বিদ্যুতের কবর খোঁড়ায় মত্ত জ্বালানি বিভাগ!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিদ্যুতের কবর খোঁড়ায় মত্ত জ্বালানি বিভাগ!

বিদ্যুতের কবর খোঁড়ায় মত্ত জ্বালানি বিভাগ!

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার শিল্পকে লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে, আর উদ্যোক্তারা শিল্প চালুকরার আগেই ক্যাপটিভ বসাচ্ছেন। সরকারের নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে সেগুলোর ভাগ্য কি হবে!

এখনই চাহিদা না থাকায় অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে থাকছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলুক আর না চলুক মাসে ১৮’শ কোটি টাকার মতো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে ক্যাপাসিটি চার্জের অঙ্কও সমানতালে ‍বড় হবে। এতে করে বিদ্যুৎ খাত সংকটে পড়তে পারে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সংকটে হবে কি, অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। চাহিদা না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মাস্টার প্লানে বলা হয়েছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। করোনা, বিশ্ব মন্দাসহ নানা কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন মিলছে না। ২০২২ সালে বিদ্যুতের চাহিদা হওয়ার কথা ছিল ২০৪৪০ মেগাওয়াট। গত ১৭ এপ্রিল পিক আওয়ারে বাংলাদেশ ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড করেছে। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮২ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে ১২ হাজার ৪৭৮ মেগাওয়াট লোডে চলেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো।

প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ থেকে ১৪ হাজারের ঘরে উঠানামা করছে। শীতের সময় এই চাহিদা ৮ থেকে ১০ হাজারে ওঠা-নামা করে। শিল্পায়নের কথা চিন্তা করে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪০ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এখন বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে শিল্প। শিল্পায়ন হচ্ছেও, কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিদ্যুতের চাহিদায় তারতম্য দেখা যাচ্ছে না। শিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহার আশানুরূপ না হওয়ায় অনেকদিন ধরেই শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে গণ হারে ক্যাপটিভ বসানো।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সুত্র জানিয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভের আবেদন (লাইসেন্সের) জমা পড়ছে। চলতি মাসে শুধু গ্যাস ভিত্তিক ২৭টি প্রস্তাবে (নতুন ১৩ টি ৩৯ মেগাওয়ার্ট এবং ১৪ টির লোডবৃদ্ধি ৬৯ মেগাওয়াট) ১০৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভের আবেদন জমা পড়েছে। আগের মাসে (২২ আগস্ট) কমিশনের সভায় ৫৫ টি ক্যাপটিভের লাইসেন্সের আবেদন তোলা হয়। যার মোট বিদ্যুৎউৎপাদন ক্ষমতা ১৪৯.০৮ মেগাওয়াট। নতুন ১০৫.৮ মেগাওয়াট, লোড বৃদ্ধি ১০টি ৪৩.১৭ মেগাওয়াট, ৪টির লাইসেন্স নবায়নের আবেদন। বেশকিছু ফেলে রাখা হয়েছে কাগজে ঘাটতি থাকায়।

বিইআরসির সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) আবু ফারুক বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, অনেকেই ক্যাপটিভের জন্য আবেদন নিয়ে আসছে। বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের চুক্তি থাকলে আমরা লাইসেন্স দিচ্ছি। তবে ক্যাপটিভ থেকে বের হয়ে আসাউচিত। ক্যাপটিভের কারণে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

বিপিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী বছরে চাহিদা বাড়ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎমাসে চাহিদা বৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে সেই জায়গা প্রায় পুরোটাই দখল করে নিচ্ছে ক্যাপটিভ। বসে থাকছে বেজড লোড বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভবিষ্যতে আরও বেশি বসে থাকার প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্যাপাসিটি চার্জের রেশ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও। একে অর্থনীতির ভাষায় ’দারিদ্রের দুষ্ট চক্র”র সঙ্গে তুলনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাপটিভ প্রশ্নে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য হচ্ছে তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, তাই বাড়তি বিনিয়োগ করে ক্যাপটিভ বসাতে হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। বিপিডিবির বক্তব্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা আংশিক সত্য বলছেন। ২০১২ সালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের গ্যারান্টি দিয়ে কিউ শ্রেণি চালু করা হয়েছিল। বিশেষ লাইন দিয়ে তাদের বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা। একজন উদ্যোক্তাও আবেদন নিয়ে আসেননি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে ক্যাপটিভের সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ।

