সেচে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণের নামে অযথা সময় অপচয় না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানি সমূহকে বিকল্প উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকরা সেচের সময় পিক ও অফপিক আওয়ার মেনে চললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পিডিবি’র চাহিদা মতো প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়।

বিপিসিকে চাহিদার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল ক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি হতে সেচ মৌসুম শুরু হয় যা ৩১ মে পর্যন্ত চালু থাকে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সেচ এবং গীষ্মকাল একসঙ্গে হওয়ার বরাবরেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়। এবার একই সময়ে রমজান মাসও থাকবে, যে কারণে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগের কপালে। গত বছর সেচ মৌসুমে এপ্রিল ২০২২ মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪৭৮২ মেগাওয়াট। আসছে সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট।

চলতি সেচ মৌসুমে মোট সেচ সংযোগের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৬টি, যাতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে ২৪’শ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি সেচ সংযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। সংস্থাটির সেচ গ্রাহকের সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৫টি। সব সংযোগ এক সময়ে সচল রাখতে বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়বে ২ হাজার ২৮ মেগাওয়াট। সংস্থাটির আর সাড়ে ১১ হাজার সেচের আবেদন ঝুলে রয়েছে। এসব গ্রাহকের সংযোগ প্রদান করা হলে চাহিদা আরও ৬৫ মেগাওয়াট বেড়ে যাবে।

চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা, যে সকল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, সে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পিডিবির পক্ষ থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। পিডিবি বলেছে, গত সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৬’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট। আসছে মৌসুমে ১৬’শ মিলিয়ন চাহিদা, ন্যুনতম ১৪’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন পড়বে।

আর এখানেই রয়েছে সেচ মৌসুমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোতে গ্যাসের উৎপাদন কমে আসছে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারও চড়া, সব মিলিয়ে গ্যাসের নিরবিচ্ছন্ন সরবরাহের বিষয়ে কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

সেচ মৌসুমে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসি'র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যোগাযোগ করে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করা,বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসমূহে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা, সেচে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রসমূহ সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা, ওভারলোডেড সাবস্টেশনসমূহ ও সঞ্চালন লাইন আপ গ্রেডেশনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম ২ মাসের উৎপাদন সক্ষমতা রাখার জন্য জ্বালানি তেলের মজুদ নিশ্চিত করা, সেচ মৌসুমে জরুরি সময়ে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানির ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ তদারকির জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন এবং গঠিত মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

আলোচনায় বিপিসি, পেট্রোবাংলা, জননিরাপত্তা বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি তাদের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মোহাং সেলিম উদ্দিন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

এসআইবিএলের চেয়ারম্যান-এএমডির পদত্যাগের বিষয়টি ব্যক্তিগত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুব উল আলম ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়ার পদত্যাগের বিষয়টি বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পদত্যাগী চেয়ারম্যান মো. মাহবুব উল আলম এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়ার পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পদত্যাগের বিষয়টি একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ও নিজস্ব।

বলা হয়, সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান মো. মাহবুব উল আলম পদত্যাগ পত্রে তার পারিবারিক সমস্যা ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করে শারীরিক ও মানসিক বিপর্যস্ততার কথা বলে পরিচালনা পর্ষদের কাছে অব্যাহতি চেয়েছেন। পদত্যাগপত্রে পরিবারে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসে বসবাসরত এক মেয়ের সংসার ভেঙে যায় । তাদের দুই বছরের একটি বাচ্চাও আছে। পুরো বিষয়টি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে । ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তিনি দু’বার কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় শারীরিকভাবে নানা সমস্যা দেখা দেয়ার কথাও বলেন ।

ব্যাংকের এএমডি আবু রেজা মো. ইয়াহিয়ার নিয়োগটি ছিল চুক্তিভিত্তিক। তিনি কোভিডে আক্রান্ত ও পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি চুক্তিভিত্তিক চাকরি হতে (২৮ জানুয়ারি) অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

তাদের উভয়ের আবেদন আজ ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৯২তম সভায় যথানিয়মে গৃহীত হয়।

