সেচে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সেচ মৌসুমে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণের নামে অযথা সময় অপচয় না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানি সমূহকে বিকল্প উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকরা সেচের সময় পিক ও অফপিক আওয়ার মেনে চললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পিডিবি’র চাহিদা মতো প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়।

বিপিসিকে চাহিদার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল ক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি হতে সেচ মৌসুম শুরু হয় যা ৩১ মে পর্যন্ত চালু থাকে। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সেচ এবং গীষ্মকাল একসঙ্গে হওয়ার বরাবরেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়। এবার একই সময়ে রমজান মাসও থাকবে, যে কারণে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগের কপালে। গত বছর সেচ মৌসুমে এপ্রিল ২০২২ মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪৭৮২ মেগাওয়াট। আসছে সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট।

চলতি সেচ মৌসুমে মোট সেচ সংযোগের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৬টি, যাতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে ২৪’শ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি সেচ সংযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। সংস্থাটির সেচ গ্রাহকের সংখ্যা রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৫টি। সব সংযোগ এক সময়ে সচল রাখতে বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়বে ২ হাজার ২৮ মেগাওয়াট। সংস্থাটির আর সাড়ে ১১ হাজার সেচের আবেদন ঝুলে রয়েছে। এসব গ্রাহকের সংযোগ প্রদান করা হলে চাহিদা আরও ৬৫ মেগাওয়াট বেড়ে যাবে।

চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা, যে সকল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, সে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পিডিবির পক্ষ থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। পিডিবি বলেছে, গত সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৬’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট। আসছে মৌসুমে ১৬’শ মিলিয়ন চাহিদা, ন্যুনতম ১৪’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন পড়বে।

আর এখানেই রয়েছে সেচ মৌসুমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোতে গ্যাসের উৎপাদন কমে আসছে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারও চড়া, সব মিলিয়ে গ্যাসের নিরবিচ্ছন্ন সরবরাহের বিষয়ে কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

সেচ মৌসুমে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসি'র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) যোগাযোগ করে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করা,বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসমূহে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা, সেচে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রসমূহ সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা, ওভারলোডেড সাবস্টেশনসমূহ ও সঞ্চালন লাইন আপ গ্রেডেশনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম ২ মাসের উৎপাদন সক্ষমতা রাখার জন্য জ্বালানি তেলের মজুদ নিশ্চিত করা, সেচ মৌসুমে জরুরি সময়ে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানির ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা, সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ তদারকির জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন এবং গঠিত মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

আলোচনায় বিপিসি, পেট্রোবাংলা, জননিরাপত্তা বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি তাদের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মোহাং সেলিম উদ্দিন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

   

কর ও ভ্যাট কোনো বোঝা নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
কর কোনো বোঝা নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

কর কোনো বোঝা নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর’র চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, কর ও ভ্যাট কোনো বোঝা নয়। বরং এটি দেশের উন্নয়নে গর্বিত অংশীদার হওয়ার মাধ্যম।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা, সিজন পরিবর্তন ও সিন্ডিকেটের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও করের বোঝাটাই সবার কাছে মাথা ব্যথার কারণ, এই মানসিকতা থেকে সবাইকে বের হতে হবে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বাজেট শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এনবিআর’র চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কর ও ভ্যাট শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে জনমনে যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে তা দূর করতে হবে। জনগণের কর ও ভ্যাটের টাকায় দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত চার বছরে ২১ লাখ থেকে ৩৬ লাখে করদাতা এবং ২ লাখ থেকে ৫ লাখে ভ্যাটদাতা উন্নীতকরণ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে করনেট ও ভ্যাটের আওতায় বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আয়কর ও ভ্যাট প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক নীতি) মো. মাসুদ সাদিক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম।

এসময় আগামী বাজেটে সহজ ও ব্যবসাবান্ধব আয়কর ব্যবস্থা, আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অটোমেশন, স্থানীয় শিল্পায়ন উৎসাহিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দাবি জানিয়েছেন রংপুর চেম্বারের নেতৃবৃন্দ।

;

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ও নগদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং নগদ লিমিটেড একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের সাধারণ বীমা শিল্পে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

একটি মোবাইল আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এবং একটি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে এই ধরণের অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে প্রথম, যার প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশি জনসাধারণের জন্য বীমা পরিষেবাগুলোকে সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করা।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক - সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ এবং নগদের নির্বাহী পরিচালক - মারুফুল ইসলাম ঝলক তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের হেড অব ডিজিটাল বিজনেস মনিরুজ্জামান খান, ফিনান্স কন্ট্রোলার সৈয়দ আলিউল আহবাব, নগদ লিমিটেডের হেড অব ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন মোহাম্মদ বায়েজিদ সহ দুই প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, “নগদের সাথে এই অংশীদারিত্বে আমরা রোমাঞ্চিত, কারণ সাধারণ বীমা শিল্পে এমন অংশীদারিত্বের নজির এটিই প্রথম। এই অংশীদারিত্বের ফলশ্রুতিতে গ্রাহকরা এখন থেকে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের যেকোনো শাখায় নগদের মাধ্যমে তাদের প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে, গ্রাহকরা ও জনসাধারণ খুব সহজেই নগদ অ্যাপ থেকে সরাসরি আমাদের বীমা পলিসি কিনতে সক্ষম হবে। আমরা আশা করি এই অংশীদারিত্ব ইন্স্যুরেন্স সেবাকে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে বীমা শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।”