ক্যাপটিভে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়ছে ৮.৮২ টাকা। শিল্পের জন্য একই পরিমাণ বিদ্যুৎ কিনতে হলে (পিক আওয়ারে) গুণতে হচ্ছে ১০.৬৯ টাকা। অর্থাৎ ইউনিট প্রতি দরেপ্রায় ১.৮৭ টাকার মতো হেরফের হচ্ছে। একটি ৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৯২ হাজার ইউনিট উৎপাদন করছে। ইউনিট প্রতি ১.৮৭ টাকা হারে সাশ্রয় হলে দিনে দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকার মতো। এভাবে যদি মাস ও বছর হিসেব করা যায় তাহলে সহজেই অনুমাণ করা যায় ক্যাপটিভের অঙ্ক। এর বাইরে লাইনের বিদ্যুতে রয়েছে ডিমান্ড চার্জ ও অন্যান্য মাশুল। যা ক্যাপটিভে নেই।

ক্যাপটিভের কারণে আরেক দিক দিয়েও লোকসানের শিকার হচ্ছে রাষ্ট্র। ১ মিলিয়ন ঘনফুটগ্যাস দিয়ে ক্যাপটিভে কমবেশি ৪ মেগাওয়াট (৪ হাজার ইউনিট) বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ওই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপক্ষে ৬ মেগাওয়াট ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। থামরুল অনুযায়ী বিদ্যামান ২৮০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভে ৭০০ মিলিয়ন গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই গ্যাস কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা গেলে ৪২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পাওয়া যেতো।

বিইআরসিতে দাখিলকরা পিডিবির এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাসসরবরাহ করতে গিয়ে বিতরণ কোম্পানির অবহেলার শিকার হচ্ছে দক্ষ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে একদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে থাকছে, অপরদিকে সরকারের ভর্তুকির গ্যাস ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে অপচয় হচ্ছে।

গ্যাসের অভাবে যখন অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, তখন দেদারছে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগকে বিদ্যুৎ খাতের কবর খোঁড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রক্রিয়ার গোর খোদকের ভূমিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় দুই প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (টিজিটিডিসিএল) ও কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। কঠোরভাবে বিধি নিষেধ আরোপ করা থাকলেও শত শত ক্যাপটিভ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে কোম্পানি দু’টি। কখনও বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে, কখনও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরেই কোম্পানি দু’টির বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবগণ। যে কারণে অন্যরা মুখ খোলার সাহস দেখান না।

সবচেয়ে বেশি সংযোগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ ও কর্ণফূলী গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদরে বিরুদ্ধে। কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেই ক্যাপটিভে সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে (শিল্প কারখানায় স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন জেনারেটর) নতুন করেআর গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয় ২০১৫ সালে আগস্টে। ওই আদেশ বলা হয় ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের জন্য পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ প্রদান না করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

অনদিকে ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পুর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা এড়াতে একই শিল্প কারখানায় পৃথক আইডি দিয়ে সংযোগ প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়ায় অবস্থিত এনআর গ্রুপকে ভিন্ন তিনটি গ্রাহক সংকেত দিয়ে ২৪.৯২ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে এনআরজি স্পিনিং মিলস ১৬.২৫ মেগাওয়াট, এনআরজি কম্পোজিট ইয়ার্ন ডাইন ৩.৮৭ মেগাওয়াট, এনআরজি নিট কম্পোজিট ৪.৮০ মেগাওয়াট। এনআরজি কম্পোজিট ইয়ার্ন ডাইন ৩.৮৭ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি করে ১১.৯০ মেগাওয়াট, এনআরজি নিট কম্পোজিট ৪.৮০ মেগাওয়াট থেকে বর্ধিত করে ৬.২০ মেগাওয়াটের অনুমোদন দিয়েছে তিতাস। এছাড়া একই কম্পাউন্ডে এনআরজি হোমটেক্স নামে আরেকটি নতুন (৭.৭৮ মেগাওয়াট) সংযোগ অনুমোদন দিয়েছে।

