বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আবেদন শুরু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে মোট ৭৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাছাইয়ে সারা দেশে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন আপিল আবেদন শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন ইসিতে।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সামনে অস্থায়ী ক্যাম্পে এই আপিল আবেদন শুরু হয়। যা চলবে আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তারপর ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল শুনানির মাধ্যমে রায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আপিল দায়ের, শুনানী ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে ইসি।

ইসি জানায়, মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে কোন প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং অফিসারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যেই আপিল করতে হবে। অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি আকারে আপীল দায়ের করতে পারবেন। সঙ্গে আপিলের মূল কাগজপত্র এক সেট ও ছায়ালিপি ছয় সেট জমা দিতে হবে।

১১টি অঞ্চলকে ভাগ করে ১১টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে আপিল করার জন্য। এক নম্বর বুথে রংপুর অঞ্চলের জেলাসমূহ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা। রংপুর অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনআইডি’র উপ-পরিচালক মো. মোখলেচুর রহমান।

দুই নম্বর বুথে রাজশাহী অঞ্চলের জেলাসমূহ জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর,সিরাজগঞ্জ ও পাবনা। দুই নম্বর বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা।

এছাড়া খুলনা অঞ্চলের জেলাসমূহ মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা। বরিশাল অঞ্চলের জেলাসমূহ বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল ঝালকাঠি ও পিরোজপুর। ময়মনসিংহ অঞ্চলের জেলাসমূহ টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ। ঢাকা অঞ্চলের জেলাসমূহ মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জ।

ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাসমূহ রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর। সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহ সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ। কুমিল্লা অঞ্চলের জেলাসমূহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাসমূহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান। এই সব অঞ্চলে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করতে পারবেন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৯ টি দল ও স্বতন্ত্র মিলে দুই হাজার ৭১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার মধ্য ১৯শ ৮৫ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা ও বাকি ৭৩১ জনের প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া প্রার্থীতা কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

   

ভোটারের রায়েই যেন প্রতিনিধিত্ব আসে সেটাই ইসির লক্ষ্য: সিইসি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এরপর সংবিধান পেলাম, যেখানে নির্বাচনের বিষয়টা আছে। নির্বাচন করতে গেলে ভোটারের প্রয়োজন হয়। এতে ভোটারের রায়েই যেন প্রতিনিধিত্ব আসে সেটাই লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

শনিবার (২ মার্চ) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে জাতীয় ভোটার দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভোটারের বিষয় যখন হয় তখন প্রতিনিধিত্বের বিষয় আসে। আমরা ইতিহাস বেশি জানি না। আগে কলোনি ছিল, তার আগে রাজত্ব ছিল, ভোটাধিকার ছিল না। ব্রিটিশ এসে ভোটাধিকার দিল। সবচেয়ে বড় নির্বাচন হয় প্রথম ১৯৩৫ সালে।

সিইসি বলেন, একটা বড় দল নির্বাচনে আসেনি। তাই অনেক ভোটার না এসে থাকতে পারে। আমাদের কাজ হলো ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সে দিক থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। তবে যারা শক্তিশালী তারা অন্যের স্বাধীনতা পছন্দ করেন না।

সিইসি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে বলেই দায়িত্ব শেষ হয়েছে এমন নয়। আগামীতে যারা আসবে তাদের জন্য একটা ক্ষেত্র তৈরি করে যেতে হবে। আজকের গণতন্ত্র আদর্শিক গণতন্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতি রাষ্ট্র গড়ে ওঠার পর গণতন্ত্রের বিকাশ হলো। 

তিনি বলেন, এনআইডির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এটা এখন অপরিহার্য। সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে সংকট দেখা যায়। এটা এখনো যায়নি। এনআইডি এখন অনেকটাই সুষ্ঠু অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

খুব বেশি নয়, যারা অতি চালাক তারা একাধিক কার্ড করে ফেলেন। সতর্কতা সঙ্গে কাজ করবেন। সম্পত্তি বেহাত করার জন্য যে এনআইডি কার্ড করা হয়, আমি হয়তো ভুল করে দিতে পারি। কিন্তু সচেতনভাবে অপরাধের সঙ্গে অংশ হিসেবে যদি এটা, আমরা করে থাকি, তাহলে আমাদের টলারোন্স জিরো হবে। আমরা ওই ধরনের কর্মকর্তাদের পুলিশে হস্তান্তর করতে দ্বিধান্বিত হবো না।

