ঝাঁজ কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের

তৌফিকুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা, ছবি: সুমন শেখ

খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা, ছবি: সুমন শেখ

  • Font increase
  • Font Decrease

গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। দাম কমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

এদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গত সপ্তাহের মত স্থিতিশীল রয়েছে শীতকালীন সবজির বাজার।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সবচেয়ে বড় বাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. রুস্তম আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকার বারবার ঘোষণা দিচ্ছে যে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করার জন্য পাইকারি পর্যায়ে এ দামে কিনতে পারছি না পেঁয়াজ। পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। বাজারে দেশি কোনো পেঁয়াজ নেই। ফলে দামের এ ঊর্ধ্বগতি।

পেঁয়াজ, ছবি: সুমন শেখ

এদিকে শীতকালীন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীবাসীর সবজির যোগান দিতে এর মধ্যেই সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে চলে এসেছে। দাম গত সপ্তাহের মতই আছে।

এ বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, লাউ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি নতুন আলু ১১০ টাকা, আর পুরনো আলু ২৫ টাকা, শিম ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা ও কাঁচা কলা ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে উঠেছে শীতের সবজি টমেটো, ছবি: সুমন শেখ

বাজার করতে আসা ফিরোজ মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, শীতকালীন সবজির দাম আগের মতই আছে। খুব একটা বাড়েনি। নতুন আলুর দাম খানিকটা বেশি। আর পেঁয়াজ নিয়ে যে নোংরা খেলা চলছে, তার অবসান কোথায় আমরা জানি না। পেঁয়াজের দামের যাঁতাকলে সাধারণ ক্রেতা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। সরকার বারবার বলছে, সিন্ডিকেটের জন্য দাম বাড়তি। তাহলে সেই সিন্ডিকেটকে ধরে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক কেন করতে পারছে না তারা। কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এটা।

এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। কারওয়ান বাজারে ইলিশের সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি রয়েছে। বর্তমান বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়, ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০০ টাকা থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে।

এছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, রূপচাঁদা ৮০০ টাকা, শিং ৬০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, বেলে ৫৫০ টাকা, কৈ ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ছোট মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশে সয়লাব বাজার, ছবি: সুমন শেখ

ইলিশ ব্যবসায়ী মো. এখলাছ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে ইলিশের। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে ১০০ টাকার মত বেড়েছে ইলিশের দাম। তবে খুচরা বাজারে এ দাম তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়তে পারে।

সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা হাবিবুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ইলিশের দাম বিক্রেতারা বেশিই চায়। তবে দর কষাকষি করে আমাদের একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হয়। অন্যান্য সময়ের তুলনায় ইলিশের দাম এখন কিছুটা কম। তবে আমাদের নাগালের মধ্যে বলা যাবে না। অন্যান্য মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের দাম। ফলে ক্রেতাদের তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও বিক্রেতাদের রয়েছে আক্ষেপ।

বাজারে উঠেছে শীতের সবজি, ছবি: সুমন শেখ

বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংশ ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ফার্মের মুরগি কেজি প্রতি ১৩০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা মো. নুরনবী আক্ষেপ করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বর্তমান বাজারে মাংসের চাহিদা কম। ফলে দাম আগের মতই আছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে মাংসের বেচাকেনা খুব একটা ভালো না। মানুষের চাহিদা বেড়েছে ইলিশের প্রতি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাংস ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কারওয়ান বাজারের মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, লবণসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :