্যতেল তো পরশু পেঁয়াজ, তার পরদিন রসুন কিংবা আদা এভাবেই বাজারকে অস্থির করে রেখেছে ভোগ্যপণ্য। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস কিংবা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হলে তার প্রতিঘাত অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে। গ্যাসের দাম সামান্য পরিমাণে বাড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই সুযোগ নিতে পারেন। যা সরকারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে। অতীতে দেখা গেছে তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়লো আর বাস মালিকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় শুরু করে দিলেন। তারপর অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটে গেলো। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হলে তেমনটি হবে না তার গ্যারান্টি নেই। আর সেটি হলে জনগণের ক্ষোভ গিয়ে পড়তে পারে সরকারের উপর।

পেট্রোবাংলা দাবি করেছে মিশ্রিত গ্যাসের পাইকারি ব্যায় (২০২২ সালে প্রতি ঘনমিটার) ১৫.৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এ কারণে তারা ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির আবেদন করে। তবে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ণ কমিটি ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পক্ষে মতামত দেয় গণশুনানিতে।

সবশেষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশে (২০১৯ সালে) পাইকারি দর প্রতি ঘনমিটার ১২.৬০ টাকা করা হয়। ভর্তুকি দিয়ে ৯.৭০ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয় বিইআরসি। মার্চে টানা ৪দিনব্যাপী গ্যাসের দামবৃদ্ধির উপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোন দিন ঘোষণা আসতে পারে।

অন্যদিকে বুধবার (১৮ মে) বিদ্যুতের পাইকারি মুল্য বৃদ্ধির উপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পাইকারি পরেই স্বাভাবিকভাবে খুচরা দামবৃদ্ধির প্রসঙ্গ সামনে চলে আসবে।

শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহার আগের শুক্র ও শনিবার পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা থাকবে।

রোববার (০৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রফতানি বিল বিক্রয়ের এবং ওই শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ৮ ও ৯ জুলাই পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। ওই দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু থাকবে।

তবে, ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুরূপে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত কোনো ব্যাংক শাখার ওপর চেক দেওয়া যাবে না।

আগামী ১০ জুলাই সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদ উপলক্ষে আগামী ৯, ১০ ও ১১ জুলাই সরকারি সাধারণ ছুটি রয়েছে।

 

;

খেলাপির ২ শতাংশ পরিশোধেই নতুন ঋণ পাবে চামড়া ব্যবসায়ীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
খেলাপির ২ শতাংশ পরিশোধেই নতুন ঋণ পাবে চামড়া ব্যবসায়ীরা

খেলাপির ২ শতাংশ পরিশোধেই নতুন ঋণ পাবে চামড়া ব্যবসায়ীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন তারা। পাশাপাশি নতুন ঋণের জন্য আবেদনও করা যাবে। বিশেষ এই সুবিধা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, নতুনভাবে কোভিডের সংক্রমণ বৃদ্ধি, বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি এলাকায় সংঘটিত আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের (কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয়/প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যানারি শিল্পসহ চামড়া খাতের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান/শিল্প) আগামী কোরবানির মৌসুমে প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিচের নীতিমালা অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

সেগুলো হলো, কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশে ইতোপূর্বে বিতরণ করা ঋণ বা ঋণের অংশবিশেষ খেলাপি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতার গোডাউনে স্টক অথবা সহায়ক জামানত থাকা সাপেক্ষে উক্ত খেলাপি ঋণের বিপরীতে ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট গ্রহণ সাপেক্ষে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল করা যাবে।

পুনঃতফসিলিকরণ পরবর্তীতে ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণ করে তফসিলি ব্যাংকসমূহ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে ২০২২ সালে কোরবানি দেওয়া পশুর কাঁচা চামড়া কেনার উদ্দেশ্যে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

২০২২ সালে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া কেনার উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট আদায় করা যাবে না। কোরবানি দেওয়া পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশে বরাদ্দ করা ঋণের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণসহ তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে জড়িতদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকসমূহ এই নীতিমালা অনুসরণ করে বর্ণিত উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই সুবিধা ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবত থাকবে।

