জালিয়াতির দায়ে দুবাই ও নবীনগর সিএনজির সংযোগ বিচ্ছিন্ন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জালিয়াতি করায় মেসার্স নবীনগর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও দুবাই সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা নিশ্চিত করেছেন সাভার জোনের ডিজিএম অজিত কুমার দেব। অন্যদিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগেই পুনঃসংযোগ দেওয়ায় তিতাস গ্যাসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসির লাইসেন্স না থাকায় সম্প্রতি বেশকিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরমধ্যে সাভার অঞ্চলেই নবীনগর ও দুবাইসহ ১৪টি। সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর লাইসেন্স পেতে আবেদন জমা দেয় ৭০টির মতো প্রতিষ্ঠান। সেসব আবেদন বিষয়ে (২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বিইআরসি।

কিন্তু কালিয়াকৈরে অবস্থিত দুবাই সিএনজি ও নবীনগর সিএনজি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লোকজনকে ম্যানেজ করে ২৫ সেপ্টেম্বর সংযোগ নেন। এ নিয়ে বার্তা২৪.কমে একটি নিউজ প্রকাশ হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

তিতাস গ্যাস সাভার জোনের ডিজিএম অজিত কুমার দেব বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ওরা আমাদের লোকজনকে লাইসেন্স পাওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুনঃসংযোগ নিয়েছিল। খবরটি জানার পরেই আবার বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আমার নির্দেশনা রয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দেখাতে পারলে তাকে সংযোগ দিয়ে দিতে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসের সহকারি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন ওই অপকর্মের মূল হোতা। দুবাই সিএনজির মালিকপক্ষের সঙ্গে আতাত করে কাগজপত্র ছাড়াই পুনঃসংযোগ দিয়েছে। মমতাজ উদ্দিন ওই অঞ্চলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কর্মরত। এরমাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

দুবাই সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা এখনও লাইসেন্স পাইনি। কিভাবে সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে আমার জানার বাইরে। আমাদের হেড অফিস তিতাস গ্যাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনঃসংযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। মালিক আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

তিতাস গ্যাসের সাভার জোনের সহকারি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন ফোন দিলে রিসিভ করেন। তবে প্রশ্ন জানার পর লাইন কেটে দেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র জানিয়েছে, বার্তা২৪.কম এর নিউজটি নজরে এলে, কমিশন বিষয়টি আমলে নিয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জালিয়াতি করার দুবাই ও নবীনগর সিএনজির লাইসেন্সির আবেদনের ইস্যুটি স্থগিত করা হয়েছে। আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) নতুন লাইসেন্স প্রদান শুরু হলেও ওই দুইটি এখনই না দেওয়া সিদ্ধান্ত রয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিইআরসির কমিশনের বৈঠকে ৪৭টি লাইসেন্সের আবেদন উপস্থাপন করে। এরমধ্যে ৪০টি আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় লাইসেন্স ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

বিইআরসি আইন ২০০৩ ও গ্যাস আইন ২০১০ অনুযায়ী বিইআরসির লাইসেন্স ছাড়া সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করার কোন ‍সুযোগ নেই। লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে শতাধিক ফিলিং স্টেশন। ওইসব সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১৪ সালে প্রথম চিঠি দেয় বিইআরসি। এরপরও মোট ৮ দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তিতাসের সাড়া দিচ্ছিল না। ওই বিষয়েও ৬ সেপ্টেম্বর বার্তা২৪.কমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। নিউজের পর কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে গণহারে সংযোগ বিচ্ছিন্নে নামেন। বিইআরসির নির্দেশনা ছিল যারা এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নেননি,তাদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।

কিন্তু তিতাস সম্প্রতি গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর বেশকিছু ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে এমন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে। একসঙ্গে অনেক লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ায় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিইআরসিকে।

বিইআরসির সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুততার সঙ্গে লাইসেন্স ইস্যু করতে। গভীর রাত পর‌্যন্ত কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এমনকি দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য বন্ধের দিনেও কাজ করা হয়েছে। একজন সহকারি পরিচালক আড়াই হাজার লাইসেন্স ডিল করে। তাহলে বুঝতে পারছেন তাকে কি পরিমাণ লোড নিতে হয়। আমরা একটি লোকবল বাড়ানোর জন্য অর্গানোগ্রাম রেডি করেছি। চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, লোকবল পেলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