তিনি আরও বলেন, এখন এনআইডিরই বাই প্রোডাক্ট হয়ে গেছে ভোটারকার্ড। এনআইডি বিষয় আজ নয়, আজ ভোটার দিবস। কিভাবে এটি বর্তমান পর্যায়ে এলো এটি ইতিহাসের একটা বিষয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর (বৃষ্টি খাতুন) মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ও তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

;

জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা

জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

৯ বছর আগে রাজধানীর মধুবাগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সন্তানের জননী শিল্পী আহমেদের (৩৫) টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। তার কিছুদিন পর স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে। তারপর থেকে সন্তানদের নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

শিল্পী আহম্মেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ধর্মীয় রীতি পালন করি, ছবি তুলতে হবে তাই আমি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করিনি। অগ্নিকাণ্ডে ঘর পুড়ে যাওয়ার পর সবাই সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ-সহযোগিতা পেলেও এনআইডি না থাকায় কোনো সহায়তা পাইনি।

শিল্পী আহম্মেদের মত ঢাকার মোমিনবাগের বাসিন্দা শরীয়তপুরের উম্মে কুলসুম কুসুম (৩৮) বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। ছয় নাবালক সন্তান রেখে স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। কোথাও কাজ নিতে গেলে সবাই আগে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চায়।

নানাবিধ কারণে শিল্পী আহম্মেদ ও উম্মে কুলসুমের মত এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করেননি। ফলে নাগরিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন এনআইডি না নেওয়া নারীরা। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও ইসির ভোটার তালিকায় বেশি পুরুষ ভোটার সংখ্যা। সেখানে দেখা যায়, ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন জনসংখ্যায় পুরুষ রয়েছে ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। সেই হিসেবে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৭ ভোটার কম।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসংখ্যায় যেহেতু নারীর সংখ্যা বেশি, স্বাভাবিকভাবে নারী ভোটারও বেশি থাকার কথা। কিন্তু কিছু লোকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ছবি তুলতে অসম্মতি, এনআইডির গুরুত্ব নিয়ে প্রচারের অভাব, নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আগ্রহ বা সুযোগের অভাব ভোটার সংখ্যায় ওই উল্টো চিত্রের কারণ ঘটাতে পারে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, নারীরা নানান কুসংস্কার বিশ্বাস করে বিধায় এখনো কেউ কেউ ভোটার হচ্ছে না। সমাজে নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য একটি মহল কাজ করছে, যাতে নারীরা এগিয়ে যেতে না পারে। এর পেছনে পরিবার ও সমাজ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে ভোটার হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে অনেক নারী এনআইডি গ্রহণ করছেন না। ফলে রাষ্ট্র নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই, সকল নারী যেন এনআইডি গ্রহণ করুক। সেখানে যেন কো নো পশ্চাৎপদ চিন্তা ভাবনা ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে ওঠে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম হাতে নেয় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সেই সময় ৯ কোটি ভোটারের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সাতবার। ২০২১-২২ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ইসি। ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর পর থেকে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান থাকলেও গত ১৫ বছরে হালনাগাদে নারী ভোটারদের সাড়া মিলেছে কম।

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নারী ভোটার না হওয়ার একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহে অনীহা, হিন্দু অবিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধন করতে অনীহা; অবিবাহিত, অনগ্রসর ও নিরক্ষর মেয়েদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম; মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরে হওয়া, আবহাওয়া অনুকূল না থাকা, সামাজিক সংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অসচেতনতা। তখন একাধিক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল বলেও কমিশন সূত্রে জানা যায়। তারপরও নারীদের ভোটার সংখ্যা বাড়াতে পারেনি কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে দেশে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন। আর পুরুষ ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন। সেখানে পুরুষের চেয়েও ১১ লাখ নারী ভোটার কম। ২০২১ সালে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫১ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন। পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫ জন। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ বৃদ্ধি পেলেও নারী ভোটার বেড়েছে মাত্র ৮ লাখ।

