‘জিডিএফের বিষয়ে বিইআরসি আইনি উদ্যোগ নেবে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল

  • Font increase
  • Font Decrease

এলএনজি আমদানির জন্য গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে পেট্রোবাংলাকে কোন অর্থ দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) অবহিত নয়। আইনি ও নীতিগতভাবে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) এলপি গ্যাসের আগস্ট মাসের দর ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, এনার্জি নিরাপত্তা তহবিল ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের জন্য কমিশন সচেষ্ট রয়েছে। এনার্জি নিরাপত্তা ফান্ডের বিষয়ে নীতিমালা করেছে বিইআরসি, আর গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নীতিমালা করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নীতিমালা করার কথা ছিল বিইআরসির। আপাতত এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি মন্তব্য করেতে চাচ্ছি না।

তহবিল তিনটি বিইআরসির বিভিন্ন অর্ডারের মাধ্যমে গঠিত হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের সঙ্গে এসব খাতে ভোক্তাদের থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তহবিল গঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তহবিল সংকটের কারণে অনেক সময় ভালো ভালো প্রকল্প নেওয়া যায় না। বিদেশি অর্থায়নের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বিদেশি ঋণ পেলেও তাতে নানান শর্তযুক্ত থাকে। এসব তহবিলের টাকায় এমন সব প্রকল্প নেওয়া হবে যাতে, সাশ্রয়ী দর নিশ্চিত করা যায়। ইদানিং এই তহবিলের অনেক অপব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। সর্বশেষ অর্থমন্ত্রণালয় এক চিঠিতে এলএনজি আমদানির জন্য ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করার নির্দেশ দিয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

অপর এক প্রশ্নে জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চুক্তি অনুমোদন করে রেগুলেটরি অথরিটি, বাংলাদেশে চুক্তিগুলো বিইআরসি অনুমোদন করে না। বিইআরসি যখন অন্যান্য দেশের মতো চুক্তি অনুমোদন করবে তখন অনেক প্রশ্নের সমাধান পাওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজির আমদানিকারকরা অনেকেই দাম বৃদ্ধির আবেদন করেছে। এলসির ভিত্তিতে ডলারের দর নির্ধারণ ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তা সমন্বয়ের আবেদন এসেছে। কমিশনের বৈঠকে তোলা হবে, সেখানে যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে গণশুনানি করা হবে।

ডলারের দর নিয়ে আমদানিকারকদের আপত্তি প্রশ্নে বিইআরসির সদস্য (অর্থ) আবু ফারুক বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়ে শেষ করিনি। আমি নিজে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ডিজিএম’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছেন, গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক দর বেঁধে দিতে পারেন না। দর চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। আমি কোন কোন ব্যাংকের নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, যে দামে কিনেছেন সেই দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। কোন কমিশন ধরেন নি, কমিশন যোগ করলে দর আরও বেড়ে যেতো।

স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির কথা বলে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন যেহেতু স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ। তাই গ্যাসের দাম কমানো হবে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সদস্য মকবুল ই- এলাহী চৌধুরী বলেন, স্পর্ট মার্কেট থেকে ক্রয় বন্ধের কথা আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি, একমাসও হয়নি। কিছুদিন যাক তারপর দেখা যাবে যে কথা বলে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে, সেখানে মিল অমিল কতটুকু।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফুসছে ভোক্তারা



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফুসছে ভোক্তারা

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফুসছে ভোক্তারা

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের নজির বিহীন দাম বৃদ্ধি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে ভোক্তাদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও দেশীয় পণ্য পেট্রোল অকটেনের দাম আকাশচুম্বি করে ফেলায় অনেকেই সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

অতীতে কখনও এমন ক্ষোভ দেখা যায় নি। তখন কিছু সংখ্যাক লোক ক্ষুব্ধ হলেও কেউ কেউ এর পক্ষে যুক্তি দিতেন। কিন্তু এবার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যারাও ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চাইছেন, তাদেরকেও অন্যাদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

