গ্যাস চুরি: মাসে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মাসে প্রায় ৬ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে যার দাম (আমদানি মূল্যে) সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা প্রায়। চুরির পুরোটাই সিস্টেম লসের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চুরি পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ কমানো গেলেও স্পর্ট মার্কেট এলএনজি আমদানি করতে হয় না। আর স্পর্ট মার্কেট থেকে গ্যাস আমদানি করতে না হলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। মুনাফায় থাকা গ্যাসের ৬টি বিতরণ কোম্পানি দাম না বৃদ্ধি করে বিদ্যমান বিতরণ চার্জ বাতিল (ঘনমিটার ২৫ পয়সা) করলেও চলে ( সূত্র বিইআরসি করিগরি কমিটি)।

বাংলাদেশ বর্তমানে দৈনিক কমবেশি ৩ হাজার  মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত জুলাই-ডিসেম্বর সিস্টেম লস হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। দৈনিক সিস্টেম লসের পরিমাণ ২৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কারিগরি ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় গ্যাসের আদর্শ সিস্টেম লস ধরা হয় সর্বোচ্চ ২.২৫ শতাংশ। বিতরণে ২ শতাংশ সঞ্চালনে দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল গণশুনানিতে বলেছেন, গ্যাসের আদর্শ সিস্টেম লস হচ্ছে ২ শতাংশের নিচে। বিশ্বের কোথাও ২ শতাংশের উপরে সিস্টেম লস নেই। সাড়ে ৮ শতাংশ সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য নয়। এই মাত্রা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

অর্থাৎ প্রায় ৬ শতাংশ চুরিকে সিস্টেম লসের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দৈনিক চুরি যাওয়া গ্যাসের পরিমাণ হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে চড়াদামে স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ মাত্র ৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট। স্পর্ট মার্কেটের এলএনজির মূল্যের (ঘনমিটার ৫০ টাকা আমদানি শুল্কসহ) সঙ্গে তুলনা করলে দৈনিক চুরি যাওয়া ৬ শতাংশ গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় ৩৪৫ কোটিতে। যা বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ৫’শ কোটি টাকার মতো।

এই চুরির পরিমাণটি সরল অংকের হিসেবে। আরেকটি অংক রয়েছে, আবাসিকের মিটারবিহীন ৩৪ লাখ গ্রাহক। মিটারবিহীন গ্রাহকরা মাসে ৪০ ঘনমিটারের নিচে ব্যবহার করলেও প্রতিমাসে ৭৮ ঘনমিটারের বিল দিয়ে আসছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছিলেন, “প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পাইলট প্রকল্পের রেজাল্ট খুব ভালো। দুই চুলায় মাসে ৩৩ ঘন মিটার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে”।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য মতে দেশে বৈধ আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩ লাখ ৬৮ হাজার প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে সাড়ে ৩৪ লাখ গ্রাহকের পকেট কাটা হচ্ছে। মাসে গড়ে ৫’শ টাকা হারে ধরলেও মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছরে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই টাকার কারণে সিস্টেম গেইন করার কথা অর্থাৎ প্রকৃত সিস্টেম লসের পরিমাণ ১২ শতাংশের উপর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।

এই চুরির প্রায় পুরোটাই বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অধিভুক্ত এলাকায়। অল্প পরিমানে রয়েছে কুমিল্লা চাঁদপুর অঞ্চলে বিতরণ কোম্পানি বিজিডিসিএল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিতরণ কোম্পানি কেজিডিসিএল'এ। তিতাসের চুরি এখন ওপেট সিক্রেট। কোম্পানিটি সম্প্রতি চাপের মুখে জোনগুলোকে পৃথক করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বেশকিছু জোনে পৃথক মিটার বসানো হয়েছে।   নারায়নগঞ্জ আড়াইহাজার জোনে প্রায় ৩০ শতাংশের উপরে সিস্টেম লস ধরা পড়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে এ তথ্য সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ। তিনি বার্তা২৪.কমকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, কে দিয়েছে এই তথ্য? তার কাছে প্রকৃত তথ্য জানতে চাইলে বলেন আমি মুখস্ত বলতে পারবো না। জোন কতটি সে বিষয়েও আমার মুখস্ত নেই।

তিতাস গ্যাসের পরিচালক অপরেশন (চলতি দায়ত্বি) প্রকৌশলী সেলিম মিয়া যেনো এক কাঠি সরেস। তার কাছে সিস্টেম লসের কথা জানতে চাইলে বলেন, সাংবাদিক কি এই তথ্য চাইতে পারে। আপনার এই তথ্য দিয়ে কি দরকার। আপনি কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে, কোন এলাকায় থাকবে না এটা জানতে চাইতে পারেন। সিস্টেম লস কি দরকার।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে পেট্রোবাংলা বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। স্পর্ট মার্কেট থেকে চড়া দরে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তাদের তথ্যে দেখা গেছে গত অর্থবছরে গড়ে দৈনিক ৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। সে হিসেবে স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ মাত্র ৩ শতাংশ। এ জন্য ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বিইআরসি কারিগরি কমিটি ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। যে কোন দিন ঘোষণা আসতে পারে।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বর্তমানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য আত্মঘাতি হতে পারে। আমরা মনে করে চুরি ঠেকানো গেলে স্পর্ট মার্কেট থেকে গ্য্যাস আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। তখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বদলে কমানো যায়। আমরা হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছি গ্যাসের দাম ১৬ পয়সা কমানো যায়।