আবার কেউ কেউ গোপনে লেনদেনের মাধ্যমে তিতাসের অনুমোদন পেয়ে গেছেন। নারায়নগঞ্জের চৈতি কম্পোজিট টেক্সটাইল ১২.৯৩ মেগাওয়াট, টঙ্গীতে অবস্থিত স্কাই বিডি লিমিটেড ১২.২৫ মেগাওয়াট, মুন্সীগঞ্জের প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে ১২.৫১ মেগাওয়াটেরনতুন ক্যাপটিভের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মতিন স্পিনিং মিলের লোড বাড়িয়ে ২২.০৪ মেগাওয়াট করা হয়েছে। পিছিয়ে নেই জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিও। তারাআকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানিতে ৯.৫৮ মেগাওয়াটের ক্যাপটিভের অনুমোদন দিয়েছেন।

২০১০-২০১১ সালের দিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ক্যাপটিভ (শিল্প কারখানায় স্থাপিত বিদ্যুত উৎপাদন জেনারেটর) বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে, সরকার চাহিদারচেয়ে অনেক বেশি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে কমবেশি ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও নতুন নতুন ক্যাপটিভ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানিয়েছে প্রায় ২৮০০ মেগাওয়াটের মতো ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ রয়েছে। পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটের তথ্য মতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২৫২এমএমসিএফডি চাহিদার বিপরীতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৯৭৩.৭ এমএমসিএফডি। সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থেকেছে। কোথাও কোথাও আংশিক উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপটিভে ৭৩.৭ এমএমসিএফডিগ্যাস সরবরাহ করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হিসাবেও শুভঙ্করের ফাঁকি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তারা বলেছেন, থামরুল অনুযায়ী ২৮’শ মেগাওয়াটে ৭০০এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার হওয়ার কথা। হয়তো সবগুলো একসঙ্গে চলছেনা, এতে কিছুটা তারতম্য হতে পারে, তবে পেট্রোবাংলার ৭৩.৭ এমএমসিএফডি তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলে প্রথম ধাক্কাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়, তখনও ক্যাপটিভ সচল থাকে। অর্থাৎ ক্যাপটিভ যতো বাড়বে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বসে থাকার হার বৃদ্ধি পাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসাইন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখনই বন্ধ করা দরকার এগুলোতে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। ক্যাপটিভের গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দিলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত আছি। আমরা এমনও বলেছি, চুক্তি থাকবে বিতরণ কোম্পানি যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তারা জরিমানা হবে। তারপরও তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ক্যাপটিভের কারণে দ্বৈত্ব বিনিয়োগ হচ্ছে। ক্যাপটিভ থেকে বের করে আনতে শিল্পে বিদ্যুতের দাম কমানোর চিন্তা ভাবনাও চলছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ধৃর‌্যটী প্রসাদ সেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ওরা যদি ওদের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাহলে অবশ্যই সমস্যা। আমরা (বিপিডিবি) শুধু জেনারেশন না, এর সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন তৈরি করছি। এগুলো যদি অব্যবহৃত পড়ে থাকে তাহলেতো সমস্যাই। আমি মনে করে ক্যাপটিভকোন সমাধান না।

তিনি বলেন, এভাবে যদি ক্যাপটিভ দেওয়া হয়, তারা যে গ্যাস ব্যবহার করবে। একই গ্যাস দিয়ে দেড়গুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের বিদ্যুতে কোন সংকট নেই, জ্বালানি পেলে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সমস্যা রয়েছে জ্বালানিতে। গ্যাসের অভাবে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রাখলে সেখানও ক্ষতি। ক্যাপটিভকে আমি সলিউশন মনে করি না। বিদ্যৎ সেক্টরের জন্য না, কারো জন্যই না। শিল্প মালিকরা যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রস্তাব নিয়ে আসেন,তাহলে সেভাবে সিস্টেম গড়ে উঠবে। বিতরণ কোম্পানিরও সক্ষমতা বাড়বে, তখন জনগণও নিরবিচ্ছিন্ন পাবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল ক্যাপটিভের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে কেনো? জবাবে বলেছেন, শিল্প মালিকদের দাবি হচ্ছে তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, তাই ক্যাপটিভ নিচ্ছে। ক্যাপটিভের জন্য সময় বেঁধে দিতে হবে। ধীরে ধীরে ক্যাপটিভ ফেজ আউট করতে হবে। না হলে সমস্যা জটিল হবে।