অনেকে বলেছেন কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, পেট্রোল-অকটেন দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। তাহলে সেই পণ্যের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়াতে হলো কেনো। কেউ কেউ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য জুড়ে দিয়ে বর্তমান বাজারদর শেয়ার করে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকারের হাতে অনেক বিকল্প ছিল, এতো বেশি পরিমাণে দাম বাড়ানো উচিত হয় নি। ধরে নিলাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিছুটা লোকসান দিচ্ছে। নানা রকম ভ্যাট ট্যাক্স আদায় করা হয়। সেই ডিউটি কিছুটা কমিয়ে দিলেওতো ঘাটতি কমে আসতো। সরকার জ্বালানি তেলে ১৮ শতাংশ পর‌্যন্ত কর আদায় করছে। বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের তেল থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো কর তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে কিছুটা কমিয়ে দিলেও এতো বেশি দাম বাড়াতে হতো না। সরকার সেদিকে না গিয়ে জনগণের উপর বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে অনেকদিন ধরেই কর কমানোর জন্য দেন দরবার করা হচ্ছে, তবে ফলাফল শূন্য।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমার মনে হয় আমাদের কোর্টে যাওয়ার সময় এসেছে। আইন অনুযায়ী জ্বালানি পণ্যের দাম বিইআরসির নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু করা হয়েছে নির্বাহী আদেশে। আমাদের বিইআরসি আছে তারা দাম নির্ধারণ করবে। ভোক্তারা সেখানে আলোচনা করে দেখবে যৌক্তিকতা আছে কিনা। এতো বেশি পরিমাণে দাম বাড়ানোর কোন যুক্তি দেখি না।

এলপি গ্যাস যেভাবে প্রতিমাসে দর উঠা-নামা করে বিইআরসি তাই করবে। সরকার নিজের হাতে রেখেছে বিষয়টি জনগণের উপর চাপ সহনীয় রাখার জন্য। এখন যা হলো একে সহনীয় বলা যায় না। সরকারের হাতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমে তখনতো সেভাবে কমানো হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত প্রতি ব্যারেল বিট্রিশ ব্যারেন্ট তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে গতকাল সর্বনিন্মে ৯৫ ডলারের নিচে এসে দাড়িয়েছে। গত ৮ মার্চে এ দাম ছিল ১২৭.৯৮ ডলার। আর্ন্তজাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা মূল্যপতনের মধ্যে দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধির যৌক্তকতা নেই।

বাংলাদশ কনজুমারস অ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি  উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, আইন অনুযায়ী বিইআরসি ছাড়া এভাবে নির্বাহী আদেশে আমলারা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারেনা। এই কাজটি বেআইনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ক্ষমতাবর্হিভূতভাবে জ্বালানি তেলের  দাম বাড়িয়ে জনগনের সর্বনাশ করার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। দেশের সব খাতে এবার আগুন ধরে যাবে। বিভন্ন খাতে যৌক্তিক ব্যয় কমনো গেলে জ্বালানিতে কোনো লোকসান থাকার কারণ নেই। ৪২ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেলো? ২০০৮ সালের অক্টোবরে অপরিশোধিত বিট্রিশ ব্যারেন্ট প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছল ১৮৯.৫৬ ডলার।  বিপিসি তখনও লোককসানেই  তেল আমদানি করত। ২০১৪ সাল থেকে জ্বালানি তেলের দাম পড়তে শুরু করে। ২০২০ সালে সেটা নামতে নামতে ব্যারেল  প্রতি ২০ ডলারে  এসে দাড়ায়। লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিপিসি এই সাত বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যত দিন সম্ভব ছিল, তত দিন সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করেনি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই দাম কিছুটা সমন্বয়ে যেতে হচ্ছে। সরকার জনগণের সরকার। জনগণের দুর্ভোগ হয় এমন কিছু করবে না।

 প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকেও অনেকেই ট্রল করছেন বেশি পরিমাণে দাম বৃদ্ধির কারণে।

;

বাড়ল ডিজেল-কেরোসিন -অকটেন-পেট্রোলের দাম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা লিটার, অকটেন ১৩৫ টাকা, পেট্টোল ১৩০ টাকা লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনঃনির্ধারণ মূল্য আজ শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।

শুক্রবার (০৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। লিটার প্রতি ডিজেল কেরোসিনে ৩৪ টাকা, অকেটেন ৪৬ টাকা ও পেট্রোল বাড়ল ৪৪ টাকা হারে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ই আর এল) পরিশোধিত এবং আমদানিকৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্টোলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।  যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরূপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃবিবেচনা করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। চলতি বছরের ২২ মে ভারতের কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে যা অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা (১ রুপি= গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্টোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে (সকল পণ্য) ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

;

‘জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় মাত্রায় বাড়াতে চায় সরকার’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন। তবে জনগণের দুর্ভোগ হয়, এমন কোন সিদ্ধান্ত সরকার নেবেনা বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বারিধারার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পেট্রোল অকটেন নিয়ে চিন্তা নেই, হেডেক হয়েছে ডিজেল। ডিজেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পরিবহন সেক্টরে। সে দিকটাও সরকার বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। এখানে কোন ভর্তুকি নেই, সব লোকসান দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা দাম সমন্বয় করার কথা চিন্তা করছি। তবে তা জনগণের সহনীয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে। সরকার একটি মেকানিজম বের করার চেষ্টা করছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেলে এখানেও বৃদ্ধি পায়। আবার কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে।