এসআইবিলে ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। অধিকন্তু অবলোপনকৃত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে আদায় হয়েছে প্রায় ৮ গুণ। ২০২২ সালে ২০২১ সালের তুলনায় আড়াইগুণের বেশি রেমিটেন্স আহরণ হয়েছে।

শাখা-উপশাখা-এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট সম্প্রসারণ ও সুশাসন নিশ্চিত করে ব্যাংককে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেষ্ট।

অতএব আমাদের প্রত্যাশা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনীতির অগ্রগতির ধারাকে বজায় রাখতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

;

‘স্বপ্ন’ এখন মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড রোডে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘স্বপ্ন’ এখন মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে

‘স্বপ্ন’ এখন মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ এখন মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড রোডে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মিনিটে নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটো (সি আই পি), পরিচালক -এফবিসিসিআই, স্বপ্ন'র হেড অব বিজনেস এক্সপ্যানশন মো. শামছুজ্জামান, , রিজিওনাল ম্যানেজার অফ অপারেশন সাজিদ আহমেদ, ম্যানেজার প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট মেহেদী হাসান রাহাত, আউটলেট অপারেশন ম্যানেজার মাসুদুর রহমানসহ অনেকে ।

স্বপ্নর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘স্বপ্ন’ এখন দেশের ৫১ টি জেলায়। মানিকগঞ্জের নতুন এই আউটলেটে আমাদের সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে গ্রাহকরা স্বপ্নের এ আউটলেট থেকে নিয়মিত বাজারের সুযোগ পাবেন।

স্বপ্নের অপারেশন্স ডিরেক্টর আবু নাছের জানান, নতুন এ আউটলেটে থাকছে মাসব্যাপী নানা অফার ও হোম ডেলিভারি সেবা।

স্বপ্ন’র ২৯৩ তম আউটলেট এটি । নতুন এ আউটলেটের ঠিকানা: সিটি সেন্টার, ১৬/ঢাকা -আরিচা হাইওয়ে রোড,মানিকগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড, মানিকগঞ্জ।

;

ভিক্ষুকের ঝুলিতেও বিদ্যুতের তোপ



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় কৃষি সেচ এবং হতদরিদ্র গ্রাহকদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তুলনামূলক ধনিক শ্রেণির ভোক্তাদের দাম বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানো হতো, এখন আর কিছুই মানা হচ্ছে না।

এখন আর গবীর-ধনী, ক্ষুদ্র শিল্প, বৃহৎ শিল্প, রাস্তার পান দোকান কিছুই মানা হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে একাকার করে ফেলা হচ্ছে নির্বাহী আদেশে। এতে সামাজিক অস্থিরতার শঙ্কা করছেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।

হতদরিদ্র গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য লাইফ লাইন শ্রেণি করা হয়েছিল। যাদের বসতি মূলত এক কক্ষ বিশিষ্ট। সীমিত সময়ের জন্য একটি বাল্ব ও একটি ফ্যান ব্যবহার করে এমন গ্রাহকরা এই সুবিধা পেতেন। সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির লোকজন সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাতে যান। তাদেরকে সাশ্রয়ী দরে বিদ্যুৎ দিতে লাইফ লাইন গ্রাহক শ্রেণি করা হয়।

সেই লাইফ লাইনে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিল ছিল ৩.৭৫ টাকা। সেই বিল ডিসেম্বরে ১৯ পয়সা বাড়িযে ৩.৯৪ টাকা করা হয়েছিল। এবার আরও ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৪.১৪ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ হতদরিদ্র গ্রাহকের ইউনিট প্রতি খরচ বাড়লো ৩৯ পয়সা। অতীতে ৫০ ইউনিটের নীচে হলেই লাইফ লাইন বিবেচনা করা হলেও এবার সেই সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ পান দোকানিকেও বাড়তি বিল গুণতে হবে। আতঙ্কের আরেকটি কারণ হচ্ছে এদের অনেকেই পৃথক মিটার ব্যবহার করেন না, অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন। বিদ্যুৎ বিল আদায়কারীরা, দাম বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি আদায় করে থাকেন।