সাউথইস্ট ব্যাংক ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২’ অর্জন করেছে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাউথইস্ট ব্যাংক “মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২” অর্জন করেছে

সাউথইস্ট ব্যাংক “মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২” অর্জন করেছে

  • Font increase
  • Font Decrease

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ‘মাস্টারকার্ড প্রিপেইড বিজনেস’ এবং ‘মাস্টারকার্ড অনলাইন অ্যাকুয়ারিং বিজনেস’ ২টি ক্যাটাগরিতে “মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২২” অর্জন করেছে।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নুরুদ্দিন মো. সাদেক হোসাইন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এম পি এর হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম; ভিকাস ভার্মা, চিফ অপারেটিং অফিসার, সাউথ এশিয়া, মাস্টারকার্ড এবং মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সহ পার্টনার ব্যাংক, ফিনটেক ও মার্চেন্ট পার্টনার সমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

;

বিকাশ অ্যাপে ৫০ টাকা মোবাইল রিচার্জে ১৬ টাকা ক্যাশব্যাক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিকাশ অ্যাপে ৫০ টাকা মোবাইল রিচার্জে ১৬ টাকা ক্যাশব্যাক

বিকাশ অ্যাপে ৫০ টাকা মোবাইল রিচার্জে ১৬ টাকা ক্যাশব্যাক

  • Font increase
  • Font Decrease

বিকাশ অ্যাপ দিয়ে নিজের নম্বরে ৫০ টাকা মোবাইল রিচার্জ করলেই গ্রাহকরা পাচ্ছেন ১৬ টাকা ক্যাশব্যাক। ১ ডিসেম্বর চালু হওয়া এই অফারটি চলবে ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ পর্যন্ত। একজন গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ থেকে একবারই এই ক্যাশব্যাক নিতে পারবেন।

মোবাইল রিচার্জ করতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘মোবাইল রিচার্জ’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। পরের ধাপে মোবাইল নম্বর নির্বাচন করতে হবে। এরপর ৫০ টাকা টাইপ করে পিন নম্বর দিলে রিচার্জ হয়ে যাবে। রিচার্জের পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহক তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১৬ টাকা ক্যাশব্যাক পেয়ে যাবেন।

এয়ারটেল, বাংলালিংক, গ্রামীনফোন, রবি এবং টেলিটকের সকল নম্বরের ক্ষেত্রেই অফারটি প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, যেকোনো সময় দেশের যেকোনো স্থান থেকে নিজের বা প্রিয়জনের মোবাইলে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় বিকাশের এই সেবাটি গ্রাহকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিকাশ অ্যাপ থেকে মোবাইল রিচার্জে বিভিন্ন অপারেটরের সাথে বিভিন্ন ধরনের অফার রয়েছে। গ্রাহক তার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নিজস্ব মোবাইল অপারেটরের ভয়েস, ডাটা প্যাক অথবা বান্ডেল কিনতে পারেন। এমনকি সেরা অফার তুলনার সুযোগও রয়েছে বিকাশ অ্যাপে। যেমন একজন গ্রাহক হয়তো ৫০ টাকা রিচার্জ করতে চান। তিনি ৫০ টাকা টাইপ করার পর ‘চেক অফার’ অপশনে ক্লিক করলে ৫০ টাকা বা তার আশেপাশের অ্যামাউন্টে যত অফার আছে সব একসঙ্গে দেখতে পারবেন এবং সেরা অফারটি বেছে নিতে পারবেন।

;