গ্যাস বিতরণের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় এই কোম্পানিটি এমন সব দুর্নীতি সামনে এসেছে যা পুরোপুরি অভিনব। বৈধ সংযোগ বন্ধ, তখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেসব গ্রাহকের আস্থা সৃষ্টি করার জন্য কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। যথারীতি গ্রাহকরা বিলও জমা করেন। ২০১২ সালে এ রকম পে-স্লিপের মাধ্যমে ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকা জমা পড়ে। তিতাসের আবাসিক গ্রাহকেরা যেসব ব্যাংকে প্রতি মাসে গ্যাসের বিল জমা দেন, সেই ব্যাংকগুলো থেকে ওই বাড়তি টাকার হিসাব কোম্পানির কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগে আসে। কিন্তু এই টাকা তিতাসের হিসাবে জমা হচ্ছিল না (পোস্টিং না হওয়া) তাই বেকায়দায় পড়ে তিতাস। আর তখনেই বিষয়টি সামনে চলে এলে তখন বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

এরপর আরেকটি অভিনব ঘটনা ঘটে, গভীর রাতে সার্ভারে ঢুকে অবৈধ গ্রাহককে বৈধ করার। রাতের আধারে কোম্পানির সার্ভারে এন্ট্রি দিয়ে বৈধ করার অভিযোগে ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা করে তিতাস। প্রাথমিকভাবে এক রাতেই ১ হাজার ২৪৭টি সংযোগ বৈধ করে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলাটি (৭ সেপ্টেম্বর ২০২০) দায়ের করা হয়।

আবার এমন ঘটনা ঘটেছে গ্রাহকরা বিল জমা দিয়েছেন কিন্তু সেই বিল জমা হয়নি লেজারে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা গ্রাহকদের এসব টাকা মেরে দিয়েছেন। আর ঘটনাটি ধরে পড়ে বকেয়ার দায়ে লাইন কাটতে গেলে। গ্রাহক তখন তাদের জমার রশিদ দেখান। এই ঘটনাটি ধরা পড়েছে গত জানুয়ারি মাসের দিকে।

সম্প্রতি আরেকটি হাস্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন বিতর্কিত এই কোম্পানিটি। বাহবা নেওয়ার জন্য বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর বিজ্ঞপ্তি পাঠায় মিডিয়াতে। গত ২৫ মে পাঠানো সেই বিজ্ঞপ্তিতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর বাঘাবন্দি (বাঘাইয়াকান্দি) গ্রামের নাম লেখা হয়। কিন্তু গ্রামবাসি দাবী করেছেন তাদের এলাকার কখনও লাইন ছিল না। তাহলে কাটলো কিভাবে। এই ঘটনায় বেশ হাস্যকর ঘটনার জন্ম দেয়। অন্যদিকে কেজি মেপে ঘুষ খাওয়ার ঘটনাও তিতাসের সৃষ্টি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিতাসে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। ‍দুদক গ্যাস-সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, অবৈধ সংযোগ দেওয়া, মিটার টেম্পারিং করা, কম গ্যাস সরবরাহ করেও সিস্টেম লস দেখানো এবং বাণিজ্যিক গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ দেওয়াসহ ২২টি বিষয়কে প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতির উৎস বলে চিহ্নিত করেছে।

গ্যাসের দাম ‍বৃদ্ধির গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, তিতাসের এতো বদনাম, আমরা কাজ করতে পারছি না। হয়তো ৫-১০ শতাংশ স্টাফ দুনীতিতে জড়িত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বলেন অবৈধ সংযোগ রয়েছে তিতাস কিছু করে না। আমাদের হাজার হাজার লাখ লাখ অবৈধ সংযোগ রয়েছে। আমরা কাটছি, তারা আবার লাগাচ্ছে। ইদুর বিড়াল খেলা চলছে, আমাদের লোকবল কম তাদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। অবৈধ প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

মাস্টারকার্ড এক অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইন এর সমাপ্তি টেনেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ছিল পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট, ডেবিট এবং প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় অফার দিয়ে কার্ডহোল্ডারদের আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ করে দেওয়া এবং দেশে ও দেশের বাইরে রিটেইল লেনদেন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

ক্যাম্পেইনে ‘টপ প্রাইজ’ হিসেবে সঙ্গীসহ মালদ্বীপে বিলাসবহুল ভ্রমণের পুরস্কার জিতেছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া, অন্য শীর্ষ ৫০ জন অংশগ্রহণকারী পাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেট, ডাইনিং অ্যান্ড লাইফস্টাইল ভাউচার সহ আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন গত ২০ মার্চ থেকে ৮ মে, যে সকল মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা অন্তত ১ হাজার টাকা কিংবা ২৫ মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের ৪টি লেনদেন সম্পন্ন করেছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইনের অংশ হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এসব কার্ডহোল্ডাররা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার  ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের রিটেইল ই-কমার্স ট্রানজেকশনে ২ পয়েন্ট করে পেয়েছেন।

