ফিরোজ খানের খুটির জোর কোথায়!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফিরোজ খান

ফিরোজ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম থেকে ফিরে: কে এই ফিরোজ খান, তার খুটির জোর কোথায়! কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (কেজিডিসিএল) ঘুষ, দুর্নীতি-অনিয়মের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। হাজারো অভিযোগ উঠলেও তিনি থেকে গেছেন বহাল তবিয়তে।

রাষ্ট্রীয় ওই কোম্পানিটিতে একইসঙ্গে জিএম (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কোম্পানির সচিব পদে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। যারাই তার দুর্নীতি অনিয়মের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকেই শায়েস্তা করেছেন। তার অপছন্দের কর্মকর্তার পদোন্নতি ঠেকাতে দুদকের নামে ভুয়া চিঠি তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

পেট্রোবাংলার দু’টি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং দুদকের তদন্তে রিপোর্টে দুর্নীতির প্রমাণ উঠে এলেও রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পেট্রোবাংলা শুধু দফায় দফায় তদন্ত করেই যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফিরোজ খান তার দুর্নীতি সাম্রাজ্য প্রসারিত করে চলেছেন।

কেজিডিসিএল’র দুর্নীতির বিষয়ে সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ এর নেতৃত্বে। চার সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয় পরিচালকের (অপারেশন এন্ড মাইন্স) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্টের ‍ওপর ভিত্তি করে। আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় আগের কমিটির রিপোর্টের অধিকতর তদন্ত করতে।

আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ কমিটি তদন্তে অসংখ্য অনিয়মের পাশাপাশি কেজিডিসিএল’এ একটি সিন্ডিকেটের প্রমাণ পেয়েছেন। কমিটি তার ৩১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলেছেন, ফিরোজ খান জিএম (প্রশাসন) হিসেবে দীর্ঘ ৭ বছর প্রেষণে কর্মরত থেকে নিয়মবর্হিভূত ও ইচ্ছামাফিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। ফিরোজ খান উক্ত সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিম্নোক্ত কার্যাদি সম্পাদন করেছেন।

বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিনা অজুহাতে পছন্দ মতো তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি। কোম্পানিতে যোগ্যতাসম্পন্ন কারিগরি কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একই ব্যক্তিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বিভিন্ন বিভাগের দক্ষ কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত মিটার পরীক্ষণ কমিটি বাতিল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র মার্কেটিং বিভাগের চিহ্নিত অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি পুর্নগঠন।

পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ ক্যাডারের সহকারী ব্যবস্থাপকদের পদোন্নতি প্রদান না করা। কারিগরি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিতকরণের ‍উদ্দেশ্যে কোম্পানির নির্ধারিত পদোন্নতি কমিটিতে সঠিকভাবে তথ্য উত্থাপন না করা, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন না করে সুকৌশলে কার্যবিবরণী উপস্থাপন করে চেয়ারম্যানের অনুমোদনসহ অসংখ্য অভিযোগ।

কোম্পানির গেস্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। প্রকৌশলী আমির হামজা ডিজিএম থেকে জিএম পদের প্রমোশনের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও উল্টো তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী আমির হামজাকে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার জন্য ২০১৬ সালের ১২ জুলাই পেট্রোবাংলায় প্রেরিত ফাইলে কোন অভিযোগ ছিল না। উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে আগস্টের ২২ তারিখে আমির হামজাসহ ৪ কর্মকর্তাকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে। পদোন্নতি কার্যকরের জন্য কেজিডিসিএল’কে অবহিত করে চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। ওই চিঠি মোতাবেক ৪ কর্মকর্তার পদোন্নতির ইস্যুটি ৯৯তম বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হলে অনুমোদিত হয়। কিন্তু স্বাক্ষরিত কর্যবিবরণীতে পরবর্তী বোর্ডসভায় উপস্থাপনের নির্দেশনা ছিল।

কমিটি আমির হামজার ব্যক্তিগত নথি পর্যলোচনা করে লিখেছে, ৯৯তম বোর্ড সভায় নির্দেশনা পালন না করে আমির হামজাকে কোন ধরণের নোটিশ না দিয়ে সাময়িক বরখাস্তের নথি উপস্থাপন করেন ফিরোজ খান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তখন হজ্বের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে ছিলেন (৪৭ দিন)। দেশে ফিরে প্রথম কর্মদিবসে ( সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬) কোন রকম নোটিশ প্রদান, জবাববন্দি কিংবা শুনানি গ্রহণ ব্যতিত আমির হামজাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আমির হামজার বিরুদ্ধে কোন রকম অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অভিযোগ গুরুতর লিখে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

৯৯তম বোর্ড সভার নির্দেশনা পালন না করে প্রকৌশলী আমির হামজাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।

