সেরা অভিনেতা ফিলিস্তিনের, সেরা অভিনেত্রী ইসরায়েলের!



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উৎসবে আলিয়া, রণবীর সিং, জনি ডেপ, ক্যাটরিনা, ফ্রিদা পিন্টো ও মাহিরা খান

উৎসবে আলিয়া, রণবীর সিং, জনি ডেপ, ক্যাটরিনা, ফ্রিদা পিন্টো ও মাহিরা খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের জেদ্দায় রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের তৃতীয় আসরের পর্দা নামলো। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেদ্দার রিৎজ কার্লটন থিয়েটারে ছিল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। সেখানে সেরা সিনেমা, শিল্পী, কলাকুশলীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাতে দেখা গেল, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের জয় জয়কার।

উৎসবের শেষ আকর্ষণ বলিউড সুপারস্টার আলিয়া ভাট

এক নজরে বিজয়ী তালিকা

সেরা চলচ্চিত্র (সোনালি ইউসর) : ইন ফ্লেমস (জারার খান, পাকিস্তান)
সেরা চলচ্চিত্র (রুপালি ইউসর): ডিয়ার জাসসি (টারসেম সিং ধান্ডওয়ার, ভারত)
সেরা পরিচালক: শোকির খোলিকভ (চলচ্চিত্র: সানডে, উজবেকিস্তান)
জুরি প্রাইজ: দ্য টিচার (ফারাহ নাবুলসি, ফিলিস্তিন)
সেরা চিত্রনাট্যকার: করিম বেনসালাহ ও জামাল বেলমাহি (সিক্স ফিট ওভার, আলজেরিয়া ও মরক্কো)
সেরা অভিনেতা: সালেহ বাকরি (দ্য টিচার, ফিলিস্তিন)
সেরা অভিনেত্রী: মুনা হাওয়া (ইনশাল্লাহ অ্যা বয়, ইসরায়েল)
সেরা সিনেম্যাটিক অবদান: অমেন (পরিচালক: বালোজি, বেলজিয়াম-কঙ্গো)
সেরা প্রামাণ্যচিত্র: ফোর ডটার্স (কাওথার বেন হানিয়া, তিউনিসিয়া)
ইয়াং রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড: নুর আল খাদরা (সৌদি আরব)
ফিল্ম আলুলা অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড (সৌদি চলচ্চিত্র): নোরা (তৌফিক আলজায়েদি)
ফিল্ম আলুলা অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড (অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র): হোপলেস (কিম চ্যাং-হুন, দক্ষিণ কোরিয়া)
সেরা শর্টফিল্ম (সোনালি ইউসর): সামহোয়্যার ইন বিটুইন (ডালিয়া নেমলিশ; ফ্রান্স-লেবানন)
সেরা শর্টফিল্ম (রুপালি ইউসর): স্যুটকেস (সামান হোসেইনপুর ও আকো জান্দকরিমি, ইরান)|

সোনালি ইউসর জয় করেছে পাকিস্তানের ‘ইন ফ্লেমস’

পুরস্কার হাতে ‘ইন ফ্লেমস’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা

সেরা ছবির পুরস্কার জিতলো পাকিস্তানের ‘ইন ফ্লেমস’। ভৌতিক ছবিটি পরিচালনা করেছেন জারার কান। তার হাতে উঠেছে ১ লাখ ডলার (১ কোটি ১০ লাখ টাকা) এবং সোনালি ইউসর ট্রফি। সেরা কাহিনিচিত্র হিসেবে ৩০ হাজার ডলার (৩৩ লাখ টাকা) ও রুপালি ইউসর পেয়েছে ভারতের ‘ডিয়ার জাসসি’।
কানাডা প্রবাসী পাকিস্তানি নির্মাতা জারার কানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইন ফ্লেমস’। ৭৬তম কান উৎসবের সমান্তরাল শাখা ডিরেক্টর’স ফোর্টনাইটে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। এরপর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনে সেন্টারপিস বিভাগে জায়গা করে নেয় এটি। ৯৬তম অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগের জন্য পাকিস্তান থেকে মনোনয়ন পেয়েছে এই ছবি।
উর্দু ভাষায় নির্মিত ৯৮ মিনিটের ‘ইন ফ্লেমস’ ছবির গল্পে দেখা যায়, করাচিতে পরিবারের কর্তার মৃত্যুর পর মা ও মেয়েকে শোক সইবার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎপীড়নের সঙ্গে সংগ্রাম করে যেতে হয়। সমাজে সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে তারা পরস্পরের মধ্যে শক্তি খুঁজে নেয়। এতে অভিনয় করেছেন রামেশা নাওয়াল, বখতাওয়ার মাজহার, ওমর জাভেদ, বাজদান শাহ, মোহাম্মদ আলি হাশমি, জিবরান খান ও আদনান শাহ।

রুপালি ইউসর জয়ী ‘ডিয়ার জাসসি’ 

টারসেম সিং ধান্ডওয়ার

রুপালি ইউসর জয়ী ‘ডিয়ার জাসসি’ পরিচালনা করেছেন টারসেম সিং ধান্ডওয়ার। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ জিতেছে এটি। এর দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। ছবিটির গল্প পাঞ্জাবি-কানাডিয়ান নারী জাসবিন্দর কৌর সিধুর সত্যি জীবনে অনুপ্রাণিত, যিনি নিজের চেয়ে নিচু শ্রেণির কর্মজীবী একজন মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু জাসবিন্দরের পরিবার মেনে নেয়নি। এতে অভিনয় করেছেন পাভিয়া সিধু ও যুগাম সুদ।


জুরি প্রাইজ ‘দ্য টিচার’ 

 ‘দ্য টিচার’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফিলিস্তিনের সালেহ বাকরি

ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি পরিচালক ফারাহ নাবুলসির ‘দ্য টিচার’ পেয়েছে জুরি প্রাইজের ২০ হাজার ডলার (২২ লাখ টাকা)। এতে দারুণ নৈপুণ্যের সুবাদে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফিলিস্তিনের সালেহ বাকরি। দুটি পুরস্কার গ্রহণ করেন ফারাহ। তিনি বলেন, ‘সালেহ আজ এখানে থাকলে নিশ্চিতভাবেই বলতেন, গাজায় গণহত্যা বন্ধ হোক।’

সেরা পরিচালক শোকির খোলিকভ
৭৬তম কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত তিউনিসিয়ার কাওথার বেন হানিয়ার প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘ফোর ডটার্স’ সেরা প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে রেড সি উৎসবে। কানের আঁ সাঁর্তা রিগা বিভাগে নিউ ভয়েস প্রাইজ জয়ী ‘অমেন’ সেরা সিনেম্যাটিক অবদান স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন কঙ্গো বংশোদ্ভুত বেলজিয়ামের নির্মাতা-সংগীতশিল্পী বালোজি।

‘ইনশাল্লাহ অ্যা বয়’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী ইসরায়েলি তারকা মুনা হাওয়া

সেরা অভিনেত্রী ইসরায়েলি তারকা মুনা হাওয়া

৭৬তম কান উৎসবের আরেক সমান্তরাল শাখা ক্রিটিকস উইকে নির্বাচিত জর্ডানের ‘ইনশাল্লাহ অ্যা বয়’ ছবিতে হৃদয়ছোঁয়া অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ইসরায়েলি তারকা মুনা হাওয়া। উজবেকিস্তানের ‘সানডে’র জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন শোকির খোলিকভ। উদীয়মান তারকা পুরস্কার পেয়েছেন সৌদির অভিনেত্রী নূর আল খাদরা। এবারের উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ইয়াসির আল-ইয়াসিরির ‘হাওজান’- এবং আব্দুল মোহসেন আলধাবানের ‘ম্যাচমেকার’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নূর আল খাদরা

 

