ফিরোজ খানের খুটির জোর কোথায়!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফিরোজ খান

ফিরোজ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম থেকে ফিরে: কে এই ফিরোজ খান, তার খুটির জোর কোথায়! কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (কেজিডিসিএল) ঘুষ, দুর্নীতি-অনিয়মের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। হাজারো অভিযোগ উঠলেও তিনি থেকে গেছেন বহাল তবিয়তে।

রাষ্ট্রীয় ওই কোম্পানিটিতে একইসঙ্গে জিএম (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কোম্পানির সচিব পদে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। যারাই তার দুর্নীতি অনিয়মের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকেই শায়েস্তা করেছেন। তার অপছন্দের কর্মকর্তার পদোন্নতি ঠেকাতে দুদকের নামে ভুয়া চিঠি তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

পেট্রোবাংলার দু’টি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং দুদকের তদন্তে রিপোর্টে দুর্নীতির প্রমাণ উঠে এলেও রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পেট্রোবাংলা শুধু দফায় দফায় তদন্ত করেই যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফিরোজ খান তার দুর্নীতি সাম্রাজ্য প্রসারিত করে চলেছেন।

কেজিডিসিএল’র দুর্নীতির বিষয়ে সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ এর নেতৃত্বে। চার সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয় পরিচালকের (অপারেশন এন্ড মাইন্স) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্টের ‍ওপর ভিত্তি করে। আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় আগের কমিটির রিপোর্টের অধিকতর তদন্ত করতে।

আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ কমিটি তদন্তে অসংখ্য অনিয়মের পাশাপাশি কেজিডিসিএল’এ একটি সিন্ডিকেটের প্রমাণ পেয়েছেন। কমিটি তার ৩১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলেছেন, ফিরোজ খান জিএম (প্রশাসন) হিসেবে দীর্ঘ ৭ বছর প্রেষণে কর্মরত থেকে নিয়মবর্হিভূত ও ইচ্ছামাফিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। ফিরোজ খান উক্ত সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিম্নোক্ত কার্যাদি সম্পাদন করেছেন।

বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিনা অজুহাতে পছন্দ মতো তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি। কোম্পানিতে যোগ্যতাসম্পন্ন কারিগরি কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একই ব্যক্তিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বিভিন্ন বিভাগের দক্ষ কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত মিটার পরীক্ষণ কমিটি বাতিল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র মার্কেটিং বিভাগের চিহ্নিত অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি পুর্নগঠন।

পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ ক্যাডারের সহকারী ব্যবস্থাপকদের পদোন্নতি প্রদান না করা। কারিগরি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিতকরণের ‍উদ্দেশ্যে কোম্পানির নির্ধারিত পদোন্নতি কমিটিতে সঠিকভাবে তথ্য উত্থাপন না করা, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন না করে সুকৌশলে কার্যবিবরণী উপস্থাপন করে চেয়ারম্যানের অনুমোদনসহ অসংখ্য অভিযোগ।

কোম্পানির গেস্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। প্রকৌশলী আমির হামজা ডিজিএম থেকে জিএম পদের প্রমোশনের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও উল্টো তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী আমির হামজাকে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার জন্য ২০১৬ সালের ১২ জুলাই পেট্রোবাংলায় প্রেরিত ফাইলে কোন অভিযোগ ছিল না। উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে আগস্টের ২২ তারিখে আমির হামজাসহ ৪ কর্মকর্তাকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে। পদোন্নতি কার্যকরের জন্য কেজিডিসিএল’কে অবহিত করে চিঠি দেয় পেট্রোবাংলা। ওই চিঠি মোতাবেক ৪ কর্মকর্তার পদোন্নতির ইস্যুটি ৯৯তম বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হলে অনুমোদিত হয়। কিন্তু স্বাক্ষরিত কর্যবিবরণীতে পরবর্তী বোর্ডসভায় উপস্থাপনের নির্দেশনা ছিল।

কমিটি আমির হামজার ব্যক্তিগত নথি পর্যলোচনা করে লিখেছে, ৯৯তম বোর্ড সভায় নির্দেশনা পালন না করে আমির হামজাকে কোন ধরণের নোটিশ না দিয়ে সাময়িক বরখাস্তের নথি উপস্থাপন করেন ফিরোজ খান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তখন হজ্বের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে ছিলেন (৪৭ দিন)। দেশে ফিরে প্রথম কর্মদিবসে ( সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬) কোন রকম নোটিশ প্রদান, জবাববন্দি কিংবা শুনানি গ্রহণ ব্যতিত আমির হামজাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আমির হামজার বিরুদ্ধে কোন রকম অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অভিযোগ গুরুতর লিখে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

৯৯তম বোর্ড সভার নির্দেশনা পালন না করে প্রকৌশলী আমির হামজাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।

পেট্রোবাংলার তদন্ত কমিটি বলেছে, সাময়িক বরখাস্তের আদেশে অভিযোগ গুরুতর লিখলেও আদেশের সঙ্গে কোন অভিযোগের অবতারণা করা হয়নি। যেহেতু প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুতর উল্লেখ করা হয়েছিল, সেক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশের সঙ্গে অভিযোগ থাকা আবশ্যক ছিল বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু তা না করে (সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬) অভিযোগ দায়ের করা পদোন্নতি না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে কমিটি মনে করে।

কমিটি তার অবজারভেশনে লিখেছে, অর্থ আত্মসাৎ ও জনরোষ ব্যতিত কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ/ অভিযোগ গঠন/শুনানি/জবানবন্দি গ্রহণ ছাড়া কাউকেই চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রচলন/নজির নেই।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উপব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পদের কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের অনাপত্তি পত্র থাকলেও সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সভা আহ্বানের কয়েকদিন আগে (ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১) স্থানীয় দুদক অফিস থেকে বক্তব্য গ্রহণ ও শ্রবণ করার নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছিল। যার পত্রের অনুলিপি একমাত্র জিএম (প্রশাসন) ফিরোজ খানের নিকট সংরক্ষণ করছেন বলে প্রশাসন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা কমিটিকে অবহিত করে।

দুদকের ওই পত্রটি সম্পর্কে তদন্ত কমিটি লিখেছে, পত্রটি স্মারক নম্বরবিহীন এবং কোম্পানি পর্যায়ে পত্রটি গ্রহণের কোন রেকর্ড নেই। এতে প্রতীয়মান হয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করার জন্য এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা ফিরোজ খান ২০১৬ সালে প্রেষণে নিয়োগ পান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে। ৩১ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে পড়তে পড়তে দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য উপাত্ত উঠে এসেছে। পূর্বের কমিটিও ৯টি বিষয়ে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে। কিন্তু এতোকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তো দূরের কথা, বদলি কিংবা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। সে কারণে প্রশ্ন উঠেছে কে এই ফিরোজ খান, তার খুটির জোর কোথায়?

ফিরোজ খানকে একাধিক দফায় ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পর পর কয়েকদিন এসএমএস দিলেও রিপ্লাই দেননি। বক্তব্যের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় তার কার্যালয়ে গেলেও সাক্ষাৎ দেননি। প্রথমে তার সহকারী বলেন, স্যার অফিসে রয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎ চাইলে বসতে বলেন। মিনিট দশেক পরে বলেন স্যার রুমে নেই।

পে্ট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মো. আলতাফ হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক করণীয় গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত এর বেশি বলতে পারবো না। সময় হলেই সবকিছু জানানো হবে।

কি ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে প্রশ্নের দিতে রাজি হননি পরিচালক (প্রশাসন)।

বসন্তের কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে 'ইনস্ট্যান্ট' ক্যাশব্যাক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বসন্তের কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে 'ইনস্ট্যান্ট' ক্যাশব্যাক

বসন্তের কেনাকাটায় বিকাশ পেমেন্টে 'ইনস্ট্যান্ট' ক্যাশব্যাক

  • Font increase
  • Font Decrease

বসন্ত উপলক্ষে পছন্দের কেনাকাটায় দেশজুড়ে ১৬শ’র বেশি আউটলেট, ই-কমার্স ও এফ-কমার্স প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকরা বিকাশ পেমেন্টে পাচ্ছেন ৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক। ৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনে একজন গ্রাহক সর্বমোট ৪০০ টাকা ক্যাশব্যাক পেতে পারেন।

অফলাইন পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং অনলাইন পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা মিলিয়ে দিনে মোট ২০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুপরিচিত রেস্টুরেন্ট, পোশাক, জুতা, এক্সেসরিজের আউটলেট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিসেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন।

