উপজেলা নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারের স্বাক্ষর জমার বিধান বাতিল



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ২৫০ ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর তালিকা জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করে "উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০২৪" নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত সংশোধন অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি বার্তা২৪.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। 

নতুন বিধিমালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর বাতিলের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জামানতের হার বাড়ানো হয়েছে ১০ গুণ। বিধিমালা-২০১৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নতুন বিধিমালায় করা হয়েছে ১ লাখ টাকা, ভাইস চেয়ারম্যানের জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সাথে নির্বাচনে প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের শতকরা ১৫ ভাগ অপেক্ষা কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সেই সাথে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন বিধিমালায়। 

উপজেলা নির্বাচন বিধিমালার পাশাপাশি আচরণবিধিতে একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন করেছে ইসি। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা সাদাকালো পোস্টারের সাথে রঙিন পোস্টার ব্যবহারের অনুমতি পাবে। নির্বাচনে প্রচারের জন্য চাইলেই যত্রতত্র ক্যাম্প স্থাপন করা যাবেনা। নতুন বিধিমালায় প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভার প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করা যাবে না।

এর আগে উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনী আনতে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি গঠন করেছে ইসি। কমিটির সভাপতি করা হয়েছিলো নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানাকে। সেই সময় কমিটি দুই দফা বৈঠকে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে কমিশন সভায় আচরণ বিধিমালায় আটটি সংশোধন ও স্থানীয় সরকার আচরণবিধিমালা ১০টি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং করার জন্য পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে বিধিমালাগুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।

ইসি থেকে পাঠানো যেসব প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

১. পোস্টার, ব্যানার সাদা-কালো অথবা রঙিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২. প্রতীক বরাদ্দের আগে জনসংযোগ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তাব করা হয়।

৩. পাঁচ জনের বেশি কর্মী বা সমর্থককে নিয়ে জনসংযোগ করা যাবে না।

৪. প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভার প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করা যাবে না।

৫. নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিসের আয়তন ৬০০ বর্গফুটের বেশি হতে পারবে না।

৬. নির্বাচনী প্রচারণায় একটির বেশি শব্দযন্ত্র (হর্ন) বা জনসভায় চারটির বেশি শব্দযন্ত্র (হর্ন) ব্যবহার করা যাবে না।

৭. শব্দদূষণ প্রতিরোধে শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের বেশি হতে পারবে না।

৮. প্রচারণায় পোস্টার বা ব্যানারে পলিথিনের ব্যবহার না করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৯. স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা দাখিলের বিধান বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১০. অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

১১. চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে জামানত এক লাখ টাকা, ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে ৭৫ হাজার টাকা এবং নারী সদস্যের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১২. সমভোটের ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

১৩. প্রদত্ত ভোটের শতকরা ১৫ ভাগ অপেক্ষা কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৪. চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা এবং নারী সদস্যদের এক লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৫. মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়।

১৬. নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোটগ্রহণে কমিশনের ক্ষমতার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৭. মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৮. নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হওয়ায় প্রতীক অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বিষয়ে ইসি অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিধিমালায় আমরা বেশকিছু বিষয় সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং করার জন্য পাঠিয়েছি। বিধিমালাগুলো মন্ত্রণালয় ভেটিং শেষে অনুমোদন দিয়ে আজকে কমিশনে পাঠিয়েছে। 

এদিকে আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চারটি ধাপে করার জন্য তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ মে চার ধাপে দেশের ৪৮১টি উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ করবে ইসি। দেশে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। অবশিষ্টগুলোতে পরবর্তীতে ভোটগ্রহণ করা হবে। আগামী দু'এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

   

উপজেলা নির্বাচন: রাঙ্গামাটির ৪ উপজেলায় ৩৭ মনোনয়ন জমা



ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙ্গামাটি
উপজেলা নির্বাচন: রাঙ্গামাটির ৪ উপজেলায় ৩৭ মনোনয়ন জমা

উপজেলা নির্বাচন: রাঙ্গামাটির ৪ উপজেলায় ৩৭ মনোনয়ন জমা

  • Font increase
  • Font Decrease

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে তিনটি পদে রাঙামাটির সদর উপজেলাসহ মোট চার উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান এই তিন পদে সর্বমোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, চার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন আগ্রহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করেছেন।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন মোট ৬ জন। তারা হলেন শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান, মো. শাহজাহান, অন্ন সাধন চাকমা, পঞ্চানন ভট্টাচার্য, বিপ্লব চাকমা ও সুফিয়া কামাল ঝিমি। 

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ৬ জন। তারা হলেন চন্দ্রজিৎ দেওয়ান, দয়াময় চাকমা, দুর্গেশ্বর চাকমা, পলাশ কুসুম চাকমা, মো. মনিরুল ইসলাম ও মো.  রিদওয়ানুল হক সেলিম।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন মোট ৩ জন। তারা হলেন নাসরিন ইসলাম, মনিকা আক্তার ও রিতা চাকমা।

রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় এবারে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ২ জন। তারা হলেন মো. সামশুদ্দোহা চৌধুরী ও মংসুইউ চৌধুরী।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ৪ জন। তারা হলেন অংপ্রু মারমা, কে এম আসিফ নেওয়াজ, মো. ফিরোজ আহাম্মদ ও লা থোয়াই মারমা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ৩ জন। তারা হলেন এ্যানী চাকমা কৃপা, জান্নাতুল ফেরদৌস ও নিংবাইউ মারমা।

রাঙ্গামাটির জোড়াছড়ি উপজেলায় পদে আবেদন করেছেন সর্বমোট ৩ জন। তারা হলেন কেতন চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা ও সুরেশ কুমার চাকমা।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ২ জন। তারা হলেন কামিনী রঞ্জন চাকমা ও রন্টু চাকমা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ২ জন। তারা হলেন, অনিতা দেবী চাকমা ও জ্যোৎস্না তালুকদার।

রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ২ জন। তারা হলেন, বিধান চাকমা ও সন্তোষ কুমার চাকমা।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ২ জন। জ্ঞান জ্যোতি চাকমা ও পুলিন বিহারি চাকমা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবেদন করেছেন ২ জন। তারা হলেন, রাখি চাকমা ও সুচরিতা চাকমা। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামীকাল বুধবার ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। পরদিন প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হবে।

প্রথম ধাপের রাঙামাটির চার উপজেলাসহ সর্বমোট ১৫০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে চলতি বছরের আগামী ৮ মে।

এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন জেলা প্রশাসক।

;

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত নেতারাও



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংগঠিত সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসলেও এবার কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা।

প্রথম ধাপের ১৫০টি উপজেলা নির্বাচনের বেশ কয়েকটিতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা। তবে কত উপজেলায় মোট কতজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ সংখ্যা ৫০ জনের কম নয় বলে উল্লেখ করেছে  জেলা ও উপজেলা অফিস।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হয়েছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপের ১৫০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টি উপজেলায় মোট ১৮৯০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৯৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭২৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৭১ জন রয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই বাগেরহাট সদর ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২টি পদে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এবারই প্রথম পুরোপুরি অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরগুলোতে শোরগোল ছিল না, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনেরও খবর পাওয়া যায়নি। 

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় দলীয় প্রতীক থাকলেও এবার প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করা হয়। তবে জামানতের বিধানে কড়াকড়ি করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক উপজেলায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থী হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ১১ জন করে প্রার্থী হয়েছেন। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ১০ জন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

যেসব উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা : আমাদের ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা অফিস থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এ উপজেলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাকি প্রার্থীরা হলেনÑবর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ, মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মাকসুদ হোসেন, তার ছেলে মাহমুদুল হাসান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান।

প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। তাই আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। আল্লাহতায়ালা যাকে নির্ধারণ করে রেখেছেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমি জনগণের খেদমত করে যাচ্ছি। এটাই আমার মূল লক্ষ্য।’  

নাটোরের ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি নেতা মো. আয়েন উদ্দিন ডালিম; মহাদেবপুরে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু; কুমিল্লার মেঘনায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন; একই উপজেলার নাঙ্গলকোটে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম; চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় বিএনপি নেতা মো. আশরাফ হোসেন আলিম ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাইহান; ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির মোহাম্মদ বাবর আলী, মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও ইয়াজদানী আলীম আল রাজী; ময়মনসিংহের ফুলপুরে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হাসান পল্লব চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। 

একইভাবে নাটোর সদর উপজেলায় বিএনপি নেতা গোলাম সরোয়ার ও বিএনপি কর্মী সাবেক ভিপি মো. ইসতেয়াক আহম্মেদ (হিরা); একই জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি সরদার আফজাল হোসেন; পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার; বান্দরবন সদর উপজেলায় জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কুদ্দুছ; নওগাঁর মহাদেবপুরে থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন; সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ভাস চেয়ারম্যান গৌছ খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া ও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। 
একইভাবে আরও অনেক উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির অনেক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আব্দুর রশিদ পাটোয়ারী, নাটোরের ধামইরহাট উপজেলায় নায়েবে আমির মাওলানা মো. আতাউর রহমান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আমির ওলিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সাবেক জামায়াত নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, দিনাজপুরের বিরামপুরে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এনামুল হক, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান এবং সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এর বাইরে বেশ কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। 

;

কুষ্টিয়ার দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১০ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার দুই উপজেলায় মোট ১০ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। 

এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদে ৩ জন এবং খোকসা উপজেলায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৭ জন প্রার্থী।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে প্রার্থীরা এ মনোনয়ন জমা দেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজাউদ্দিন জোয়ারদার ও আবু আহাদ আল মামুন।

খোকসা উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার, উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খান ও তার ছেলে শাওন মাহমুদ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আল মাসুম মোরশেদ শান্ত, ওসমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ছালেহা বেগম এবং ভাই সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও দুই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ জন এবং খোকসা উপজেলায় রয়েছেন ৯ জন।

;

নরসিংদী দুই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নরসিংদী
ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নরসিংদীর দুটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল আজ।

প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নরসিংদী জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রবিউল আলম তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৮ ই মে প্রথম পর্যায়ের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর উপজেলা ও পলাশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রার্থীদের কোন দলীয় প্রতীক না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অপরদিকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অভিযোগ এনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে বিএনপি। তবে জাতীয় পার্টি থেকে এবং কিছু নতুন মুখ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নরসিংদী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার পরিবর্তে সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে মাধবদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনকে।

এছাড়া এবার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা হলেন- শীলমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী আব্দুল বাকির, মো: জলিল হোসেন, হালিমা হাফিজ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো: শরীফ মিয়া, মোঃ ওয়ালিউর রহমান, মো: মোশারফ হোসেন, রেহানুল ইসলাম ভূঁইয়া, ওসমান গনি, কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সোহানা আক্তার, আনজুমান বেগম ও মোসা: সাহিদা বেগম।

অপরদিকে পলাশ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জাবেদ হোসেন, ঘোড়াশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শরিফুল হক ও জাতীয় পার্টির পলাশ উপজেলার সদস্য সচিব এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম (সারোয়ার মোল্লা)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো: কারী উল্লাহ সরকার, সাইফুল ইসলাম গাজী ও মোঃ আব্দুল কাইয়ুম। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন দুইজন। তারা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সুলতানা।

নির্বাচনে কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৭ এপ্রিল, আপিলের তারিখ ১৮ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১শে এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ এপ্রিল, প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল এবং ৮ মে ভোটগ্রহণ।

;