চট্টগ্রামে মাল্টিপারপাস বে-টার্মিনাল, আবুধাবি পোর্টস দিচ্ছে ১০০ কোটি ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত বে-টার্মিনাল প্রকল্পের অধীন মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ (এডি পোর্টস)। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল এবং আবুধাবি পোর্টস গ্রুপের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সাইফ আল মাজরুই স্মারকে সই করেন। এসময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এডি পোর্টসের বাংলাদেশ এজেন্ট সাইফ পাওয়ারটেকের প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ বে-টার্মিনাল প্রকল্পের অধীনে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। তারা অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করবে।


জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ পাশে বঙ্গোপসাগরের তীরে ‘বে- টার্মিনাল’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‘বে-টার্মিনাল’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ার পর সেখানে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য ২০১৭ সালে কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়। কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। গত বছরের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যানের মোড়ক উন্মোচন করেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, মাস্টারপ্ল্যানে এক হাজার ২২৫ মিটার দীর্ঘ দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল এবং এক হাজার ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনালসহ মোট তিনটি টার্মিনাল রয়েছে। তিনটি টার্মিনালের দৈর্ঘ্য চার দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। মাস্টারপ্ল্যানে মোট ১১টি জেটি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চ্যানেলে যথোপযুক্ত নাব্যতা থাকায় সেখানে ১২ মিটার ড্রাফটের এবং ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। আবহাওয়া এবং সাগরের বড় বড় ঢেউ থেকে রক্ষা করতে একটি ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রেক ওয়াটার বা ঢেউনিরোধক বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বে-টার্মিনাল থেকে বহির্নোঙরের দূরত্ব এক কিলোমিটার।

মাল্টিপারপাস টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দর ও আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ যৌথভাবে নির্মাণ করবে। এক হাজার ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে সিঙ্গাপুরের পিএসএ এবং অপরটি নির্মাণে দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড অর্থায়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে। ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ব্রেক ওয়াটার ও অ্যাক্সেস চ্যানেল ড্রেজিং করবে বিশ্বব্যাংক।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য ৬৬ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫০০ দশমিক ৬৯ একর সরকারি খাস জমি অনুমোদন পেয়েছে। ব্রেক ওয়াটার নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে ৫০ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০২৬ সালে অপারেশনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি বন্দর পরিচালনাকারীরা বিনিয়োগ করছেন। আমি সম্ভাবনা ও স্বপ্ন দেখি, এক সময় আসবে, যখন চট্টগ্রাম বন্দর পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেও এর কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল, বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লা আলী আব্দুল্লা কাসিফ আল মৌদি, আবুধাবী পোর্টস গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের রিজিওনাল চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আহমেদ আল মুতায়া।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে মেরিটাইম সেক্টরে আমাদের যে যাত্রা, তা পুনর্জীবিত ও উজ্জীবিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সময়ে সমুদ্র ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর গত ১৫ বছরে আন্তর্জাতিক বন্দরের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন হচ্ছে। মোংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের মতো সক্ষমতা অর্জন করবে। পায়রা বন্দরে নির্মাণাধীন জেটিতে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়েছে। এটি নতুন অনুভূতি। আগে মাদার ভেসেলে পণ্য পরিবহনের জন্য আমাদের কলম্বো ও সিঙ্গাপুর বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হতে হতো। বর্তমানে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে। এতে করে নির্ভরশীলতা কমে যাবে। মাতারবাড়ি বন্দর আঞ্চলিক হাবে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। খুব শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। বে-টার্মিনাল নির্মিত হলে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ আসা-যাওয়া করবে। জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। চট্টগ্রাম বন্দর অন্য ধরনের উচ্চতায় চলে যাবে। বে-টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক, রেলওয়ে কানেক্টিভিটি থাকবে। পণ্য পরিবহন সহজলভ্য হবে। বে-টার্মিনাল বাংলাদেশের সমুদ্র পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাল্টিপারপাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু করতে চাই।