অফার সম্পর্কে বিস্তারিত এবং আউটলেট/অনলাইন শপের তালিকা জানতে ভিজিট করতে হবে https://www.bkash.com/campaign/boshonto-offer এবং https://www.bkash.com/campaign/boshonto-online-cashback – এই লিংকে।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করার জন্য গ্রাহককে হোমস্ক্রিনের ‘মেক পেমেন্ট’ আইকনে ট্যাপ করে মার্চেন্ট নম্বর টাইপ করতে হবে অথবা মার্চেন্ট পয়েন্টের কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই পেমেন্ট করা যাবে। একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে বিকাশ নম্বর, ওটিপি ও বিকাশ পিন দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে। এছাড়া, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# ডায়াল করেও পেমেন্ট করার সুযোগ থাকছে গ্রাহকদের জন্য।

;

ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক প্রীতিমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক প্রীতিমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক প্রীতিমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে বার্ষিক প্রীতিমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান।

ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার সভাপতিত্বে আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম, মো. জয়নাল আবেদীন ও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

এসময় ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী, মো. ওমর ফারুক খান, জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নাইয়ার আজম, মো. সিদ্দিকুর রহমান ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার, ক্যামেলকো তাহের আহমেদ চৌধুরী এবং চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকীসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খেলাধুলা, র‌্যাফেল ড্র, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পার্কের মনোরম পরিবেশে এ প্রীতিমিলনী ও বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়।

;

৫ ডলারের এলপিজি সিলিন্ডার বিদেশে ২৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease
আন্তর্জাতিক বাজারে পাঁচ ডলার মূল্যের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার পঁচিশ ডলারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। আমরা তো এর বাইরে নই। তেলের দাম যদি না কমে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি বন্ধ না হয়, পাঁচ ডলারের এলপিজি সিলিন্ডার আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হচ্ছে পঁচিশ ডলারে। এর দাম ৬০ ডলারেও উঠেছিল। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল-গ্যাস না কিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিনছে। সেখান থেকে কেনার পর তারা জমিয়ে রাখছে। এছাড়া রাশিয়ার গ্যাস কিনতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে সব জায়গাতেই এর প্রভাব পড়ছে। 

তিনি বলেন, তারা (পশ্চিমা বিশ্ব) মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আমাদেরও ক্ষতি করছে। মানবজাতির শান্তির জন্য যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া উচিত, যাতে পৃথিবীর অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কম আয়ের, সীমিত আয়ের মানুষদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক জিনিসের দাম কমলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েনি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই রকম কমেনি। আমাদের পাঁচ ডলার যেটার দাম ছিল, সেটা পঁচিশ ডলারে আছে। তার মানে এখনো পাঁচ গুণ বেশি। এক টন এমওপি (সার) ছিল ২১৯ কিংবা ২৫০ ডলার। সেটা এখনো ৬০০ ডলার। আমাদের মতো দেশ কীভাবে এই ব্যয় বহন করব? এতো টাকা আমরা কোথা থেকে দেব? আমাদের তো কোনো গুপ্তধন নেই যে সেই টাকা দিয়ে সার কিনে নিয়ে আসব।
;

মার্চ আসবে আদানির বিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease
আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে কোন শঙ্কা নেই, মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন

তিনি আরও বলেন, আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে যেসব কথা হচ্ছে তার কোন ভিত্তি নেই। আমরা প্রতিযোগিতামুলক বাজার দরেই বিদ্যুৎ পাবো। এ নিয়ে কোন সংশয়ের সুযোগ নেই। মার্চে প্রথম ইউনিট থেকে আসবে ৭৫০ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে এপ্রিল মাসে।

তিনি বলেন, আসছে সেচ ও গীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। আমাদের বেশকিছু কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। রামপাল এসেছে, এসএস পাওয়ার আসবে, বরিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছি, সেচ মৌসুম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। 
স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যাবে। 
স্পর্ট মার্কেট থেকে ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনার 
 কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
গ্যাসের নতুন দর ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দাবীর বিষয়টি নাকচ করে দেন প্রতিমন্ত্রী।

২০১৭ সালে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলায় আদানি গ্রুপের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়।  ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটারের জন্য লাইন স্থাপন করেছে আদানি গ্রুপ। ঝাড়খণ্ড থেকে বিদ্যুতের এ লাইন মূলত পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার ওপর দিয়ে গেছে।

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে ফারাক্কার বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের তার যাওয়ার কারণে তাদের লিচু ও আম বাগানের ফলন নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে পরপর তিন দফা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তিনবারই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কৃষকদের হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে মানবাধিকার সংগঠন এপিডি জনস্বার্থে একটি মামলার আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে আগামী ৭ তারিখ সব পক্ষকে ডেকে পাঠান। 
;