বিপিডিবির অদক্ষতা ও অসমচুক্তির ফল বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অদক্ষতা, লুটপাট ও অসম চুক্তির কারণে লাফিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ। উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানির মুনাফা লাফিয়ে বাড়লেও ডুবতে বসেছে বিপিডিবি।

অপরেশনে থাকা সরকারি ৫ বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির মুনাফা বেড়েই চলেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব ও কাউন্সিল অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা গেছে, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির(নওপাজেকো) গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা করেছে। কোম্পানিটি (২০২-২১ অর্থবছরে) নীট মুনাফা করেছে ৯৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটি আগের অর্থ বছরে মুনাফা করেছিল ৪৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মুনাফার দিক থেকে এরপরেই রয়েছে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল)। ২০২০-২১ অর্থবছরে নীট মুনাফা করেছে ২৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি (এপিএসসিএল) নীট মুনাফা করেছে ২৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি) মুনাফা করেছে ১৩২ কোটি টাকা, বিআর পাওয়ার জেন (বিআরপিএল) নীট মুনাফা করেছে ৮৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। একমাত্র লোকসানে থাকা কোম্পানি হচ্ছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। কোম্পানিটি উৎপাদনে না থাকায় গত অর্থবছরে ২৩ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিরও পোয়াবারো।বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভাল ব্যবসা বিবেচনা করা হয়। ৬ বিতরণ কোম্পানিও মুনাফায় রয়েছে। একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবিও ফুলে ফেপে উঠছে। বছরে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রফিট বোনাস পেতে দেখা গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

মাঝে থেকে বিপিডিবি শুধু লোকসান দিয়ে হা-হুতাশ করে যাচ্ছে, ভর্তুকির নাম করে দেওয়া ঋণের বোঝা বেড়েই চলছে। তারপরও লাফিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ। বিপিডিবি বোকামি ও অসমচুক্তি ফলে আজকে ডুবতে বসেছে, পাশাপাশি জনগণকে বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম।

উৎপাদন কোম্পানিগুলোর বাড়ন্ত মুনাফায় মূল কারণ মনে করা হচ্ছে অসম চুক্তিকে। যাচাই-বাছাই না করে ঢালাওভাবে চুক্তি করায় আজকের অপরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে। বিপিডিবি যদি দেখেশুনে ক্রয় চুক্তি করতো তাহলে মুনাফা এক বছরে দ্বিগুণ হওয়া সম্ভব ছিল না।

উৎপাদকের সঙ্গে ক্রয় চুক্তি সম্পাদন করে বিপিডিবি, তাদের উচিত উৎপাদকের মুনাফায় লাগাম টানা। তারা যত বেশি মুনাফা করবে চাপ গিয়ে পড়বে বিপিডিবি তথা ভোক্তাদের উপর। চুক্তিগুলোতে স্বচ্ছতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর ভাইস চেয়ারম্যান জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, এটাযে পাপের টাকা, চুরির টাকা, তা কেউ বুঝতে চায় না। বরং বুক ফুলিয়ে বলে আমি এতো মুনাফা করেছি।

তিনি বলেন, দর যাচাই-বাছাই করবে না বলে বিশেষ আইন করা হয়েছে্। যাচাই বাছাই করতে গেলেও সঠিক মানুষ পাওয়া কঠিন। চাকরি বাঁচাতে গেলে এগুলো  করতে হয়। না হলে তার টিকতে সমস্যা হবে। এখানে সঠিক কাজ করলে নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।

নর্থওয়েস্টের পায়রা ১৩২০ মেগাওয়ার্ট পাওয়ার প্লান্ট প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরা হয়েছে। কপোরেট ট্যাক্স রাজস্ব থেকে দেওয়া হচ্ছে। অবচয় ব্যায় মাত্রাতিরিক্ত, ক্রয়মুল্য অস্বাভাবিক দেখানো হয়েছে। রামপালের তুলনায় নির্মাণখরচ অনেকগুণ দেখিয়েছে। টাকা নিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল থেকে, শেয়ার দেওয়ার কথা দেওয়া হয় নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন নাম নিয়ে ভোত্তাদের অর্থ লুণ্ঠন করছে। সঠিকভাবে চুক্তি হলে আজকে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ এতো বেড়ে যেত না। কোম্পানিগুলোর বোর্ডে বড় বড় আমলাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে, অধস্তন কর্মকর্তারা মিটিংয়ে বসে সত্যকথাও বলার সাহস পান না। মিটিংয়ে অধস্তন কর্মচারীকে দিয়ে ন্যায্য কথা বলার সংস্কৃতি ভাবা যায় না। যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা ছোট কর্মচারী, আর কোম্পানিতে তার বস বসে আছে। এভাবে কি সঠিক কাজ আশা করা যায়।