জানা যায়, টার্মিনালটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ১০ লাখ টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কন্টেইনার এবং ৭০ লাখ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করতে পারবে। এতে দেশের আমদানি ও রপ্তানি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন খরচ এবং সময় কমে আসবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় এডি পোর্ট গ্রুপ একটি দক্ষ প্রতিষ্ঠান। এডি পোর্ট গ্রুপের ৫টি সমন্বিত বিজনেস ক্লাস্টার ডিজিটাল, ইকোনমিক সিটিস এন্ড ফ্রি জোন, লজিস্টিকস, মেরিটাইম এবং পোর্ট রয়েছে। আবুধাবি অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আবুধাবি পোর্ট গ্রুপ মাকতা গেটওয়ে এডভান্সড ট্রেড এন্ড লজিস্টিক প্লাটফরম তৈরি এবং পরিচালনা করেছে। যা আবুধাবি জুড়ে বাণিজ্য ও লজিস্টিক নৌ, স্থল ও আকাশ পথে পরিষেবা গুলোকে একীভূত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমসহ বে-টার্মিনাল প্রজেক্টে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথভাবে এডি পোর্ট গ্রুপ বিনিয়োগ করবে । এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে তথা বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এবং দেশীয় অর্থের সাশ্রয় হবে। এতে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। এডি পোর্ট গ্রুপের সাথে অংশীদারিত্বে কাজ করার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশা করা যায় ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার গভীরতা ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বে টার্মিনালে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের জাহাজ।

   

ঈদুল আজহার পশুর হাট

‘শোরুমের একদাম, ১১ মণ দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা’



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪
ছবি: বার্তা২৪, রুস্তম-এর দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা

ছবি: বার্তা২৪, রুস্তম-এর দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মেরাদিয়া পশুর হাটে প্রবেশ করতেই দেখা মিললো সাদা-লালের সংমিশ্রণে ডোরাকাটা মাঝারি দেহের ‘রুস্তম’।

‘বড় গরু না হলে মালিকের শোরুমের একদাম ১১ মণ দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা’র হাঁকডাকে ক্রেতাদের ভিড় এখানে।

‘রুস্তম’ রোজ সকালে নিয়ম করে সাইলেজ, দুপুরে নেপিয়ার ঘাস, বিকেলে খেজুর, রাতে কলা খায়। রুস্তমের আরেকটি বড় সৌখিন স্বভাব রয়েছে। তিন বেলা সে ঘুমায়। ঘুম ভাঙলে তাকে দিতে হয়, গমের ভাঙানো ভূষি দিয়ে কুসুম-গরম পানি।

মেরাদিয়া হাটের এই রুস্তম এসেছে নাটোর জেলা থেকে। কৃষক কালাম মিয়া তিনবছর লালন-পালন করে রুস্তমকে নিয়ে এসেছেন এবারের পশু কোরবানির হাটে।

কালাম মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ক্রস জাতের গরুটির বয়স তিন বছর। লালন-পালনের পর গরুটির ওজন এখন ১১ মণ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দিয়েছি। হাটে আনার আগে ওজন মেশিনে পরিমাপ করে দেখেছি, এর ওজন প্রায় ৪শ ৫০ কেজি।

রুস্তমের খাবারের সৌখিন স্বভাব নিয়ে কালাম মিয়া বলেন, রুস্তমকে সকালে দানাদার খাবার সাইলেজ দিতে হয় ২ কেজি ও দুপুরে নেপিয়ার কাঁচাঘাস, বিকেলে নিয়ম করে দুটো খেজুর খাওয়াতে হয়। সেইসঙ্গে রোজ রুস্তমকে গমের ভূষি, খেসারি, জব, ধানের কুড়া খাওয়ানো হয়। দেখতে গম্ভীর হলেও স্বভাবে বেশ শান্ত রুস্তম।

মেরাদিয়ার গরুর হাট, ছবি- বার্তা২৪.কম

রুস্তমকে একদামে কেন বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কালাম মিয়া বলেন, রুস্তম আমার অনেক শখের গরু আর বড় করার ইচ্ছেও ছিল। হঠাৎ করে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় টাকার প্রয়োজনে রুস্তমকে বিক্রি করতে হচ্ছে। শখের গরুকে কেউ যাতে দামাদামি করে ছোট করতে না পারে, সে কারণে শোরুমের মতো একদাম বলে দিয়েছি।

মেরাদিয়া হাটে মহাখালী থেকে আসা ক্রেতা নূর উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, গরুটি পছন্দ হয়েছে। দাম একটু বেশি। একদামে কী আর গরু বিক্রি হয়! তাই আরেকটু দেখবো।