একইভাবে দেশে ২০২৩ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪১ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮৪৯ জন। সর্বশেষ হালনাগাদের খসড়ায় দেখা যায়, ১২ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ জন ভোটার; এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ১৩৭ এবং নারী ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৯ এবং ৯২৪ জন হিজড়া ভোটার। এখানেও পুরুষের চেয়েও ২৪ লাখ নারী ভোটার কম। কিন্তু বিবিএসের জনশুমারিতে দেশে পুরুষের চেয়েও নারীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯৮ জন। সেখানে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩২০, আর নারীর সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ২৭৮ জন। এখানে নারীর চেয়েও ৫০ লাখ বেশি। এই সংখ্যা ২০১১ সালের জনশুমারিতে নারী ও পুরুষের সংখ্যা সমান হয়।

কিন্তু বিবিএসের সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন। হিজড়ার সংখ্যা ৮ হাজার ১২৪ জন। ২০০১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত ২০ বছরে পুরুষের সংখ্যা চেয়েও নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে পুরুষের চেয়েও সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে আন্দোলন করছে আঞ্জুমান মহিলা পরিষদ। ওই পরিষদ নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনে তাদের দাবির বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপি দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

আঞ্জুমান মহিলা পরিষদের শারমিন ইয়াসমিন বার্তা২৪.কম-কে জানান, ভোটার না হওয়ায় আমরা বেশ কয়েকটি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা কেউ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছি না। আমাদের অনেক বোনেরা কোথাও চাকরির আবেদন করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, আমরা চাই পর্দাশীল নারীদের জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা পদ্ধতি শিথিল করা হোক। এই জন্য আমরা দুইটা দাবি করেছিলাম। ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড দেওয়ার জন্য।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ভোটার হতে অনাগ্রহ রয়েছে এমন বিষয় না থাকলেও কিছু কুসংস্কার রয়ে গেছে অনেক এলাকায়। ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে অনেক নারী ভোটার হতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে যেসব নারী পর্দা করে তারা ছবি তুলতে চায় না বলেই নারী ভোটারের সংখ্যা কম। নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সবসময় বলি জাতীয় পরিচয়পত্র যে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সেটা না, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমির দলিল করতে পারে না।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ সকলকে ভোটার হতে আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

;

ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

ময়মনসিংহ-কুমিল্লা সিটিতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় ৭২ ঘণ্টার জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া অন্য যন্ত্রচালিত যান চলাচলও ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৯ মার্চ দুই সিটি অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ৭ মার্চ মধ্যরাত থেকে ১০ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার জন্য নির্বাচন এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া ৮ মার্চ মধ্যরাত থেকে ৯ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত পিক, ট্রাক, ট্যাক্সি ক্যাব ও মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, জরুরি সেবাখাতে যান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

৯ মার্চ এই দুই সিটিসহ স্থানীয় সরকারের মোট ২৩৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে সকল নির্বাচনেও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

;

‘নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে চেষ্টা করতে হবে’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করবে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে মো. আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিগণ, জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটা শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। নির্বাচনকালে পরিবেশ অশান্ত থাকলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে অনাগ্রহ দেখায় আর সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসের সুযোগ পায়। কিন্তু প্রশাসন অবস্থানে থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় নির্বাচন বিধায় কোন কর্মকর্তার আত্মীয়-স্বজনরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সে কর্মকর্তাকে বিচক্ষণতার সাথে অন্য এলাকায় দায়িত্ব দিতে হবে। নির্বাচনী দায়িত্বে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োজিত করতে তিনি নিরুৎসাহিত করেন।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী এখন অনেক জনকল্যাণমুখী কাজে নিয়োজিত থাকায় তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। তাই নির্বাচনকালে সে সম্পর্ক ভুলে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন ইসি কমিশনার।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অধিক ফোর্স নিয়োজিত থাকবে বলে পুলিশ বিভাগ থেকে কমিশনারকে অবহিত করা হয়। তথাপি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতার উপর গুরুত্বারোপ করা হবে। প্রয়োজনে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএনকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত হবে। কোন কেন্দ্রের ইভিএম কাজ না করলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য ইভিএম প্রতিস্থাপন করার নির্দেশ প্রদান করেন ইসি কমিশনার।

ইভিএমের গতি কমে গেলে অপেক্ষমাণ ভোটারদের অবহিত করতে এবং সময় অতিক্রান্ত হলেও সকল ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করতে প্রিসাইডিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

নির্বাচন আচরণ বিধিনিষেধ পালন সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, কোথাও তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছোটখাটো ঘটনা সাথে সাথেই সমাধান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ সুন্দর ও অনুকূলে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা ইসি কমিশনারকে মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। নির্বাচন সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

;