এছাড়া, তাদের ৩ পয়েন্ট করে দেয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি ই-কমার্স রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশনে। ক্যাম্পেইন শেষে এবার সর্বোমোট পয়েন্টের হিসাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইন ২০২২’ এর সব বিজয়ীকে আমি অভিনন্দিত করছি। এই ক্যাম্পেইন থেকে পাওয়া অভাবনীয় সাড়া মূল্যবান কার্ডহোল্ডারদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আরো অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”

এই ক্যাম্পেইনে মাস্টারকার্ডের যেসব পার্টনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত ছিল, সেগুলো হলো:- এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।

;

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

সয়াবিন তেলের দাম ৬ টাকা কমিয়ে লিটার প্রতি ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২৭ তারিখ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

রোববার (২৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা এবং ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে আগামী দুই একদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসতে পারে। আশা করছি তেলের দাম কমবে। এখন সেই হিসেব নিকেশ করা হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন তেল রিফাইনারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক করে আমাদেরকে জানালে তারপর আমরা জানাতে পারবো কত টাকা কমবে। তবে বলা যায় তেলের দাম কমবে।

সর্বশেষ ৯ জুন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। প্রতি লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৫ লিটার বোতলর দাম ৯৯৭ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

;

বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলে বিকাশের ১০টি ফ্রি হেলথ ক্যাম্প



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ সদর, গোয়াইনঘাট, ছাতক, দিরাই, নবীগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বানিয়াচং-এর ১০টি এলাকায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিকাশ। ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন পানিবাহিত ও ঠান্ডা-জ্বর জনিত রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সহ ওষুধ সেবা পাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও মোবাইল চার্জের সুবিধা এবং অস্থায়ী বিকাশ এজেন্ট সেবাও পাওয়া যাচ্ছে সেখানে।

সিলেটের ইউসেপ গাশিতলা টেকনিক্যাল স্কুল, হাজি আব্দুস সাত্তার বহুমুখী বিদ্যালয়, গোয়াইনঘাট সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বনাথ উপজেলা মাঠ; সুনামগঞ্জের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার, ছাতক সরকারী বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই গভ. গার্লস হাই স্কুল, গোবিন্দগঞ্জ সরকারী কলেজ; এবং হবিগঞ্জের মুরাদপুর গভ. প্রাইমারি স্কুল ও শায়লা গভ. প্রাইমারি স্কুলে স্থাপিত ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোর প্রতিটিতে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার ও তাঁর সহকারীরা দুর্গতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মোবাইল ফোন চার্জের সুবিধাও রাখা হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি, পানিবন্দী মানুষের জরুরী লেনদেকে সচল রাখতে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোতে অস্থায়ী এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিকাশ সেবা নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যা দুর্গত অঞ্চলের অসংখ্য গ্রাহক এই সেবা গ্রহণ করেছেন।

বরাবরের মতোই বিকাশ তার সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকায় প্রত্যয়ে কাজ করে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় এই ফ্রি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

;

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা বাংলাদেশের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত ১২-১৬ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও এর মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে (এমসি ১২) বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য জোরালো দাবী তুলে ধরে।

বাণিজ্যসচিব আজ (২৬ জুন) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন।

 তিনি বলেন, এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশনের পর ১২ বছর বাজার সুবিধা পাবার সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও তা পরে ৬ থেকে ৯ বছরে বৃদ্ধি দাবি জোরালো হয়েছে। সম্মেলনে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আওতায় প্রাপ্ত সুবিধা সমুহ আরও কিছু সময় পর্যন্ত বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে মর্মে সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে পরর্তীতে এ বিষয়ে আরও আলোচনার পথ সুগম হলো। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এমসি ১৩ সম্মেলনে ভালো কিছু ফল পাওয়া যাবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের দেয়া প্রস্তাবগুলো জোরালো ভাবে সমর্থন করা হয়।

বাণিজ্য সচিব বলেন, এমসি ১২ সম্মেলনে মৎস্য খাতে ভর্তুকির বিষয়ে একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। এত অবৈধ ফিসিং ভেসেলে কোন ভর্তুকি প্রদান করা যাবে না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ করা যাবে না। এলডিসি ভুক্ত কোন দেশ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সে দেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এছাড়া, কোভিড-১৯ এবং ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে ট্রিপস চুক্তি মোতাবেক বাণিজ্য সহজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে, খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স চলাকালে বাণিজ্যমন্ত্রী সিংগাপুর, নেপাল, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং ইউরোপিয়ন পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে পৃথক ভাবে দ্বিপাক্ষিক সভা করেন। এতে দেশগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও বাংলাদেশের জন্য বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, নেপালের সাথে পিটিএ স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সিংগাপুর বাংলাদেশের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) এ আউটকাম ডকুমেন্টসহ ৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জেনারেল কাউন্সিলের ৩টি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

;