প্রতিযোগিতা বিভাগে ছিল আরব অঞ্চল, এশিয়া ও আফ্রিকার ১৭টি চলচ্চিত্র। এর মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচনে বিচারকদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ‘এলভিস’ ছবির অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক ব্যাজ লারম্যান। তার নেতৃত্বে ছিলেন সুইডিশ-আমেরিকান অভিনেতা জোয়েল কিন্নামান, ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ তারকা ফ্রিডা পিন্টো, মিসরীয় অভিনেত্রী আমিনা খলিল ও স্প্যানিশ অভিনেত্রী পাজ ভেগা।

এক মঞ্চে গ্লোবাল তারকারা

এবারের রেড সি উৎসব শুরু হয় গত ৩০ নভেম্বর। উদ্বোধনী আয়োজনসহ গোটা আসরে অতিথি হয়ে এসেছিলেন হলিউড ও বলিউডের হেভিওয়েট তারকারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনি ডেপ, উইল স্মিথ, ক্রিস হেমসওর্থ, শ্যারন স্টোন, হ্যালি বেরি, গিনেথ প্যালট্রো, নিকোলাস কেজ, জেসন স্টেটহাম, আড্রিয়ান ব্রডি, ডায়েন ক্রুজার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, হেনরি গোল্ডিং, রণবীর সিং, ক্যাটরিনা কাইফ, আলিয়া ভাট প্রমুখ।

রিচা-আলীর ঘরে এলো ফুটফুটে কন্যা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবা-মা হলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা। আজ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে অভিনেত্রী রিচা ও তার স্বামী অভিনেতা আলী ফজল জানান, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১৬ জুলাই আমরা এক সুস্থ কন্যা সন্তানের মা-বাবা হয়েছি। আমাদের দুই পরিবারও খুব খুশি। ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আমাদের শুভাকাক্সক্ষীদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’

২০২২-এ আলি ফজলকে বিয়ে করেন রিচা। চলতি বছরের গোড়ার দিকে সন্তানধারণের খবর ঘোষণা করেছিলেন অভিনেত্রী।

তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চড্ডা

রিচাকে সর্বশেষ দেখা যায় সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামন্ডি’তে। এই সিরিজের প্রচারণায় গর্ভবতী অবস্থাতেই একাধিকবার ক্যামেরার সামনে আসেন রিচা। ‘হীরামন্ডি’তে রিচার অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। অন্যদিকে চলতি মাসেই মুক্তি পেয়েছে আলী ফজল অভিনীত আলোচিত সিরিজ ‘মির্জাপুর ৩’।

;

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে নামলেন আরশ খান



মেহনাজ খান, বার্তা২৪.কম
কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একাত্ব ঘোষণা করছেন। শোবিজ তারকারা সমাজে খুব সহজে প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের একটি কথা কিংবা বার্তা মানুষকে দ্রুত অনুপ্রেরণা দেয়। তাই শোবিজ তারকারা দেরীতে হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বার্তা তুলে ধরছেন। তবে সরাসরি আন্দোলনের মাঠে শিক্ষার্থীদের বাইরে কাউকে দেখা যায়নি।

আজ অল্প হলেও দু-এক শোবিজ তারকাকে রাজপথে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের সারিতে দাঁড়াতে। তাদের মধ্যে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আঘাতও পেয়েছেন। এছাড়া দেখা গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সৌভিক আহমেদ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খানকে।

কোটা সংস্কারের পক্ষে রাজপথে আরশ খানসহ নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীরা

আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে পোস্টার হাতে একসঙ্গে দেখা যায় আরশ খান, নির্মাতা ইমরাউল রাফাত, তপু খানসহ আরও কয়েকজন নাটকের অভিনেতা কলাকুশলীকে। সে সময় আরশ খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘আমি একজন থিয়েটারকর্মী। আমার অভিনয়জীবন শুরু মঞ্চে। লোকনাট্য দলের ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকে আমি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ৩০০ তম শো পর্যন্ত আমি ছিলাম গ্রুপের সাথে। আমি তখন শিশুশিল্পী। প্রথম ১০০ তম শো পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসেনি। সে সময় এই নাটকে অভিনয় করতে কতোটুকু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা আমি জানি, আমার পরিবার জানে, লোকনাট্য দলের সদস্যরা জানে। এই নাটক করে আমি বা আমার পরিবার ২ টাকা কোনোদিন ঘরে আনিনি। নাটকে অভিনয় করতে করতে কখন বঙ্গবন্ধুকে ভেতরে ধারন করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার আদর্শে বেড়ে ওঠা আমি আজ অনেক কিছুই নিতে পারছি না।’

আরশ আরও বলেন, ‘আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়াররা তাদের দাবি নিয়ে আজ রাস্তায়। তাদের উপর যে আক্রমণ তা কোনোভাবেই একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে, একজন ছাত্র হিসেবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি খুব সাধারণ পরিবারের ছেলে। আমার মা একজন শিল্পী, আমার বোনও একজন শিল্পী। সাধারণ আরশকে অসাধারণ বানিয়েছেন এই ছাত্ররা, তাদের মা, তাদের বাবা, তাদের পরিবার, দেশের সাধারণ জনগণ। এমন দিনে আমার পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব না। তাই আমি খালি হাতে বেরিয়ে পড়েছি। কারণ আমার আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে না। আমার চাওয়া একটাই ‘আর কোনো ছাত্র বা ছাত্রী রক্তাক্ত হবে না’। আমি জানি না কাল আমার সাথে কি ঘটবে, আমি জানি না পরবর্তীতে কি ঘটবে। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। শূণ্য থেকে উঠে এসেছি আবার হয়তো শূণ্যে মেলাবো কিন্তু আর কোনো আবু সাইদের মৃত্যুর স্বাক্ষী হতে চাই না।’’

আরশ খান

;

কোটা সংস্কার হবার পর পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো: মেহজাবীন



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মেহজাবীন চৌধুরী

মেহজাবীন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও এবার কঠোর কণ্ঠে রুখে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদের প্রতি চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে। তুলে ধরেছেন কোরআন-হাদিসের তথ্য। আজ (বৃহস্পতিবার) সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন দীর্ঘ এক লেখা। মেহজাবীন চৌধুরীর পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-

ছোটবেলা থেকে জেনেছি, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র নারীর গায়ে হাত তোলা সমর্থন করে না। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থও কখনও নারীর প্রতি সহিংসতা শেখায়নি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা নারীদের সঙ্গে সদাচরণ করে’।

মেহজাবীন চৌধুরী

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, গণমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমে আজকাল এর ভিন্ন চিত্র, মর্মান্তিক সব ভিডিও দেখতে হচ্ছে। একজন নয়, দুইজন নয়, আমারই অসংখ্য বোনের ওপর নির্বিকার ভঙ্গিতে হামলা চালানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। কী নির্মম, কী নৃশংস! ন্যায়-অন্যায়ের প্রসঙ্গে পরে আসছি, তবে আমার অবস্থান থেকে বলবো: সর্বোচ্চ কোনও যুক্তির অজুহাতেও নারীর প্রতি এই সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। ‘না’ মানে ‘না’; কক্ষনো না। ছাত্র-ছাত্রীরা কি-ই বা করেছিল? তারা তাদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবি তুলেছিল। তাই তো? একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধিকারের দাবি যে কেউ তুলতে পারে। কিন্তু তাই বলে নারীর গায়ে হাত তোলা, ‘আবু সাঈদ’-এর মতো সম্ভাবনাময় তরুণকে হত্যা করা-এসব কি সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে? সমাধানের অন্য কোনও উপায় কি ছিল না? গুলি কেন করতে হলো?