পেট্রোবাংলার তদন্ত কমিটি বলেছে, সাময়িক বরখাস্তের আদেশে অভিযোগ গুরুতর লিখলেও আদেশের সঙ্গে কোন অভিযোগের অবতারণা করা হয়নি। যেহেতু প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুতর উল্লেখ করা হয়েছিল, সেক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশের সঙ্গে অভিযোগ থাকা আবশ্যক ছিল বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু তা না করে (সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬) অভিযোগ দায়ের করা পদোন্নতি না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে কমিটি মনে করে।

কমিটি তার অবজারভেশনে লিখেছে, অর্থ আত্মসাৎ ও জনরোষ ব্যতিত কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ/ অভিযোগ গঠন/শুনানি/জবানবন্দি গ্রহণ ছাড়া কাউকেই চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রচলন/নজির নেই।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উপব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পদের কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের অনাপত্তি পত্র থাকলেও সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সভা আহ্বানের কয়েকদিন আগে (ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১) স্থানীয় দুদক অফিস থেকে বক্তব্য গ্রহণ ও শ্রবণ করার নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছিল। যার পত্রের অনুলিপি একমাত্র জিএম (প্রশাসন) ফিরোজ খানের নিকট সংরক্ষণ করছেন বলে প্রশাসন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা কমিটিকে অবহিত করে।

দুদকের ওই পত্রটি সম্পর্কে তদন্ত কমিটি লিখেছে, পত্রটি স্মারক নম্বরবিহীন এবং কোম্পানি পর্যায়ে পত্রটি গ্রহণের কোন রেকর্ড নেই। এতে প্রতীয়মান হয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করার জন্য এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা ফিরোজ খান ২০১৬ সালে প্রেষণে নিয়োগ পান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে। ৩১ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে পড়তে পড়তে দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য উপাত্ত উঠে এসেছে। পূর্বের কমিটিও ৯টি বিষয়ে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে। কিন্তু এতোকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তো দূরের কথা, বদলি কিংবা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। সে কারণে প্রশ্ন উঠেছে কে এই ফিরোজ খান, তার খুটির জোর কোথায়?

ফিরোজ খানকে একাধিক দফায় ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পর পর কয়েকদিন এসএমএস দিলেও রিপ্লাই দেননি। বক্তব্যের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় তার কার্যালয়ে গেলেও সাক্ষাৎ দেননি। প্রথমে তার সহকারী বলেন, স্যার অফিসে রয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎ চাইলে বসতে বলেন। মিনিট দশেক পরে বলেন স্যার রুমে নেই।

পে্ট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মো. আলতাফ হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক করণীয় গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত এর বেশি বলতে পারবো না। সময় হলেই সবকিছু জানানো হবে।

কি ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে প্রশ্নের দিতে রাজি হননি পরিচালক (প্রশাসন)।

স্বপ্ন এখন মৌলভীবাজারের শেরপুরে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বপ্ন এখন মৌলভীবাজারের শেরপুরে

স্বপ্ন এখন মৌলভীবাজারের শেরপুরে

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন এখন মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকায়।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার সৈয়দ আলী হায়দার, স্থানীয় বিশিষ্ট গুরুজন আবদুস সালাম, রিজিওনাল ম্যানেজার অব অপারেশন আজিম উদ্দিন, আউটলেট ম্যানেজার আহমেদ হোসেনসহ অনেকে ।

এটি স্বপ্নের ২৪৯তম আউটলেট। স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, স্বপ্ন এখন দেশের ৪৩টি জেলায়। মৌলভীবাজারের শেরপুরে আমাদের সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে গ্রাহকরা স্বপ্নের এ আউটলেট থেকে নিয়মিত বাজারের সুযোগ পাবেন।

স্বপ্নের অপারেশন্স ডিরেক্টর আবু নাছের জানান, নতুন এ আউটলেটে থাকছে মাসব্যাপী নানা অফার ও হোম ডেলিভারি সেবা।

নতুন এই আউটলেটের ঠিকানা: হালিমা অ্যান্ড নাইমা কমপ্লেক্স, শেরপুর হাইওয়ে রােড, শেরপুর, মৌলভীবাজার।

;

নীতি সুদহার ফের বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে আবারও নীতি সুদহার বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে হলে আগের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি সুদ দিতে হবে। এর ফলে রেপো সুদহার বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। রোববার (২ অক্টোবর) থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ৫৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত চার মাসে তিন দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াল। অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির সভার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওভারনাইট রেপো সুদহার বেসিস পয়েন্ট ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। তবে রিভার্স রেপো তথা ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা তোলার সুদহার বিদ্যমান ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

চলতি বছরের মে মাসের আগ পর্যন্ত রেপোর সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত ২৯ মে এক নির্দেশনার মাধ্যমে বেসিস পয়েন্ট শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। এরপর ৩০ জুন আবার বেসিস পয়েন্ট ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ দফায় বেসিস পয়েন্ট বাড়ল ২৫ শতাংশ।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর আগে অবশ্য রেপোর সুদহার ছিল ৬ শতাংশ। তিন দফায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামানো হয়। ২০১৩ সালে রেপোতে সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