নগদের নির্বাহী পরিচালক মারুফুল ইসলাম ঝলক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, "শুরু থেকেই নগদ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্থ করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্সের সাথে অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছি আমরা। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও নগদ থেকে সহজেই ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান করতে পারবেন এবং স্মার্টাইজেশনের দিকে দেশ আরেকটু এগিয়ে যাবে।"

;

বাংলাদেশ সফরে আসছেন বিশ্বব্যাংকের এমডি অ্যানা বেজার্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ সফরে আসছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যানা বেজার্ড। বাংলাদেশে এটি তার প্রথম সফর।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় একদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস জানায়, অ্যানা বেজার্ড বাংলাদেশে আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন। তার সঙ্গে থাকবেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার।

বিশ্বব্যাংক জানায়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তাকারী প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ছিল অন্যতম। দেশ স্বাধীনের পর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ৪১ বিলিয়নের বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঋণের বেশিরভাগই অনুদান বা রেয়াতি ঋণ। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) দ্বারা সমর্থিত বৃহত্তম চলমান কর্মসূচি রয়েছে।

;

১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে ট্রান্সকম গ্রুপের উত্তরাধিকারীরা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শাযরেহ হক, সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমান (বাম থেকে)

শাযরেহ হক, সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমান (বাম থেকে)

  • Font increase
  • Font Decrease

ট্রান্সকম কোম্পানির শেয়ার ও অর্থসম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে মা শাহনাজ রহমান (ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান) এবং বোন সিমিন রহমানসহ (ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও) আটজনের নামে পৃথক তিনটি মামলা করেছেন প্রয়াত শিল্পপতি লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আইকনিক ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ১০ হাজার কোটি টাকার (সমপরিমাণ) সম্পদের বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা। 

দায়েরকৃত মামলার অভিযুক্তরা হলেন- সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স-আইন) মো. ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, ব্যবস্থাপক (কোম্পানি সেক্রেটারি) আবু ইউসূফ মো. সিদ্দিক ও সিমিন রহমানের ছেলে এবং ট্রান্সকম লিমিটেডের হেড অফ ট্রান্সফরমেশন যারাইফ আয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ফেব্রুয়ারি) লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক তার মা শাহনাজ রহমান এবং বড় বোন সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। নথি জাল করে পারিবারিক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ থেকে  তাকে এবং তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। লতিফুর রহমান মারা যাওয়ার আগে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি রেখে গেছেন বলেও দাবি করেন শাযরেহ হক।

তিনটি মামলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় একই দিনে সিমিন রহমান ও শাহনাজ রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে তাদের (সিমিন রহমান ও শাহনাজ রহমান) সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তাকেও গ্রেফতার করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাকি তিনজনকে খুঁজছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, কামরুল হাসান, আবদুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ও আবু ইউসূফ মো. সিদ্দিক।

গুলশান থানার ২০ নম্বর মামলার এজাহারে বাদী শাযরেহ হক উল্লেখ করেছেন, তার বড় বোন সিমিন রহমান ট্রান্সকম লিমিটেডের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ার থেকে তাকে এবং তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে বঞ্চিত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন। এতে সহযোগিতা করেন ফখরুজ্জামান ভুঁইয়া, কামরুল হাসান, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক এবং আবু ইউসুফ। বাবা লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি এসব জানতে পারেন বলে উল্লেখ করেন। এই জালিয়াতিতে যে সই ও টিপসই ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো তাদের না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্ণপাত করেননি। তাই তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

২১ নম্বর মামলার এজাহারে শাযরেহ হক অভিযোগ করেন, তার বাবা মারা যাওয়ার আগে রেখে যাওয়া ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করেননি বড় বোন ও মা। তারা বেশি শেয়ার হস্তগত করতে অসৎ উপায়ে কয়েকজনের সহায়তায় মনগড়া ‘ডেথ অব সেটেলমেন্ট’ করেন। সেটেলমেন্টে তার বাবা লতিফুর রহমান, তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর জাল করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরেক মামলার এজাহারে শাযরেহ হক আরও বলেন, লতিফুর রহমান মারা যাওয়ার সময় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং এফডিআরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রেখে যান, যা শরিয়া অনুয়ায়ী তিনিসহ তার ওয়ারিশরা পাওয়ার কথা। কিন্তু মা শাহনাজ রহমান ওই টাকার নমিনি (ট্রাস্টি) হওয়ায় সেই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ৬০ কোটি টাকা দিয়ে ট্রান্সকম লিমিটেডের ১৮ শতাংশ কেনার বায়না করেন। সেই শেয়ার পরে সিমিন রহমানকে দান করা হয়। 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ জুলাই শিল্পপতি লতিফুর রহমান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ বাসভবনে মারা যান। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। ২০২০ সালের ২৭ জুলাই প্রয়াত লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান ট্রান্সকমের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হন তার বড় মেয়ে সিমিন রহমান। বর্তমানে মামলা তদন্ত করছেন পিবিআই-এর পরিদর্শক আলাউদ্দিন।

;