রাসায়নিক খাতের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান ব্যবসায়ীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খাদ্য, চাষাবাদ, তৈরি পোশাকসহ প্রায় সবক্ষেত্রে রাসায়নিক এর ব্যবহার হয়। বিশাল সম্ভাবনাময় এ খাতের বড় একটি বাজার বাংলাদেশ। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই রাসায়নিক কারখানা প্রতিষ্ঠা ও এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহায়তা চান এই খাতের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজিকরণ ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে বরাদ্দকৃত জমির দ্রুত হস্তান্তর চান তারা।

শনিবার (মে ১৮, ২০২৪) সকালে এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত রাসায়নিক ও পারফিউমারি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাসায়নিকের ব্যবহার এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিল্পকারখানা আছে যেগুলো রাসায়নিক ছাড়া চলে না। কিন্তু এর ব্যবহার পরিকল্পিত ও সুরক্ষিত হতে হবে। ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স দরকার। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান ও কারখানা কমপ্লায়েন্সের বাইরে চলে যাবে। ব্যবসায়ীদের রাসায়নিক এর গুদাম ও কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিতরণ ও ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

বিশাল সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে এফবিসিসিআই আলোচনা করবে বলেও জানান মাহবুবুল আলম।

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একসাথে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে দেশকে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মটির সাথে ব্যবসায়ীরা সমন্বয় করে কাজ করতে পারলে দেশে রাসায়নিক শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ নিয়াজ আলী চিশতী বলেন, খাদ্য, চাষাবাদ, পোশাক শিল্পসহ প্রায় সবখানে রাসায়নিকের ব্যবহার রয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এ উপাদানের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশেই এর কারখানা তৈরি করা গেলে আমদানি কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হবে। তবে দুর্ঘটনা রোধে এটি ব্যবহারের পর রাসায়নিকের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও রি-সাইক্লিং নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসিড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, রাসায়নিক বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে পেছন থেকে অবদান রাখছে। আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে দেশে রাসায়নিক এর কারখানা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) এর উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারি পরিচালক ফয়সালুর রহমান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন অর রশীদ, এফবিসিসিআই ফায়ার সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবু নাঈম মো. শহিদ উল্লাহ, এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর, কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

   

ঈদুল আজহার পশুর হাট

‘শোরুমের একদাম, ১১ মণ দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা’



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪
ছবি: বার্তা২৪, রুস্তম-এর দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা

ছবি: বার্তা২৪, রুস্তম-এর দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মেরাদিয়া পশুর হাটে প্রবেশ করতেই দেখা মিললো সাদা-লালের সংমিশ্রণে ডোরাকাটা মাঝারি দেহের ‘রুস্তম’।

‘বড় গরু না হলে মালিকের শোরুমের একদাম ১১ মণ দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা’র হাঁকডাকে ক্রেতাদের ভিড় এখানে।

‘রুস্তম’ রোজ সকালে নিয়ম করে সাইলেজ, দুপুরে নেপিয়ার ঘাস, বিকেলে খেজুর, রাতে কলা খায়। রুস্তমের আরেকটি বড় সৌখিন স্বভাব রয়েছে। তিন বেলা সে ঘুমায়। ঘুম ভাঙলে তাকে দিতে হয়, গমের ভাঙানো ভূষি দিয়ে কুসুম-গরম পানি।

মেরাদিয়া হাটের এই রুস্তম এসেছে নাটোর জেলা থেকে। কৃষক কালাম মিয়া তিনবছর লালন-পালন করে রুস্তমকে নিয়ে এসেছেন এবারের পশু কোরবানির হাটে।

কালাম মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ক্রস জাতের গরুটির বয়স তিন বছর। লালন-পালনের পর গরুটির ওজন এখন ১১ মণ। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দিয়েছি। হাটে আনার আগে ওজন মেশিনে পরিমাপ করে দেখেছি, এর ওজন প্রায় ৪শ ৫০ কেজি।

রুস্তমের খাবারের সৌখিন স্বভাব নিয়ে কালাম মিয়া বলেন, রুস্তমকে সকালে দানাদার খাবার সাইলেজ দিতে হয় ২ কেজি ও দুপুরে নেপিয়ার কাঁচাঘাস, বিকেলে নিয়ম করে দুটো খেজুর খাওয়াতে হয়। সেইসঙ্গে রোজ রুস্তমকে গমের ভূষি, খেসারি, জব, ধানের কুড়া খাওয়ানো হয়। দেখতে গম্ভীর হলেও স্বভাবে বেশ শান্ত রুস্তম।

