গ্যাস চুরি ঠেকাতে জোনভিত্তিক মিটার স্থাপন সম্পন্ন



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে গ্যাস চুরি ঠেকাতে প্রত্যেকটি জোনে মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই এগুলো চালু করা হবে বলে বার্তা২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান।

মিটার চালু হলে কোন জোনে সিস্টেম লস কত তা সহজেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এতে করে সংশ্লিষ্ট জোনগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সিস্টেমলস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিকভাবে সিস্টেম লস ২ শতাংশের নিচে থাকলে তাকে আদর্শ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে গ্যাস খাতে সিস্টেম লস ১০ শতাংশের উপরে। যদিও কাগজে কলমে গত জুলাই-ডিসেম্বর সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ। এই হিসেবের মধ্যে বিশাল ফাঁকি রয়েছে। আবাসিক ও শিল্পে ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে কম সময়ে গ্যাস দিয়েও ২৪ ঘণ্টার বিল আদায়সহ নানাভাবে গরমিল করার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে দৈনিক কমবেশি ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসেবেও সিস্টেম লসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রকৃত সিস্টেম লস বাদ দিলে দৈনিক চুরি যাওয়া গ্যাসের পরিমাণ হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মাসে প্রায় ৬ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে যার স্পর্ট মার্কেটের এলএনজির মূল্যের (ঘনমিটার ৫০ টাকা আমদানি শুল্কসহ) সঙ্গে তুলনা করলে ৬ শতাংশ গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় ৩৪৫ কোটিতে। যা বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ৫’শ কোটি টাকার মতো।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল গণশুনানিতে বলেছেন, গ্যাসের আদর্শ সিস্টেম লস হচ্ছে ২ শতাংশের নিচে। বিশ্বের কোথাও ২ শতাংশের উপরে সিস্টেম লস নেই। সাড়ে ৮ শতাংশ সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য নয়। এই মাত্রা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

এই চুরির পরিমাণটি সরল অংকের হিসেবে। আরেকটি অংক রয়েছে, আবাসিকের মিটারবিহীন ৩৪ লাখ গ্রাহক। মিটার বিহীন গ্রাহকরা মাসে ৪০ ঘনমিটারের নিচে ব্যবহার করলেও প্রতিমাসে একচুলা ও দুই চুলা যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটারের বিল দিয়ে আসছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছিলেন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পাইলট প্রকল্পের রেজাল্ট খুব ভালো। দুই চুলায় অনেক গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য মতে দেশে বৈধ আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩ লাখ ৬৮ হাজার প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে সাড়ে ৩৪ লাখ গ্রাহকের পকেট কাটা হচ্ছে।

এই চুরির প্রায় পুরোটাই বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অধিভুক্ত এলাকায়। কোম্পানিটি চাপের মুখে জোনগুলোকে পৃথক করার উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়। সেই কাজ চলছিল ঢিমেতালে। পেট্রোবাংলার বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান যোগদানের পর বিষয়টিতে গতি পায়। এখন চোর ধরা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও তৈরি হবে, নিজের সিস্টেম লস কমিয়ে আনার।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, মিটারগুলো বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন আমরা বুঝতে পারবো কোন অঞ্চলে লোকসান বেশি সেভাবে কর্মসূচি নেওয়া যাবে। সিস্টেম লসের মধ্যে বড় একটি অংক রয়েছে চুরি। আমরা সেই চুরি ঠেকানোর জন্য ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছি। গত অর্থবছরে অবৈধ লাইন ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আমরা মোবাইল কোট পরিচালনা করেছি ৫০০ শতাংশ। অতএব বুঝতেই পারছেন আমরা কিভাবে কাজ করছি।

কবে নাগাদ জোনের মিটারগুলো চালু করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে তারিখ বলতে চাচ্ছি না, তবে শিগগিরই। আমরা প্রয়োজনের চেয়ে একদিন বেশি সময়ক্ষেপণ করতে চাই না।

সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে পেট্রোবাংলা বলেছিল আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। স্পর্ট মার্কেট থেকে চড়া দরে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তাদের তথ্যে দেখা গেছে গত অর্থবছরে গড়ে দৈনিক ৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। সে হিসেবে স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ মাত্র ৩ শতাংশ। এ জন্য ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, আমরা মনে করে চুরি ঠেকানো গেলে স্পর্ট মার্কেট থেকে গ্য্যাস আমদানির প্রয়োজন পড়ে না। তখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বদলে কমানো যায়। আমরা হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছি গ্যাসের দাম ১৬ পয়সা কমানো যায়।

গ্যাস বিতরণের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কোম্পানিটির এমন সব দুর্নীতি সামনে এসেছে যা পুরোপুরি অভিনব। বৈধ সংযোগ বন্ধ, তখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেসব গ্রাহকের আস্থা সৃষ্টি করার জন্য কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। যথারীতি গ্রাহকরা বিলও জমা করেন। ২০১২ সালে এ রকম পে-স্লিপের মাধ্যমে ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকা জমা পড়ে। তিতাসের আবাসিক গ্রাহকেরা যেসব ব্যাংকে প্রতি মাসে গ্যাসের বিল জমা দেন, সেই ব্যাংকগুলো থেকে ওই বাড়তি টাকার হিসাব কোম্পানির কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগে আসে। কিন্তু এই টাকা তিতাসের হিসাবে জমা হচ্ছিল না (পোস্টিং না হওয়া) তাই বেকায়দায় পড়ে তিতাস। আর তখনেই বিষয়টি সামনে চলে এলে তখন বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

এরপর আরেকটি অভিনব ঘটনা ঘটে, গভীর রাতে সার্ভারে ঢুকে অবৈধ গ্রাহককে বৈধ করার। রাতের আধারে কোম্পানির সার্ভারে এন্ট্রি দিয়ে বৈধ করার অভিযোগে ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা করে তিতাস। প্রাথমিকভাবে এক রাতেই ১ হাজার ২৪৭টি সংযোগ বৈধ করে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলাটি (৭ সেপ্টেম্বর ২০২০) দায়ের করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিতাসে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। ‍দুদক গ্যাস-সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, অবৈধ সংযোগ দেওয়া, মিটার টেম্পারিং করা, কম গ্যাস সরবরাহ করেও সিস্টেম লস দেখানো।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় গ্রিডের ইস্টার্ন অঞ্চলে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ) অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। উক্ত সময় দেশের উত্তর অঞ্চল (রাজশাহী, রংপুর) ও দক্ষিণ অঞ্চলের (খুলনা, বরিশাল) বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।

দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন চালুর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়। রাত ৯টায় সিস্টেম জেনারেশন ৮,৪৩১ মে,ও. এবং ক্রমান্বয়ে জেনারেশন বৃদ্ধি করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলমান আছে।

জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ জেনারেশন কেন্দ্র সমূহ (ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, মেঘনাঘাট, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ইত্যাদি) চালু করে ধীরে ধীরে সিস্টেম স্বাভাবিক করা হচ্ছে। ঢাকায় ২৩০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ১৭৫০ সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকায় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ উদঘাটনের জন্য পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পিএন্ডডি) ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকেও আরও দুটি কমিটি গঠন করা হবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্মানিত গ্রাহকদের একটু ধর্য্য ধরার জন্য অনুরোধ করে বলেছেন, পাওয়ার গ্রিড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন, দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে। সম্মানিত গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তিনি এসময় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবসময় গ্রাহকদের পাশেই থাকবো।

;

স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাজধানীর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এদিকে রাতের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর এয়ারপোর্ট ও উত্তরা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। আশা করছি, রাতের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

অন্যদিকে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ, কল্যাণপুর, মানিকনগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় দ্রুত চালু হবে।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) আশা প্রকাশ করেছে, রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। শুরুতে জরুরি স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে টঙ্গি, ঘোড়াশালসহ কয়েকটি জায়গার পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু হয়েছে।

এর আগে, আশুগঞ্জে গ্রিডে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় (ট্রিপ) ঘটেছে। এতে করে হঠাৎ করেই রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ট্রিপ করে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

পিজিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রিড ট্রিপ করেছে। কাজ চলছে। কতক্ষণ এমন পরিস্থিতি চলবে বলা যাচ্ছে না।

;

‘সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে’

‘সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে’

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, সন্ধ্যার মধ্যেই সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ জানান, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর আগে, আশুগঞ্জে গ্রিডে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় (ট্রিপ) ঘটেছে। এতে করে হঠাৎ করেই রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ট্রিপ করে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

পিজিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রিড ট্রিপ করেছে। কাজ চলছে। কতক্ষণ এমন পরিস্থিতি চলবে বলা যাচ্ছে না।

;

চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পাড়ে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পাড়ে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পাড়ে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের আসকার দীঘির পাড়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ৩৮৮তম শাখা ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন প্রধান অতিথি হিসেবে এ শাখা উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ শাব্বির, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মাকসুদুর রহমান ও মিফতাহ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাউথ জোন প্রধান মিয়া মোহাঃ বরকত উল্লাহ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আসকার দিঘীর পাড় শাখাপ্রধান কাজী মোঃ আলমগীর। গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমন ও আনজুমান আরা, চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুচারু বিকাশ বড়–য়া, প্রিন্সিপাল আ.ন.ম দেলোয়ার হোসাইন আল-কাদরী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলম। এ সময় ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এম শহীদুল এমরানসহ নির্বাহী-কর্মকর্তা, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমান সময়ের জন্য অন্যতম রোল মডেল। দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে ইসলামী ব্যাংকের সেবা। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মানুষকে আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সাথে যুক্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক। চট্টগ্রামে আরো বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, উন্নত রেমিট্যান্স সেবা প্রদান ও জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পরিবর্তন করতে ইসলামী ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের সকল সূচকে ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোড়ঁগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইসলামী ব্যাংক বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্জিত রেমিট্যান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এ ব্যাংক। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে তিনি সকলকে আহবান জানান।

;