এদিকে, হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাটে সব ধরনের পশুর সরবরাহ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের গরু, ছাগল, মহিষ নিয়ে হাটে নিয়ে এসেছেন। এখনো ঈদের ছুটি হয়নি; তাই হাটগুলোতে এখনো বেচাবিক্রি তেমন একটা শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীদের আশা, শুক্রবার থেকে হাটে বেচাবিক্রি বাড়বে।

;

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’

  • Font increase
  • Font Decrease

ভবিষ্যতের যানবাহন হচ্ছে ইলেক্ট্রিক যানবাহন (ইভি)। প্রস্তাবিত বাজেটে (২০২৪-২৫) ইভির ক্ষেত্রে কোন সহায়তা দেখিনি। বিনিয়োগের শর্তে যদি ডিউটি সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে বিকাশ সম্ভব, না হলে এই খাতের বিকাশ কঠিন।

বুধবার (১২ জুন) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকক্সারার্স এসোসিয়েশন (বামা) নেতৃবৃন্দ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকক্সারার্স এসোসিয়েশন (বামা) প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকার ভালোভাবে বাজেট দিয়েছে, আমরা মনে করেছিলাম সব জায়গায় ডিউটি আরোপ হবে তেমনটি হয়নি। তবে বাজেটে অনেক আশা ছিল, কিছু সাপোর্ট পাবো, কিছু সাপোর্ট পেয়েছি সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে অন্য ক্ষেত্রে সেভাবে পাওয়া যায়নি। ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। চীন পনের বছর ধরে সহায়তা দিয়েছে, ভারত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশেও সহায়তা প্রয়োজন, না হলে এই খাতটি বিকশিত হবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। সরকার যদি বহুচাকার ট্রাকে ছাড় দেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। সারাবিশ্বে বহুচাকার ট্রাকের উপর ছাড় দেওয়া হয়। রোড, ব্রীজ ও ফেরীর টোল কমিয়ে আনা উচিত। তাহলে বড়গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেলে সড়কের ক্ষতি কমে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে খুবই বিব্রত, সরকারও বিব্রত। আমরা যে চ্যাসিস দেই, সবাই বডি বানায়। আমার মনে হয় বডি বানানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা থাকা উচিত। সরকার অনুমোদিত ছাড়া কেউ বডি বানাতে পারবে না, সরকারের রেগুলেশন করা দরকার। টায়ারের ডিউটি বেশি অনেকে টায়ার নির্ধারিত সময়ে বদলাচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। চাকার ডিউটি শূন্য না হলেও অর্ধেকে নামিয়ে আনা উচিত।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, অতীতে যে প্রোনোদনা দিয়েছে, তার ভিত্তিতে টু হুইলার শিল্পে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ইভির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

ইজিবাইক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান খান বলেন, টেকনিক্যাল বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, আমার মনে হয় একটা সিদ্ধান্ত আসবে। এটাকে কিছুটা আধুনিকায়ন করে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

আকিজ মটরস এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ আমিন উদ্দিন বলেন, সবার আগে হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য। আজকে ঢাকার অবস্থা কি, আমাদের গর্ভবতী মায়েদের কি অবস্থা এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। ইভি পরিবেশ বান্ধব যানবাহন সারাবিশ্বে এর ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশে সহায়তা দেওয়া না হলে পিছিয়ে পড়বে এই খাত। আমরা চাই কমপ্লিট ইভি নীতিমালা।

বিভাটেক এন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান পরাগ, ইফাদ গ্রুপের পরিচালক আবির বকশীসহ অনেক উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন। তারা সরকারের কাছে বাজেট রিভিউ করার দাবি জানান।

;

‘শিক্ষায় অগ্রাধিকারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বরাদ্দে অবহেলা’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঐতিহাসিকভাবে প্রতিশ্রুতি থাকলেও জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো বছরই তা অনুসরণ করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, শিক্ষায় বাজেটে বরাদ্দ সামান্য করে বাড়লেও প্রতি বছর শিক্ষার্থী বাড়ছে ব্যাপক হারে। এর ফলে সরকারের শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ কমে আসছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আয়োজনে বাজেট বিষয়ক এক ডায়ালগে বুধবার (১২ জুন) তিনি এ সব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অপ্রতুলতা তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ শ্রেষ্ট বিনিয়োগ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বাজেটে এর প্রতিফলন নেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু স্বপ্নের বাস্তবায়নটা কোথায়?’ প্রশ্ন রাখেন রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেন, এখনও শিক্ষা খাতে সরকারের ব্যয়কে বরাদ্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অথচ, এত বছর আগেও এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করে গেছেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষায় প্রাধান্যের কথা বলা হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়ে থাকে। এই বরাদ্দের পুরোটা আবার ব্যয় না করে ফেরত দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সংশোধনের সময় অন্যান্য খাতে ছুরি দিয়ে কাঁটা হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বরাদ্দ কাঁটা হয়েছে কোদাল দিয়ে।

শিক্ষা খাতের ১২ হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য খাতে চার হাজার কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ কমিয়ে আনায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাজেট কাঁটছাটে শিক্ষায় কেন আঘাত সবার আগে আসে? বাস্তবায়নে সক্ষমতা নেই কেনো?

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল লার্নিং, ডিসটেন্স লার্নিং এর কথা বলা হলেও মোবাইলের ভয়েজ কল, ডাটা ডিও ভাইসে কর বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইসিটির কথা বলা হয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণের কথা বলা, ডিজিটাল ল্যাবের কথা বলা হয়, বাস্তবতা হচ্ছে, এ সব অবকাঠামোর বেশিরভাগই অকেজো।

;

বিকাশ-এ সম্মানী পাবেন ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারির কর্মীরা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩’ প্রকল্পে নিয়োজিত ১ লাখ ২৫ হাজার তালিকাকারী, গণনাকারী এবং সুপারভাইজারদের সম্মানী দেয়া হবে বিকাশ-এ। অগ্রণী ব্যাংক ও বিকাশ-এর সম্মিলিত উদ্যোগে সম্মানীবাবদ প্রকল্পের ৪০০ কোটি টাকা শুমারিকর্মীদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফজলুল করিম এবং বিকাশ-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ। এ সময় অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, কাজী আব্দুর রহমান, মো. আবুল বাশার এবং বিকাশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, গভার্নমেন্ট পার্টনারশিপ মেহমুদ আশিক ইকবাল সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

বিকাশ-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শুমারিকর্মীরা সহজেই ও নিরাপদে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন এবং তা দিয়ে মোবাইল রিচার্জ, সেন্ড মানি, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও সঞ্চয় স্কিম সহ বিকাশ-এর বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, নিকটস্থ যেকোনো বিকাশ এজেন্ট থেকে তাদের সম্মানী বিনা খরচে ক্যাশ-আউটও করতে পারবেন তারা। এর মাধ্যমে, অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩ প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে।

চুক্তির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান বলেন, “দেশের সরকারি যেকোনো ব্যাংকিং লেনদেনে অগ্রণী ব্যাংক একটি আস্থার নাম, আর মোবাইল আর্থিক সেবায় বিকাশ। সব কমপ্লায়েন্স মেনে দেশজুড়ে সব শুমারিকর্মীদের সম্মানী মুহূর্তেই তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই পার্টনারশিপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্মানী-ভাতা দেয়ার ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে, যা দৈনন্দিন লেনদেনে আরও স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এনে দিবে।”

শুমারিকর্মীদের সম্মানী ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণের বিষয়ে বিকাশ-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, “আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে কার্যকর করতে দেশজুড়ে সবার জন্য সহজ, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। এমনি একটি কাজের উদ্যোগ নেয়ায় এবং আমাদেরকে এর অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই।”

উল্লেখ্য, অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন নির্ধারণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশ পরিসংখ্যন ব্যুরো চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি শুরু করতে যাচ্ছে। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের ছোট-বড়-মাঝারি আকারের কলকারখানায় বিনিয়োগের পরিমাণ, আয়-ব্যয়, শ্রমিকের সংখ্যাসহ নানা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। অর্থনৈতিক শুমারির মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক গাইডলাইন সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস (এসএনএ), ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন (আইএসআইসি) এবং জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী দেশে বিদ্যমান অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকানা, কাঠামো, লিগ্যাল স্ট্যাটাস, কর্মকাণ্ডের ধরন, উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ধরন, কর্মসংস্থান, স্থায়ী সম্পদের মূল্য ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা।

;