;

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এবার ৫০ হাজার বই বিতরণ করেছে বিকাশ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এবার ৫০ হাজার বই বিতরণ করেছে বিকাশ

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এবার ৫০ হাজার বই বিতরণ করেছে বিকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ বছর দেশজুড়ে ৭৪টি স্কুল এবং ব্যক্তি উদ্যোগের লাইব্রেরিতে ৫০ হাজার বই বিতরণ করেছে বিকাশ। বইগুলোর একটি অংশ বিকাশের উদ্যোগে একুশে বইমেলায় আসা পাঠক-লেখক-দর্শনার্থীদের কাছ থেকে এবং সুপারশপ আগোরা ও মীনা বাজার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া হাউজ, সকল বিকাশ কাস্টমার কেয়ার, কাস্টমার সেন্টার ও বিকাশের অফিসগুলো থেকে সংগৃহীত হয়। এর সঙ্গে বিকাশের পক্ষ থেকে আরো বই যুক্ত করে মোট এই ৫০ হাজার বই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদেরকে বিতরণ করা হয়।

নির্ভয় ফাউন্ডেশন, অদম্য ১৯, চারুলতা, আলোর দিশারী, ইগনাইট ফাউন্ডেশন, আলোর ধারা স্কুল, ড্রিম স্কুল, আলোর ভুবন গ্রন্থাগার, খিলগাও পাঠশালা, সবার পাঠশালা, হাতে খড়ি ফাউন্ডেশন, তাকওয়া ফাউন্ডেশন, ষ্টেশন পাঠাগার, হেল্প স্কুল ও অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে বইগুলো বিতরণ করা হয়।

২০২০ সাল থেকেই বাংলা একাডেমির বইমেলায় আসা পাঠক-লেখক-দর্শনার্থীদের নিয়ে এই কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বই সংগ্রহ করে বিতরণ শুরু করে বিকাশ। এই নিয়ে, গত তিন বছরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মোট ৭২,৫০০ বই দিলো বিকাশ।

সব ধরনের বই পড়তে পারার আনন্দ নিয়ে শিশুপল্লী স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শোয়েব বলেন, “বই আমার কাছে সব। সায়েন্স ফিকশন, নভেল আমার পছন্দের হলেও বিকাশ সব ধরণের বই দিয়েছে। এসব দেশী বিদেশী বই আমাদেরকে পড়াশোনার বাইরেও আরো অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।”

ঢাকার হাইকেয়ার স্কুলের প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) রওশন আরা বেগম বলেন, “বইগুলো আমাদের বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করবে। সেই সাথে তাদের কল্পনাশক্তি বাড়বে এবং তারা নিজেরাও লেখালেখি ও গল্প বলায় অনুপ্রাণিত হবে।”

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, “তিন বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য বই সংগ্রহ ও বিতরণ করে আসছি। এ বছর আমরা দেশের আটটি বিভাগের স্কুল ও লাইব্রেরিতে বই বিতরণ করেছি। এই প্রোগ্রাম আমরা আগামীতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।”

বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী বলেন, “বিকাশ সবসময়ই সৃজনশীল, মেধা-বিকাশ উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করে। ভবিষ্যতেও সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশু কিশোররা যাতে সব ধরণের বই পড়ে নিজেদেরকে বিকশিত করতে পারে, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বিকাশ।”

উল্লেখ্য, বিকাশ সব সময়ই বইয়ের সঙ্গে থেকেছে। আগামী প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশের দায়িত্বশীল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত আছে। এ পর্যন্ত সারাদেশের ২৯০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২,৫৩,৬০০ বই দিয়েছে বিকাশ যা সরাসরি ২৬ লাখ শিক্ষার্থীকে বই পড়ার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া মুজিব শতবর্ষ উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে সারাদেশে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ৫০০টি স্কুলে ২০ হাজার কপি গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ করেছে যা প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে পৌঁছে গিয়েছে। বই কিনতে উৎসাহিত করতে গত আট বছর ধরে বইমেলা উপলক্ষ্যে বই কেনায় ক্যাশব্যাকও দিয়ে আসছে বিকাশ। পাশাপাশি বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলায় বিকাশ গত চার বছর ধরে মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাংলা একাডেমির সাথে কাজ করে আসছে।

;

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদের এক সভা ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ নাজমুল হাসান, পিএইচডি এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সাহাবুদ্দিন, আইডিবি-র প্রতিনিধি ড. আরিফ সুলেমানসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও কোম্পানি সেক্রেটারি জে.কিউ.এম. হাবিবুল্লাহ, এফসিএস উপস্থিত ছিলেন।

;