বিদ্যুতের আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ খাত বিবেচনা করা হয় কৃষি সেচকে। কৃষি উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে এ খাতে বিদ্যুতের দাম সব সময়েই সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করা হতো। এবার সেখানেও কোপ পড়তে যাচ্ছে। সার-বীজের দাম বেড়ে যাওয়া আসন্ন বোরো মৌসুম নিয়ে এমনিতেই শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। তারপর সেচে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। ১২ ডিসেম্বর ২১ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৩৭ টাকা করা হয়েছিল, এবার আরও ২২ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৫৯ টাকা করা হয়েছে। কৃষিতে মধ্যমচাপে ফ্ল্যাট রেটে ৫.৫১ টাকা, অফ পীকে ৪.৯৭ টাকা এবং পীকে ৬.৮৯ টাকা করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়নি রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের বিলেও। দুই দফায় দাম বাড়িয়ে ৮.৪৯ টাকা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী দরের কোন ব্যবস্থা রাখা হয় নি। ফ্ল্যাট রেটে ৯.৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা বৃহৎ শিল্পের তুলনায় মাত্র ২ পয়সা কম। বৃহৎ শিল্পে ফ্ল্যাট রেটে দর ধরা হয়েছে ৯.৪৩ টাকা।

ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সে সব প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দাম বাড়ানো হতো, সেখানে নানা রকম অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত হতো। সবক্ষেত্রে যে প্রতিপালন করা যেতে সেটা বলবো না, তবে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। সমাজের পিছিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠিকে সহায়তা করার চেষ্টা থাকত। মূল্যহারের অভিঘাত থেকে হতদরিদ্র গ্রাহক, গ্রামের পান-বিড়ির দোকান, কৃষি সেচকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হতো। একজন পান দোকানী আর বসুন্ধরা সিটির দোকানীর বিদ্যুতের বিল সমান হতে পারে না। সেই জায়গাগুলো দেখে রাখার চেষ্টা হতো। এখন সেসব চর্চা বন্ধ করে দেওয়া হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। বিইআরসিকে এখন ক্লিনিক্যালি ডেড বলা যায়। এ কুফল অনেক ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, যে হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে এর ফল উল্টো হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল, হিতের বিপরীত হতে পারে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম যতো বাড়বে, ততো ভোগ ব্যয় কমবে। বাজারে পণ্য বিক্রি কমে যাবে, এতে কমে আসবে সরবরাহ। কমে যাবে ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে আয়।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম যে হারে বাড়ানো হয়েছে, তার কোনই যৌক্তিকতা নেই। আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি দাম না বাড়িয়েও সামাল দেওয়ার অনেক বিকল্প ছিল। অনেকগুলো যাওগায় অপচয় রয়েছে, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি করা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা গণশুনানিতে নিয়মিত অংশ নিতাম। সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠিকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। উন্নত দেশেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, লাইফ লাইন গ্রাহক শ্রেণি করা হয়েছে হতদরিদ্রের জন্য। তারা একটি বাল্ব একটি ফ্যান ব্যবহার করেন। মাসে যার ব্যবহার অনধিক ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করেন। সেই বৃদ্ধা ভিখারিনীর ঘরেও একটি বাল্ব জ্বলে। সেই ভিখারিনীর ঝোলাতে হাত বসাতে চায় বিদ্যুতের কোম্পানিগুলো। অনেকদিন ধরেই তারা এই শ্রেণির গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তৎপর, কিন্তু বিইআরসিতে ভোক্তাদের চাপের মুখে পিছিয়ে গেছে। নির্বাহী আদেশে গরীবের স্বস্তির জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

 

;

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

  • Font increase
  • Font Decrease

১০ হাজার কোটি টাকার রফতানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিলে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শরী‘আহ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন এন্ড পলিসি বিভাগের (বিআরপিডি) পরিচালক মাকসুদা বেগম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;