ইদানিং কমিশনের কিছু কর্মকর্তার ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কমিশনের মিটিংয়ে অনুমোদন হয়নি তার আগেই পেট্রোলিয়ামের একটি লাইসেন্স ইস্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি কমিশনের চেয়ারম্যানের নজরে এলে ৫জনকে শোকজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করে অংকুরেই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে না পারলে বিইআরসি তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আপনি সঠিক জেনেছেন, একজনের বিষয়ে অ্যাকশনে যাওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণ হলে কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। নবীনগর ও দুবাই সিএনজি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহীকে বলা হয়েছে।

কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা ব্যাখা চেয়ে চিঠি দিচ্ছি। ব্যাখ্যা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ।

ইউরোপে পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ২০২১ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে আবারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, ২০২০ সালে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা ২০২২- এ দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬.৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫.৮০ শতাংশে নেমে গেছে।

বৈশ্বিক আরএমজি বাজারে বাংলাদেশের অংশ অবশ্য ২০২০ সালে ৬.৩০ শতাংশ থেকে গত বছর ৬.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই অনুপাত ২০১৯ সালে ৬.৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬.৪০ শতাংশ।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আরএমজি রফতানি দৃঢ়ভাবে বেড়েছে এবং বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২০ সালে, এই রফতানি একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ভিয়েতনামের আরএমজি রফতানির ৭ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে ২০১০ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৪.২০ শতাংশ, তখন ভিয়েতনামের অংশ ছিল ২.৯০ শতাংশ।

চীন ২০২০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে দেশটির অংশ ৩১.৬০ শতাংশ থেকে গত বছরে ৩২.৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

ডব্লিউটিও-র প্রকাশনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএমজির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব রফতানিকারক। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ব আরএমজি রফতানিকারক দেশ এবং ভিয়েতনাম চতুর্থ।

ইইউ-এর সম্মিলিত রফতানি পরিসংখ্যান দেশভিত্তিক আলাদা করা হলে, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শীর্ষ রফতানিকারক হবে। তুরস্ক এবং ভারত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, তারপরে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং পাকিস্তান।

ডব্লিউটিও-র পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শীর্ষ ১০ পোশাক রফতানিকারকের বার্ষিক মোট রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের ৩৭৮ বিলিয়ন থেকে একটি বড় উত্থান। এই মূল্য ২০১৯ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছিল।

;

আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক



নিউজ ডেস্ক বার্তা২৪.কম ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) 'বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ অর্জন করেছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে `প্রাইভেট কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন) ক্যাটাগরি’-তে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার অর্জনের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই অর্জন ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার স্বীকৃতি। গ্রাহকগণের আস্থা-ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

;

রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নভেম্বরে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের জন্য নগদ ভর্তুকি বাড়ানোর পর নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নভেম্বরে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে)।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ ওঠানামা করলেও গত অক্টোবরে রেমিট্যান্স আগের ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম এসেছিল।

গত অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে চলতি নভেম্বর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধপথে প্রবাসী আয় ধারাবাহিক কমছে। অর্থনীতির অন্যতম এ সূচকটির নেতিবাচক গতি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন শর্ত শিথিল, চার্জ ফি মওকুফসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নভেম্বরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে— তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২৮ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। বিগত সময়ের মতো এবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। নভেম্বরে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এরপরেই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থান। ব্যাংকটির মাধ্যমে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ১ লাখ ডলার, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্স বাড়া‌তে উদ্যোগ

বিদেশি এক্সচেঞ্জের হাউজের মতো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালেও প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা পাবেন প্রবাসীরা। আগে যা ছিল ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া এখন থেকে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না। সব‌শেষ গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ছাড়া এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রণোদনা বাড়ার পরও সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক তিন বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

;

শিগগির সুদহার সীমা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই: গভর্নর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখনই এটি প্রত্যাহারের সঠিক সময় নয় বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, আমরা একটি ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। সুদের সীমা প্রত্যাহার করা হবে, কিন্তু এখন এটি প্রত্যাহার করার সঠিক সময় নয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই ভোক্তা ঋণের সুদের হার শিথিল করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার শক্তিকে তা নির্ধারণ করতে দেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনই কোনো আমদানি বিধিনিষেধ আরোপ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র কিছু বিলাসবহুল আইটেমের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

;