;

লন্ডনের ‘রোসপা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ওয়ালটন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
লন্ডনের ‘রোসপা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ওয়ালটন

লন্ডনের ‘রোসপা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ওয়ালটন

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন অর্জন করেছে লন্ডনভিত্তিক ‘রোসপা হেলথ অ্যান্ড সেফটি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ (RoSPA Health and Safety Gold Awards)|। উন্নত কর্ম-পরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করায় লন্ডনের দ্য রয়েল সোসাইটি ফর প্রিভেনশন অফ এক্সিডেন্ট বা রোসপা শীর্ষক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। বাংলাদেশী উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে ওয়ালটনই প্রথম এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করলো।

গত ২৩ জুন লন্ডনের চেশিয়ারে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনকে ‘রোসপা হেলথ অ্যান্ড সেফটি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। ওয়ালটনের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন এনভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেফটি (ইএইচএস) বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ লিটন মোল্ল্যা। গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ এই তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারটি প্রদান করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন গোল্ড ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার পেলো।

উল্লেখ্য, ‘রোসপা হেলথ অ্যান্ড সেফটি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ হলো বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বীকৃত স্কিমগুলির মধ্যে একটি। এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৫০টি দেশ থেকে ২ হাজার কোম্পানি নাম এন্ট্রি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ৭ মিলিয়নেরও বেশি এমপ্লয়ি।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এই পদক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে শিল্পখাতে উন্নত কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ওয়ালটন ইএইচএস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী লিটন মোল্ল্যা বলেন, ওয়ালটনের উন্নত কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এক বিশাল অর্জন। এই পুরস্কার দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে নতুন এক মাত্রা যোগ করলো। এই সম্মাননা ওয়ালটনের ‘ভিশন-২০৩০’ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখবে। এই পুরষ্কার অর্জনের মাধ্যমে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার বেঞ্চমার্ক করা সহজ হবে।

ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আঞ্জুম বলেন, উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি। যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) -এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এসডিজির ৩, ৮ ও ৯ নাম্বার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং শোভন কর্মসুযোগ সৃষ্টি এবং স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অভিঘাতসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পয়ানের প্রবর্ধন এবং উদ্ভাবনার প্রসারণকল্পে আমরা কাজ করছি। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রোসপা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ওয়ালটন।

তিনি বলেন, মর্যাদাকর এই পুরস্কার ‘বেটার বাংলাদেশ টুমরো’ শীর্ষক উদ্যেগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যামাত্রা অর্জনে ওয়ালটন পরিবারকে আরো অনুপ্রাণিত করবে।

;

চাল আমদানির অনুমতি পেল ৯৫ কোম্পানি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চাল আমদানির অনুমতি পেল ৯৫ কোম্পানি

চাল আমদানির অনুমতি পেল ৯৫ কোম্পানি

  • Font increase
  • Font Decrease

চাল আমদানির জন্য ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪ লাখ ৯ হাজার টন চাল ১১ আগস্টের মধ্যে চাল আমদানি করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব মুজিবর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অনুমতি দেওয়া হয়।

চিঠির শর্তানুযায়ী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে চালের এলসি খুলতে হবে এবং ১১ আগস্টের মধ্যে আমদানি করা চাল দেশে বাজারজাত শেষ করতে হবে। আমদানি করা চালের মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল রয়েছে।

সময়মতো এলসি খুলতে বা আমদানি করতে ব্যর্থ হলে সেসব ব্যবসায়ীর চাল আমদানির অনুমতি বাতিল হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা খাদ্য অফিসে জানাতে হবে যে তারা কী পরিমাণ চাল আমদানি করবে, কী পরিমাণ বিক্রি করবে ও কী পরিমাণ মজুত করবে। বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে চালের দাম কমাতে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২২ জুন থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আমদানি করা চালের ওপর শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করেছে। তবে প্রতিটি চালান আমদানির সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টি মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান ২৫ হাজার টন করে, তিনটি ২০ হাজার টন করে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।

;