অসম চুক্তির পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে বিপিডিবির বিরুদ্ধে। যেখানে গ্যাস সরবরাহ করলে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো, সেই কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখা হচ্ছে। তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে যেহেতু কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তাই এগুলো প্রথম চালু করা হবে। এরপর যদি ঘাটতি থাকে তাহলে ধাপে ধাপে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে।

কিন্তু গত ৯ মে তারিখের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২৫টি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ৭ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে মোট গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে ১ হাজার ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ওই দিন মাত্র ৫৭৮ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয় কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়ার্ট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস ঘাটতির কারণে পিক আওয়ারে উৎপাদন করা হয়েছে মাত্র ৩৫ মেগাওয়ার্ট। হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়ার্ট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩০২ মেগাওয়ার্ট, ভেড়ারামা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন করা হয়েছে ১৮০ মেগাওয়ার্ট। কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র না চালিয়ে সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহকে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই পরিমাণ গ্যাস সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করে যখন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেই গ্যাস কম্বাইন্ড সাইকেলে সরবরাহ করা হলে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তারপর বছরে সর্বোচ্চ ৫৬ শতাংশ উৎপাদন করানো হচ্ছে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

এ বিষয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, অবশ্যই কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু টেকনিক্যাল করণে অনেক সময় সম্ভব হয় না। দেখা যায় যেখানে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে সেখানে গ্যাস দিতে পারছে না জিটিসিএল। তখন বাধ্য হয়ে সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো হয়। কমদামে উৎপাদন করতে পারলে কে না চাইবে!

গত ১৮ মে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধি প্রস্তাবের উপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বর্তমান দর ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে।২০১৯-২০ অর্থ বছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মুসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে বিপিডিবির।

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

মাস্টারকার্ড এক অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইন এর সমাপ্তি টেনেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ছিল পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট, ডেবিট এবং প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটায় অফার দিয়ে কার্ডহোল্ডারদের আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ করে দেওয়া এবং দেশে ও দেশের বাইরে রিটেইল লেনদেন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

ক্যাম্পেইনে ‘টপ প্রাইজ’ হিসেবে সঙ্গীসহ মালদ্বীপে বিলাসবহুল ভ্রমণের পুরস্কার জিতেছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া, অন্য শীর্ষ ৫০ জন অংশগ্রহণকারী পাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেট, ডাইনিং অ্যান্ড লাইফস্টাইল ভাউচার সহ আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন গত ২০ মার্চ থেকে ৮ মে, যে সকল মাস্টারকার্ড কার্ডহোল্ডাররা অন্তত ১ হাজার টাকা কিংবা ২৫ মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের ৪টি লেনদেন সম্পন্ন করেছেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইনের অংশ হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এসব কার্ডহোল্ডাররা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার  ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের রিটেইল ই-কমার্স ট্রানজেকশনে ২ পয়েন্ট করে পেয়েছেন।

এছাড়া, তাদের ৩ পয়েন্ট করে দেয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবার ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি ই-কমার্স রিটেইল ট্রানজেকশন কিংবা দেশের বাইরে প্রতিবার ২৫ মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি মূল্যের পিওএস রিটেইল ট্রানজেকশনে। ক্যাম্পেইন শেষে এবার সর্বোমোট পয়েন্টের হিসাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “মিস্টিক্যাল মালদ্বীপ’ থিমের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইন ২০২২’ এর সব বিজয়ীকে আমি অভিনন্দিত করছি। এই ক্যাম্পেইন থেকে পাওয়া অভাবনীয় সাড়া মূল্যবান কার্ডহোল্ডারদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমাদের আরো অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”

এই ক্যাম্পেইনে মাস্টারকার্ডের যেসব পার্টনার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত ছিল, সেগুলো হলো:- এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।

;

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

লিটারে ৬ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

সয়াবিন তেলের দাম ৬ টাকা কমিয়ে লিটার প্রতি ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ২৭ তারিখ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