মেরাদিয়ার গরুর হাট, ছবি- বার্তা২৪.কম

রুস্তমকে একদামে কেন বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কালাম মিয়া বলেন, রুস্তম আমার অনেক শখের গরু আর বড় করার ইচ্ছেও ছিল। হঠাৎ করে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় টাকার প্রয়োজনে রুস্তমকে বিক্রি করতে হচ্ছে। শখের গরুকে কেউ যাতে দামাদামি করে ছোট করতে না পারে, সে কারণে শোরুমের মতো একদাম বলে দিয়েছি।

মেরাদিয়া হাটে মহাখালী থেকে আসা ক্রেতা নূর উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, গরুটি পছন্দ হয়েছে। দাম একটু বেশি। একদামে কী আর গরু বিক্রি হয়! তাই আরেকটু দেখবো।

এদিকে, হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাটে সব ধরনের পশুর সরবরাহ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের গরু, ছাগল, মহিষ নিয়ে হাটে নিয়ে এসেছেন। এখনো ঈদের ছুটি হয়নি; তাই হাটগুলোতে এখনো বেচাবিক্রি তেমন একটা শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীদের আশা, শুক্রবার থেকে হাটে বেচাবিক্রি বাড়বে।

;

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’

‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’

  • Font increase
  • Font Decrease

ভবিষ্যতের যানবাহন হচ্ছে ইলেক্ট্রিক যানবাহন (ইভি)। প্রস্তাবিত বাজেটে (২০২৪-২৫) ইভির ক্ষেত্রে কোন সহায়তা দেখিনি। বিনিয়োগের শর্তে যদি ডিউটি সুবিধা দেওয়া যায় তাহলে বিকাশ সম্ভব, না হলে এই খাতের বিকাশ কঠিন।

বুধবার (১২ জুন) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকক্সারার্স এসোসিয়েশন (বামা) নেতৃবৃন্দ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ অটোমোবাইলস এসেম্বলার্স এন্ড ম্যানুফ্যাকক্সারার্স এসোসিয়েশন (বামা) প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকার ভালোভাবে বাজেট দিয়েছে, আমরা মনে করেছিলাম সব জায়গায় ডিউটি আরোপ হবে তেমনটি হয়নি। তবে বাজেটে অনেক আশা ছিল, কিছু সাপোর্ট পাবো, কিছু সাপোর্ট পেয়েছি সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে অন্য ক্ষেত্রে সেভাবে পাওয়া যায়নি। ইভিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। চীন পনের বছর ধরে সহায়তা দিয়েছে, ভারত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশেও সহায়তা প্রয়োজন, না হলে এই খাতটি বিকশিত হবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। সরকার যদি বহুচাকার ট্রাকে ছাড় দেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। সারাবিশ্বে বহুচাকার ট্রাকের উপর ছাড় দেওয়া হয়। রোড, ব্রীজ ও ফেরীর টোল কমিয়ে আনা উচিত। তাহলে বড়গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেলে সড়কের ক্ষতি কমে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে খুবই বিব্রত, সরকারও বিব্রত। আমরা যে চ্যাসিস দেই, সবাই বডি বানায়। আমার মনে হয় বডি বানানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা থাকা উচিত। সরকার অনুমোদিত ছাড়া কেউ বডি বানাতে পারবে না, সরকারের রেগুলেশন করা দরকার। টায়ারের ডিউটি বেশি অনেকে টায়ার নির্ধারিত সময়ে বদলাচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। চাকার ডিউটি শূন্য না হলেও অর্ধেকে নামিয়ে আনা উচিত।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, অতীতে যে প্রোনোদনা দিয়েছে, তার ভিত্তিতে টু হুইলার শিল্পে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ইভির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

ইজিবাইক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান খান বলেন, টেকনিক্যাল বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, আমার মনে হয় একটা সিদ্ধান্ত আসবে। এটাকে কিছুটা আধুনিকায়ন করে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

আকিজ মটরস এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ আমিন উদ্দিন বলেন, সবার আগে হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য। আজকে ঢাকার অবস্থা কি, আমাদের গর্ভবতী মায়েদের কি অবস্থা এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। ইভি পরিবেশ বান্ধব যানবাহন সারাবিশ্বে এর ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশে সহায়তা দেওয়া না হলে পিছিয়ে পড়বে এই খাত। আমরা চাই কমপ্লিট ইভি নীতিমালা।

বিভাটেক এন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান পরাগ, ইফাদ গ্রুপের পরিচালক আবির বকশীসহ অনেক উদ্যোক্তা এতে অংশ নেন। তারা সরকারের কাছে বাজেট রিভিউ করার দাবি জানান।

;

‘শিক্ষায় অগ্রাধিকারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বরাদ্দে অবহেলা’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঐতিহাসিকভাবে প্রতিশ্রুতি থাকলেও জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো বছরই তা অনুসরণ করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, শিক্ষায় বাজেটে বরাদ্দ সামান্য করে বাড়লেও প্রতি বছর শিক্ষার্থী বাড়ছে ব্যাপক হারে। এর ফলে সরকারের শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ কমে আসছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আয়োজনে বাজেট বিষয়ক এক ডায়ালগে বুধবার (১২ জুন) তিনি এ সব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অপ্রতুলতা তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ শ্রেষ্ট বিনিয়োগ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বাজেটে এর প্রতিফলন নেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু স্বপ্নের বাস্তবায়নটা কোথায়?’ প্রশ্ন রাখেন রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেন, এখনও শিক্ষা খাতে সরকারের ব্যয়কে বরাদ্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অথচ, এত বছর আগেও এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করে গেছেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষায় প্রাধান্যের কথা বলা হলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়ে থাকে। এই বরাদ্দের পুরোটা আবার ব্যয় না করে ফেরত দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সংশোধনের সময় অন্যান্য খাতে ছুরি দিয়ে কাঁটা হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বরাদ্দ কাঁটা হয়েছে কোদাল দিয়ে।

শিক্ষা খাতের ১২ হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য খাতে চার হাজার কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ কমিয়ে আনায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাজেট কাঁটছাটে শিক্ষায় কেন আঘাত সবার আগে আসে? বাস্তবায়নে সক্ষমতা নেই কেনো?

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল লার্নিং, ডিসটেন্স লার্নিং এর কথা বলা হলেও মোবাইলের ভয়েজ কল, ডাটা ডিও ভাইসে কর বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইসিটির কথা বলা হয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণের কথা বলা, ডিজিটাল ল্যাবের কথা বলা হয়, বাস্তবতা হচ্ছে, এ সব অবকাঠামোর বেশিরভাগই অকেজো।

;

বিকাশ-এ সম্মানী পাবেন ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারির কর্মীরা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩’ প্রকল্পে নিয়োজিত ১ লাখ ২৫ হাজার তালিকাকারী, গণনাকারী এবং সুপারভাইজারদের সম্মানী দেয়া হবে বিকাশ-এ। অগ্রণী ব্যাংক ও বিকাশ-এর সম্মিলিত উদ্যোগে সম্মানীবাবদ প্রকল্পের ৪০০ কোটি টাকা শুমারিকর্মীদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফজলুল করিম এবং বিকাশ-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ। এ সময় অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, কাজী আব্দুর রহমান, মো. আবুল বাশার এবং বিকাশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, গভার্নমেন্ট পার্টনারশিপ মেহমুদ আশিক ইকবাল সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

বিকাশ-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শুমারিকর্মীরা সহজেই ও নিরাপদে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন এবং তা দিয়ে মোবাইল রিচার্জ, সেন্ড মানি, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও সঞ্চয় স্কিম সহ বিকাশ-এর বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, নিকটস্থ যেকোনো বিকাশ এজেন্ট থেকে তাদের সম্মানী বিনা খরচে ক্যাশ-আউটও করতে পারবেন তারা। এর মাধ্যমে, অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩ প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে।

চুক্তির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান বলেন, “দেশের সরকারি যেকোনো ব্যাংকিং লেনদেনে অগ্রণী ব্যাংক একটি আস্থার নাম, আর মোবাইল আর্থিক সেবায় বিকাশ। সব কমপ্লায়েন্স মেনে দেশজুড়ে সব শুমারিকর্মীদের সম্মানী মুহূর্তেই তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই পার্টনারশিপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্মানী-ভাতা দেয়ার ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে, যা দৈনন্দিন লেনদেনে আরও স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এনে দিবে।”

শুমারিকর্মীদের সম্মানী ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণের বিষয়ে বিকাশ-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, “আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে কার্যকর করতে দেশজুড়ে সবার জন্য সহজ, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। এমনি একটি কাজের উদ্যোগ নেয়ায় এবং আমাদেরকে এর অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়ায় অগ্রণী ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই।”

উল্লেখ্য, অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন নির্ধারণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশ পরিসংখ্যন ব্যুরো চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি শুরু করতে যাচ্ছে। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের ছোট-বড়-মাঝারি আকারের কলকারখানায় বিনিয়োগের পরিমাণ, আয়-ব্যয়, শ্রমিকের সংখ্যাসহ নানা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। অর্থনৈতিক শুমারির মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক গাইডলাইন সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস (এসএনএ), ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন (আইএসআইসি) এবং জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী দেশে বিদ্যমান অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকানা, কাঠামো, লিগ্যাল স্ট্যাটাস, কর্মকাণ্ডের ধরন, উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ধরন, কর্মসংস্থান, স্থায়ী সম্পদের মূল্য ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা।

;