জ্বালানি তেলে দাম বিইআরসির মাধাম্যে না করে নির্বাহী আদেশে করা হচ্ছে কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার মনে করছে আপাতত নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকলেই ভালো।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরও কেনো দেশে দাম বৃদ্ধির তোড়জোড়! জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কতটা কমেছে সে বিষয়টি বুঝতে হবে। দর উঠেছিল ১৭০ ডলারে, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ ডলার। ৭৯ ডলারের উপরে গেলে লোকসান দিতে হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সম্প্রতি গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হয়েছে তা ২০২১ সালের দরে। যুদ্ধের কারণে অনেক দাম বেড়ে গেছে, এখন আবার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় লোডশেডিংয়ের ফলাফল কি এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরাতো বিএনপির মতো অন্ধকার যুগে চলে যাইনি।বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ লোডশেডিং করছে। রাজধানীতে এর ফলাফল ভালো শৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এক ঘণ্টার লোডশেডিং ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মাস শেষে বিল এলে সাশ্রয়ের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা মিলবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি বিইআরসির এখতিয়ারে। তারা গণশুনানি গ্রহণ করে পরবর্তি কার্যক্রম শেষ  করে এনেছে। চলতি অথবা আগামী মাসে দর ঘোষণা করতে পারে।

;

চার সূচকে উন্নতি, অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অর্থনীতিতে যে কালো মেঘ তৈরি হয়েছিল তা কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, আগে থেকে সরকার বিলাসী পণ্য আমদানিতে লাগাম টানায় এর সুফল পেতে শুরু করেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি কমেছে, নেতিবাচক ধারায় থাকা রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে, মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে আর আগের মতই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে রফতানি আয়। অর্থনীতির এই চার সূচকে উন্নতিতে আশার আলো দেখছেন তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমেছে। জুনে ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ । জুলাইয়ে এটা কমে দাঁড়িয়ে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুনে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, জুলাইয়ে তা কমে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য বর্হিভূত মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতির চার সূচকে উন্নতি ইতিবাচক। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ এক মাসের উন্নতিতে বলা যাবে না যে অর্থনীতির গতিধারা ঘুরে গেছে।

এজন্য সরকার আমদানি ও রফতানি তদারকির যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববাজারে কমে আসা পণ্যের দামের প্রভাব যাতে দ্রুত দেশের বাজারে দেখা যায়- সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, চাল ও তেলের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে, নিম্ন আয়ের মানুষের বেশি ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আলাদা হিসাব করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি। তবে পল্লী অঞ্চলের তুলনায় শহরগুলোতে খাবারের দাম বেশি কমেছে। নগরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২৭ পয়েন্ট কমে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে।

করোনা মহামারি পরবর্তী বিশ্বজুড়েই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঘুরে দাঁড়াতে থাকে; আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও গতিশীল হতে থাকে। ঠিক সেই সময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশও নানামুখী চাপে পড়ে।

আমদানি ব্যয় ও পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বিশেষ করে ডলারের উপর চাপ তৈরি হয়। মূল্যস্ফীতির পারদ বেড়ে ৯ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। হঠাৎ করে কমে আসে রেমিটেন্স। তবে গত অর্থবছরজুড়ে স্বস্তি দিয়েছে রফতানি আয়।

এদিকে ঋণ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফকে বাংলাদেশ চিঠি দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) সংস্থাটির ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেনেবল ট্রাস্ট (আরএসটি)’ এই সম্মতির কথা জানায়।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, চলমান করোনা মহামারির মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সরকার ইতিমধ্যে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে, মুদ্রা বিনিময় হার শিথিল করেছে, কম জরুরি পণ্য এবং জ্বালানি আমদানিতে সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কম জরুরি প্রকল্পে বরাদ্দ স্থগিত করে বেশি জরুরি খাতে ব্যবহারের নির্দেশনা জারি হয়েছে। তারপরও আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

আইএমএফ বলছে, বর্তমানে যে সংকট চলছে তা সাময়িকভাবে মোকাবিলা করতে পারলেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সামাল দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, যেসব সমস্যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ক্ষেত্রে অর্থায়নে সহযোগিতা দিতেই তারা রেসিলিয়ান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবলিটি ফান্ড গঠন করেছে এবং বাংলাদেশও এই তহবিল থেকে অর্থ পেতে পারে।

;