মেহজাবীন চৌধুরী

পরিস্থিতি হয়তো আজ কিংবা কাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, যে পরিবারের মুখের হাসি চলে গেল, আমরা কি সেই শূন্যতা অন্য কিছুর বিনিময়ে পূর্ণ করতে পারবো? কক্ষনো না। তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষী, শক্তি যত বড়ই হোক, ছাত্র সমাজের ওপর চড়াও হয়ে যুগে যুগে কেউ কখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তাহলে কেন এই ব্যর্থ আস্ফালন? মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সবসময়ই বুকের ভেতর লালন করি। আমরা গর্ব করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না, অধিকারের দাবি তোলা যাবে না, সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতার পরিচয়টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা যাবে না, প্রশাসনের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে গেলেই হামলার শিকার হতে হবে, অকাতরে অকাল প্রাণ বিলিয়ে দিতে হবে-এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন কি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন? আমার মনে হয় না।

মেহজাবীন চৌধুরী

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে দুর্নীতি-প্রায় সব ইস্যুতেই তো আমরা চুপ থাকি। রক্ষক ভক্ষক হয়ে গেলেও আমরা নীরবে সয়ে যাই। অপেক্ষা করি, হয়তো একটা না একটা সমাধান আসবে। আজ না হলেও দুদিন পরে আসবে। অন্যান্য ইস্যুতে আমরা সামাজিক মাধ্যমেও এতটা সোচ্চার হই না। তাহলে ইদানীং কেন হচ্ছি? কেন কোটা সংস্কার ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করছি? কারণ একটাই, কোটা সংস্কার এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা এই সাধারণ জনগণই কিন্তু মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু, উড়াল সেতু ইত্যাদি সহ সরকারের অনেক যুগান্তকারী সাফল্যে গর্বিত হয়ে হাত তালি দিয়েছিলাম। গালভরা প্রশংসা করেছিলাম। সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার হবার পর আমরা পুনরায় সরকারের পাশে দাঁড়াবো। এক পক্ষ হয়ে দেশের সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করবো। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

মেহজাবীন চৌধুরী

অর্থাৎ সব কথার শেষ কথা, ছাত্ররা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দমিয়ে না রেখে তাদের যৌক্তিক দাবিতে সমর্থন দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমি মেহজাবীন চৌধুরী আকুল আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা নিরাশ হবো না।

লেখাটি শেষে অভিনেত্রী #SaveBangladeshiStudents হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন। সঙ্গে জুড়ে দেন চলমান আন্দোলনের তিনটি ছবির কোলাজ।

;

কোটা আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়ে আহত সালমান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

  • Font increase
  • Font Decrease

শোবিজ তারকাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোটা আন্দোলনে সশরিরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির। এরইমধ্যে এই তারকার মাস্ক পরা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ছবি ছড়িতে পড়তে না পড়তেই দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সালমান।

তবে একটু আগেই সালমানের আরেকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই তারকাকে কয়েকজন মিলে টেক কেয়ার করছেন। কারণ তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনের সশরীরে অংশ নিতে গিয়েই কিছুটা আহত হয়েছেন তিনি।

কোটা আন্দোলনে সশরীরে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির

একজন সালমানের সেই ছবিটি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সো কলড পপুলার ফিগারদের মাঝে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হতে দেখলাম একমাত্র সালমান মুক্তাদিরকে। বেশিরভাগের কাছে যার পরিচয় ‘অভদ্র ছেলে’’।

সালমান মুক্তাদির সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগে ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছিলেন। গত ১৬ জুলাই সালমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এমন কোনো ছাত্র আছেন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন অথবা হলে ঢুকতে পারছেন না? আমি আপনাদের খেয়াল রাখব। তবে লাখ লাখ মেসেজ বা পোস্টের মধ্যে ফিল্টার করা আমার পক্ষে অসম্ভব। তাই আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আপনাদের কোনো মিউচুয়াল ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখেন এবং আমাকে নক করেন।’

সালমান মুক্তাদির

তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার যদি থাকার জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন হয় অথবা আপনার চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হয়, আমি এখানে রয়েছি। এইমাত্র কিছু ভিডিও দেখলাম, যেখানে মানুষ তাদের হলে প্রবেশ করতে পারে না। যদি এটা যথেষ্ট না হয় তাহলে আবার ক্ষমা চেয়ে নিন। আমার সত্যিই হৃদয় ভেঙ্গেছে এবং বিব্রত। আমি সত্যিই জনপ্রিয় হয়েও কোনো কাজে না আসায় লজ্জা বোধ করছি।’

;