রোববার (২৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা এবং ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে আগামী দুই একদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসতে পারে। আশা করছি তেলের দাম কমবে। এখন সেই হিসেব নিকেশ করা হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন তেল রিফাইনারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক করে আমাদেরকে জানালে তারপর আমরা জানাতে পারবো কত টাকা কমবে। তবে বলা যায় তেলের দাম কমবে।

সর্বশেষ ৯ জুন সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়। প্রতি লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৫ লিটার বোতলর দাম ৯৯৭ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

;

বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলে বিকাশের ১০টি ফ্রি হেলথ ক্যাম্প



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ সদর, গোয়াইনঘাট, ছাতক, দিরাই, নবীগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বানিয়াচং-এর ১০টি এলাকায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিকাশ। ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন পানিবাহিত ও ঠান্ডা-জ্বর জনিত রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সহ ওষুধ সেবা পাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও মোবাইল চার্জের সুবিধা এবং অস্থায়ী বিকাশ এজেন্ট সেবাও পাওয়া যাচ্ছে সেখানে।

সিলেটের ইউসেপ গাশিতলা টেকনিক্যাল স্কুল, হাজি আব্দুস সাত্তার বহুমুখী বিদ্যালয়, গোয়াইনঘাট সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বনাথ উপজেলা মাঠ; সুনামগঞ্জের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার, ছাতক সরকারী বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই গভ. গার্লস হাই স্কুল, গোবিন্দগঞ্জ সরকারী কলেজ; এবং হবিগঞ্জের মুরাদপুর গভ. প্রাইমারি স্কুল ও শায়লা গভ. প্রাইমারি স্কুলে স্থাপিত ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোর প্রতিটিতে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার ও তাঁর সহকারীরা দুর্গতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মোবাইল ফোন চার্জের সুবিধাও রাখা হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি, পানিবন্দী মানুষের জরুরী লেনদেকে সচল রাখতে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পগুলোতে অস্থায়ী এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিকাশ সেবা নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যা দুর্গত অঞ্চলের অসংখ্য গ্রাহক এই সেবা গ্রহণ করেছেন।

বরাবরের মতোই বিকাশ তার সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকায় প্রত্যয়ে কাজ করে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় এই ফ্রি হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

;

এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা বাংলাদেশের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গত ১২-১৬ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও এর মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে (এমসি ১২) বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আরও কয়েক বছর বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য জোরালো দাবী তুলে ধরে।

বাণিজ্যসচিব আজ (২৬ জুন) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন।

 তিনি বলেন, এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশনের পর ১২ বছর বাজার সুবিধা পাবার সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও তা পরে ৬ থেকে ৯ বছরে বৃদ্ধি দাবি জোরালো হয়েছে। সম্মেলনে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আওতায় প্রাপ্ত সুবিধা সমুহ আরও কিছু সময় পর্যন্ত বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে মর্মে সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে পরর্তীতে এ বিষয়ে আরও আলোচনার পথ সুগম হলো। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এমসি ১৩ সম্মেলনে ভালো কিছু ফল পাওয়া যাবে। সম্মেলনে বাংলাদেশের দেয়া প্রস্তাবগুলো জোরালো ভাবে সমর্থন করা হয়।

বাণিজ্য সচিব বলেন, এমসি ১২ সম্মেলনে মৎস্য খাতে ভর্তুকির বিষয়ে একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। এত অবৈধ ফিসিং ভেসেলে কোন ভর্তুকি প্রদান করা যাবে না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ করা যাবে না। এলডিসি ভুক্ত কোন দেশ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সে দেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এছাড়া, কোভিড-১৯ এবং ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে ট্রিপস চুক্তি মোতাবেক বাণিজ্য সহজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে, খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স চলাকালে বাণিজ্যমন্ত্রী সিংগাপুর, নেপাল, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং ইউরোপিয়ন পার্লামেন্ট সদস্যদের সাথে পৃথক ভাবে দ্বিপাক্ষিক সভা করেন। এতে দেশগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও বাংলাদেশের জন্য বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, নেপালের সাথে পিটিএ স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সিংগাপুর বাংলাদেশের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, জেনেভায় অনুষ্ঠিত মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্স (এমসি ১২) এ আউটকাম ডকুমেন্টসহ ৭টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জেনারেল কাউন্সিলের ৩টি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

;