নগদে গোল করে জিতে নিন স্মার্ট টেলিভিশন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নগদে গোল করে জিতে নিন স্মার্ট টেলিভিশন

নগদে গোল করে জিতে নিন স্মার্ট টেলিভিশন

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে শুরু করেছে ‘নগদ-এ গোল’ কুইজ প্রতিযোগিতা। নগদ সেবাকেন্দ্রে গিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যাশ ইন করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিযোগীরা পাবেন নিশ্চিত উপহার এবং পাবেন আকর্ষণীয় একাধিক টেলিভিশন পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ।

নগদ-এর এই কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে সারা দেশে অবস্থিত ৪৬টি সেবা কেন্দ্রের যেকোনো একটিতে গিয়ে নগদ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন করতে হবে। ২০২২ টাকা ক্যাশ ইন করলে তাৎক্ষণিক উপহার হিসেবে পাবেন একটি চাবির রিং ও একটি মগ। ৫০০ টাকা ক্যাশ ইন করলে পাবেন একটি চাবির রিং। আর এই দুই ক্যাশ ইন -এর যেকোনো একটি করলেই পাবেন একটি কুইজ কার্ড।

এই কুইজ কার্ডে প্রতিযোগী নিজের নাম, নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর ও সঠিক উত্তর লিখে জমা দেবেন। আর এভাবে জমা হওয়া কার্ডগুলোর ভেতর থেকে প্রতিযোগিতা শেষে বেছে নেওয়া হবে তিন বিজয়ীকে। প্রথম বিজয়ী পাবেন একটি ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি। দ্বিতীয় বিজয়ী পাবেন একটি ৪০ ইঞ্চি এলইডি টিভি। আর তৃতীয় বিজয়ী পাবেন একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি।

গত ২৭ নভেম্বর সারাদেশে একসাথে শুরু হয়েছে ‘নগদ-এ গোল’ কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাটি চলবে আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে একজন নগদ গ্রাহক একবারই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্যাশ ইন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে। প্রতিযোগিতা চলা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রে উপহার ও কুইজ কার্ডের মজুদ থাকা সাপেক্ষে যে কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতা শেষে তাদেরই বিজয়ী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে, যাদের সক্রিয় নগদ অ্যাকাউন্ট থাকবে। মেগা পুরষ্কার বিজয়ীর নগদ অ্যাকাউন্ট, লেনদেন বিবরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পুরস্কার প্রদানের সময় যাচাই করা হবে।

মনে রাখতে হবে, কোনো প্রতিযোগিতা বা কোনো কাজের জন্য নগদ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের কাছে তার পিন বা ওটিপি জানতে চাইবে না। কেবলমাত্র নগদ হটলাইন নম্বর থেকে প্রতিযোগিতার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীর সাথে যোগাযোগ করা হতে পারে। কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজের তথ্য শেয়ার না করার জন্য নগদ কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছে।

‘নগদ-এ গোল’ প্রতিযোগিতা আয়োজন সম্পর্কে বলতে গিয়ে নগদ-এর চিফ সেলস অফিসার শিহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নগদ সবসময় গ্রাহকের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চায়। সারা পৃথিবী এখন বিশ্বকাপ নিয়ে উৎসবের আমেজে আছে। এই সময়ে আমরাও গ্রাহকদের হাতে কিছু শুভেচ্ছা উপহার এবং তিনটি গ্র্যান্ড পুরস্কার তুলে দিতে চেয়েছি। নগদ তার সব গ্রাহককে একটি পরিবারের সদস্য মনে করে। সেই মনে করা থেকেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

;

ইউনিয়ন ব্যাংকের নাজিরহাট শাখার উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইউনিয়ন ব্যাংকের নাজিরহাট শাখার উদ্বোধন

ইউনিয়ন ব্যাংকের নাজিরহাট শাখার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

শরী‘আহ ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রদানের প্রত্যয়ে চট্টগ্রামে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর নাজিরহাট শাখা শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নাজিরহাট শাখা উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওএ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম এবং নাজিরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপক ও উপ-শাখা ইনচার্জবৃন্দ এবং স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

;