স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিলো লতাকে



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
লতা মঙ্গেশকর

লতা মঙ্গেশকর

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘটনাটি ষাট দশকের। স্লো পয়জন দিয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিলো ভারতীয় সংগীতের সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরকে। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ভয়ানক ঘটনা নিয়ে নানা তথ্য রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কখনও কোনো মন্তব্য করেননি ৯১ বছর বয়সী এই তারকা। এতোদিনে সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি।

ভয়ানক সেই ঘটনার বর্ণনা করে লতা মঙ্গেশকর জানান, “হ্যা এই তথ্যটি একদম সত্যি। কিন্তু আমরা মঙ্গেশকররা আমাদের জীবনের এই বাজে অধ্যায়টি নিয়ে কখনও কথা বলি না। সালটি ছিলো ১৯৬৩। ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করি আমি। এমনকি বিছানা থেকেও উঠতে পারতাম না। এমন একটা সময় আসে যখন আমি নিজে থেকে কিছুই করতে পারতাম না।”

ইন্ডাস্ট্রিতে খবর রটেছিলো চিকিৎসকরা নাকি বলেছিলেন লতা মঙ্গেশকর হয়তো আর কখনও গান গাইতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে লতা বলেন, “এ কথাটি মোটেও সত্যি না। এটি তৈরি করা একটি কল্পকাহিনী। কোনো চিকিৎসকই আমাবে বলেননি যে, আমি আর কখনও গান গাইতে পারবো না। এমনকি আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক ড. আর পি কাপুর যিনি আমাকে সুস্থ করে তুলেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাকে আমি ফের নিজের পায়ে দাঁড়ানো দেখতে চাই। কিন্তু তার আগে একটি ভুল ভাঙানো দরকার যা গত কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। তুমি তুমি কণ্ঠ হারাওনি।”

ড. আর পি কাপুরকে ধন্যবাদ দিয়ে লতা মঙ্গেশকর বলেন, “আমাকে স্লো পয়জন দেওয়া হচ্ছিলো এটি নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু ড. আর পি কাপুরের চিকিৎসা এবং আমার দৃঢ় সংকল্পের কারণে আমি এই কঠিন পথটি পাড়ি দিতে পেরেছিলাম। তিন মাস শয্যাশায়ী থাকার পর আমি আবার রেকর্ড করতে প্রস্তুত ছিলাম।”

লতা মঙ্গেশকর সুস্থ হয়ে উঠার পর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় অর্থাৎ হেমন্ত কুমারের জন্যই গানের জগতে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে পেরেছিলেন। লতাজির বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে, ‘বিশ সাল বাদ’ সিনেমার জন্য গান গাওতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কথা দিয়েছিলেন, সামান্যতম অসুবিধা হলেই নিজে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাবেন। তার জন্যই লতা গাইতে পেরেছিলেন ‘কাহি দীপ জ্বালে কাহি দিল’ গানটি। এজন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ঘরে তুলেছিলেন তিনি।

হেমন্তর পাশাপাশি আরও একজন রয়েছেন যার কথা অবদান কোনওদিন ভুলতে পারবেন না লতা মঙ্গেশকর। তিনি হলেন কবি তথা গীতিকার মজরুহ সুলতানপুরী। লতা মঙ্গেশকর অসুস্থ থাকাকালীন তিনি রোজ বিকেলে শয্যাশায়ী লতার পাশে এসে বসতেন। তাকে কবিতা শোনাতেন। ৯১ বছর বয়সী এই গায়িকা যে সাধারণ খাবার খেতেন, তিনিও তাই-ই খেতেন।

বলতে গেলে, মজরুহ সুলতানপুরীর জন্য এই কঠিন পথটি পাড়ি দেওয়া লতার জন্য কিছুটা হলেও সহজ হয়েছিলো।

কিন্তু কে তাকে স্লো পয়জন দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে লতা মঙ্গেশকর বলেন, তার পরিবার সেই মানুষটির নাম পরে জেনেছিলো। কিন্তু প্রমাণের অভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।